Featured Post

I SAID NO TO QUANTUM METHOD

পূর্বে পোস্ট আকারে প্রকাশিত। কারও সাথে ঝগড়া করার জন্য এটা দেইনি। নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম। কেউ মানতে না পারলে আমার কিছু করার নেই।  আ...

Showing posts with label ইসলাম. Show all posts
Showing posts with label ইসলাম. Show all posts

Sunday, April 14, 2019

হারানো জিনিস (বরং তার চেয়ে ভাল জিনিস) ফিরে পাবার দোয়া

Umm Salama, the wife of the Apostle of Allah (Peace be upon him), reported Allah's Messenger (Peace be upon him) as saying: If any servant (of Allah) who suffers a calamity says:"

إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ اللَّهُمَّ أْجُرْنِي فِي مُصِيبَتِي وَأَخْلِفْ لِي خَيْرًا مِنْهَا إِلاَّ أَجَرَهُ اللَّهُ فِي مُصِيبَتِهِ وَأَخْلَفَ لَهُ خَيْرًا مِنْهَا
 ‏
We belong to Allah and to Him shall we return;
O Allah, reward me for my affliction and give me something better than it in exchange for it," ' Allah will give him reward for affliction, and would give him something better than it in exchange. She (Umm Salama) said: When Abu Salama died. I uttered (these very words) as I was commanded (to do) by the Messenger of Allah (Peace be upon him). So Allah gave me better in exchange than him. i. e. (I was taken as the wife of) the Messenger of Allah (Peace be upon him).
source: https://muflihun.com/muslim/4/2000

হিরো টু জিরো টু হিরো

একটা গল্প বলি কেমন? গল্পটা হয়ত সত্যি নয়, হয়ত গল্পটা কাল্পনিক। তবুও এটা আমার ভাললাগার একটা গল্প।

গল্পটা একজন শিক্ষককে নিয়ে। নিবেদিত প্রাণ এক শিক্ষকের যিনি সত্যিকার অর্থেই শিক্ষকতাকে মহান পেশা হিসেবে নিয়েছেন। তিনি বেসরকারী একটি ফান্ডের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করছেন সুনাম ও নিষ্ঠার সাথে।

তাই বলে তার শত্রুরা কিন্তু থেকে নেই। শিক্ষকদের মধ্যেই একটা গ্রুপ আছে যারা কোচিং বানিজ্যে লিপ্ত । তারা এই প্রতিষ্ঠানকেও কুলষিত করতে চায়। সব শিক্ষার্থীকে তাকে পিতার মত সম্মান করলেও কোটার পক্ষে অবস্থানের কারনে তাকে নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। ক্যাম্পাসে পক্ষ বিপক্ষ দল মুখোমখি অবস্থান নেয়। হাতাহাতির ঘটনা পর্যন্ত ঘটে।

ইস্তেগফারঃ রুজী, বিয়ে, নিঃসন্তান, ডিপ্রেসনের সমাধান!

  • আপনি কি রিজিক নিয়ে পরিশ্রান্ত? চাকুরী, ব্যবসা নিয়ে চিন্তিত?
  • বহু চেষ্টা করেও কি আপনার বিবাহ হচ্ছে না?
  • বাবু নিতে চান কিন্তু বাবু হচ্ছে না?
  • আপনি কি হতাশা, পেরেশানী, একাকিত্ব ভুগছেন?

মানবজীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলো শুধু মাত্র একটি আমল করেই যদি উপকার পেতে চান তাহলে বলব ইস্তেগফারকে ভালবাসুন।

আল্লাহ তা'য়ালার বানীঃ তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি তো মহাক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত করবেন, তিনি তোমাদের সমৃদ্ধ করবেন ধন সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে এবন তোমাদের জন্য স্থাপন করবেন উদ্যান ও প্রবাহিত করবেন নদী-নালা। [সূরা নূহ, আয়াত ১০ থেকে ১২]

বিবেক বুদ্ধি কার গোলাম?

আল্লাহর অসংখ্য নেয়ামতের একটি হল আকলকে আল্লাহমুখি করতে পারা। যাদেরকে আল্লাহ এই নিয়ামত দিয়েছেন তারা আল্লাহর দেয়ার আইন কানুনের মধ্যে বক্রতা খোজেন না। "শুনলাম এবং মেনে নিলাম" এর উপর আমল করে থাকেন।

আল্লাহর দেয়া কোন বিধানকে অযৌক্তিক মনে করা, অপ্রাসঙ্গিক মনে করা, বৈধকে অবৈধ এবং অবৈধকে বৈধ মনে করা, কোন বিধান নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করা ভয়াবহ গোনাহ, ক্ষেত্র বিশেষে কুফরি। [যতদূর জানি]

একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের স্মরণ রাখা উচিত আল্লাহর সব বিধানের মধ্যে মানব জাতির জন্য কল্যাণ রয়েছে। চাই সেটা আমার আকলে ধরুক বা না ধরুক। কাজেই মুসলিম হিসেবে কর্তব্য হল যত কষ্টই হোক সে বিধানকে মেনে চলা। মেনে চলতে না পারলেও তওবা ইস্তেগফার করা, বিরোধীতা না করা, হাসিঠাট্টা না করা।


১। বাবার সম্পত্তিতে ভাইয়ের অর্ধেক বোন পাবে - এতেই কল্যান, আমার বুঝে আসুক বা না আসুক।

২। উপার্জন করার দায়িত্ব পুরুষের উপর, নারীরা ঘরে অবস্থান করবে - এতেই কল্যান, আমার বুঝে আসুক বা না আসুক।

স্ত্রী বশের হালাল যাদু

[ডিসক্লেইমারঃ চেষ্টা করব রেফারেন্স সহ লেখার জন্য। কোন কথা যদি শরিয়তের বাইরে যায় তাহলে সে ত্রুটি আমার এবং সংশোধনযোগ্য। এই লেখা যদি কেউ মনে করে আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতালদ্ধ মানে স্টেজগুলো আমি পার করে এসেছি তাহলে ভুল হবে। বিষ খেলে যে শরীরের ক্ষতি হয় সেটা জানার জন্য বিষ খাওয়ার দরকার নেই।]

লেখার শিরোনাম কতটুকু যৌক্তিক হল সে প্রশ্ন আসলে থেকেই যায়। কারণ সাধারণত আমাদের দেশে স্ত্রীদের বশ করতে হয় না। তারা এমনিতেই বশ থাকে। স্বামীকে ছাড়া থাকতে চায় না। দুই একটা ব্যতিক্রম সব কিছুতেই আছে।

হাদিসে এসেছে, ঐ ব্যক্তিই উত্তম যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম। [মিশকাত, ৬ খণ্ড, হাদিস -৩১১৪] এই হাদিস অনুযায়ী যদি আমরা পরীক্ষা করি তাহলে কত জন পুরুষ যে পাশ করবে বলা মুশকিল। তবে আমার ধারনা সিংহভাগই ফেল করবে। কি হতে পারে এর কারণ?

১। অনেক পুরুষ আছে যারা স্ত্রীদের আসলে মানুষই মনে করে না। ঘরের আসবাব যা শোভা বর্ধন করে এবং কালের পরিক্রমায় পুরাতন হয়ে যায়-এমনটা মনে করে। আর পুরাতন আসবাবপত্র আমরা কি করি? অবহেলায় ফেলে রাখি বা পরিবর্তন করে ফেলি। তারাও স্ত্রীদের এমনটাই মনে করে।

২। বর্তমান যুগে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটের দিকে তাকালে এমন একটা মেয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা আমার সন্দেহ হয় যে কিনা, স্বামীর অংশীদারিত্বে আপত্তি করবে না। জায়েজ সম্পর্কই মেনে নিতে পারে না অনেকে, সেখানে সম্পর্ক যদি না জায়েজ হয় তাহলে তো কথাই নেই। এই নিয়ে সাংসারিক গণ্ডগোল লাগবে। আমি দেখেছি একজন পুরুষ যদি নিঃস্বার্থভাবে কোন অসহায় নারীর সহায়তা করতে যায় তাহলে ঘরের স্ত্রী প্রথম কয়েকদিন সহ্য করলেও পরে আর সহ্য করতে পারে না।

৩। স্ত্রীদের হাত খরচ দেবার ব্যাপারে আমরা যথেষ্ঠ কৃপণ। বিয়ের আগে-পরে পারিবারিক জীবনে অসুখী নারী-পুরুষরা সদ্য বিবাহিত পুরুষকে নানা ধরনের কু-পরামর্শ দিয়ে থাকে। তার মধ্যে একটা হল বউকে টাইট দিয়ে রাখা। যত বেশি টাইট দেয়া যাবে তত বেশি পুরুষত্ব জাহির থাকবে। আমরা মনে করে থাকি, “স্ত্রীকে হাত খরচ দেওয়া মানেই টাকার অপচয়, তার টাকার দরকারটা কি? কিছু লাগলে আমাকে বলবে, আমি কিনে দিব। অসুবিধাটা কি?” আত্মসম্মান আছে এমন যেকোন মানুষ একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর টাকা চাইতে লজ্জা বোধ করে। ছেলে একটু বড় হলে বাবার কাছে টাকা চায় না, লজ্জা পায়। জন্মদাতা পিতার কাছে চাইতে পারে না। তেমনি স্ত্রীরাও সংকোচ বোধ করে। বাড়ীতে কোণ ভিক্ষুক আসল,বাইরে কোথাও ঘুরতে গেলেন সেখানে তার কিছু টাকা দান করতে মন চাইল,কিন্তু দিতে পারল না। আপনি তার হাতে কোন টাকা দেন না। বাইরে কোথাও বেড়াতে গেলেন,রাস্তায় এক ভিক্ষুক দেখে তার মনে মায়া হল, বাচ্চাদের কাছ থেকে একটা ফুল কিনতে ইচ্ছে হল আপনার জন্য, আপনার বাচ্চার জন্য একটা খেলনা তার পছন্দ হল,এখন কি রাস্তায় সবার সামনে আপনার কাছে চেয়ে নিতে হবে? কেন এই লজ্জাটা তাকে দিয়ে নিজেকে তার কাছে ছোট করছেন ভাই?

ঘোষণা

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি এখন থেকে আমি এবং আমার ফ্যামিলি কোন ধরনের পাব্লিক ফাংশনে অংশগ্রহণ করব না। যেমন, যেকোন ধরনের দাওয়াত, পার্টি, পিকনিক ইত্যাদি।


কারণঃ

এক। এসবে পর্দার কোন ব্যবস্থা থাকে না। মেয়েদের পর্দা তো থাকেই না, ছেলেরা যারা নজর হেফাজত করতে চায় তারাও বিব্রত হয়।

দুই। এসব অনুষ্ঠানে প্রচুর অপচয় হয়।

তিন। নিজেদের মধ্যে মন কষাকষি হয়। জান-প্রান ঢেলে দিয়েও মন রক্ষা করা যায় না। কি দরকার ভাই আপনার সাথে আমার মন কষাকষির? দুই দিনের জন্য দুনিয়াতে আছি, শান্তি চাই।

চার। এসব অনুষ্ঠান বর্তমানে লোক দেখানোর অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আর কিছু লোভী ব্যক্তি লোভের বশবর্তী হয়েও নানা ধরনের ফাংশন করে থাকে।

পাচ। অনেক ক্ষেত্রে এই ধরনের অনুষ্ঠানের খাবার সর্ব নিকৃষ্ট খাবার । (বোখারী, হামিদিয়া লাইব্রেরী, হাদিস-২০৪২)

আমি চাই না নিজেকে এবং আমার ফ্যামিলির কেউ এই ধরনের অনৈসলামিক কাজকর্মে কোণ ধরনের অংশগ্রহণ থাকুক। কাজেই আমাকে/আমার ফ্যামিলিকে বাদ দিয়ে আপনারা যা করার করবেন। অনুরোধ করে বলছি, বিব্রত করবেন না।

Tarabi Under Microscope

[ ডিসক্লেইমার 
  • এই পোস্ট মুলত অন্য একটি পোস্টের কমেন্ট এবং পালটা কমেন্টের সংকলন।
  • পোস্টের শব্দ সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার। প্রথমে বাকা হরফে মূল পোস্ট তুলে দেয়া হল। এরপর পর্যায়ক্রমে আমার কমেন্ট ও কমেন্টের রিপ্লাই তুলে দেয়া হল। 
  • সময় সময় এই নোট আপডেট করা হবে ইন শা আল্লাহ। ]
তথ্যভিত্তিক ও গ্রহণযোগ্য সমালোচনাই কাম্য🌹

প্রসঙ্গঃ তারাবীহর রাক‘আতের সংখ্যা

👍 সহীহ ও নির্ভরযোগ্য হাদীসের মাধ্যমে রসূলুল্লাহ (সাঃ) থেকে তিন ধরনের সংখ্যা বর্ণনা করা হয়েছেঃ

(১) ১১ রাক‘আতঃ আয়িশাহ (রাযি.) থেকে বিভিন্ন সনদে ও ভাষা-ভঙ্গিতে বর্ণিত হয়েছে যে, নাবী (সাঃ) রাত্রিকালে ইশার পরের দু’রাক‘আত ও ফাজরের পূর্বের দু’রাক‘আত সুন্নাত বাদে সর্বমোট এগার রাক‘আত সলাত আদায় করতেন। এক বর্ণনায় এসেছে রসূলুল্লাহ (সাঃ) রমাযান ও অন্যান্য মাসেও রাত্রে ১১ রাক‘আতের বেশী নফল সলাত আদায় করতেন না। (বুখারী হাদীস নং- ১১৪৭, ১১৩৯, ৯৯৪, ২০১৩, মুসলিম- সলাতুল্লাইল ওয়াল বিত্র ৬/১৬,১৭,২৭)

(২) ১৩ রাক‘আতঃ ইবনু আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাত্রিকালে রসূলুল্লাহ (সাঃ) ১৩ রাক‘আত নফল সলাত আদায় করতেন। [বুখারী হাদীস নং ১১৩৮, তিরমিযী (তুহ্ফা সহ) ৪৪০] ইবনু আববাস (রাঃ)-এর হাদীসে ১১ রাক‘আতের চেয়ে দু’রাক‘আত বৃদ্ধি পাওয়া যায়। এ বর্ধিত ২ রাক‘আত এর ব্যাখ্যা বিভিন্নভাবে পাওয়া যায়। নাসাঈ গ্রন্থে ইবনু আববাসের বর্ণিত হাদীসে- ১৩ রাক‘আতের বর্ণনা এসেছে। ৮ রাক‘আত রাত্রের সলাত, তিন রাক‘আত বিত্র ও দু’রাক‘আত ফজরের পূর্বের সুন্নাত। (নাসাঈ ৩/২৩৭, ফাতহুল বারী ২/৫৬২) ফাজরের দু’রাক‘আত সুন্নাত ধরে আয়িশাহ (রাযি.)-ও ১৩ রাক‘আতের কথা বর্ণনা করেছেন। দেখুন বুখারী হাদীস নং ১১৪০, মুসলিম- সলাতুল লাইলি ওয়াল বিত্র ৬/১৭-১৮, ফাতহুল বারী ২/৫৬২, বুখারীতে আয়িশাহ (রাযি.)-এর কোন কোন বর্ণনায় ১১ ও দু’রাক‘আতকে পৃথক করে দেখানো হয়েছে; হাদীস নং ৯৯৪, ১১৪০। যে সমস্ত বর্ণনায় ১৩ রাক‘আতের বিস্তারিত বর্ণনা আসেনি, সে সমস্ত বর্ণনায় ফজরের ২ ক‘আত কিংবা ইশার ২ রাক‘আত সুন্নাত উদ্দেশ্য। (ফাতহুল বারী ২/৫৬২ পৃঃ) কোন কোন বর্ণনায় এসেছে যে, রসূলুল্লাহ (সাঃ) রাত্রের সলাত উদ্বোধন করতেন হালকা করে দু’রাক‘আত সলাত আদায়ের মাধ্যমে। হতে পারে এই ২ রাক‘আত নিয়ে ১৩ রাক‘আত। কিন্তু এই ২ রাক‘আত সলাত বিভিন্ন হাদীসের মাধ্যমে ইশার সুন্নাত বলেই প্রতীয়মান হয়। (আলবানী প্রণীত সলাতুত্ তারাবীহ ১৭ নং টীকা)

আল্লাহর জন্য কাজ


তাবলীগওয়ালারা একটা কথা বলেন যে,তাবলীগের মেহনত আল্লাহ চালিয়ে নিবেন। চাই আমি, আপনি করি বা না করি।

প্রমান পেয়েছি সেদিন।

(ধরি) রাশেদ নামে আমার এক ক্লাসমেট ছিল। মাস্তানী করত। "মাইয়া কেস"-এ এক বড় ভাইরে আমার সামনেই মারধর করেছিল।


সেই রাশেদকে দিয়ে এখন আল্লাহ তার কাজ করাচ্ছেন। প্রিয় বান্দাদের দ্বারে দ্বারে পাঠাচ্ছেন একটি আহ্বান নিয়ে, "চল ভাই, মসজিদে চল" ।

আর আমার মত গোনাহগার নেক কাজ করতে পারব না- সেটাই স্বাভাবিক।

সকল নেক মেহনতের জন্য এই উদাহরণ প্রযোজ্য।আল্লাহ তায়ালা তার কাজ চালিয়ে নিবেন। গোনাহের কারনে আমি বাদ পড়ে যাব।

এটাই সত্য!

Friday, July 7, 2017

কুরআন/হাদীস নিয়ে অযৌক্তিক যুক্তি


আমি যদি বলি রোগ হয়েছে ডাক্তারের কাছে যাবার দরকার নেই, অপারেশনের দরকার নেই। বইপত্র কিনে নিজেই পথ্য নিন, ছুড়ি-চাকু দিয়ে সার্জারি নিজেই করুন। আপনি আমাকে হেমায়েতপুর পাঠাতে চাইবেন। 

আমি যদি বলি বাজার থেকে চাল-ডাল কেনার দরকার কি? কাস্তে-কোদাল নিয়ে নিজেই ফসল ফলিয়ে খাবেন। তাহলে আমাকে বলদ বলবেন।

যদি বলা হয় আইনি ঝামেলা আইনজীবীর কাছে না যেয়ে আইনের বইপত্র কিনে নিজেই মোকাবেলা করতে তাহলে নির্ঘাত মাথায় বাড়ি দেবেন।

যদি বলি দালান বানাতে আবার ইঞ্জিনিয়ার লাগে? নিজে নিজে বই পড়েই তো বানানো যায়। আপনি আমাকে নির্বোধ বলবেন। 

যদি বলি সিএনজি ভাড়া দেয়ার কি দরকার? নিজেই সিএনজি কিনে চালাবেন-তাহলে মুখ খারাপ করে দিবেন। 

যদি বলি মোবাইলের সমস্যায় মেকারের কাছে যাবার প্রয়োজন নেই। স্ক্র ড্রাইভার নিয়ে নিজেই লেগে যান। তাহলে নির্ঘাত আমার সাথে তর্ক জুড়ে দিবেন। 

শুধু আপনি যখন বলেন আলেমদের কি দরকার। কুরআন-হাদীস নিয়ে গবেষণা করতে বসেন - তখন আমি কি করব তাই ভেবে পাই না।

সৌদির সাথে মিল করে রোযা/ঈদ করার সমস্যা


সৌদি আরবের সাথে মিলিয়ে রোজা-ঈদ করতে গেলে অন্যসব কিছু বাদ দিলেও যে সমস্যাটা প্রকট লাগে সেটা বলছি। আগে দু'টো ব্যাপার স্টান্ডার্ড ধরে নেই। 


১. সৌদি আরবে চাঁদ বাংলাদেশের তুলনায় আগে উঠে এবং বাংলাদেশে সূর্য ৩ ঘন্টা আগে অস্ত যায়। এমন কখনো হয়েছে কি বাংলাদেশে চাঁদ আগে উঠেছে আর সৌদিতে সূর্য আগে ডুবেছে?

২. সূর্য ডুবলেই চাদের হিসেবে নতুন তারিখ শুরু হয়। 

ধরাযাক, আজকে ২৮ শাবান। বাংলাদেশে মাত্র সূর্য ডুবল। বাংলাদেশের জন্য চাদের নতুন তারিখ শুরু হয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশে চাঁদ দেখা যায় নি। কাজেই বাংলাদেশের হিসেবে ২৯ শাবান শুরু হয়ে গেল। ঠিক?

এখন আরও ৩ ঘন্টা পর সৌদি আরবে সূর্য ডোবার পর চাঁদ দেখা গেল। সৌদিতে রমজান শুরু হয়ে গেল। এখন যদি আমরা বাংলাদেশেও পহেলা রমজান ধরি তাহলে তো সন্ধার পর থেকেই ধরব তাইনা? সৌদি সময় সন্ধ্যা ৭ টায় চাঁদ দেখা গেলে বাংলাদেশে তখন রাত ১০ টা। আমরাতো আর রাত ১০ টা থেকে চাদের নতুন তারিখ ধরব না। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭ টা (সূর্যাস্তের পর পর) থেকে নতুন তারিখ ধরব। কিন্তু বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭ টায় তো নতুন চাঁদ দেখাই যায় নি! নতুন মাসের তারিখ কিভাবে ধরব? 

এই সমস্যার কি সমাধান?

শিশু সুলভ প্রশ্ন!


অনলাইনে অমুসলিমদের সমালোচনা করলেই এক অদ্ভুত প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। যেমন, "ইহুদিদের যদি এতই অপছন্দ তাহলে তাদের আবিষ্কৃত কম্প্যূটার কেন ব্যবহার করেন? মোবাইল কেন ব্যবহার করেন? ইন্টারনেট কেন চালান?" - ইত্যাদি ইত্যাদি! এই আজব প্রশ্নের জবাব দেবার আগে একটু গল্পগুজব করা যাক।

আমার এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের ৩-৪ বছরের ছেলে আছে। তাদের বাসায় বেড়াতে গেলেই সে নানা প্রশ্নবানে আমাকে জর্জরিত করে। সাধ্যমত উত্তর দেবার চেষ্টা করি। মাঝে মাঝে বিরক্তিও বোধ করি। তার কিছু কিছু প্রশ্ন একান্তই শিশুসুলভ।

"আংকেল, চিটাগাং যাইও না। চিটাগাং ভাল না।
"চিটাগাং যাব। চিটাগাং অনেক ভাল।"
"তুমি চিটাগাং যাবা কেন?"
"আমাকে অফিস যেতে হবে।"
"কেন?"
"অফিসে না গেলে টাকা পাওয়া যায় না।"
"কেন?"

হুজুরদের যত দোষ!


আমিঃ মেয়েদের জাতটাই খারাপ!
বুদ্ধিজিবীঃ আপনার মা-বোনওতো তাহলে খারাপ। তারা কি খারাপ কাজ করেছে সেটা আগে বলেন।

আমিঃ ছেলেরা সব প্রতারক!
বুদ্ধিজিবীঃ সবাইকে এক পাল্লায় মাপবেন না। খারাপ ছেলে কয়েকটা। আর অন্যরা কি দোষ করল?

আমিঃ ডাক্তাররা সব কসাই। 
বুদ্দিজিবীঃ রোগ হলে ডাক্তারের কাছে যাবেন আবার গালিও দিবেন এমন ডাবল স্টান্ডার্ড কেন? আর কয়জন ডাক্তারকে চিনেন আপনি? 

আমিঃ সব পুলিশ ঘুষ খায়। কেউ কম খায়, কেউবা বেশি। এটাই তফাৎ। 
বুদ্ধিজিবীঃ ভাই, সব পুলিশ খারাপ না। সবাই খারাপ হলে দেশ চলত না। আমি অমুক কাজে থানায় গিয়েছিলাম ......... (চলন্ত) 

আমিঃ সাংবাদিকরা সব হারাম**!
বুদ্দিজিবীঃ একতরফা কথা বলেন কেন? ধানের বস্তা কি কখনও চিটে ছাড়া হয়? 

আমিঃ মাদ্রাসার হুজুর বলাৎকার করেছে। লাথি মেরে হুজুরদের দেশ থেকে বের করা দেয়া দরকার।
বুদ্ধিজিবীঃ ঠিক বলেছেন ভাই। হুজুররা দেশের ১২টা বাজাচ্ছে। এদেরকে দোর্‌রা মারতে মারতে দেশ থেকে বের করে দিতে হবে।

[পেঁচা রাস্ট্র করে পেলে কোন ছুতা,
জাননা সূর্য্যের সাথে আমার শত্রুতা?]

হাইকোর্টের মূর্তি ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা


কয়েকদিন আগে প্রশ্ন রেখেছিলাম যে, আপনার কাছে সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ কি? এবং এর ভিত্তি কি?


কয়েকজন উত্তর দিয়েছেন নিজের মত তবে ভিত্তি কি তা উল্লেখ করেন নি তেমন কেউ। হয়ত ভিত্তির উদ্দেশ্য বুঝতে পারেন নি। পরিষ্কার করি বিষয়টা। কোনটা ভাল, কোন মন্দ, কোনটা সবচেয়ে ভাল, কোনটা সবচেয়ে মন্দ; সেটা যদি যার যার বিচার-বিবেচনা ও বিবেকের উপর ছেড়ে দেই তাহলে এক এক জন এক এক অপরাধের কথা বলবে। কেউ বলবে সবচেয়ে বড় অপরাধ হল খুন করা, কেউ বলবে ধর্ষন করা, কেউ বা অন্য কিছু বলবে। কাজেই এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে মানবীয় যুক্তি-বুদ্ধির উর্ধ্বে উঠে আসমানী কিতাব সমূহের দিকে নজর দিতে হবে। সর্বশেষ আসমানী কিতাব আল-কুরআন অনুযায়ী আল্লাহ তায়ালার নিকট সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ হল "শিরক তথা আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করা।" ভিত্তি কুরআন ও হাদীস।

আবুল ওয়ালীদ এবং বিশর (র)...... আব্দুল্লাহ (ইব্‌ন মাসঊদ) (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেনঃ
"যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলুম দ্বারা কলুষিত করেনি" (৬:৮২) এ আয়াত নাযিল হলে রাসূল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম) এর সাহাবিগণ বললেন, "আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে যুলুম করেনি?" তখন আল্লাহ্‌ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করেনঃ "নিশ্চয়ই শির্‌ক চরম যুলুম।" (সূরা লোকমান, আয়াত ১৩) (সহিহ বুখারি, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৯, ইসলামি ফাউণ্ডেশণ) 

আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নে মাস্‌উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, সবচেয়ে বড় পাপ কোনটি? তিনি বললেনঃ (কাউকে) আল্লাহ্‌র প্রতিদ্বন্দ্বী বা সমকক্ষ সাব্যস্ত করা, অথচ তিনিই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি তাঁকে বললাম, এটা অবশ্যই মহাপাপ। আবার জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোন্‌টি? তিনি বললেনঃ তোমার সন্তান তোমার খাদ্যে ভাগ বসাবে এই আশংকায় তুমি তাকে হত্যা করছ। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, এরপর কোন্‌টি? তিনি বললেনঃ তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে যেনা করা। [সহিহ মুসলিম, পৃষ্ঠা-১৭৪, প্রথম খণ্ড, ইসলামি ফাউণ্ডেশন]

Wednesday, March 8, 2017

৪৯ কোটি গুনের যথার্থতা!

কয়েকদিন আগে একটি ছবি দিয়ে জানতে চেয়েছিলাম যে, এই ছবিতে সমস্যা কি? ছবিতে যে প্রশ্নটি ছিল সেটি হল, "মক্কা শরীফ ও মদীনা শরীফ থেকে লোকজন কেন বিশ্ব এজতেমায় শরীক হয়?" এই প্রশ্নের উত্তরে যা বলা হয়েছে সেটা নিয়েই সমস্যার উৎপত্তি। কারো আগ্রহ থাকলে ছবিটা দেখে নিতে পারেন।
প্রশ্ন ও উত্তর যেই বইয়ে দেয়া হয়েছে এই বইটার সাথে আমি পরিচিত নই। তাবলীগে যেসব বই সাধারনত পড়া হয় যেমন, ফাজায়েলে আমাল, মুন্তাখাব হাদীস, ফাজায়েলে হাজ্ব, হেকায়েতে সাহাবা ইত্যাদি বইয়ে এভাবে প্রশ্নোত্তর নেই। কাজেই কে এই বই, কার অনুমতিতে ছাপিয়েছে সে সম্পর্কে ধারনা নেই। আজ থেকে ১০ বছর আগেই কাকরাইলে দেখেছি তাবলীগ নিয়ে চটি বইয়ের অভাব নেই। যেগুলো মুরুব্বীরা ক্রয় করতে নিরুৎসাহিত করে থাকেন। এই বইটাও তেমন কিছু হতে পারে।
এবার আসি উত্তর প্রসঙ্গে। তাবলীগে যারা সময় দিয়েছে তারা এই কথাগুলোর সাথে পরিচিত এবং এতে কোন দোষ খুজে বেড়ায় না। কারন এই কথাগুলো অনলাইনে যেভাবে আলোচনা হচ্ছে সে সেন্সে বলা হয় না। আহলে হক্ব মিডিয়ার এপসের সাহায্য নেই,
"হাদীসঃ হযরত খুরাইম বিন ফাতেক রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কোন কিছু খরচ করে তা তার আমলনামায় ৭শত গুন হিসেবে লেখা হয়।
সুনানে তিরমিযী, হাদীস নং-১৬২৫
সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৪৬৪৭
সুনানে নাসায়ী কুবরা, হাদীস নং-৪৩৯৫
মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৯০৩৬
মুসনাদে তায়ালিসী, হাদীস নং-২২৭
মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-১৯৭৭০
শুয়াবুল ঈমান, হাদীস নং-৩২৯৪
এখানে লক্ষ্য করুন। একটাকা খরচ করলে এখানে সাত শত গুণ সওয়াব লেখার কথা এসেছে। এবার দ্বিতীয় হাদীসটি দেখুন-
হাদীসঃ হযরত সাহল বিন মুয়াজ রাঃ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-আল্লাহর রাস্তায় আল্লাহকে স্মরণ করার সওয়াব আল্লাহর রাস্তায় খরচের সওয়াবের তুলনায় ৭ লক্ষ গুণ বৃদ্ধি করে দেয়া হয়।
অন্য বর্ণনায় এসেছে সাত লক্ষ গুণ বৃদ্ধি করে দেয়া হয়।
মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৫৬১৩
আল মু'জামুল কাবীর, হাদীস নং-৪০৫
মুসনাদুস সাহাবা ফি কুতুবিত তিসআ, হাদীস নং-১৫১৬
কানযুল উম্মাল ফি সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফআল, হাদীস নং-১০৮৭৯
জামেউল আহাদীস, হাদীস নং-৬৮৫৮
এবার উভয় হাদীসকে একত্র করুন। প্রথম হাদীস দ্বারা জানতে পারলাম। এক টাকা খরচে সওয়াব পাওয়া যায় ৭ শত গুন। আর দ্বিতীয় হাদীসে জানতে পারলাম খরচের তুলনায় অন্য আমলে পাওয়া যায় ৭ লক্ষ্য সওয়াব বেশি। এর মানে হল, একটি আমল করলে প্রতি আমলে খরচ করলে যত পাওয়া যেত তারও সাত লক্ষ্য গুণ বেশি সওয়াব।
তাই এবার ৭ শতকে ৭ লক্ষ্য দিয়ে গুণ দিন।
৭০০*৭,০০,০০০=৪৯,০০,০০,০০০।
তাহলে কি বোঝা গেল? আল্লাহর রাস্তায় একটি আমল করলে করা উনপঞ্চাশ কোটি আমল করার সওয়াবের সমতূল্য।
উল্লেখিত হাদীস দুটি সনদ হিসেবে দুর্বল। কিন্তু জাল নয়। আর সকল গ্রহণযোগ্য মুহাদ্দিসগণ একমত দুর্বল হাদীস ফযীলতের ক্ষেত্রে গ্রহনযোগ্য। তাই এ ফযীলত বলতে কোন সমস্যা নেই। জাযাকাল্লাহ।"
প্রথমত, উল্লেখিত বইয়ে উত্তরের ক্ষেত্রে বায়তুল্লাহ, মদীনা এবং বায়তুল মুকাদ্দাসের মর্যাদার সাথে ইজতেমা মাঠের মর্যাদার তুলনা করা হয় নি। বরং আমলের তুলনা করা হয়েছে। সালাতের সাথে সালাতের। বস্তুত, আল্লাহর রাস্তায় যেকোন আমলের ক্ষেত্রে উল্লেখিত ফযীলত প্রযোজ্য হবে।
দ্বিতীয়ত, আগেই বলা হয়েছে দুর্বল হাদীস ফযীলত বর্ণনার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রসংগত, মাসয়ালা-মাসায়েলের জন্য সহীহ হাদীস জরুরী। নামায পড়লে কি লাভ আর নামায কিভাবে পড়ব-দুটো ভিন্ন বিষয়।
তৃতীয়ত, শুধু মাত্র সালাতের ক্ষেত্রেই নয়। আল্লাহর রাস্তায় যেকোন (জিকির, কুরয়ান তেলাওয়াত, হাজুত পুরা করা, মেহমানদারী, ইকরাম ইত্যাদি) নেক আমল করলে তার সওয়াব ৪৯ কোটিগুন বাড়িয়ে দেয়া হয়-তাবলীগওয়ালা কথাটা এভাবে বলে থাকেন। কাজেই কথাটিকে সালাতের সাথে খাস করা ঠিক হবে না।
চতুর্থত, কোথাও এই দাবি করা হয় নি যে। ইজতেমার ময়দায় মক্কা,মদীনা, বায়তুল মুকাদ্দাসের তুলনায় অধিক মর্যাদাবান। মক্কা,মদীনায় না যেয়ে ইজতেমা ময়দানে যাওয়া উচিত। যেটা দাবি করা হয়নি সেটা দাবি করার হয়েছে বুঝা বা বুঝাতে চাওয়া অন্যায়।
পঞ্চমত, ইজতেমা ময়দানে কোন গানবাজনা বা আমলা-আক্বিদাহ বিধ্বংসী কিছু হয় না। আল্লাহ আর আল্লাহর রাসূলের কথাই আলোচনা হয়। কাজেই এর দ্বারা আল্লাহমূখী হবার প্রেরণা জাগ্রত হবে সেটাইতো স্বাভাবিক। নয় কি?
নোটঃ আহলে মিডিয়ার এপসের যে রেফারেন্স আমি দিয়েছি সেগুলো ক্রস চেক করিনি। সব কিতাব আমার কাছে নেই। কেউ করতে চাইলে নিজ দায়িত্বে করবেন।
আর সুবিধার জন্য কমেন্টে আগের পোস্টের লিংক দেয়া হল।

Thursday, August 25, 2016

ডাঃ জাকির কি মাযহাব বিরোধী?


ডা. জাকির নায়েক কি মাযহাবের বিরোধীতা করেন? 

ডা. জাকির নায়েকের যে কয়েকটা লেকচার আমি দেখেছি কোন লেকচারেই "মাযহাবীরা মুশরিক / কাফের" বা মাযহাবের ঈমামগনের বিরুদ্ধে কোন কথা বলতে দেখিনি। যতটুকু দেখেছি তিনি এমনটা বলে থাকেন যে, আমাদের মান্য করা উচিত কুরআন ও সহীহ হাদিস। এই কথা শুধু তিনি নন, সবাই বলেন। 

ঢাকাস্থ পিস পাবলিকেশনের জাকির নায়েকের লেকচার সিরিজ-৭ বইটা আমার সংগ্রহে আছে। এই বইয়ের শিরোনাম হল, "ইসলাম সম্পর্কে অমুসলিমদের কিছু সাধারন প্রশ্নের জবাব" । বইটিতে অমুসলিমদের ২০ প্রশ্ন ও তার জবাব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। 

তন্মধ্যে একটি প্রশ্ন এরকম আছে যে, "সকল মুসলমান যখন একই আল্লাহর কিতাব 'আল কুরআন' মেনে চলে, তাহলে তাদের মধ্যে এত উপদেশ [আমার ধারনা শব্দটা উপদেশ না হয়ে দল-উপদল অথবা বিভক্তি হবে] কেন? তাদের চিন্তা-চেতনায় এত পার্থক্য কেন? 

উত্তরে ডা. জাকির নায়েক প্রথমেই মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ থাকার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ প্রসংগে কুরআন-হাদীস থেকে উদ্ধৃতি দেন। এক পর্যায়ে বলেন,

"আমাদের অবশ্যই ইসলামের সুবিজ্ঞ মহান আলেমদের প্রতি সম্মান জানাতে হবে, যাদের মধ্যে রয়েছে চার ইমামঃ যথা ইমাম আবু হানীফা, ইমাম শাফেয়ী, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং মালিক (রঃ) আল্লাহ তাঁদের প্রতি অনুগ্রহ বর্ষণ করুন। তাঁরা ছিলেন ইসলামের জ্ঞানে সুবিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব। আল্লাহ তাঁদেরকে তাঁদের জ্ঞান-গবেষণার জন্য উত্তম পুরস্কার দান করুন। সর্ব সাধারণ মানুষের মধ্যে কেউ ইমাম চতুদষ্টরের মধ্যে কারো অনুসরণ করলে কোন ক্ষতি নেই; কিন্তু 'তুমি কে?' এই প্রশ্নের উত্তরে তাকে বলতে হবে যে, আমি একজন মুসলিম।" 

অন্যত্র তিনি বলেন, "একজন খাঁটি মুসলমানের উচিত হল আল্লাহর কিতাব আল কুরআন এবং তাঁতে রাসূলের সহীহ হাদীসসমূহের নির্দেশ মেনে চলা। সে যে কোন ইসলামি বিশেষজ্ঞের মত অনুসরণ করতে পারে, যদি সে বিশেষজ্ঞ আল কুরআন ও সহীহ হাদীসের অনুসারী হয়ে থাকে। কিন্তু যদি তার মত আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সহীহ হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে তার মতের কোন মূল্যই নেই -- এতে সে যত বর বিশেষজ্ঞই হোক না কেন।" 

এই কথাগুলোর সাথে কোন মুসলিম দ্বিমত করবেন বলে আমি মনে করি না। কাজেই ডা. জাকির নায়েক প্রচলিত চার মাযহাবের বিরোধীতা করেন নি। ব্যতিক্রম হলে, আপনি প্রমাণ পেশ করুন। 

আল্লাহই সর্বজ্ঞ!

ডাঃ জাকিরের বিরুদ্ধে অভিযোগের খন্ডন


প্রায়ই ডাঃ জাকির নায়েক সম্পর্কে একটা অভিযোগ শুনি যে তিনি বলেছেন, "আল্লাহ তায়ালাকে 'ব্রক্ষা', 'বিষ্ণু' প্রভৃতি নামে ডাকা যাবে।" এই কথার উপর ভিত্তি করে আমরা অনেকেই তাকে নানান উপাধিতে ভূষিত করি। এই অভিযোগ কতটুকু সত্য সেটাই আজকে যাচাই করলাম। 

ডাঃ নায়েক এই বিষয়ে আলোচনা করেছে তার "The Concept of GOD in major Religions" লেকচারে। মূল লেকাচারের ডাবিংকৃত বাংলা সিডি আমার কাছে আছে। সেখান থেকেই তার বুলি তুলে দিচ্ছি, 

"আরেকটি চমৎকার বিশেষণ যার উল্লেখ আছে ঋগবেদে। এখানে স্রষ্টাকে ডাকা হচ্ছে ব্রক্ষা নামে। এটা ঋগবেদের গ্রন্থ ২, অধ্যায় ১, অনুচ্ছেদ ৩ এ উল্লেখ করা আছে। ব্রক্ষা অর্থ সৃষ্টিকর্তা। যার অর্থ আরবিতে খালিক্ব। আমাদের মুসলমানদের কোন আপত্তি নেই যদি কেউ আল্লাহ সুবহানা তায়ালাকে ডাকে খালিক্ব, সৃষ্টিকর্তা বা ব্রক্ষা নামে। কিন্তু কেউ যদি বলে ব্রক্ষা হল সেই সৃষ্টিকর্তা যার চারটি মাথা আছে, প্রত্যেক মাথায় একটি করে মুকুট আছে এবং তার চারটি হাত আছে; আমরা মুসলমানরা তাতে প্রবল আপত্তি জানাবো। এছাড়াও এটা নিষেধ করা হয়েছে যযুর্বেদের অধ্যায় ৩২, অনুচ্ছেদ ৩ এ। "না তাস্থি প্রতিমা আস্থি" স্রষ্টার কোন প্রতিমূর্তি নেই। 

আরো একটি ব্যাপার হল, স্রষ্টাকে ঋগবেদে গ্রন্থ ২, অধ্যায় ১, অনুচ্ছেদ তিনে আরেকটি চমৎকার নামে ডাকা হয়েছে। সেটি হল বিষ্ণু। বিষ্ণু অর্থ রক্ষাকারী। এই বিষ্ণু শব্দকে আরবী করলে এর মানে হবে রব। আমাদের মুসলমানদের কোন আপত্তি নেই যদি কেউ আল্লাহ সুবহানু তায়ালাকে 'রব', পালনকর্তা, 'বিষ্ণু' বা রক্ষাকারী বলে ডাকে। কিন্তু কেউ যদি বলে বিষ্ণু হল সেই সৃষ্টিকর্তা যার চারটি হাত আছে আর তার ডানহাতে একটি সুদর্শন চক্র আছে আর তার বামহাতে ধরা আছে একটি শাখ, আর তিনি পাখির পিঠে চড়েন অথবা সাপের পিঠে চড়ে বসেন; আমরা মুসলমানরা তাতে প্রবল আপত্তি জানাবো। বরং যযুর্বেদের অধ্যায় ৪০, অনুচ্ছেদ ৮ এ উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঈশ্বর হলে নিরাকার।"

পোস্ট শেষ। বিচারের ভার বিবেকের উপর সাবস্থ্য করলাম। তার বক্তব্য কি ছিল এবং আমরা তার বক্তব্যকে কিভাবে উপস্থাপন করেছি। 

আল্লাহই সর্বজ্ঞ!






“এই ধারনার দ্বারাও নিঃসন্দেহে ডাক্তার জাকির নায়েক কাফির কাফির কাফির! যে সন্দেহ করবে সেও কাফির হয়ে যাবে”। 

[যেকোন ধরনের ফালতু কমেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।] 

জ্বী না। উক্ত ফতোয়া আমি দেই নি। দিয়েছেন জৌনপুরের পীর সাহেব ড. সৈয়দ মুফতী মুহাম্মাদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী সাহেব। ফতোয়ার যে কপিটুকু আমার কাছে পৌছেছে সেটা সম্ভবত একটা স্ক্রিনশট এবং স্ক্রিনশট কারো ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট থেকে নেয়া হয়েছে। কাজেই জৌনপুরের পীর সাহেব আসলেই এই ফতোয়া দিয়েছেন কিনা সেটা আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না। আসুন দেখা যাক কিসের উপর ভিত্তি করে ডা. জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে এত কঠোর ফতোয়া দেয়া হল।

অভিযোগ হল, ডা. নায়েক স্বীকার করেছেন যে কুরআনে ব্যকরণগত ভুল আছে। রেফারেন্স হিসেবে ডা. জাকির নায়েকের লেকচারসমগ্রর প্রথম খন্ডের ৫১২ নং পাতার কথা বলা হয়েছে। হার্ড কপি না থাকায় নেট থেকে পিডিএফ লোড করে রেফারেন্স চেক করতে হল। চেক করতে যেয়ে দেখি এটা ডা. ক্যাম্পবেলের সাথে ডা. জাকির নায়েকের আলোচনার অংশ। সৌভাগ্যবশত এই আলোচনার সিডি আমার কাছে ছিল। দীর্ঘআলোচনার ঐ অংশটুকু একসময় আমি খুজে পাই। 

আলোচনার শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে ডা. জাকির নায়েককে এক ব্যাক্তি যে প্রশ্নটি করেন সেটি হবহু তুলে দিচ্ছি ভিডিও থেকে। 

“ডা. নায়েক আপনি বললেন যে কুরআন শরীফে নাকি কোথাও কোন ভুল নেই। আমি কুরআনে ২০টারও বেশি ভুল দেখতে পাচ্ছি। সেটা আরবী ব্যাকরনে।এখন তার কয়েকটা আমি আপনাকে বলছি। “ইন্নাল্‌লাযিনা আমানু ওয়াললাযি না হাদু ওয়াসাবিঊন” এটা আছে সুরা বাকারায়। আর সূরা হাজ্বে “ইন্নাল্‌লাযিনা আমানু ওয়াললাযিনা হাদু ওয়াসাবিই’ন”। এখানে কোনটা ঠিক? সাবিঊ’ন নাকি সাবিই’ন?এক নম্বর। 

দুই নম্বর হল, কুরআনে আছে, হ্যা, কিন্তু এছাড়াও আরো আছে। সূরা ত্বাহার ৬৩ নম্বর আয়াতে আছে, “ইন্নাহা যানি লিছাহিরান” ভুল। “ইন্নাহা যাইনি লিছাহিরান”। এটার কি ব্যাখ্যা দেবেন?

[এই পর্যায়ে সঞ্চালক বলেন সময় স্বল্পতার কারনে তার প্রথম প্রশ্নের উত্তর দেয়া হবে এবং ভদ্রলোক তাতে সম্মত হন।] 

ডা. জাকিরের উত্তর, “ভাই, আপনি খুব সুন্দর একটা প্রশ্ন করেছেন। আমি আরেকটু সহযোগীতা করতে চাই যে, হ্যা, আপনি সবগুলো ব্যাকরণগত ভুলের কথাই বলেন। আর আপনার হাতের বইটা লিখেছে আব্দুল ফাদি। ঠিক? Is the Quran enviable? আমিও দেখতে পাচ্ছি, হ্যা। আলহামদুলিল্লাহ, আমি ভালই দেখতে পাই। 

আমি এই ২০ টা ভুলের সবগুলোর উত্তর দেব। কারন আমি বইটা পড়েছি। আমি সবগুলোর উত্তর দেব ইন শা আল্লাহ। এক নম্বর পয়েন্ট ভাই, এক নম্বর পয়েন্ট। এখানে এক নম্বর পয়েন্ট হল যে, আরবী সব ব্যাকরণ এসেছে কুরআন থেকে। কুরআন হল সর্বোচ্চ আরবী বই। যে বইটাতে সবচাইতে উচু মানের সাহিত্য আছে। আরবী ভাষার সব ব্যাকরণ এসেছে কুরআন থেকেই। কুরআন হল ব্যাকরণের মূল গ্রন্থ। আর কুরআন যেহেতু ব্যাকরণের মূল গ্রন্থ, সব ব্যাকরণ এসেছে কুরআন থেকে, কুরআনে কোন ভুল থাকতে পারে না। এক নম্বর পয়েন্ট।[***point to be noted carefully] 
দুই নম্বর পয়েন্ট। ব্যাপারটা এরকম যে, আপনি একটা রুলার নিলেন, সেই রুলারের গায়ে দাগ কাটা আছে, তারপর আপনি বললেন যে, মাপটা ভুল হয়েছে। এটা বেশ অযৌক্তিক। দুই নম্বর পয়েন্ট, আরবে বিভিন্ন আলাদা আলাদা গোত্রে, আপনি যদি আরবী জানেন, আর ডা. উইলিয়াম ক্যাম্পবেল আমার সাথে একমত হবেন যে, আরবের গোত্রগুলোর মধ্যে ব্যাকরণ মাঝে মাঝেই বদলে যায়। কিছু কিছু আরবী গোত্রে যে শব্দটা স্ত্রীবাচক, অন্য আরেক গোত্রে সে শব্দটাই স্ত্রীবাচক। একই শব্দ তবে গোত্রভেদে ব্যাকরণ বদল হতে থাকে। এমনকি শব্দের লিঙ্গও বদলে যায়। তাহলে আপনি কি কুরআনকে সবগুলো ব্যাকরণ দিয়ে পরীক্ষা করবেন? না। আর এছাড়াও কুরআনের ভাষা এত উচুমানের যে, এতই উঁচু মানের, এর কাছাকাছি কোন সাহিত্য নেই। আর কুরআনের বিরুদ্ধে অনেক বই আছে, ইন্টারনেটে গেলে দেখবেন, ১২ টা ব্যাকরণে ভুল, ২১ টা ব্যাকরণে ভুল। আব্দুল ফাদি, ২০ টা ব্যাকরণে ভুল। আপনাদের কি ধারনা খ্রিষ্টানরা এই বইগুলো বের করেছে? কারা এই বই বের করেছে? জানেন কারা করেছে? মুসলমানরাই, মুসলমান পন্ডিতরা, যেমন জাবাব সারি। তারাই এই বইগুলো বের করেছেন। কুরআনের ব্যাকরণ এত উঁচু মানের যে, কুরআনের ভাষা মাঝে মধ্যেই প্রচলিত আরবীর বিরুদ্ধে যায়। কুরআনের ব্যাকরণ এত উঁচুমানের, কুরআনের ব্যাকরণ এতই উঁচুমানের, এইজন্যই তারা উদাহরণ দিয়েছে। আমিও কয়েকটি উদাহরণ দেব। এতেই আপনারা সবগুলো উত্তর পেয়ে যাবেন।

তারা উদাহরণ দিয়েছে যে, কুরআনে লেখা আছে, লূত (আঃ) এর গোত্রের লোকজন তারা সকল নবীকে ত্যাগ করেছে। বলা আছে সব নবীকে তারা বর্জন করেছে। ডা. উইলিয়াম ক্যাম্পবেল বললেন, নূহ নবীর গোত্রের লোকজন তারা সব নবীকে ত্যাগ করেছে। আমরা ইতিহাস থেকে জানি মাত্র একজন নবীকে তাদের গোত্রে পাঠানো হয়েছিল। তাহলে এইখানেও ব্যাকরণে ভুল আছে।কুরআনের বলা উচিত ছিল একজন নবীর কথা, বহুবচন না। আর আমি একমত,[#point_to_be_noted_again ] আর আমার-আপনার মত লোকের কাছে মনে হবে, এটা ব্যাকরণের ভুল। কিন্তু যদি আপনারা আরবদের লেখা বইগুলো পড়ে থাকেন, কুরআনের আসল সৌন্দর্য্যটা কি? সৌন্দর্য্য হল, কুরআনে কেন একজন নবীর কথা না বলে নবীদের কথা বলা হয়েছে। আপনারা জানেন কেন? কারন আমরা জানি, সব নবীদের হেদায়েতের বাণী মূলত একটাই, যে ঈশ্বর একজনই। তৌহিদের বাণী, আল্লাহ সুবহানা তায়ালার বাণী। লূত (আঃ) এর লোকজন এবং নূহ (আঃ) এর লোকজন তাদের নবীকে ত্যাগ করেছিল। আর পরোক্ষভাবে তারা নিজদের নবীকে ত্যাগ করে সব নবীদেরই ত্যাগ করেছে”। 

মন্তব্য ১. জাকির নায়েকের লেকচার সমগ্রর সমস্যা হল উনার ভিডিওর বক্তব্যের সাথে বইয়ের লেখার সামঞ্জস্যের অভাব। দেখা যায়, উনি একটা কথা বলেছেন একভাবে কিন্তু বইয়ে লেখাতে এসেছে অন্যভাবে। এসব ক্ষেত্রে লেখার সাথে ভিডিওর বক্তব্য মিলিয়ে দেখে তারপর মন্তব্য করা দরকার আমাদের। উক্ত ফতোয়ায় এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী সাহেব এই শ্রমটুকু দিয়েছেন কিনা আল্লাহই ভাল জানেন। 

মন্তব্য ২. Point to be noted again অংশটুকু আরেকবার পড়ুন। স্পষ্টত বোঝা যাচ্ছে যে, ডা. জাকির নায়েক এই ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, আমার-আপনার মত লোকের কাছে মনে হবে এটা কুরআনের ব্যাকরণগত ভুল। এই “একমত” এর বিষয়টা যখন পূর্ববর্তী লাইন অর্থাৎ “তাহলে এইখানেও ব্যাকরণে ভুল আছে।কুরআনের বলা উচিত ছিল একজন নবীর কথা, বহুবচন না” –এর সাথে একত্রে ভাবা হয় তখন ডা. নায়েকের কথার সম্পূর্ণ উলটো অর্থ দাঁড়ায়। এটা ইচ্ছাকৃত না অনিচ্ছাকৃত, আল্লাহই ভাল জানেন। 

মন্তব্য ৩. ফেসবুকের হোমফিডে প্রায়ই একটা হাদিস আসে, যেটির মর্মার্থ এমন, রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম বলেছেন, “কোন ব্যাক্তি অপর কোন ব্যাক্তিকে কাফের বললে দু’জনের একজন অবশ্যই কাফের হবে”। সংযুক্ত ছবি অনুযায়ী জৌনপুরের পীরসাহেব ড. সৈয়দ মুফতী মুহাম্মাদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী ডা. জাকির নায়েককে কাফির বলেছেন, সন্দেহকারীকেও কাফির বলেছেন। 

কে কাফির হয়ে মারা যায় সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা! 

[পোস্টের ভুলত্রুটি সহনশীল দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল]

যাকাতের বরকত


হয় আপনি টাকা দিবেন, নাহলে টাকা আপনার হাত ফসকে বেড়িয়ে যাবে। পার্থক্য হল টাকা দিলে আপনি নিরাপদ থাকবেন, না দিলে পড়বেন কোন বিপদে।

জ্বী, যাকাতের কথাই বলছি। প্রতি বছর যাকাতের সময় আসলেই দেখি সাধারন মানুষতো বটেই দ্বীনদার বলে পরিচিত অনেকেই যাকাত দিতে গড়িমসি করেন। পাছে যাকাত দিতে হয় এই ভয়ে ক্যাশ টাকা হাতে রাখেন না। যাকাতের সিজন আসার আগে আগে জমি কিনে ফেলেন বা কোন আসবাবপত্র কিনেন। অনেকে হয়ত ঈদের সিজন বলে "বাড়তি" খরচের মধ্যে টাকা হিসেব করেন। যারা যাকাত দেন তারাও দেখা যায় ঠিকমত হিসেব করেন না। স্বর্ণালংকার না মেপে, বাজার দরের হিসেব না করে, থোক বরাদ্দের মত থোক যাকাত দিয়ে দেন। এভাবে হয় না, যাকাতের প্রতিটা পয়সার পাই পাই হিসেব দিতে হবে। 

যাকাতের মাধ্যমে লাভটা আমাদের চোখের সামনে ভাসে না বিধায় আমরা খুশি মনে যাকাত আদায় করে পারি না। দেখা গেল যাকাত আসত ২০ হাজার টাকা, দিলাম না। পরে এমন কোন অসুখ হল বা একটা বিপদে পড়ে ৫০ হাজার টাকা হাত থেকে বেড়িয়ে গেল। আর বোনাস হিসেবে পেরেশানীতো আছে। যাকাত আদায় করে দিলে হয়ত আল্লাহ তায়ালা এই বিপদে আমাকে গ্রেফতার করতেন না। আর পারিপার্শ্বিক উপকারতো আছেই। 

হে আল্লাহ আমাকে তোমার পূর্ণ অনুগত কর। আমীণ।

শবে বরাত


কালরাতে যারা ইবাদতে কাটিয়েছেন তাদেরকে অভিনন্দন। আর যারা স্যাটায়ার, ক্রিটিসিজম মূলক কথাবার্তা বলেছেন তাদের জন্য সমবেদনা। 

জামে মসজিদের ইমাম সাহেব এই ধরনের উপলক্ষ্যে একটা কথা বলেন মাঝে মাঝে। যতদূর মনে পড়ে তিনি বলেছিলেন, "সম্মানিত রাত হচ্ছে পাঁচটি। দুই ঈদের রাত, শবে বরাত, শবে কদর এবং শবে মেরাজ"। (আমি ভুল বলে থাকলে সংশোধন করে দেবেন প্লীজ।) "এই রাতগুলোতে ইবাদতে মর্তবা অনেক। এখন সারারাত ইবাদত করে ফজরের আগ দিয়ে ঘুমিয়ে যাব? নাকি? না, ইবাদততো করবই ফজরের নামাযটাও যেন বাদ না যায় সেদিকে জোর লক্ষ্য রাখতে হবে।" 

উনার কথা থেকে এটা স্পষ্ট যে, রাত ২-৩ টা পর্যন্ত ইবাদত করার পর ঘুমিয়ে গিয়ে যদি কেউ ফজরের নামায না পড়ে তাহলে কেন সে নামায পড়তে পারল না- এই যুক্তিতে তাকে আমরা বিদ্রুপ করব না যে, "ফরয নামাযের খবর নেই, নফল নিয়ে টানাটানি।" 

অথচ কালকে কয়েকটা পোস্ট পড়ে আমার এমনটাই মনে হয়েছে।  

ধরা যাক, আমি নামায পড়ি না। শবে বরাত উপলক্ষ্যে এশার নামাযে গেলাম। তারপর বাসায় এসে রুটি হালুয়া খেয়ে আবার রাত দশটা এগারোটার দিকে বের হয়ে মসজিদে গেলাম। ১০ মিনিট নামায পড়লে ২০ মিনিট বন্ধুবান্ধবদের সাথে গল্পগুজব করলাম। দোকানে যেয়ে চা খেলাম, রাস্তায় হাটাহাটি করলাম। 

খেয়াল করার বিষয় হল, শবে বরাত না হলে আমি নামাযই পড়তাম না। শবে বরাত উপলক্ষ্যে এক ওয়াক্ত নামায পড়েছি এবং কিছু নফল ইবাদতও করেছি। এতে অন্যায়টা কোথায় করেছি? আপনার আমার উপর রাগ না হয়ে দুঃখ হওয়া উচিত এবং আমার জন্য আল্লাহ রব্বুল আ'লামীনের দরবারে দোয়া করা উচিত যে, এই ছেলেটা যেন সারাজীবন ৫ ওয়াক্ত নামায জামাতের সাথে পড়তে পারে। আল্লাহ তাকে তুমি সে তৌফিক দান করো। 

সারাবছর আমি নামায পড়ি নি। গোনাহের ভাগিদার আমি। শবে বরাতের রাতে নিয়ত করলাম মসজিদে যাই। যাবার আগে ফেসবুকে আপনার পোস্ট দেখে মন পরিবর্তন হয়ে গেল। ধূর, সারাবছর নামায পড়ি না, একদিন পড়ে কি হবে? রাতে বাইরে গেলাম ঠিকই, কিন্তু মসজিদে গেলাম না। এমনেই ঘুড়ে-টুড়ে চলে আসলাম। 

এবার কিন্তু আপনি আমার গোনাহের শেয়ার পেলেন। 

আপনি যদি আমার জন্য মসজিদের প্রথম কাতারে নামায পড়তে না পারেন তাহলে বলব, আপনি আমার আগে মসজিদে আসতে পারতেন। নফল ইবাদতের সময় আমাদের গুঞ্জনে যদি বিরক্ত বোধ করে থাকেন তাহলে আমাদের মসজিদ থেকে বের করে না দিয়ে আমাদের বোঝাতে পারতেন। নিদেনপক্ষে নফল ইবাদত ঘরে এসে করতে পারতেন। 

অনেক লোক ঈমান নিয়ে পৃথিবীতে থাকে কিন্তু মৃত্যুর সময় ঈমানহারা হয়ে মারা যায়। আবার অনেক বেঈমান মৃত্যুর আগে আগে ঈমানদার হয়ে আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যায়। সারাবছর নামায না পড়ার গোনাহ্‌ হয়ত আমি তওবা করে আল্লাহর দরবার থেকে মাফ পেয়ে যাব। কিন্তু যারা ক্রিটিসাইজ করেছে, স্যাটায়ার বানিয়েছে তাদের কি হবে? তারাতো একে গোনাহই মনে করছে না। 

আল্লাহই সর্বজ্ঞ!

ভূমিকম্প কি জেনা-ব্যাভিচারের জন্য হয়?


প্রতিবার ভূমিকম্পের পর ফেসবুকে প্রধানত দু'ধরনের স্ট্যাটাস দেখতে পাই। একদল বলতে থাকে, জেনা-ব্যাভিচার, নারী উলঙ্গপনা, পহেলা বৈশাখ ইত্যাদির কারনে আল্লাহর আযাব এসেছে। আরেকদল ভূমিকম্পের ব্যাখ্যায় ভূগোলের সাহায্য নেন এবং প্রথোমক্ত ব্যক্তিদের মোটামুটি তুলোধুনো করে নানান বিশেষণে সম্মানিত করে থাকেন! 

আল্লাহ তায়ালা বলেন, "স্থলে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ্‌ তাদেরকে তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদরন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে।" (সূরা আর-রুম, আয়াত ৪১,৪২)

এই আয়াতের তফসীরে বলা হয়েছে, "অর্থাৎ স্থলে, জলে তথা সারা বিশ্বে মানুষের কুকর্মের কারণে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। তফসীরে রুহুল মা'আনীতে বলা হয়েছে, 'বিপর্যয়' বলতে দুর্ভিক্ষ, মহামারী, অগ্নিকান্ড, পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার ঘটনাবলীর প্রাচুর্য, সবকিছু থেকে বরকত উঠে যাওয়া, উপকারী বস্তুর উপকার কম এবং ক্ষতি বেশি হয়ে যাওয়া ইত্যাদি বিপদ আপদ বোঝানো হয়েছে।" 

অন্যত্র আছে, "হ্যা, ব্যাপকাকারের বিপদাপদ-যেমন দুর্ভিক্ষ, বন্যা, মহামারী ও দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, বরকত নষ্ট হএয় যাওয়া ইত্যাদির প্রধান কারন মানুষের প্রকাশ্য গোনাহ্‌ ও পাপাচার হয়ে থাকে।" 

আরো বলা হয়েছে, "তাই কোন কোন আলিম বলে, যে ব্যক্তি কোন গোনাহ্‌ করে সে সারাবিশ্বের মানুষ, চতুষ্পদ জন্তু ও পশুপক্ষীদের প্রতি অবিচার করে। কেননা, তার গোনাহের কারণে অনাবৃষ্টি ও অন্য যেসব বিপদাপদ দুনিয়াতে আসে, তাতে সব প্রাণীই ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তাই কেয়ামতের দিন এরা সবাই গোনাহ্‌গার ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করবে।

শকীহ যাহেদ বলেন, যে ব্যক্তি হামার মাল খায়, সে কেবল যার কাছ থেকে এই মাল নেওয়া হয়েছে, তার প্রতিই জুলুম করে না; বরং সমগ্র মানবজাতির প্রতিই অবিচার করে থাকে। --(রুহুল মা'আনী) কারণ, প্রথমত একজনের জুলুম দেখে অন্যদের মধ্যেও জুলুম করার অভ্যাস গড়ে উঠে এবং এটা সমগ্র মানবতাকে গ্রাস করে নেয়। দ্বিতীয়ত তার জুলুমের কারনের দুনিয়াতে বিপদাপদ আসে, যদ্বারা সব মানুষই কমবেশি প্রভাবান্বিত হয়।" 

(তফসীরে মা'আরেফুল কোরআন, ৬ষ্ঠ খন্ড) 

কুরআনুল কারীমের বর্ণনা থাকে স্পষ্ট বোঝা গেল, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মূল কারন মানুষের প্রকাশ অবাধ পাপাচার। এই সহজ ব্যাপারটা জেনে হোক, না জেনে হোক, বুঝে হোক না বা না বুঝেই হোক মুসলিম ঘরের অনেক সন্তানই মেনে নিতে পারে না সম্ভবত দুইটি কারনেঃ 

১. পাপকে পাপ মনে না করাঃ সুদের সাথে সংশ্লিষ্টতা হারাম। অথচ আমরা সুদকে হারাম মানতে পারছি না। একইভাবে নারী পুরুষের অবাধ অবৈধ মেলামেশা, গানবাজনা আয়োজন, ফটোগ্রাফি, অমুসলিম সংস্কৃতি ধারন ও পালন, মদ খাওয়া, জুয়া খেলা, লটারি ইত্যাদি সমাজে এত ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে যে এখন আর এগুলোকে হারাম মনে হচ্ছে না। এই অবস্থা চলতে থাকলে একসময় যাবতীয় হারাম কাজ হালাল হয়ে যাবে। 

২. ভুমিকম্পকে বিপর্যয় মনে না করাঃ জ্ঞান হবার পর যতগুলো ভূমিকম্প হয়েছে সবগুলোতে শুধুই কম্পণ ছিল। নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, ইকুয়েডরে ভুমিকম্প ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় অনেক ক্ষতিসাধণ হবার পরেও এদেশে তেমন কিছু হয় নি। অর্থাৎ ভুমিকম্পের চাক্ষুস অভিজ্ঞতা আমাদের নেই। কাজেই ভুমিকম্পকে আমাদের ভুমিকম্প মনে হয় না। বরং অনেকটা ঈদ-ঈদ মনে হয়। তাই সাজুগুজু করে ছবি তুলে সেলফি ফেসবুকে আপ্লোড দেই। ঘুর্ণিঝড় আমাদের কাছে বিপর্যয় কারন ১৯৯১ এর স্মৃতি আমাদের আছে, বন্যা আমাদের কাছে বিপর্যয় কারন ১৯৮৮, ১৯৯৮ এর স্মৃতি আমাদের আছে, দুর্ভিক্ষ আমাদের কাছে বিপর্যয় কারন ১৯৭৪ এর কথা আমরা বইতে পড়েছি। হায় আফসোস, ভূমিকম্প নিয়ে আমাদের এমন কোন স্মৃতি নেই। 

মনের ভিতর খচখচ করছিল তাই লিখলাম। যার ইচ্ছা হয় মেনে নিবেন, যার ইচ্ছা হয় বিশেষণে সম্মানিত করবেন। 

ফী আমানিল্লাহ!

Sunday, April 10, 2016

ভুল ধারনা ..

গতকাল নাজনীন আক্তার হ্যাপি একটা পোস্ট দিয়েছেন।
"বিয়ে এখন করবো কি করবোনা?করবো কি করবোনা? করবো কি করবো না! "এই ঢং করতে করতে যে সময়টা চলে যায় সেই সময় টাতে শয়তান আরামসে গুনাহের সাগরে ডুবিয়ে না মারলেও নাকানি চুবানি খাইয়ে দিতে পারে।আর ওই নাকানি চুবানি খাওয়ার মধ্যই যে পরিমাণ গুনাহ হয় তার জন্য তো আগুন আছেই,চিন্তা কিসের!!! ঐ আগুনের ভিতর পোড়া তো পরের কথা ঐ আগুনের তাপেই তো সব ওলট পালট হয়ে যাবে!
যারা অবিবাহিত তারা ৫০% গুনাহ করে ফেলে বিয়ে না করার কারনে।
ভুলে গেলে হবে না যে,প্রথমত আমাদের বিয়ে করতে হবে আল্লাহর কথা মানার জন্য।দ্বিতীয়ত রাসূলের কথা মানার জন্য।তৃতীয়ত গুনাহ থেকে বাচার জন্য।আর এসবের তোয়াক্কা না করতে চাইলে বরং হিসাব করা শুরু করি কত তাপের আগুনে জ্বলবো!"

এই পোস্টে এই ভাই কমেন্ট করেছেন, "আপু আপনিও বিয়ে করে ফেলেন। কারন নিজে না মেনে অন্যকে উপদেশ দেয়াটা আমাদের ধর্মে নিষেধ আছে।"
অন্যত্র তিনি বলেন, "এটা সুন্নত। কারন আমাদের নবী (সাঃ) যে কাজ করতেন না, তা করার জন্য কাউকে নির্দেশ দিতেন না।" তিনি আরো বলেন, "যে ব্যক্তি নিজে না করে তা অন্যকে উপদেশ দিবে হাশরের ময়দানে তার জিব্বাহ কেটে দেওয়া হবে।"
আমাদের অনেকেই এই ধারনা করি। এই ধারনা সঠিক কি ভুল সেটা বলার আগে কয়েকটা প্রশ্ন করি। ধরা যাক, আমি মদ খাই। আমি জানি মদ খাওয়াটা ভাল না। এখন আমার ছেলে বা ভাই যদি মদ খাওয়া শুরু করে আমি কি তাকে নিষেধ করব না?
আবার ধরা যাক, আমার প্রচুর টাকা পয়সা আছে। কিন্তু আমি যাকাত দেই না। এই ব্যাপারটা আমার কলিগ জানেন। তার উপর যাকাত ফরজ নয়। এখন যদি তিনি আমাকে যাকাত দেবার ব্যাপারে উৎসাহিত করেন তাহলে কি তার জিহ্বা কাটা হবে?
মনেকরি, আমার ভাইয়ের হজ্ব করার সামর্থ্য আছে। সে আলসেমী করে হজ্ব করছে না। এদিকে আমি হজ্ব করিনি বা আমার উপর হজ্ব ফরয নয়। আমি কি আমার ভাইকে আদেশ দিতে পারি না, যাও হজ্ব করে এসো?
সঠিক জিনিস ভুলভাবে উপস্থাপন করলে ভুল মানে দাঁড়ায়।
সূরা আল-বাকারাহ। আয়াত নাম্বার ৪৪। সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের নির্দেশ দাও এবং নিজেরা নিজেদেরকে ভুলে যাও, অথচ তোমরা কিতাব পাঠ কর? তবুও কি তোমরা চিন্তা কর না?"
এই আয়াতের তফসীরে "তফসীরে মা'আরেফুল কোরআন, প্রথম খন্ডের ২০১ পৃষ্ঠা"য় যা আছে তা হবহু তুলে দিচ্ছিঃ
"আমলহীন উপদেশ প্রদানকারীর নিন্দাঃ এ আয়াতে ইহুদী আলেমদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে। এতে তাদেরকে ভৎসর্ণা করা হচ্ছে যে, তারা তো নিজেদের বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয় স্বজনকে মুহাম্মদ (সাঃ)-এর অনুসরণ করতে এবং ইসলামের উপর স্থির থাকতে নির্দেশ দেয়। (এ থেকে বোঝা যায় ইহুদী আলেমগন দীন ইসলামকে নিশ্চিতভাবে সত্য বলে মনে করত)। নিজেরা প্রবৃত্তির কামনার দ্বারা এমনভাবে প্রভাবিত ছিল যে, ইসলাম গ্রহণ করতে কখনো প্রস্তুত ছিল না। কিন্তু যারাই অপরকে পুণ্য ও মঙ্গলের প্রেরণা দেয়, অথচ নিজের ক্ষেত্রে তা কার্যে পরিণত করে না, প্রকৃত প্রস্তাবে তারা সবাই ভৎসর্ণা ও নিন্দাবাদের অন্তর্ভুক্ত। এ শ্রেণীর লোকদের সম্পর্কে হাদীসে করুন পরিণতি ও ভয়ংকর শাস্তির প্রতিশ্রুতি রয়েছে। হযরত আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, হুযুর (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেন, মি'রাজের রাতে আমি এমন কিছু সংখ্যক লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম যাদের জিহ্বা ও ঠোট আগুনের কাঁচি দিয়ে কাঁটা হচ্ছিল। আমি জিবরাঈল (আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলাম--এরা কারা? জিবরাঈল বললেন--এরা আপনার উম্মতের পার্থিক স্বার্থপুজারী উপদেশদানকারী, যারা অপরকে তো সৎকাজের নির্দেশ দিত, কিন্তু নিজের খবর রাখতো না। (কুরতুবী)
নবী করীম (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এরশাদ করেছেন, কতিপয় জান্নাতবাসী কতক নরকবাসীকে অগ্নিদগ্ধ হতে দেখে জিজ্ঞেস করলেন যে, তোমরা কিভাবে দোযখে প্রবেশ করলে অথচ আল্লাহর কসম, আমরা তো সেসব সৎকাজের দৌলতেই জান্নাত লাভ করেছি, যা তোমাদের কাছে শিখেছিলাম?
পাপী ওয়ায়েজ উপদেশ প্রদান করতে পারে কি নাঃ উল্লেখিত বর্ণনা থেকে একথা যেন বোঝা না হয় যে, কোন আমলহীন বিরুদ্ধাচারীর পক্ষে অপরকে উপদেশ দান করা জায়েজ নয় এবং কোন ব্যক্তি যদি কোন পাপে লিপ্ত থাকে, তবে সে অপরকে উক্ত পাপ থেকে বিরত থাকার উপদেশ দিতে পারে না। কারণ, সৎকাজের জন্য ভিন্ন নেকী ও সৎকাজের প্রচার-প্রসারের জন্য পৃথক ও স্বতন্ত্র নেকী। আর এটা সুস্পষ্ট যে, এক নেকী পরিহার করলে অপর নেকীও পরিহার করতে হবে এমন কোন কথা নেই, যেমন, কোন ব্যক্তি নামায না পোড়লে অপরকেও নামায পড়তে বলতে পারবে না, এমন কোন কথা নয়। অনুরূপভাবে কোন ব্যক্তি নামায না পড়লে রোযাও রাখতে পারবে না, এমন কোন কথা নেই। তেমনিভাবে কোন অবৈধ কাজে লিপ্ত হওয়া ভিন্ন পাপ এবং নিজের অধীনস্থ লোকদেরকে ঐ অবৈধ কাজ থেকে বারণ না করা পৃথক পাপ। একটি পাপ করেছে বলে অপর পাপও করতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই।
যদি প্রত্যেক মানুষ নিজে পাপী বলে সৎকাজের নির্দেশ দান ও অসৎকাজ থেকে বাধাদান করা ছেড়ে দেয় এবং বলে যে, যখন নিষ্পাপ হতে পারবে, তখনই অপরকে উপদেশ দেবে, তাহলে ফল দাঁড়াবে এই যে, কোন তাবলীগকারীই অবশিষ্ট থাকবে না। কেননা, এমন কে আছে, যে পরিপূর্ণ নিষ্পাপ? হযরত হাসান (রাঃ) এরশাদ করেছেন-- শয়তান তো তা-ই চায় যে, মানুষ ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে তাবলীগের দায়িত্ব পালন না করে বসে থাকে।
মূল কথা এই যে, "তোমরা কি অপরকে সৎকাজের নির্দেশ দাও এবং নিজেরা ভুলে বস?" আয়াতের অর্থ এই যে, উপদেশ দানকারী (ওয়ায়েজকে) আমলহীন থাকা উচিত নয়। এখন প্রশ্ন হতে পারে, ওয়ায়েজ এবং ওয়ায়েজ নয়--এমন কারো পক্ষেই যখন আমলহীন থাকা জায়েয নয়, তাহলে এখানে বিশেষভাবে ওয়ায়েজের কথা উল্লেখ করার প্রয়োজনীয়তা কি? উত্তর এই যে, বিষয়টি উভরের জন্য নাজায়েয, কিন্তু ওয়ায়েজ বহির্ভুতদের তুলনায় ওয়ায়েজের অপরাধ অধিক মারাত্মক। কেননা, ওয়ায়েজ অপরাধকে অপরাধ মনে করে জেনে শুনে করছে। তারপক্ষে এ ওযর গ্রহণযোগ্য নয় যে, এটা যে অপরাধ তা আমার জানা ছিল না। অপরপক্ষে ওয়ায়েজ বহির্ভূত মূর্খদের অবস্থা সম্পূর্ণ বিপরীত। এছাড়া ওয়ায়েজ ও আলেম যদি কোন অপরাধ করে তবে তা হয় ধর্মের সাথে একপ্রকারের পরিহাস। হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, হুযুর (সাঃ) এরশাদ করেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ পাক অশিক্ষিত লোকদেরকে যত ক্ষমা করবেন, শিক্ষিতদেরকে তত ক্ষমা করবেন না।"
পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, বেআমল হলেও আমলের দাওয়তা দেয়া যাবে। বরং দিতে হবে। উল্লেখিত আলোচনায় ভবিষ্যতের (মৃত্য পরবর্তী জীবনের) এক খন্ডচিত্র ফুটে উঠেছে যেখানে, কিছু জান্নাতী কিছু জাহান্নামীদের দেখে খুবই অবাক হবে যে, তারা কিভাবে জাহান্নামে এল! অথচ তারা নিজেরা তাদের কথার উপর আমল করেই জান্নাত লাভ করেছেন। এখন যদি ঐ বেআমল বক্তা আমলের ওয়াজ না করতেন তবে ঐ জান্নাতীগন জান্নাত হতে হয়ত বঞ্চিত থাকতেন। সেটা কি আদৌ ভাল কিছু?
ব্যাপার হল, কেউ যদি অন্যকে বলে অথচ নিজে আমল করে না, তার সাজা হবে। তারমানে এই নয় যে, সে আরেকজনকে বলার কারনে তার সাজা হচ্ছে!
আমি নামাযের দাওয়াত দিয়ে নামায পড়ি না, আমার সাজা হবে। আমি দাওয়াতও দেই না, নামাযও পড়ি না। তাহলে কি আমার সাজা মাফ? অবশ্যই না।
ভাই মনেহয় ভেবেছেন, আমলের দাওয়াত দিলাম না, আমলও করলাম না। তাহলে সাজা হবে না। তাই দাওয়াত দেয়াকেই সাজার মূল কারণ বানিয়েছেন। অথচ ব্যাপারটা মোটেও তা নয়।
(ভুল-ত্রুটি হতে আল্লাহর পানাহ্‌ চাই।)