Featured Post

I SAID NO TO QUANTUM METHOD

পূর্বে পোস্ট আকারে প্রকাশিত। কারও সাথে ঝগড়া করার জন্য এটা দেইনি। নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম। কেউ মানতে না পারলে আমার কিছু করার নেই।  আ...

Showing posts with label আত্নকথন. Show all posts
Showing posts with label আত্নকথন. Show all posts

Friday, July 7, 2017

সংসার জীবন

ঈদের সকালটা ঈদের মতই গেল। সকাল আটটায় অফিস থেকে গেলাম বাসায়। ৯ টায় জামাত ছিল। নামায পড়ে বাসায় যেয়ে ঘুমানোর আগে হালকা ক্ষুধা লেগেছিল। সেমাইয়ের কড়াই নিয়ে বসলাম।

আমি মিষ্টি বেশি খাই। যেকোন মিষ্টি জাতীয় খাবারে আমার চিনি বেশি লাগে। চিনি কম হলে পানসে লাগে নয়ত তিতা লাগে। চিনি কম হবার কারণে বা অন্যকোন কারণে তিতকুটে লাগছিল। সামান্য ব্যাপার নিয়ে খটর মটর করার অভ্যাস হয়ে গেছে। শুরু করলাম ঘ্যানর ঘ্যানর। এক পর্যায়ে রেগেমেগে সেমাইয়ের কড়াই চিলের ছো মারার মত আমার সামনে থেকে চলে গেল।


যে রান্না করেছে সে কষ্ট করেই রান্না করেছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু ছো মারার বিষয়টা আমার কাছে নতুন। রাগ যা উঠছে তার চেয়ে বেশি হয়েছি অবাক!

Thursday, August 25, 2016

উপাধী-২


অনলাইন আমাকে অনেক উপাধি দিয়েছে। তারমধ্যে নতুন হল তার্কিক উপাধী। বিভিন্নজনের বিভিন্ন অসংগতি যখন চোখে পড়ে তখন চুপ থাকতে কষ্ট হয়। প্রশ্ন করি, উত্তর পেয়ে আবারো প্রশ্ন করি। হয়ে যাই তার্কিক, তর্কবাজ! 

সবক্ষেত্রে আমিই ঠিক এমনটা নয়। দেখাযায় প্রায়ই ভুল বুঝি। ভুল বুঝে প্রশ্ন করার কারনে সঠিকটা জানতে পারি, শিখতে পারি। দুর্বল যুক্তির বিপরীতে সবল যুক্তি সবাই সমানভাবে গ্রহন করতে পারে না। বড়ভাইদের এসবক্ষেত্রে উদার পেয়েছি, তারা মেনে নেন বা না-ই নেন কখনো বিরূপ আচরন করেছেন বলে মনে পড়ে না। জুনিয়ররা অবশ্য অনেক এগ্রেসিভ। তাই জুনিয়র কারো পোস্টে কমেন্ট করার আগে ভাবি কয়েকবার। 

একজনের পোস্ট দেখেছিলাম যে, ২+২ = ৭, ৪+৭ = ১৩ হলে ১১+৮ = কত? জিনিয়াসদের খোজা হচ্ছে এই পোস্টের মাধ্যমে। এবং অসংখ্য জিনিয়াস দেখলাম উত্তর দিচ্ছে মাথা খাটিয়ে। গরুর পালে আমার মত দুই একটা ভেড়া যারা আছেন, তারা কিন্তু পালটা প্রশ্ন করেছেন ২+২ = ৭ কিভাবে হল? 

বলাই বাহুল্য, তারা জিনিয়াস খুজছিল, ভেড়া নয়। তাই প্রতিযোগীতা থেকে আমরা ছিটকে পড়লাম। 

এক মেয়ে আইডি থেকে মাযহাব বিরোধী পোস্ট পড়াতে যখন ছাই দিয়ে ধরলাম তখন লিস্ট থেকে কিক মারা হল উত্তর না দিয়ে। এরপর ইনবক্সে পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করার চেষ্টা! 

এসব ক্ষেত্রে হুমায়ুন আহমেদের একটি ঘটনা আমাকে খুব প্রেরণা যোগায়। এক সাংবাদিক গেল উনার ইন্টারভিউ নিতে। সাংবাদিক দেখেই তিনি বুঝতে পারলেন, এটা ত্যাড়া সাংবাদিক। সাংবাদিক যা বলে উনি তাতেই একমত হয়ে যান। সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, 

"সমালোচকরা বলেন আপনার লেখাগুলো হালকা টাইপ!" 

হুমায়ুন আহমেদের জবাব ছিল, "হালকা টাইপ মানে! এগুলো অবশ্যই হালকা এবং ফালতু লেখা। পড়ার অযোগ্য!" 

(হুবহু মনে নেই) 

ইন্টারভিউ আর জমে না। আমাদের ইনবক্সও জমে না। মেয়ে বলে, 

"কোন পনির? খাওয়ার পনির নাকি?" 

"জ্বী, খাওয়ার পনির।" 

"সিহাল পনির নাকি শিয়াল পন্ডিত?"

"শিয়াল পন্ডিত।" 

"বাস্তবেও শিয়াল পন্ডিত নাকি?" 

"জ্বী, বাস্তবেও তাই।" 

ঝগড়ার উদ্দেশ্য সফল হয় না। অথচ আমি যদি মাথা গরম করে কথা বলতাম তাহলে হয়ত সে "মাযহাবীদের অবস্থা" শিরোনামে স্ক্রিনশট দিয়ে দিত। (এমন পোস্ট দিত সে)। 

অনেক সময় কথা বলি একটা কেউ কেউ বোঝে আরেকটা। বুঝিয়ে বলতে চাইলে বলে, তর্ক করতে চাই না। তখন মেজাজটাই খারাপ হয়। মনেহয় পৃথিবীতে আমারই বাড়তি সময় আছে আর কারো নেই। 

এগ্রেসিভ তর্ক আর শিক্ষনীয় তর্কের মধ্যে পার্থক্য আছে। প্রথম শত্রুতা তৈরি করে আর দ্বিতীয়তা বিজ্ঞতা বাড়ায়!

হেফাজতের আন্দোলন


তিনবছরের অধিক কাল পেরিয়ে গেল। আজ থেকে প্রায় তিনবছর আগে আল্লাম আহমাদ শফী হুজুরকে একটি খোলা চিঠি লিখেছিলাম ফেসবুকে। আমি জানতাম আমার এই চিঠি উনার কাছে পৌছাবে না। শুধু মনের ভাব প্রকাশ করাই উদ্দেশ্য ছিল। 

এখন অনলাইনের অবস্থা বছর তিনেক আগের মত না। অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ধর্মদ্রোহীরা আগে ব্লগ, ফেসবুকে ফাঁকা মাঠে গোল দিত। শিবিরের কিছু ছেলেপেলে তাদের দৌড়ের উপর রাখলেও তা যথেষ্ঠ ছিল না। আধুনিক, প্রগতিশীলতার দাবিদার প্রায় প্রত্যেকেই আধুনিকতা, প্রগতিশীলতার দাবি করে ওসব ইসলামবিদ্বেষীদের বাহবা দিত।

বোঝাই যাচ্ছিল, দিনে দিনে অনলাইনে মানুষের পদচারনা বাড়বে বই কমবে না। সেক্ষেত্রে ইসলামবিদ্বেষীরা তাদের বিদ্বেষ আরো বেশি মানুষের ছড়াতে পারবে। আমার মত সাধারন মানুষদের একটা সমস্যা হল, আমরা ইসলাম সম্পর্কে তেমন কিছু না জানলেও এ বিষয়ে কেউ কটু কথা বললে/কূটযক্তি দিলে মাথা গরম হয়ে যায়। স্পষ্ট বুঝতে পারছিলাম তাদের সাথে পাল্লা দেবার জন্য ধর্মীয় লাইনে পড়াশুনা করেছে তাদের দরকার।

আমার খোলাচিঠির বিষয় এটাই ছিল। কামনা ছিল যেন মাদ্রাসার যারা পরিচালক আছেন তারা এই বিষয়টার প্রতি যেন আরো মনোযোগী হন। আগে গরীবের ছেলেপেলেরা মাদ্রাসায় পড়ত। কিন্ত অবস্থাসম্পন্ন পরিবারের ছেলেরা মাদ্রাসায় পড়ার চল শুরু হয়েছে সেও অনেকদিন হয়েছে। কাজেই যাদের সামর্থ্য আছে তাদের নিয়ে ইসলামিক সাইবার ফোর্স গঠন করা হোক যেন অপপ্রচারের জবাব দেয়া যায়। আমার মত ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞ মানুষেরা যেন ওসব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবার সুযোগ না পায়।

হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের কারনে ধর্মদ্রোহীদের ব্যাপারে মানুষ এখন অনেক সচেতন হয়েছে। যার ক্রেডিট মাহমুদুর রহমানের আমারদেশকে দিতে হয়।

আজ তিনবছর পর এন্ড্রয়েড সহজলভ্য হয়েছে, ইন্টারনেট প্যাকও এসেছে হাতের নাগালে। মাদ্রাসার অসংখ্য শিক্ষক-ছাত্র এখন ফেসবুক, ব্লগ ব্যবহার করে। ধর্মদ্রোহীরা এখন ফাঁকা মাঠে গোল আর দিতে পারবে না। আহলে হাদীসের বাড়াবাড়িও এখন অনেক কমেছে।

আমার কাছে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন সফল। যারা যারা এই আন্দোলনে জড়িত আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমীন।

মৃত্যু কেমন হবে?


মাঝে মাঝে ভাবি মৃত্যু কেমন হবে? 

আমার কয়েকবার জন্ডিস হয়েছে। বছরদুই আগে হেপাটাইটিস বির টিকা নিয়েছিলাম।তা না হলে হয়ত এর মাঝে আরেকবার হত। এরমধ্যে একবার বেশি দুর্বল হয়ে পড়ি। 

একা একা থাকা, খাবারে অরুচি, বমির কারনে শরীরে তেমন বল ছিল না। অবশ্য আমি ব্যাপারটা বুঝতে পারি নি। সারাদিন শুয়ে থাকি, ঘরেই নামায পড়ি, খাই আর টয়লেটে যাই।

তখন সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে। শুয়ে আছি। কিছুই ভাল লাগছে না। হঠাৎ গা গুলিয়ে উঠাতে তড়িঘড়ি করে বাথরুমের দিকে ছুটলাম। বমি হলে হোক, ঘর নষ্ট হলে সমস্যা। দরজার নবে হাত দেবার পর দুনিয়া অন্ধকার হয়ে গেল। একমুহূর্ত পর নিজেকে রুমমেটের বিছানার উপর আবিস্কার করলাম। বুঝতেই পারিনি কি হল। আমি এক সেকেন্ডের জন্য জ্ঞান হারিয়েছিলাম সেটা বুঝতে কিছুক্ষন লাগল। 

ঐ সময় রুমে একাই ছিলাম। মরে গেলেও কেউ টের পেতে কয়েকঘন্টা সময় লেগে যেত। 

এরপর থেকে প্রায়ই এই প্রশ্নটা মাথায় ঘুরপাক খায়। কিছু বুঝে উঠার আগেই কি মানুষ মরে যায়? তারপর বুঝতে পারে যে সে মরে গিয়েছে? কি কুদরত আল্লাহর!

Sunday, April 10, 2016

আমার প্রথম মোবাইলে কেনার আশ্চর্য ঘটনা (ভিডিও ছাড়া)


এইচ এস সি পরীক্ষা শেষ হয়েছে তখন। প্র‍্যাকটিক্যাল চলছে। এরই মধ্যে খবর পেলাম এস এস সিতে ভাল রেজাল্টকয়ারীদের বোর্ড থেকে টাকা দিচ্ছে। কলেজের নোটিশ বোর্ডে দেখলাম আমার নামটাও আছে! টাকার পরিমাণটাও আমার জন্য যথেষ্ঠ। ভাবলাম দু-একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফর্ম কেনার টাকা হাতে রেখে বাকি টাকা দিয়ে একটা মোবাইল কিনব। এক বন্ধুর বাসা থেকে পুরনো পত্রিকা নিয়ে পড়তাম তখন। ফিচারড ফোনের বড় বড় বিজ্ঞাপন থাকত তখন পেপারে। সেখান থেকে সাধ ও সাধ্যের সমন্বয়ে সেট পছন্দ করার চেষ্টা করতাম। অবশেষে এক ফ্লেক্সির দোকানে একটা বিজ্ঞাপন দেখে একটা সেট পছন্দ হল। দোকানমালিককে বলে রাখলাম টাকা হাতে পেলেই এই সেটটা আমাকে এনে দিতে হবে।
এরই মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হল। তাবলীগের বড় ভাইরা আমাদের পিছনে সময় দিচ্ছেন। একটা জামাত বের করা যায় কিনা। এইচ এস সি পরীক্ষার পর জামাত বের করা কঠিন। কারন তখন অনেক ছাত্র কোচিং এ ভর্তি হয়। আমি সারাদিন নানা ধান্ধায় থাকি। আর একা একা জামাতে যাব না-এটা আগেই বলে দিয়েছি। খুব যে যাবার ইচ্ছা ছিল তেমনটাও নয়। যাই হোক, প্রায় রাত দশটার দিকে আমার এক বন্ধু আসল। সে এস এস সির পর জামাতে বের হয়েছিল। ঘনিষ্ঠ বন্ধু হবার কারনে আমি ব্যাগ গুছিয়ে নিলাম। সারারাত মসজিদে রাত্রিযাপন করে পরদিন ভোরে কাকরাইল মসজিদের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। খরচা হিসেবে মোবাইল কেনার জন্য যে টাকা আলাদা করে রেখেছিলাম সে-ই টাকা নিয়ে নিলাম। ভাবলাম পরে টাকা জমিয়ে কিনব।
জামাতে থাকাকালীন সপ্তাহে একদিন বাসায় ফোন দিতাম। মানে পাশের বাসায় ফোন দিলে আম্মাকে ডেকে দিত। আম্মা সারা সপ্তাহ অপেক্ষায় থাকতেন আমার ফোনের জন্য।
এভাবে কিছুদিন অতিক্রান্ত হবার পর আমি ফিরে এলাম। আসার দু-একদিন পর আম্মা নিজে থেকেই বলছেন একটা মোবাইল কিনতে। আমি বললাম, মোবাইলের টাকাতো খরচ করে ফেলেছি। উনি বললেন টাকা উনি দেবেন। আমিতো পুরো অবাক! ঘটনাটা কি? আগে একবার আম্মাকে বলেছিলাম টাকা দিতে মোবাইল কেনার জন্য। তখন উনি টাকা দেন নি। আর এখন টাকা সাধছেন!
আপার কাছে শুনলাম ঘটনা। আমি জামাতে থাকাকালীন একদিন আম্মার মনে হল আমার সাথে কথা বলবেন। উনার এই স্বভাব আছে। একবার যদি মনে হয়, কারো সাথে দেখা করবেন বা কথা বলবেন তবে যতক্ষন পর্যন্ত সেটা না হবে ততক্ষন পর্যন্ত আর শান্তি নেই। তো, আম্মা পাশের বাসায় গেলেন আমাকে ফোন করার জন্য। যার মোবাইল তিনি আম্মাকে বললেন, খালাম্মা ৭ টাকা করে মিনিট কাটে! মোটকথা, তার আচরনে আম্মা খুব কষ্ট পেলেন।
আমি মনে মনে শুকরিয়া আদায় করলাম। জামাতেও যেতে পারলাম, ফিরেই মোবাইল পেয়ে যাচ্ছি। আবার সেই ফ্লেক্সির দোকানে গিয়ে বললাম সেট নিয়ে আসতে। কয়েকদিন পর উনি আমাকে Samsung SGH N710 মডেলের সেটটি এনে দিলেন।
তাবলীগে সময় দিলে দুনিয়াদারীর কোন ক্ষতি হয় না। ভাইদের জীবনে এমন অসংখ্য ঘটনা রয়েছে। কাকরাইল মসজিদে সাথীদের অভিজ্ঞতার বিবিরণ শুনলে হতবাক হয়ে যেতে হয়। আমার আমার এটা অতি সামান্য ব্যাপার।
নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞ, ক্ষমাশীল!

Monday, February 22, 2016

জোকসের পিছনের ঘটনা


জোকস বলার আগে জোকসের কাহিনী বলে নেই একটু। বড় ভাই জোকসের একটা পেইজ চালানোর দায়িত্ব দিয়েছিলেন। উনার পেইজের লাইক সংখ্যা তখনকার দিনের কথা ভাবলে কম ছিল না। পঞ্চাশ-ষাট হাজার মানুষের লাইক ছিল পেইজটিতে। আমার কাছে মনে হয়েছে লাইকারদের মধ্যে প্রচুর ভারতীয় ছিলেন। 

জোকস পেইজের এডমিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে যেয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা যেটা ফেস করেছি তা হল, নির্মল বিনোদন মূলক কিছু খুজে বের করা। মানুষকে হাসানো অনেক কঠিন একটা কাজ। অনলাইনে বাংলা-ইংরেজী মিলিয়ে প্রচুর জোকস আছে। আছে কার্টুন। পড়ি, দেখি। কিন্তু হাসি আসে না। আমার নিজেরই যে জোকস পড়ে হাসি আসে না ঐ জোকস দিয়ে কিভাবে অন্যকে হাসাবো? এই চিন্তা করে প্রচলিত অনেক জোকস পোস্ট করতে পারি না। তাছাড়া আমার পলিসি ছিল চুলকানীমূলক কোন জোকস দিব না। আমার বিবেচনায় যদি এক্সেপশনাল না হয়েছে তাহলে এডাল্ট কোন জোকস পোস্ট করিনি। 

অফিসের কলিগদের কাছে শোনা গল্পগুলো নিজের মত করে সাজিয়ে পোস্ট দিতাম। ইনবক্সে অনেকে পোস্ট দিত। দেয়ার মত হলে তাদেরগুলো কার্টেসী সহ দিতাম। নিজের ঘিলু ব্যবহার করে জোকস বা কার্টুন বানানোর মত ট্যালেন্ট আমি কখনই ছিলাম না। কাজেই জোকসের কিছু বই পত্রও কিনে নিলাম। কিন্তু সমস্যা একটাই। জোকস পড়ি, হাসি আসে না। পুরো বই হয়ত পড়ে শেষ করে ফেলেছি কিন্তু ঠোটের কোণা বাঁকা হয় না। দু'একটা ব্যতিক্রমতো আছেই। 

তাছাড়া জোকস পোস্টের বড় সমস্যা হল, পাঠক জোকস বুঝতে পারে না। মাসুদ রানার কোন এক বইয়ে কাজী আনোয়ার হোসেনের একটা চুটকি ছিল এরকমঃ

এক ইংলিশ ভদ্রলোক এক স্প্যানিশ রেস্তোঁরায় খেতে গেলে। রেস্তোঁরার ম্যানেজার তাকে দেখে এগিয়ে এসে বিনয়ের সাথে বললেন, 

"বন আপতিত!" [স্বাগতম বা এই জাতীয় কিছু হবে অর্থটা]

ইংরেজ ভদ্রলোক স্প্যানিশ কিছুই বোঝেন না। তিনি ভাবলেন, প্রথম কারো সাথে দেখা হলে নিজের পরিচয় দেয়া একটা ভদ্রতা। তাই তিনি হাত বাড়িয়ে জবাব দিলেন, 

"রয় ডিকসন।" 

ম্যানেজার আর কিছু না বলে তাকে টেবিল দেখিয়ে দিলেন। পরেরদিন আবারো যখন রেস্তোঁরায় যাবার পর ম্যানেজার তাকে দেখে বলে উঠলেন,

"বন আপতিত!" 

ইংরেজ ভদ্রলোক এবার একটু অবাক হলেন। তাহলে কি প্রতিদিন নিজের পরিচয় দিতে হবে নাকি? তিনি একটু মাথা ঝাকিয়ে বললেন,

"রয় ডিকসন।" 

এই ঘটনা ৩-৪ বার ঘটার পর ইংরেজ ভদ্রলোকের মনে একটু খটকা লাগল, ব্যাপারটা কি? প্রতিদিন পরিচয় দিতে হয় কেন?

ভদ্রলোক এক সন্ধ্যায় তার এক স্প্যানিশ বন্ধুকে ফোন করে ঘটনাটা বললেন। স্প্যানিশ বন্ধুতো হেসেই খুন। "বন আপতিত" মানে জানার পর ভদ্রলোক একটা লজ্জাই পেলেন। 

পরেরদিন তিনি ঐ রেস্তোঁরায় গেলেন ডিনারে। এবার তিনি নিজেই ম্যানেজারের দিকে এগিয়ে গিয়ে বললেন,

"বন আপতিত।" 

মুচকি হেসে ম্যানেজার জবাব দিলেন, 

"রয় ডিকসন।" 

এই জোকসটা একদিন পেইজে দিয়েছিলাম। গালি-ঝাড়ি দেয়ার পর অনেকেরই প্রশ্ন ছিল এখানে টুইস্টা কোথায়? আমি উত্তর দেই নি। কারন জোকস পড়ে কেউ বুজতে না পারলে তাকে বোঝানো কঠিন।

এছাড়ারাও খেয়াল রাখতে হয় এই জোকসটা পড়ে আবার কেউ ধর্ম খুজে পাবে নাতো? মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আঘাত হানার মত কেউ মনে করবে নাতো? মেয়েদের ছোট করা হচ্ছে কি? মোট কথা ফিল্টারের শেষ নেই। এত ফিল্টার করতে গেলে শেষে জোকসই খুজে পাওয়া যায় না। 

বাস্তব জীবনের একটা ঘটনা শেয়ার করেছিলাম অনেক আগে। ঈদের নামায পড়তে গিয়েছি ঈদগাহে। আমার এক বন্ধু তার ছোটভাই (পিচ্চি) ও তার বাবাকে নিয়ে আসছে নামায পড়তে। আমরা একসাথেই বসলাম। যথারীতি নামায শুরু হল, প্রথম রাকাতে যখন সেজদায় গেলাম তখন ঐ পিচ্চি হঠাৎ করে বলে উঠল,

"কান টানলে মাথা আসে, মাথা টানলে কান!" 

এই কথা শুনে নামাযে স্থির থাকা মুশকিল। হাসির দমকে দমকে শরীর কেঁপে উঠেছিল। 

এই পোস্ট টাইমলাইনে দেয়ার পর আমার কিছু দরদী ভাই বললেন, "এখানে নাকি নামাযের অবমাননা হয়েছে! জাহেলী যুগে কাফেররা এভাবেই নামায নিয়ে হাসি-তামাশায় মত্ত থাকত।"

প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদ (সম্ভবত) মানুষের এই দিকটা কথা চিন্তা করে মূল্যবান একটা কথা বলেছিলেন সম্ভবত এলেবেলে তে। "কেউ যখন সিরিয়াস কিছু শোনে তখন তা হেসে উড়িয়ে দেয়। আর যখন কোন রসিকতা শোনে তখন গম্ভীরমুখে ভাবতে থাকে, এটা কি রসিকতা করার কিছু? এখানে রসিকতার কি আছে?" 

[পুরোপুরি ডায়লগ মুখস্থ নেই। এমনি কিছু একটা হবে।]

আজকে বসে রিলাক্সেশন করছিলাম। চোখের পাতা বন্ধ। কিছুক্ষন পর আলোর তারতম্যতে বুঝতে পারলাম, আমার কোন এক কলিগ আমার মুখের সামনে হাত নাড়ছেন। কেউ ঘুমিয়ে আছে কিনা পরীক্ষা করতে আমরা যেভাবে হাত নাড়ি। মুহুর্তে মাথায় আগুন ধরে গেল। ভাবলাম আরেকবার দেখি ওমন করে কিনা। সাথে সাথেই আবার আলোর তারতম্য। আস্তে করে চোখটা খুললাম। তারপর ধারালো যে বানগুলো আমার মুখ থেকে ছুটল তাতে তার হাসি নিভে গেল। বললেন, 'রসিকতা' করলেন। মুখ থেকে বের হতে দেরি, আমার জবাব দিতে দেরি নেই। 

সমবয়সী হলে আরো কঠিন কথা বলতাম। কিছুদিন পর মেয়ের বিয়ে দেবেন, এমন কলিগকে সবকিছু বলা যায় না। শহীদ আল বোখারী রিলাক্সেশনের এক পর্যায়ে বলেন, "কেউ আপনাকে ডেকে ফেললে বিরক্ত হবেন না বা মনে মনে রাগ করবেন না।" আজকে উনার কথা শুনি নি। ঝেড়ে দিয়েছি। অনিচ্ছাকৃত অপরাধ আর ইচ্ছাকৃত ফাজলামীর মধ্যে বিস্তর তফাৎ।

কোন রসিকতা কখন, কোথায়, কার সাথে করতে হবে এই গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান অনেকেরই মাঝে অনুপস্থিত। কজ কমন সেন্স ইজ ভেরি আনকমন!

Monday, January 25, 2016

অহেতুক মিথ্যে


সম্ভবত গত রমজানের ঘটনা। কোন এক জুমাবার কোন একভাইয়ের পোস্টে কোন এক প্রসঙ্গে কমেন্ট করেছিলাম অনেকটা এমন, আমাদের এখানেতো সাড়ে বারোটা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত জুমার জামাত হয়। ভাই আমার কথাটা আমলে নেন নি। অনলাইনে কেউ কারো কথা সহজে বিশ্বাস করতে চায় না। হেসে উড়িয়ে দেয় বা পালটা হাজারো প্রশ্ন করে। 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, শুধু শুধু মিথ্যে কথা বলে কারো লাভটা কি? 

মানুষের অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে একটি হল সে তার নিজস্ব গন্ডির বাইরে চিন্তা করতে পারে না। ছোটবেলা থেকে সেসব ঘটনা আমরা আমাদের জীবনে দেখে আসছি প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা না হলে সেগুলোর ব্যতিক্রম আমরা মেনে নিতে পারি না।

চাকুরীতে ঢোকার আগে চাকুরী সম্পর্কে আমার ধারনা যেটুকু ছিল সেটা বিটিভিতে নাটক দেখেই হয়েছিল। চাকুরী মানেই একটা টেবিল থাকবে, এক পাশে একটা পার্সোনাল কম্পিউটার, টেবিলের এক পাশে কিছু ফাইল, একটা রিভলভিং চেয়ার - এইগুলোই মনে হত। 

চাকুরী পাবার পর আমার ধারনা পরিবর্তন হল। শুধু ডেস্ক জব হয় এমনটা নয়, প্রচুর জব আছে ফিল্ড রিলেটেড। বাবুর্চির অফিস হল রান্নাঘর, দাড়োয়ানের অফিস সদর দরজার পাশে, ট্রাফিক পুলিশ অফিস করেন রাস্তায় রাস্তায়, গাড়িচালকের অফিস তার গাড়ি, মুদি দোকানদারের অফিস তার দোকান ......... 

একেকজনের অফিস যেমন একেক রকম তেমনি একেক জনের অফিসের সময় একেক। সাধারন একটা ধারনা অফিস হল ৯টা-৫টা। দেশের অনেক মানুষের জন্য এটা সত্য হলেও অসংখ্য মানুষের জন্য এটা সত্য নয়। ট্রাফিক পুলিশকে জিজ্ঞেস করুন তার অফিস টাইম ক'টা থেকে ক'টা। জিজ্ঞেস করতে পারেন ফার্মেসীর মালিক কে। জিজ্ঞেস করুন আনসার বাহিনীর কোন সদস্যকে, তাদের চাকুরীর টাইমিং টা কি। গার্মেন্টস, ফ্যাক্টরিতে কর্মরত কোন মেয়েকে জিজ্ঞেস করতে পারেন। 

আমার জানামতে অফিস টাইমিং দু'ধরনের। যেসব অফিস শুধু দিনের বেলায় খোলা থাকে তাদের টাইমিং একরকম। এখানে জেনারেল শিফট ডিউট চলে। সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৫ টা অথবা অফিসে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দিনের যেকোন আটঘন্টা। আবার যেসব ফ্যাক্টরি ২৪ ঘন্টা চলে তাদের টাইমিং অন্যরকম। এখানে চলে রোটেটিং শিফট। একগ্রুপ অফিস করে ফিরে আসে। আরেকগ্রুপ দায়িত্ব বুঝে নেয়। গ্রুপের সংখ্যা অফিস বেধে ২ থেকে ৪ হতে পারে। যেসব ফ্যাক্টরিতে দু'টো গ্রপ তারা ১২ ঘন্টা করে অফিস করে। ৮ ঘন্টা নরমাল অফিস আর ৪ ঘন্টা ওভার টাইম। 

যাই হোক, আমরা অফিস করি ৪ টা গ্রুপে। তিন গ্রুপ ৮ ঘন্টা করে ২৪ ঘন্টা পুরো করে আর এক গ্রুপ রেস্টে থাকে। পালাক্রমে সব গ্রুপই রেস্ট পায়। 

এবার আসি জুমা প্রসঙ্গে। যেহেতু এক গ্রুপ অফিসে গেলে আরেক গ্রুপ ফিরবে সেহেতু আমরা এক সাথে জুমা পড়তে পারি না। আমরা জুমা পড়ে অফিসে যাই, তারা ফিরে আসে। এখন তারা কি জুমা পড়বে না? কিন্তু একই মসজিদে একাধিক জুমা পড়ার উপায় নেই। 

এই সমস্যার সমধান হল মসজিদ থাকবে দু'টো। আমি বাংলাদেশ ক্যামিক্যাল ইন্ড্রাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (BCIC) যতগুলো প্রতিষ্ঠানে গিয়েছি সব জায়গায় একাধিক মসজিদ দেখেছি। 

স্বাভাবিকভাবে আমাদের এখানে প্রধান মসজিদে (বড় মসজিদে) জুমার জামাত হয় বেলা ১ঃ১৫ মিনিটে। আমরা নামায পড়ে খাওয়া দাওয়া সেরে অফিসে যাবার পর আমাদের কলিগেরা ফিরে এসে অন্য মসজিদে (ছোট মসজিদে) জুমা পড়েন বেলা আড়াইটায়। এখানে প্রায় সোয়া এক ঘন্টার পার্থক্য। 

আবার বিগত কয়েকবছর ধরে রমজানের সময় সেহ্‌রির সুবিধার্থে অফিস টাইম একঘন্টা করে এগিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে করে যোহর এবং জুমার নামাযের সময়ও পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। আগে যারা দুপুর দু'টায় অফিস যেতো রমজানে তারা যাবে বেলা একটায়। তাই তখন ছোট মসজিদে অফিসগামীদের জন্য জুমা হয় সোয়া বারোটা বা এর কাছাকাছি সময়ে। এলাকার অনেক লোকজনও এই জামাতে শরীক হয়। আর আমরা অফিসে যাবার পর আমাদের সহকর্মীরা ফিরে এসে বড় মসজিদে জামাত ধরেন বেলা দেড়টায়। 

চট্টগ্রাম শহরের মেহেদিবাগ জামে মসজিদে কয়েকবার জুমা পড়েছি। রমজান ছাড়াই সেখানে জামাত পড়েছি সোয়া দু'টো-আড়াইটার দিকে। 

কাজেই জুমার জামাতের সময়সূচির ব্যাপারে যে কথাটি বলেছিলাম সেটা নিছক মজা করার জন্য ছিল না। বরং সেটাই সত্য ছিল। 

আপনাদের এলাকায় জুমা/জামাতের সময়সূচি সম্পর্কে ইচ্ছা করলে শেয়ার করতে পারেন। 
smile emoticon

Theory Of Complicacy

True Story!

I never mean to make you upset though couple of lines of my lust post made you upset and I'm not sorry for that cause I know trues make people upset! But I can do one thing for sure. I can speak out more trues. I was trying to write those trues for last few months after you left me here, alone! 

I said those lines made me upset once and now they are upsetting you. You didn't ask why those does not hurt me much now. Yet, I am telling you the cause. Because of you! Now you are in my life and what can be the happiest thing ever happened to me? 

It's been 8 years since I left home for job. I passed the worst time here during the month of Ramadan and If I had to stay here during EIDs. But not the last Ramadan. I had the best ever Ramadan this year cause you were with me. First time I tested some incredible home made foods that you made just only for me. I never had Dabli with puffed rice before, nobody made singara for me before, none made jorda, halim, thai soup for me before. I can tell you a lot of things like these. I don't care about the test. But what amazed me is your love behind these for me! 

You are the person who loved me most. And you are the person who I love most! 

Is not that enough for you?

You are enough for me, It's the damn truth!

এন্ড্রয়েড


এন্ড্রয়েড ফোন আসার বহুদিন পর নিজের জন্য একটা এন্ড্রয়েড কিনলাম। এর আগে যে তিনটা এন্ড্রয়েড কিনেছিলাম সেগুলো কয়েকদিন ব্যবহার করার পর যার জন্য কিনেছিলাম তাকে দিয়ে দিয়েছি। ব্যবহার করার কারন ছিল এন্ড্রয়েড সম্পর্কে ধারনা নেয়া কারন যাকে দিচ্ছি সে আগে এন্ড্রয়েড ব্যবহার করে নি। সে ব্যবহার করতে যেয়ে কোন সমস্যায় পড়লে আমাকেই তার সমাধান করতে হবে। দেশীয় কোম্পানি হিসেবে ওয়ালটন আমার নজরে ছিল। প্রথমবার মোবাইল কেনার সময় দ্বিধান্বিত ছিলাম ওয়ালটন কিনব কি না। টাকা নিয়ে রওনাও দিয়েছি ওয়ালটন কেনার জন্য। কিন্তু সানমার ওশান সিটিতে গিয়ে প্রথমেই চোখ পড়ল স্যামস্যাং এর শো রুমে। ডিসপ্লেতে রাখা Samsung Galaxy S-7952 সেটা আমার এত পছন্দ হল যে অন্য সেটের চিন্তা বাদ দিয়ে এটাই নিলাম। অবশ্য শোরুমে ব্ল্যাক টা ছিল না। বাইরে থেকে নিতে হয়েছে। আজো এন্ড্রয়েডের কথা মনে হলে ঐ সেটের কথাই মনে পড়ে। 

এর পর আরেকটা সেট নিলাম। তখন অবশ্য আমি যে কনফিগারেশন আর বাজেটের কথা ভাবছি তাতে স্যামস্যাং নিয়ে আমার পোষাবে না। আর যদি চাইনিজ এসেম্বলড সেট নেই তাহলে সিম্ফনি নিব কেন ওয়ালটন থাকতে? নিলাম একটা ওয়ালটন। সেটটা খুবই পাতলা ছিল। আমার সাথে আমার এক কলিগও ছিলেন। উনি একটা নকিয়া উইন্ডোজ ফোন নিলেন আর ওয়ালটনও একটা নিলেন আমার কেনা মডেল। 

মোবাইল কেনার পরের দিনই উনি সেটা আমার আরেক জুনিয়র কলিগের কাছে বিক্রি করে দিলেন। সম্ভবত ভাবি ওয়ালটন সেট ব্যবহার করতে রাজি হয়নি। আমারটা নিয়াও পড়লাম মুশকিলে। গেম খেলছিলাম Temple Run Oz। হঠাৎ দেখি ডিসপ্লে কেমন যেন হয় গেল। সেট কেনার দুই দিনের মধ্যে আগ্রাবাদের চিপার মধ্যে ওয়াল্টনের কাস্টমার কেয়ার খুজে বের করে সেট ঠিক করতে দিয়ে আসলাম। 

আসলে ওয়ালটন নিয়ে আমার মধ্যে দ্বিধা ছিল যথেষ্ঠ। কেউ ওয়ালটনের সুনাম করছিল আর কেউ কেউ খুবই বিরক্তি প্রকাশ করেছিল। সেট কেনার দুই দিনের মধ্যেই যদি কাস্টমার কেয়ার যেতে হয় তাহলে বিরক্তি-ক্ষোভ থাকাটাই স্বাভাবিক। যাই হোক ১০-১৫ দিন পরে গিয়ে নিয়ে আসলাম। তারপর যার জন্য কিনেছি তাকে দিয়ে দিলাম। এই সেটের সমস্যা ছিল ব্যাক ক্যামেরার চেয়ে ফ্রন্ট ক্যামেরায় ছবি ভাল আসত আর নেট ব্রাউজ করে গরম হয়ে যেত। 

পরে জানলাম পোলাপান দুষ্টুমি করে ওয়ালটনের নাম দিয়েছে ইস্ত্রি! আপনার ঘরে ওয়ালটন সেট থাকলে আপনার আর ইস্ত্রি দরকার হবে না! 

তৃতীয়বার কিনলাম ওয়ালটন এইচএম মিনি। সেট কেনার সময় আমি বড় ব্যাটারির সেট প্রেফার করি। বার বার চার্জ দেয়ার আমার কাছে খুবই বিরক্তিকর একটা ব্যাপার। তাই এইচ এম মিনিটাই কিনলাম। ৪০০০ মিলি এম্পিয়ার ব্যাটারীর এই সেট টি আমি নিজে ব্যবহার না করেই যার জন্য কিনেছি তাকে দিয়ে দিলাম। সবই ভাল। তবে আগেরটার মত এটাতেও একই সমস্যা। ব্যাক ক্যামেরার চেয়ে ফ্রন্ট ক্যামেরায় ছবি ভাল আসে! কি অদ্ভূত সেট ওয়ালটন বানায় তারাই ভাল বলতে পারবে। এই সেটের ফ্ল্যাশ নিয়েও ব্যবহারকারীনী আমার নিকট অভিযোগ করেছেন। আমি তাকে ক্যামেরার কিছু ফাংশন শিখিয়ে দিলাম যেন লো লাইটেও ছবি তোলা যায়। 

পোর্টেবল হার্ড ডিস্কে অনেকগুলো মুভি জমে আছে। সময়ের অভাবে দেখা হয় না। এছাড়াও সময় থাকলেও অনেকসময় মুভি দেখার মুড থাকে না। কিন্তু হার্ড ডিস্ক খালি করতে হবে। কি করা যায়? ভেবে চিনতে মোবাইল কেনার সিদ্ধান্ত নিলাম। মুভি লোড করে রাখব, অফিসে কাজের ফাঁকে দেখব, ভ্রমণের সময়ও দেখা যাবে। যেহেতু মুভি দেখবো সেহেতু এই মোবাইলটার ব্যাটারী ব্যাকআপ এক্সিলেন্ট হতে হবে। 

কিনলাম Walton Primo RM2 ! 

এর ব্যাটারী ৫০০০ মি এম্পিয়ার, ব্যাটারী সহ ওজন ১৭২ গ্রাম প্রায়। একটু ভারী। ভারী হলেই ভাল। পকেটে রাখার পর যদি মনে না হয় মোবাইল রেখেছে তবে কোনদিক দিয়ে চুরি হয়ে যাবে টেরও পাবো না। 

এর ডিসপ্লেটা অসাধারন! কালার পিসির চেয়ে একবিন্দু কম নয়। ১৩ মেগা পিক্সেল ব্যাক ক্যামেরা এবং ৫ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা। এক পাশে পাওয়ার বাটন, অন্যপাশে ভলিউম বাটন। উপরে .৩ এম এম হেডফোন জ্যাক আর নিজের দিকে স্পিকার ও চার্জিং পয়েন্ট। সেট চার্জ হতে সময় নেয় প্রায় ৩ ঘন্টা। এন্ড্রয়েড ললিপপ ভার্সনে চলে। ৯০-১২০ মিনিটের ব্লু রে প্রিন্টের মুভি টানা দেখলে (হেডফোনে গুজে) চার্জ ক্ষয় হয় মাত্র ১০% ।

স্ক্রিনের সুরক্ষায় রয়েছে সেকেন্ড জেনারেশন গরিলা গ্লাস। টাচটা খুবই লাইট প্রথমদিককার সেটগুলোর মত খসখসে নয়। 

এর ১৬ গিগাবাইট ইন্টারনাল মেমোরী এবং ২ জিবি র‍্যামের তুলনায় প্রসেসরটা একটু পুরনো। সম্ভবত মালি ৪০০ সিরিজের। তবে আমার সমস্যা নয় না। অবশ্য আমি ভারী কোন গেম খেলি না। মিনিয়ন রাশ খেলি শুধু। ভারী গেম খেললে কি অবস্থা হবে বলতে পারব না। 

তবে এর ব্রাউজিং এক্সপেরিয়েন্স তেমন সুবিধার লাগল না। প্রচুর চার্জ ক্ষয় হয় নেট চালালে আর সেট গরমও হয়। আমি যেখানে থাকি সেখান মোবাইলের নেটওয়ার্ক এমনিতেই দুর্বল। এই কারনেও এমনটা হতে পারে। এর অন্যান্য ফিচার গুলার মধ্যে এন্টি থেফট এবং বিভিন্ন গেস্টার যোগ করার বিষয়টি উল্লেখ করা যেতে পারে। আর এই সেটের সাথে দেয়া চার্জার ছাড়া অন্যকোন চার্জার দিয়ে চার্জ করলে বেশি সময় লাগে। 

যারা মোবাইলের রিভিউ লিখে বেড়ান তাদের কাছে এই সেটটির বেশ গ্রহনযোগ্যতা রয়েছে। আর আমিও ব্যবহার করে এখন পর্যন্ত সন্তুষ্ট! 
smile emoticon
যারা নতুন মোবাইল কেনার কথা ভাবছেন তারা এই সেটটির কথা ভেবে দেখতে পারেন। মূল্য ১০,৯৯০ টাকা শোরুমে। বাইরে কিছু কম পেতে পারেন। তবে আমি শোরুম থেকেই কিনতে বলব। কারন তাতে এক্সেসরিজ গুলো অরিজিনাল পাবেন। 

ধন্যবাদ।

অফিসিয়াল গফসফ!


অফিসে দুই-চারজন কলিগ আছেন যাদের ভান্ডারে গল্পের অভাব নেই। কোন এক প্রসঙ্গ উঠলেই হয়। তাদের ঝুলি থেকে বেড়িয়ে আসে গল্প। সেদিন হুট করে কথা উঠল বিয়ের আগে মেয়ে দেখা নিয়ে। সেদিন তিনটা নতুন নতুন গল্প শুনলাম। তাহলে বলি -- 

১. অনেকদিন আগের কথা। তখন এদেশে লেখাপড়ার তেমন একটা চল ছিল না। তো এক ছেলের জন্য পাত্রী দেখতে যাওয়া হবে। ছেলের আবার পড়াশুনায় ঘাটতি আছে। অন্যদিকে মেয়ের ফ্যামিলির সবাই মোটামুটি শিক্ষিত। তাই ঘটক সাহেব পাত্রকে ডেকে বললেন,

"তোমাকে যদি জিজ্ঞেস করে পড়াশুনা করেছো কিনা বলবা মেট্রিক পাশ করেছি" 

"জি আচ্ছা..." 

পাত্রীর বাড়িতে যাবার পর বিরাট আয়োজন দেখতে পেলেন তারা। তাদেরকে খুবই আদর-যত্ন করা হল। কথাবার্তার এক পর্যায়ে মেয়ের মামা জিজ্ঞেস করলেন, 

"তা বাবাজি, পড়াশুনা কতদূর করেছো?" 

"জ্বী, মেট্রিক পাশ করেছি।" 

"কোন সনে মেট্রিক পাশ করেছো?" 

"জ্বী, আমি আগামী বছর মেট্রিক পাশ করেছি!" 

[প্রশ্ন আউট অফ সিলেবাস! 
tongue emoticon
 ] 

২. আরেকবাড়িতে গিয়েছে পাত্রপক্ষ। পাত্রের সাথে আরো তিনজন আছে। বিভিন্ন প্রশ্নবাণে জর্জরিত হয়ে মেয়ে একসময় ধৈর্য্য হারাল। তখন একজন প্রশ্ন করল, 

"আচ্ছা মা বলতো, এক কেজি পোলাও রান্না করতে কতটুকু তেল লাগে।" 

"আমার মাতো আমাকে আদরে আদরে মানুষ করেছে। কখনো চুলার কাছে যেতে দেয় নি।" 

আরেকজন প্রশ্ন করল, 

"আচ্ছা বলুনতো এক কেজি পোলাও রান্না করতে কতখানি লবণ লাগে?" 

"চার বলদে যতখানি লবণ খায়, ততখানি লাগে!" 

[ডাইরেক্ট বোল্ড হয়ে গেলেন] 

গল্প-৩ 

এক ছেলের বদভ্যাস হল সে কথায় কথায় "বাল্‌" বলে ফেলে। যেমন, ধূর ভাত খাবো না বাল্‌। সেই ছেলে গিয়েছে বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে... 

এই গল্প আর বলা যাবে না। সুধীসমজা সহ্য করতে পারবে না। 

যারা শীগ্রই পাত্রী দেখতে যাবেন তারা সময় থাকতে সাবধান হন, সাপোর্ট দিবে জনগন!

Saturday, July 11, 2015

ক্যারিয়ার


[আমার অলস মস্তিষ্কের চিন্তাভাবনা। যারা এখনো স্টুডেন্ট তারা সিরিয়াসলি নেবার আগে নিজের দায়িত্বে নিবেন।]

"কর্মমুখী শিক্ষা" বলে একটা কথা মাঝে মাঝে চোখের সামনে ভাসে। এই জিনিসটা আসলে কি, কেন ব্যবহার করা হয় সেটা আদৌ বুঝতে পারি নি। এখনো বোঝার মত কিছু চোখে পড়ে না। নিজজ্ঞানে যেটা উপলদ্ধি করতে পারি সেটা হল যে শিক্ষার দ্বারা ভবিষ্যতে কর্ম লাভের সুযোগ তৈরি করা যায় তাই মনেহয় কর্মমুখী শিক্ষা। 

াজের কথায় আসি। আমি যখন পড়াশুনা করতাম তখন কর্মক্ষেত্র নিয়ে আমার কোন ধারনাই ছিল না। যেটুকু ছিল সেটা হল যারা চাকুরী করাই বোধহয় আসল কাজ। তাই লেখাপড়া শিখে ভাল একটা চাকুরী জোগাড় করাটাই হল লেখাপড়া শেখার লক্ষ! বর্তমান প্রজন্মের ধারনা কি কে জানে! তবে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ফ্যাক্টরি বা কোন প্রতিষ্ঠান ভিসিটের কোন ব্যবস্থা নেই বলে ভবিষ্যতে আমাদের জন্য কি রকম চাকুরী অপেক্ষা করছে তার ধারনা না থাকাটাই স্বাভাবিক। 

এবার আসি ক্যারিয়ার প্রসঙ্গে। আমার মতে ক্যারিয়ার হল দুই প্রকারঃ

১। স্থায়ী 

২। অস্থায়ী

স্থায়ীর উদাহরন দেই। যেমন ডাক্তার। যে ডাক্তার সে সারাজীবনই ডাক্তার। সে কারো উপর নির্ভরশীল না। কোথাও কোন চাকুরী না পেলে নিজে থেকেই প্র্যাকটিস করা যায়। শুরুটা যদিও খুবই কঠিন হবে সেক্ষেত্রে।

শিক্ষকের কথাও একইরকম। এরপর আছে বিভিন্ন ধরনের মেকানিক। হতে পারে রেডিও, টেলিভিশন, মোবাইল, কম্পিউটার, মোটরগাড়ি মেকানিক-ইত্যাদি হরেক রকম পেশা আছে যেগুলো স্থায়ী। সারাজীবনই এ ধরনের পেশায় কাজ করা যায়। 

আর যেমন ধরা যাক ব্যাংকার। এদের চাকুরী যতদিন আছে ততদিনই কাজ। চাকুরী শেষ, ব্যাংকারগিরি শেষ। এরপর যারা বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে যারা ননট্যাকনিক্যাল চাকুরী করেন তাদের চাকুরীও নির্দিষ্ট সময় পর আর থাকে না। তখন তাদের অন্যপথ দেখতে হয়।

আমাদের দেশে অবশ্য এই ধরনের মেকানিক কাজকে ভাল চোখে দেখা হয় না। যদিও আমি মনে করি সৎভাবে কাজ করলে এই পেশাগুলোতে চাকুরীর চেয়েও ভাল করা সম্ভব। দেশে প্রতিদিন মোবাইল, কম্পিউটার ব্যবহারকারী বাড়ছে। সেই সাথে বাড়ছে এসব ইলেক্ট্রনিক্স পন্যের মেকানিকের চাহিদা। একটা ফ্রীজে হাত দিলেই ৫০০ টাকা দিতে হয়। টিভির কথাও একই। মোবাইল, কম্পিউটারেরতো আরো বেশি হবার কথা। 

এই পেশাগুল হল স্লো স্টার্টিং। ব্যবসার প্রথম দিকে একটু অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়। কিন্তু মনে রাখতে হবে ব্যবসার প্রধান মূলধন হল সততা। সততা বজায় রাখলে যেকোন কিছুতে ভাল অবস্থানে থাকা সম্ভব। 

ইন্টারনেট ভিত্তিক আয়ের বিরাট সুযোগ আমাদের সামনে। আউটসোর্সিয়ে ছোট ছোট কাজ করে স্থায়ীভাবে বিদেশী চাকুরী দেশে বসেই করা সম্ভব। আমার এক কলিগ মাইক্রোওয়ার্কাসে বছর খানেক কাজ করার পর বিদেশিনীর কাজে জব অফার পায়। রাতের বেলা কাজ করতে হবে। সপ্তাহে তিন দিন। কিন্তু উনার পক্ষে সপ্তাহে তিনদিন সময় দেয়া প্রতি সপ্তাহে সম্ভব না হওয়াতে উনি জবটা করতে পারেন নি। 

যাদের এই ধরনের আউটসোর্সিং করার ইচ্ছা তাদের জন্য ইংরেজী জানাটা আবশ্যক। ওয়েব প্রোগ্রামিং, ওয়েব ডেভলপিং, ডাটাবেস বিল্ডআপ-এইগুলার জন্য টাকা দিয়ে কোন প্রশিক্ষন নেবার প্রয়োজন নেই। ইন্টারনেটের মাধ্যমেই সম্ভব। আর দুই-একটা বই কিনে নিলেই যথেষ্ঠ। 

আমাদের অভিভাবকদের আসলে সচেতন হওয়া উচিত। কোথায় যেন পড়লাম, "চাকুরী হল আধুনিক গোলামী" - কথা টা একদম সত্যি। চাকুরী করতে করতে আমাদের মধ্যে একধরনের চাকর চাকর ভাব চলে আসে। আমরা স্বাধীনভাবে ভাবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি। আমরা তাই ভাই যা আমাদের হাইয়ার ম্যানেজমেন্ট আমাদের ভাবায়। আমার স্বাধীনস্বত্তার অপমৃত্যু ঘটে। 

তাই কেউ যদি সিরিয়াসলি কোন স্বাধীন কাজের দিকে ঝুকে তাহলে আমাদের (ফ্যামিলি মেম্বারদের উচিত) তাকে সাপোর্ট দেয়া। সে যেন ঐ লাইনে পড়তে পারে সে ব্যাপারে সাহায্য করা। কয়েকবছর পর সে হয়ত একটা প্রতিষ্ঠান হয়ে যাবে!

প্রশ্ন

মেয়েদের একটা প্রশ্ন করি। খুব সহজ এবং ছোট্ট প্রশ্ন। 

ধরাযাক, আপনি আপনার ভাই, ছেলে অথবা বাবাকে নিয়ে হাটতে বেড়িয়েছেন। কিছুদূর যাবার পর দেখলেন চার-পাঁচটা ছেলে একটা মেয়েকে অপমান করছে অথবা ছিনতাই করছে। তারা এলাকায় মাস্তান হিসেবে পরিচিত অথবা তাদের হাতে ছোড়া/আগ্নেয়াস্ত্র আছে। এখন আপনি - 

ক) আপনার বাবা/ছেলে/ভাইকে ঠেলে পাঠাবেন ঐ মেয়েকে সাহায্য করতে

খ) আপনার বাবা/ছেলে/ভাই যেতে চাইলে তাকে আটকাবেন, ঐ ছেলেগুলো খুব খারাপ। ছোড়া/গুলি মেরে দেবে।

গ) দু'জন মিলে ঘটনা ভিডিও করবেন মোবাইলে। তারপর বাসায় এসে ফেবুতে আলোড়ন তুলবেন।

ঘ) অন্যকিছু (লিখুন)

বীরঙ্গনা সাজার দরকার নেই। শুধু নিজেকে জিজ্ঞেস করুন ভালভাবে এবং সত্যি কথাটি উপলদ্ধি করুন। চাইলে উত্তরও দিতে পারেন।

পাষাণ

ছোটবেলা থেকেই কয়েকজনের মুখে এই কথাটা শুনেছি, আমার নাকি কঠিন হৃদয়! আমি নাকি পাষান! আমি তাদের অভিযোগ শুনতাম আর মুখ টিপে টিপে হাসতাম। নিজেকে কঠিন হৃদয়, পাষান-ভাবতে একরকম পৈশাচিক আনন্দ হত। ইয়ং পোলাপান নিজেকে "টাফ গাই" ভেবে যেমন আনন্দ পায় আর কি! 

আমি যে কতটা পাষান, কঠিন হৃদয়, সেটা এখন বেশ বুঝতে পারি। :D বিয়ের পর আর কি! বিয়ে করেছি প্রায় চার মাস হয়ে গেলেও সংসার করেছি একমাসেরও কম সময়। এখন ঘর খালি।

ঘরে যখন লোক ছিল তখন সারাদিন অফিস করেছি। নতুন বউ ঘরে রেখে সারাদিন করি অফিস আর ক্লান্তিতে বেঘোড়ে ঘুমাই। মানুষ বিয়ের পর কতদিকে ঘুড়তে যায়। আমি কোথাও যাই নি।

এখন ঘর খালি। আমি যখন পিসির সামনে বসে থাকি তখন মনে হয় যে, রান্না ঘরে কেউ একজন আছে! ফেসবুকিং ফাঁকে ফাঁকে যার দিকে তাকাতাম আগে। এখন কিন্তু ঐদিকে আমি ভুলেও তাকাই না।

ওয়ারড্রবের কিছু কিছু ড্রয়ার আমি খুলেও দেখি না। যে ড্রয়ারে আমার কাপড় চোপড় আছে শুধু সেটাই টেনে বের করি। অন্যগুলো খুলতে যদি আবার অন্যের কাপড়চোপড় চোখে পড়ে যায়!

ড্রেসিং টেবিলের আয়নার পিছনের অংশটাও আমি খুলি না। যদি লেডিস কসমেটিক্সগুলো দেখতে পাই!

অফিসে যাবার জুতার র‍্যাক থেকে আমার সেফটি শ্যু জোড়া নেবার সময় আমি কিন্তু বাহারী ডিজাইন করা ঐ স্যান্ডেল জোড়ার দিকে তাকাই না। নিজেরটা নিয়েই ব্যস্ত থাকি।

এমনি কি আমার বসার চেয়ারে, ঘরের মেঝেতে, আমার পাঞ্জাবীতে যে লম্বা চুলগুলো লেগে আছে সেগুলো আমি তুলে নির্দ্বিধায় ময়লার বালতিতে ফেলে দেই।

****,  আপনার আসলে ভাগ্যই ভাল না। নাহলে দুনিয়াতে এত পুরুষ থাকতে আমার মত একটা নির্জীব, পাষান, কঠিন হৃদয়ের মানুষ আপনার জীবনসঙ্গী হত?

হত না...

আজব কন্ট্রাডিকশন

মানুষ আমার কাছে একটি আগ্রহদ্দীপক সৃষ্টি। আরও আগ্রহদ্দীপক হল মানুষের চরিত্রের বিভিন্ন দিক। তবে সবচেয়ে আগ্রহদ্দীপক হল মানুষের দ্বিমুখীতা। উদাহরন দেই। 

যখন বাসে থাকি তখন মনে হয়, এই সিএনজিগুলা এত বদমাশ কেন? ফুরুৎ করে ফাঁক দিয়ে ঢুকে যায়। সাইড দিতে চায় না। 

আর যখন সিএনজিতে থাকি তখন মনে হয়, আরে বাসের ড্রাইভারগুলোর ধৈর্য্য বলে কিছু নেই। খালি হর্ণ দেয়। 

কলিগদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেদের প্রমোশন নিয়ে বসদের উপর খুব ক্ষুদ্ধ। তাদের প্রমোশন হচ্ছে না। তারা কি কম যোগ্যতা সম্পন্ন? তারা কি কাজ কম করে?- ইত্যাদি ইত্যাদি।

কিন্তু অধঃস্তনদের প্রতি যখন তাদের আচরন দেখি তখন মনে মনে ভাবি, এদের প্রমোশন হয় না - সেটা একদিক থেকে ভাল। এরা প্রমোশন পেয়ে বস হলে তখন আমাদের যে কি হাল হবে তা আল্লাহই জানে!

নির্বাচনের আগে সমঝোতার আগে "অমুকে" নির্বাচিত হলে কি করবে সেটাতো সবাই জানে। কিছুদিন আগে কি করেছে মনে নাই?

আর সমঝোতা হবার পর, ওমুককে দিয়েই কাজ হবে। যে এত ঘটনা ঘটাতে পেরেছে! সে-ই আমাদের দাবি-দাওয়া এনে দিতে পারবে।

বাসে প্রচন্ড ভীড়। তবুও বাস সাইড করে হেল্পার লোক তুলছে। হেল্পারকে গালি দিয়ে মুখে ফেনা তুলে ফেললাম। আর অন্যদিন ঠেলাঠেলি করে নিজেই লোকভর্তি বাসে উঠে পড়লাম!

বাজে আম্পায়ারিং যখন আমাদের বিপক্ষে যায় তখন আমরা ফুঁসে উঠি। আর যদি পক্ষে যায় তাহলে আমরা খুশি। কেউ কেউ আমার আম্পায়ারদের দেশপ্রেমিক বানাই!

প্রেমে পড়লে বা পটাতে চাইলে যাদের নিয়ে লুতুপুতু বেশি করি ব্যর্থ হলেই বাঁশ দিয়ে তাদের চাঁদে পাঠিয়ে দেই।

তামিমের যখন ফর্ম থাকে না তখন কলাম লেখা হয় তামিমের সমালোচনা করে। আর যখন তামিম রানে ফেরে তখন লেখা হয়, "সমালোচকদের জবাব দিলেন তামিম"

রাস্তা-ঘাটে যখন কোন অঘটন দেখি তখন রিকশার হুড তুলে দেই। সাথের জন যদি প্রতিবাদ করতে নেমে যেতে চায় তখন তাকে আটকাই। বলি, "ছেলেগুলো ভাল না। চলে এসো। যদি কোন ক্ষতি হয়!" , "এগুলো সামলানোর দায়িত্ব পুলিশের। তোমার এত মাথা ব্যথা কেন?" , "বাবা কারো সাথে ঝামেলায় জড়াস না।" - ইত্যাদি ইত্যাদি।

আর যখন নিজের উপর এসে বিপদ পড়ে তখন চিৎকার চেচাঁমেচি করি, "এতগুলো মানুষ চারদিকে, কেউ এগিয়ে এল না। সব কাপূরুষ!"

টিভির ঐ এডটার কথা মনে পড়ে গেল। বল এসে কাঁচে লাগল। গৃহকর্তী বেড়িয়ে এসে বলতে লাগল, "এই কে বল মেরেছে। কাঁচ যদি ভাঙত।" তখন এক পিচ্চি এসে বলল, "আম্মু বলটা দাওতো। আমি মেরেছি।" তখন বলতে লাগলেন, "ওরে আমার বাবুটা। তুমি বল মেরেছো? ভাবি দেখলেন কি চমৎকার টার্গেট?"

বিজ্ঞাপনটা এই টাইপেরই। ডায়লগগুলো হয়ত আমি গুলিয়ে ফেলেছি।

এমন অসংখ্য উদাহরণ দেয়া যাবে।

মিডিয়ার কথা যখন উঠলই তখন একটি সিনেমার কথা বলি। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা। বরাবরের মতই নাম মনে নেই, কিন্তু কাহিনী মনে আছে। এক দুঃখী মাকে কেন্দ্র করে সিনেমার কাহিনী আবর্তিত হয়েছে। মায়ের চরিত্রে সম্ভবত সুচরিতা অভিনয় করেছিলেন। দুঃখী মায়ের সংসারে কেবল একটি ছেলে। ছেলেটি বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। জীবিকা অর্জনের পাশাপাশি ছেলের যত্ম নিয়ে মায়ের সারাদিন কেটে যায়। ছেলেটি যখন কিশোর তখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। ঘটনাক্রমে একদিন কিছু মুক্তিযোদ্ধা তার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। এদিকে পাক আর্মি খবর পেয়ে তার বাড়ি ঘেরাও করে। তার বুকে রাইফেল ঠেকিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের হদিস জানতে চায়। প্রথমে অস্বীকার করলেও মা পরে বুঝতে পারে উনি যদি কিছু না করেন তবে পাকবাহিনী ঘরে ঢুকে সবাইকে বের করে গুলি করে মারবে। তখন তিনি নিজের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ছেলে তাদের সামনে এনে হাজি করেন। পাকবাহিনী তার চোখের সামনে তার একমাত্র ছেলেকে গুলি করে মারে।

এমনি হাজারো ত্যাগের মাধ্যমে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ অর্জিত হয়েছে।

যদি ভাল কিছু আমরা চাই তবে আমাদের ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। অন্যেরা ত্যাগ স্বীকার করবে এই আশায় আমি চোখ বন্ধ করে থাকব এমন নয়। আমি যদি চাই যে আমার পরিজন কারো কাছ থেকে কোন ফেবার পাক তাহলে অন্যেরা যেন আমার কাছ থেকে ফেবার পায় সেদিকে মনোযোগী হতে হবে।

আমি এদেশের মা-বাবাকে বলব, আপনার সন্তানকে পিছন থেকে টেনে না ধরে সামনের দিকে এগিয়ে দিন এবং সে যদি বিপদগ্রস্থ হয় তবে ধৈর্য্যধারন করুন। আর কখনো যদি সে কারো বিপদে এগিয়ে যায় এবং ক্ষতিগ্রস্থ হয় তবে তাকে তিরস্কার না করে উৎসাহ দিন। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করুন যে, আল্লাহ এরকম সাহসী সন্তান আপনাকে দিয়েছেন।

ধৈর্য্য ধরে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

টোটাল কন্ট্রাডিকশন!

আমি যদি সুন্দরী চেলেব্রেটি হতাম তাহলে একটা ভিডিও দিতাম। এখনতো এই ট্রেন্ডই চালু হয়েছে। আফসুস আমি সুন্দরী চেলেব্রেটি না। তাই আমার ভিডিও কেউ দেখবে না। তাই আমার বক্তব্য লিখেই দিলাম। যার পড়ার পড়বে, না পড়লে নাই।

জাতি হিসেবে আমাদের আবেগ অত্যন্ত বেশি। কোন ঘটনা ঘটলে প্রথমেই আমরা আবেগ প্রবন হয়ে কত কিছুই বলি। যুক্তি থাকলেও বলি, যুক্তি না থাকলেও বলি। কিছুদিন আগে একটা নাটক দেখেছিলাম টিভিতে। ফেসবুক ভিত্তিক নাটক। নাটকের মূল চরিত্রে অভিনয় করেছে মিশু সাব্বির আর সেজুতি। ভাই-বোন। ছোট ভাই মিশু প্রায়ই সেজুতির অনুপুস্থিতিতে তার ল্যাপটপ ব্যবহার করে। মিশু ফেসবুকে একটা ফেইক আইডি চালায়। মেয়ে আইডি। এই আইডি চালাতে যেয়ে এক ছেলের সাথে চ্যাট হয়। দিনে দিনে দু'জনে অনেক আগায়। তারপর ঐ ছেলে যখন ছবি দেখতে চায় তখন মিশু তার বোনের ছবি দেয়। কথাবার্তায় নিজের বোনের অনেক গোপন ছবিও মিশু ল্যাপটপ থেকে শেয়ার করে। তো ঘটনা চক্রে একদিন সেজুতিকে ঐ ছেলে শপিং সেন্টারের বাইরে রাস্তায় দেখতে পায়। তখন মিশু আর তার বাবাও সাথে ছিল। ছেলে সেজুতিকে যতই চাপ দেয় সেজুতি অস্বীকার করে যে সে তাকে চেনে না। একপর্যায়ে ছেলেটি ঐ গোপন ছবি বের করে তাদেরকে দেখায়। তখন সবার মাথায় বাজ পড়ে। মিশুতো সবই জানে। সেজুতি কিছুই বুঝতে পারে না। সেজুতির বাবাও থমকে যান।

বাসায় এসে সেজুতি অনেক চিন্তা-ভাবনার পর বুজতে পারে এসব মিশুর কাজ। কারন সে অনেকবার মিশুকে তার ল্যাপটপ ঘাটতে দেখেছে। মিশুকে চার্জ করতেই মিশু কাঁদতে কাঁদতে সব স্বীকার করে। তারপর মিশুর বাবা মিশুকে ঘর থেকে বের করে দেন। মিশুও চলে যায়। রাতের বেলা সেজুতির মাথা ঠান্ডা হলে সেজুতি তার ভাইকে খুজতে বের হয়। আর মিশু নদীতে ঝাপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে।

এখন কথা হল এই ঘটনার জন্য দায়ি কে? মিশু যেমন দায়ি, তেমনি দায়ি তার বোন। মিশু তার বোনের ছবি শেয়ার করে গুরুতর অপরাধ যেমন করেছে, তেমনি সেজুতির অপরাধ হচ্ছে প্রযুক্তির যথেচ্ছ ব্যবহার। মোবাইল বা ওয়েবক্যাম থাকলেই কি খোলামেলা ছবি তুলতে হবে? ছবি তোলার সাধারন উদ্দেশ্য হল অন্যকে দেখানো। যে ছবি কাউকে দেখানো যায় না সে ছবি তোলারই দরকার কি? নিজেকেতো আয়নাতেই দেখা যায়।

কথা বলতে চাই আসলে তিনটাঃ

১. ছেলেরা নিজেদের সংযত করবে।

২. মেয়েরা শালীনভাবে চলাচল করবে।

৩. এরপরও কোন অঘটন ঘটলে তার যথোপযুক্ত শাস্তি।

রিকশাতো আমরা সবাই চড়ি কম-বেশি। রিকশার তিন চাকা। কোন চাকার যদি নষ্ট থাকে তবে রিকশা চলে না। চললেও চলে খুড়িয়ে খুড়িয়ে। এই রিকশায় এক্সিডেন্টের সম্ভবনা বেশি। আর যে রিকশার সবকিছু ভাল সে রিকশায় সাধারনত এক্সিডেন্ট হয় না। তবে একেবারেই যে হয় না সেটা কিন্তু নয়।

ঐ তিন বক্তব্যের ক্ষেত্রেও একই কথা। ছেলের দায়িত্ব ছেলে পালন করবে। মেয়ের দায়িত্ব মেয়ে পালন করবে। তারপরও যদি কেউ দায়িত্ব পালন না করে তবে তার জন্য শাস্তি। সে শাস্তি দৃষ্টান্তমূলক হতে হবে। প্রকাশ্য হতে হবে। তাহলে যারা সুযোগসন্ধানী তারা সতর্ক হবে।

নেটে যেসব ভিডিও এসেছে তাদের মধ্যে একটা কথা কমন, "পোশাকের ব্যাপার না, মেন্টালিটির ব্যাপার।"

আসলেই মেন্টালিটির ব্যাপার। ছেলেদের মেন্টালিটি সৃষ্টির আদিকাল থেকেই ভাল না। তাই এটা নিয়ে বেশি কথা বলতে চাই না। শুধু এইটুকুই বলব যে, ছেলেদের মধ্যে যারা নিজেদের প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে পাশবিক কিছু করবে তাদের যথোপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। নাহলে ব্লেড রেখে কোন কাজ হবে না। কাজ হবে না কুংফু-কারাতে শিখেও। আপনারাই বলেন ঐরকম ভীড়ের মধ্যে ব্লেড, ছুড়ি, চাকু - ইত্যাদি দিয়ে কতটুকু লাভ হবে? আদৌ কি লাভ হবে? নাকি বুমোরাং হবে এই সিদ্ধান্ত? আচ্ছা, কুংফু-কারাতে জানে এমন কাউকে কি আপনি চেনেন যে কিনা ছিনতাইকারীর কুংফু মেরে কুপোকাৎ করেছে? আমি এসব শুধু সিনেমাতেই দেখেছি। বাস্তব জীবনে দেখিনি কখনো। ছিনতাইকারীর হাত থেকে সেনাসদস্যরাই রেহাই পায় না অনেক সময় আর কুংফু!

এখন আসি মেয়েদের মেন্টালিটির কথায়। ভীড়ে ছেলেদের আচরন কেমন হয় সেটা মেয়েরা ভাল করেই জানে। কারন প্রতিবছরই এমন হয়। ছেলেরা উচ্ছৃঙ্খল হয়ে উঠে। তারপরও যেসব মেয়ে সেখানে যায় তাদের মেন্টালিটি আসলে কেমন? তারা কি রবীন্দ্রনাথ শোনে বেশি?

"আমি জেনে শুনে বিষ করেছি পান
আমি প্রাণেরও আশা ছেড়ে সপেছি প্রাণ"

এই টাইপ মেন্টালিটি?

শুধু ঢাকা শহরে বলব না, সমগ্র বাংলাদেশের অবস্থাও একই। এসব ঘটনা বিদ্যুৎ বেগে ছড়ায়। কোন মেয়েরই তা অজানা নয়। তাও কেন এখানে যেতেই হবে? তাদের অভিভাবকের মেন্টালিটিই বা কেমন? তাদের মেয়েরা, ছেলেরা কোথায় যাচ্ছে, কি করছে, কেন যাচ্ছে, কার সাথে যাচ্ছে, সেখানে কি হতে পারে, কি না হতে পারে - সেসব দিকে কোন খেয়াল নেই কেন?

গতরাতে একটি গল্প লিখেছিলাম। আবুল মিয়ার গল্প। এই গল্পটি লিখেছি অতিজ্ঞানী কিছু মানুষের জন্য। যারা জ্ঞানের গভীর সাগরে ডুব দিয়ে বহুক্ষন ভাববার পর সুচিন্তিত প্রশ্ন করেন, যারা এমন করে তাদের ঘরে কি মা-বোন নেই? তারা কিভাবে মা-বোনদের সাথে থাকে?

আপনার বাবারও নিশ্চয়ই মা ছিল, বোন ছিল। তারপরও তিনি বিয়ে করেছেন। আপনার জন্ম হয়েছে। কিভাবে আপনার জন্ম হল? আপনারতো দাদি-ফুপু ছিল। তাও আপনার কেন জন্ম হল? অবাক করার মত বিষয় না? স্ত্রীকে যদি মা-বোনের মত দেখত তবে আপনার জন্ম হত না।

সুতরাং ছেলেরা ঘরের মা-বোনকে যে দৃষ্টিতে দেখে রাস্তার কোন মেয়েকে সে দৃষ্টিতে দেখে না। আর যদি ঐ মেয়ে শালীনতার ধারই না ধারে তবে তার দিকে কোন দৃষ্টিতে তাকায় সে আমরা; ছেলেরা ভাল করেই জানি।

আচ্ছা আপনি আপনার স্ত্রী/স্বামী কে যে দৃষ্টিতে দেখেন আপনার মা-বোন/বাবা-ভাইকে কি সেই দৃষ্টিতে দেখেন? দুর্ভাগ্য কার আপনার স্ত্রীর/স্বামীর? নাকি আপনার মা-বোনের/বাবা-ভাইয়ের? খুব খেয়াল করে!

ঐসব ক্ষেত্রের সাথে স্ত্রীর সম্পর্কের একটা সূক্ষ পার্থক্য থাকে। স্ত্রী প্রতি ভালবাসা থাকে। কিন্তু ঐসব ক্ষেত্রে কোন ভালবাসা থাকে না। থাকে হিংস্রতা! মা-বোনের জন্য ঐ হিংস্রতা থাকে না। কেন থাকে না-এই প্রশ্নের উত্তর যারা এখনো পান নি, তাদের আর কিছু বলার নেই আমার।

সুন্দরী চেলেব্রেটিদের একজন মেশিন ধরে টানাটানির কথা বললেন। খুবই হাস্যকর একটা কথা। মেশিন ধরে টান কি জন্য মারে সেটা মনে হয় ঐ সেলেব্রেটির জানা নেই। টানাটানি না করতেই যে অবস্থা! করলে না জানি কি হয়!

আরেকজন বললেন, "মেয়েদের পোশাকের দায়িত্ব আল্লাহ "আপনাকে" দেন নাই। মুখ, হাত, আর জিপার সামলান।" জিপার সামলানের দায়িত্ব আল্লাহ আপনারে দিছে নাকি? নাকি কে সামলাইলো, কে সামলাইলো না-সেটা দেখার দায়িত্ব আপনাকে আল্লাহ দিছেন? কথা-বার্তা সব কন্ট্রাড্রিকটরি। ছেলেদের জিপার সামলানোর মহান দায়িত্বপ্রাপ্ত এই মহিয়সী নিজের সমগোত্রীয়দের জামার জিপার সামলানোর ব্যাপারে কিন্তু কিছু বলেন নি।

একচোখ দিয়ে না দেখে দু'চোখ দিয়েই দেখার চেষ্টা করেন। ভাল হবে।

আরেকজনতো "FUCK YOURSELF" বলে নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়ে বললেন, তিনি নাকি এখন থেকে তার ব্যাগে কনডম রাখবেন। যেন তাকে কেউ রেপ করতে আসলে কন্ডম দিতে পারেন। এতে ধর্ষনকারীর SPERM তার মধ্যে ঢুকবে না।

ধর্ষনকারীতো একবুক মায়া! আপনার আতিথেয়তায় খুশিতে গদগদ হয়ে যাবে!

বুরকা নেকাব পড়া এক সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশী মেয়ে বলল যে, পোশাক কোন ফ্যাক্ট না। যদি ফ্যাক্ট হত তাহলে সৌদিতে, যেখানে নারীরা সবাই পর্দা করে চলে সেখানে এক সৌদিয়ান নারী ১২ জন বাংলাদেশী পুরুষ কর্তৃক ধর্ষিত হত না।

পোশাক যদি ফ্যাক্ট না হত তাহলে আল্লাহ তায়ালা নিশ্চয়ই আল-কুরআনে চাদর টেনে দেয়ার কথা বলতেন না। শুধু ছেলেদের সংযত হবার কথা বলেই ক্ষান্ত দিতেন। তাই না?

আর শালীনভাবে চলার পরেও যদি কেউ উত্যক্ত হয় তবে তার জন্য শাস্তির বিধানের কথাতো আগেই বললাম। সবাই যদি সংযত হয়ে চলত তবে দুনিয়া আর দুনিয়া থাকত না, বেহেশত হয়ে যেত। যত কঠোর আইনই হোক ১০০ ভাগ লোক সংযত হবে না-এটাই স্বাভাবিক। তাদের জন্যই শাস্তির ব্যবস্থা। যাতে অন্যরা সতর্ক হয়।

অনেকেই আবার ফতোয়া দিয়ে দেন যেন মেয়েরা ঘরে-বাইরে সব কাজ করতে পারবে পর্দার সাথে। তাদের জন্য বোখারী শরীফ থেকে একটা হাদিস হুবহু তুলে দিচ্ছি।

/* ৪৯১। হাদীছঃ আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করিয়াছেন, বর্তমান যুগে নারীরা যে অবস্থা অবলম্বন করিয়াছে তাহা যদি রসূলুল্লাহ (সাঃ) জানিতেন, তবে খোদার কসম--নিশ্চয় তিনি নারীগণকে মসজিদে যাইতে নিষেধ করিতেন, যেরূপভাবে বনী ইস্রাঈলের নারীদের জন্য মসজিদে যাওয়া নিষিদ্ধ ছিল।

ব্যাখ্যাঃ আয়েশা (রাঃ) যেই যুগের নারীগনের প্রতি অভিযোগ করিতেছিলেন সেই নারীগন হইলেন আয়েশা (রাঃ)র যুগের নারী অর্থাৎ রসূলুল্লাহ (সাঃ)এর যুগ, সেই যুগের পরেও উত্তম যুগ আরও একটি বা দুইটি বাকী ছিল। সেই যুগ হতে দীর্ঘ চৌদ্দশত বৎসরের অধিক কাল পরের যুগ হইল বর্তমান যুগ। এই যুগের নারীদের অবস্থা আয়েশা (রাঃ) দেখিলে কি বলিতেন এবং রসূলুল্লাহ (সাঃ) তাহা জানিতে পারিলে কি করিতেন উহা পাঠকগণের বিবেক-বুদ্ধির উপরই ছাড়া হইল। */

এই হল নারীদের মসজিদে নামায পড়ার ব্যাপারে হাদীস। নামাযের ব্যাপারেই এ কথা বলা হয়েছে তাহলে পর্দার সাথে অন্য কাজের ব্যাপারে কি বলা হত আল্লাহই জানেন!

আবার ফিরে আসি ঐ নাটকের ব্যাপারে। দিনশেষে সেজুতি কিন্তু ঠিকই তার পিঠাপিঠি ভাইয়ের জন্য উদ্বিগ্ন হয়। তাকে খোজাখুজি করে। তার মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে কান্নাকাটি করে।

আপনার ভাই, আপনার বাবা, আপনার স্বামী বা আপনার ছেলে যদি পহেলা বৈশাখ, বই মেলা বা অন্যকোথাও এই কাজ করত তবে আপনি কি তাকে পুলিশে দিতে পারতেন? বা পারতেন তাকে ব্লেড, ছুড়ি, কাচি দিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করতে? পারতেন তাকে জনগনের হাতে তুলে দিতে?

পারতেন?

নারীর সম্মান!

আবুল মিয়া বিয়া করছে এই সপ্তাহখানেকের মত হইছে। কিন্তু বিয়ের পর আবুল মিয়া নিজের ঘরে বউয়ের সাথে একদিনও ঘুমায় নাই। সবাইতো অবাক। প্রথমে সবাই আবুলের বউকে ধরল, সে কিছু বলেছে কিনা বা তার কোন শর্ত আছে কিনা। আবুলের বউ বিষন্ন গলায় জানালো যে, না, তার সাথে এমন কোন কথা হয় নাই। তাহলে ঘটনাটা কি? আবুলকে সরাসরি জিজ্ঞেস করতেও কেউ সাহস পাচ্ছে না। সবাই ইতস্তত করে শুধু। 

একদিন আবুলের সবচেয়ে ঘনিষ্ট বন্ধু চাঁন মিয়া ঘটনা জানতে পেরে আবুলকে ডেকে জিজ্ঞেস করল,

"কিরে দোস্ত, কি শুনতেছি এইগুলা। তুই বলে রাইতে ভাবির লগে থাকস না?"

"হ দোস্ত..."

"কেন কি হইছে?"

"না কিছু হয় নাই। আমি আসলে নারী জাতীরে খুব সম্মান করি। এখন বউয়ের লগে রাইতে ঘুমাইলে যদি নারী জাতীর অসম্মান হয়? এরচেয়ে আলাদা থাকাই ভাল। আর যাই হোক মায়ের জাতীর অসম্মান আমি করতে পারুম না।"

[লং লিভ আবুল মিয়া। স্যালুট আবুল মিয়া]

মূত্রমনা vs জঙ্গি

> তুই একটা চু****......! 

+ হুম...

> তরে যে কি করতে মন চায়...!!! 

+ :( 

> তর মায়েরে আমি ......!

+ ..............

> কিরে বাই***! কথা কস না কেরে?

+ -_-

> ওই চোখ গরম করছ কেরে? তর আল্লারে আমি নবী দিয়া ............. [নাউজুবিল্লাহ]

+ চূপ। আরেকটা কথা কইলে তরে রাস্তায় ফালায়া কোপামু! তর সাহস তো কম না তুই আল্লাহ-রাসূল নিয়া কথা কস...

> তুই দেখি জঙ্গি হইয়া গেছস! :O

[এই হল জঙ্গি আর মূত্রমনা হবার মূল কাহিনী]

নোবেল

আগামীতে শান্তির জন্য নোবেল পাচ্ছেন একজন বাংলাদেশী। কে পাচ্ছেন সে কথা প্রকাশ করার আগে আরেকজনের কথা বলে নেই। যা বলার সংক্ষেপেই বলব। 

মালালা ইউসুফজাইয়ের কথা নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে? তার ইতিহাসও আপনাদের জানা। তালেবানের গুলি লাগার পর তাকে চিকিৎসার জন্য কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেটা কি মনে আছে? আমার যতদূর মনে আছে আমেরিকাতে নেয়া যাওয়া হয়েছিল। মালালা গুলি খেল কেন সেটাও নিশ্চয়ই বলে দিতে হবে না। 

অভিজিৎ আর অভিজিতের বউ হামলার শিকার হয়েছিল। অভিজিৎ তো মরেই গেল। অভিজিতের বউ বেচে আছে। তাকেও চিকিৎসার জন্য আমেরিকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এমনও হতে পারে, অভিজিতের বউ শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পেল। বাংলাদেশে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় উল্লেখ্যযোগ্য অবদান রাখার দরুন নোবেল শান্তি কমিটি যদি অভিজিতের বউকে শান্তিতে নোবেল দেয় তাকে আপনারা অবাক হলেও আমি কিন্তু অবাক হব না।

ভালতো, ভাল না? নোবেল বিজয়ী বাংলাদেশীর সংখ্যা বাড়বে। দেশে-বিদেশে, সৌরজগতের বাইরে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল হবে।

গামছা

ঘরের কাজ মাঝে মাঝে করি। আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেই ক্ষেপে গেলাম। বিছানার চাদর, বালিশের কভার, তোয়ালে সব সার্ফ এক্সেলে ডুবিয়ে দিলাম। তারপর মাকড়শার ঝুল ঝাড়লাম। মেঝে ঝাড়ু দিলাম। তোশক রোদে দিলাম। গরম হবার পর লাঠি দিয়ে পিটালাম উলটে পালটে দিয়ে। 

কষ্ট হয় নি।

খাট যদি পাশে ৪ ফিট হয় তবে বিছানার চাদর হল ৮ ফিট। ইয়া বড় চাদরটা কাচলাম। তাও কষ্ট হয়নি।

নেড়ে দিয়ে লুঙ্গি গামছা নিয়ে গেলাম গোসল করতে। ভাবলাম গামছাটাও কেঁচে দেই।

ভিজালাম, সাবান দিলাম, কাচলাম। কালি যায়! ধুলাম।

আবার ভিজালাম, সাবান দিলাম, কাচলাম। কালি যায়! ধুলাম।

আবার ভিজালাম, সাবান দিলাম, কাচলাম। এখনো কালি যায়। >:( ধুলাম।

ক্লান্ত হয়ে ছেড়ে দিলাম।

:\

Saturday, January 31, 2015

বিয়ে

বিয়ের আগে কথাচ্ছলে হোক বা সত্যিকারভাবে হোক অনেক সহপাঠি বন্ধুরা বিয়ের প্রসঙ্গ উঠলেই বলত, "দোস্ত একটা মেয়ে খুজে দে। বিয়ে করব।"
আমিও জানতে চাইতাম, "কেমন মেয়ে চাস?/কেমন মেয়ে তোর পছন্দ?"
"এই ভাল একটি মেয়ে, শান্ত-শিষ্ট, সংসারী..." ইত্যাদি ইত্যাদি।
"আচ্ছা দেখবো নে" বলে কাটিয়ে আসলেও মনে মনে গালি দিয়ে বলতাম, তুই যেমন, তোর বউটাও যেন তেমনই হয়!তুই দুনিয়া ভেজে খেয়ে ফেলিস আর বউ চাস সতী-সাধ্বী!
আর বিয়ের পর এখন যে প্রশ্নটি শুনি সেটি হল, কেমন মেয়ে বিয়ে করব বা কেমন মেয়ে বিয়ে করা উচিত?
খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিয়ে জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা জীবনের জটিলতম কাজগুলোর মধ্যে একটি। আমি এখানে আমার অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু কথা বলতে চাই।
প্রথমেই বলে নেই, সঙ্গিনী বা সঙ্গী নির্বাচনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কিন্তু স্ব-স্ব পাত্র/পাত্রীর। অভিভাবকের নয়। অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় অভিভাবকের চাপের মুখে মেয়ে বা ছেলেরা বিয়েতে রাজি হয়। বিয়েতে আসলে 'দেখিনা কি হয়' ধরনের চিন্তা করার সুযোগ নেই। তাই মনোমালিন্য, ভাঙচুর- যা হবার তা বিয়ের আগে হওয়াই ভাল। বিয়ের পরে শান্তিতে থাকা যায় সেজন্য আগে থেকেই চেষ্টা করা দরকার।
অনেক ছেলেদের দেখেছি যারা আজীবন টাউট-বাটপারি, ইতরামি-ফাইজলামি করলেও বিয়ের সময় ফুলের মত পবিত্র মেয়ে খোজে। তাদের মনোভাব হল যা করার আগেই করে নেই বিয়ের পর আর করব না/বিয়ের পর আর করতে পারব না। স্বভাব/অভ্যাস এত সহজে বদলে যায় না। বিয়ের পর কিছুদিন হয়ত সংযতভাবে চলে কিন্তু পরে আবার আগের মত।
বিয়ের জন্য আসলে এমন কাউকে নির্বাচন করা উচিত যে কিনা আপনার জীবনযাত্রার সাথে পরিচিত। মানে আপনি যেমন জীবন যাপন করেন সে-ও কাছাকাছি করে। তাহলে পরস্পরের সাথে সহজে অভ্যস্থ হওয়া যায়। ছোট ছোট কিছু উদাহরণ দেই, যেমন আপনি ঘুড়ে বেড়াতে পছন্দ করেন বা চাকুরীর সুবাদে আপনাকে লম্বা সময় ভ্রমণ করতে হয়। এখন আপনি যদি এমন মেয়ে বিয়ে করেন যে কিনা বাস দেখলেই ভক করে বমি করে দেয় তাহলে কিন্তু বিয়ের পর এর হ্যাপা আপনাকেই টানতে হবে।
আবার আপনাকে অফিসের বিভিন্ন পার্টিতে উপস্থিত থাকতে হয়। ধূমপান, মদপান থেকে শুরু করে বৈদেশিক কায়দা-কানুনে আরো অনেক কিছুই হয়। এখন বাবা-মার চাপে পড়ে আপনি মাওলানার মেয়েকে বিয়ে করলেন। বিয়ের পর মাওলানার মেয়ে আপনাকে সৈয়দ সাহেব বানিয়ে দিবে বা আপনি হতে পারবেন সে সম্ভবনা আমার মতে খুবই ক্ষীন। বরং আপনার বউ মাওলানার মেয়ে থেকে নায়লা নাঈম হয়ে যাবে সে সম্ভবনাই বেশি।
আমি মনে হয় আমার কথা গুলো বোঝাতে পারছি না।
মেয়ে খোজার আগে সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার আমি কেমন মেয়ে চাই। আমি কি চাকুরীজীবি বউ চাই নাকি চাকুরী ছাড়া? আমি কি উচ্চশিক্ষিত বউ চাই নাকি মোটামুটি হলেই চলবে? আমি কি বোরকাওয়ালী বউ চাই নাকি বোরকাছাড়াও চলবে? বড়লোকের মেয়ে হতে হবে নাকি গরীবের মেয়ে হলেই হবে? বড় ফ্যামিলির মেয়ে হলে কি সমস্যা আছে? মেয়ে কি ধবধবে ফর্সা হতে হবে নাকি শ্যামলা? মেয়ে কি বরিশালেরই হতে হবে? ইত্যাদি ইত্যাদি...
মেয়েরা বিয়ের আগে ছেলের মধ্যে কি খোজে জানি না। তবে ধারনা করতে পারি। দাড়িতে অনেক মেয়ের চুলকানী আছে। তাই আপনার দাড়ি থাকলে অবশ্যই দাড়ি সম্পর্কে পাত্রীর মতামত কৌশলে জেনে নেয়াই ভাল। পক্ষান্তরে মেয়েরাও ছেলের কাছ থেকে সরাসরি শুনে নেবেন যে, বিয়ের পর পড়াশুনা চালিয়ে যেতে দেবে কিনা। চাকরী করার ইচ্ছে থাকলে স্বামী অনুমতি দেবে কিনা। বিয়ের পর কি শ্বশুর-শ্বাশুড়ির সাথে থাকতে হবে নাকি আলাদা ঘর হবে? বোরকা পড়ার অভ্যাস না থাকলে বিয়ের পর কি বোরকা পড়তে হবে? ইত্যাদি ইত্যাদি...
অনেকেই লজ্জায় এসব ব্যাপারে ঠিকভাবে খোজ নেন না। অনেকেই আশংকা করেন এসব ছোটখাট ব্যাপারের আলোচনা তুলে কারো অসন্তোষের স্বীকার হন কিনা। আমি আবারো বলতে চাই, বিয়ের পরে অশান্তি পোহানোর চেয়ে বিয়ের আগে খটমট করা ভাল। বিয়ের পর অশান্তি হলে সারাজীবন পস্তাতে হবে।
আপনি ছেলে বা মেয়ের মধ্যে কি দেখতে চান সেটা ঠিক করার পর কাজ হল আপনার চাহিদাসমূহের মধ্যে অগ্রগামী কোনগুলো সেগুলো ঠিক করে ফেলা। কারন আপনি যেমন চান ঠিক তেমন পেয়ে যাবেন এমন সম্ভবনা শূন্যের কোঠায়। তাই কিছু ব্যাপার ধরে রেখে কিছু ব্যাপারে আপনাকে ছাড় দিতে হতে পারে।
যেমন কেউ যদি বড়লোকের মেয়ে বিয়ে করতে চায় তখন দেখা গেল মেয়ের গায়ের রঙ শ্যামলা। অনেক বড়লোক বাবাই তার শ্যামলা মেয়েকে পাত্রস্থ করার জন্য পাত্রকে প্রতিষ্ঠিত করে দেবার প্রতিশ্রুতি দেয়।
আবার দেখা গেল দেখতে সুন্দর কিন্তু উচ্চতা কম।
মেয়ে সহজ-সরল, সংসারী কিন্তু পড়াশুনায় গোল্লা!
মেয়ে বোরকা পড়ে কিন্তু স্বভাব-চরিত্র ইসলামিক নয়। ইত্যাদি ইত্যাদি।
আমি বলছি না আপনি পারফেক্ট মেয়ে পাবেন না। পাবেন। সংখ্যায় খুব অল্প। পারফেক্ট মেয়ে বিয়ে করার মত পারফেক্ট ছেলে আপনি হতে পেরেছেন কিনা সেটাও কিন্তু অনেক বড় একটা প্রশ্ন!
আমার পরিচিত একজন একটা মেয়ে দেখেছিল। মেয়ের বাবা সরকারী কর্মকর্তা। মেয়ে দেখতে ভাল। উচ্চশিক্ষিত এবং আরো পড়াশুনার ইচ্ছা আছে। বিসিএস দিয়ে সরকারী চাকুরীর আশা করে। সরকারী না হলে বেসরকারীতেও সমস্যা নেই। চাকুরী দরকার। চাকুরীর ব্যাপারে সে খুবই আগ্রহী। বোরকা পড়ে। ছবি আকতে পারে, গানও শিখে।
পারফেক্টের সংগা আসলে একেকজনের কাছে একেক রকম। আমার পরিচিত ঐ লোকের কাছে উপরোক্ত মেয়েটা পারফেক্ট নয়। অন্তত তারজন্য নয়। সে একা একা থাকে। বউ নিয়ে সংসার করতে চায়। বউ চাকুরী নিয়ে দূরে থাকলে বিয়ে করার আর দরকার কি?
সে এমন মেয়ে চেয়েছিল যে কিনা ঘরে থাকবে, তার বউ হয়ে। ঘর সামলাবে, তাকে সামলাবে। আল্লোহর হুকুম-আহকাম মানবে। এটাই তার কাছে মূল বিবেচ্য বিষয়। অন্যবিষয়গুলো সে ছাড় দিতে প্রস্তুত।
তাই আপনি সত্যিকারভাবে কি চান আর কতটুকু ছাড় দিতে পারবেন সেটা আগে থেকেই ভেবে রাখবেন।
অন্যকোন ব্যাপারে না হোক বিয়ের ব্যাপারে পরিবারের সাথে জোড় গলায় কথা বলুন। আপনার পছন্দ-অপছন্দের ব্যাপার জানিয়ে দিন। টিভি নাটক-সিনেমার মত কাল্পনিক জগৎ ছেড়ে বাস্তবের মাপকাঠিতে সম্ভাব্য পাত্র/পাত্রীকে যাচাই করুন। বিয়েতে ঠকলেন তো সারাজীবনের জন্য ঠকলেন। সবদিক দেখে করার পরও অনেকে ঠকে। ভাগ্যের উপরতো আর কারো হাত নেই। তবুও সাবধানের মার নেই।
শুভকামনা রইল যারা বিয়ের ব্যাপারে ভাবছেন তাদের জন্য। আল্লাহ হাফিজ!