Featured Post

I SAID NO TO QUANTUM METHOD

পূর্বে পোস্ট আকারে প্রকাশিত। কারও সাথে ঝগড়া করার জন্য এটা দেইনি। নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম। কেউ মানতে না পারলে আমার কিছু করার নেই।  আ...

Showing posts with label দেশ. Show all posts
Showing posts with label দেশ. Show all posts

Friday, July 7, 2017

কার টাকা কার পকেটে যাচ্ছে...


ছোট্ট একটি হিসাব করি। 


ধরি, কোন মুসলিমের বাৎসরিক আয় ৬,০০,০০০ টাকা। এর মধ্যে বেতন ৪,৮০,০০০ টাকা। বাকি ১,২০,০০০ টাকা তিনি বিভিন্ন উপলক্ষে বোনাস পেয়ে থাকেন। আরও ধরা যাক, বছরের যেকোন সময় (কুরবানীর ঈদ হতে পারে) তার একাউন্টে বেতন-বোনাস মিলে এককালীন ১,০০,০০০=+ টাকা তার ব্যাংক একাউন্টে জমা হয়। (যেহেতু দিনমজুর টাইপের কাজ ছাড়া প্রায় সকল ধরনের কাজে এখন ব্যাংক একাউন্টে স্যালারী যোগ হয়) 

এখন কারও আয় ২,৫০,০০০ টাকা থেকে ৭,০০,০০০ টাকা হলে তাকে আয়কর দিতে হবে ১০ শতাংশ। এই হিসেবে ঐ মুসলিমের ৬০,০০০ টাকা আয়কর দিতে হবে। ব্যাংকে এককালীন লক্ষাধিক টাকা জমা হবার কারনে তাকে আবগারী শুল্ক বাবদ দিতে হবে (বর্তমান বাজেট অনুযায়ী ১ হাজার। আগে ৫শ' ছিল) ১ হাজার টাকা। ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্য এখন এস এম এস ব্যাংকিং বাধ্যতামূলক। এর চার্জ প্রায় ৩০০ টাকা বছরে। একাউন্ট মেইনটেন্যান্স খরচ ব্যাংক কাটবে ১০০ টাকা। হল ১৪০০ টাকা। এইধরনের বিভিন্ন চার্জের উপর আসবে ভ্যাট। ভ্যাট সহ মোট চার্জ ১৫৫০ টাকা অতিক্রম করে যাবার কথা। আর যদি ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড থাকে তাহলে সেটার চার্জ ধরলাম বছরে ২০০ টাকা। মোট ১৭৫০ টাকা। 

তাহলে ঐ মুসলিমের ৬০,০০০+১,৭৫০=৬১,৭৫০ টাকা হাওয়ার উপরে চলে যাবে।

হাইকোর্টের মূর্তি ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা


কয়েকদিন আগে প্রশ্ন রেখেছিলাম যে, আপনার কাছে সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ কি? এবং এর ভিত্তি কি?


কয়েকজন উত্তর দিয়েছেন নিজের মত তবে ভিত্তি কি তা উল্লেখ করেন নি তেমন কেউ। হয়ত ভিত্তির উদ্দেশ্য বুঝতে পারেন নি। পরিষ্কার করি বিষয়টা। কোনটা ভাল, কোন মন্দ, কোনটা সবচেয়ে ভাল, কোনটা সবচেয়ে মন্দ; সেটা যদি যার যার বিচার-বিবেচনা ও বিবেকের উপর ছেড়ে দেই তাহলে এক এক জন এক এক অপরাধের কথা বলবে। কেউ বলবে সবচেয়ে বড় অপরাধ হল খুন করা, কেউ বলবে ধর্ষন করা, কেউ বা অন্য কিছু বলবে। কাজেই এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে মানবীয় যুক্তি-বুদ্ধির উর্ধ্বে উঠে আসমানী কিতাব সমূহের দিকে নজর দিতে হবে। সর্বশেষ আসমানী কিতাব আল-কুরআন অনুযায়ী আল্লাহ তায়ালার নিকট সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ হল "শিরক তথা আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করা।" ভিত্তি কুরআন ও হাদীস।

আবুল ওয়ালীদ এবং বিশর (র)...... আব্দুল্লাহ (ইব্‌ন মাসঊদ) (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেনঃ
"যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলুম দ্বারা কলুষিত করেনি" (৬:৮২) এ আয়াত নাযিল হলে রাসূল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম) এর সাহাবিগণ বললেন, "আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে যুলুম করেনি?" তখন আল্লাহ্‌ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করেনঃ "নিশ্চয়ই শির্‌ক চরম যুলুম।" (সূরা লোকমান, আয়াত ১৩) (সহিহ বুখারি, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৯, ইসলামি ফাউণ্ডেশণ) 

আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নে মাস্‌উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, সবচেয়ে বড় পাপ কোনটি? তিনি বললেনঃ (কাউকে) আল্লাহ্‌র প্রতিদ্বন্দ্বী বা সমকক্ষ সাব্যস্ত করা, অথচ তিনিই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি তাঁকে বললাম, এটা অবশ্যই মহাপাপ। আবার জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোন্‌টি? তিনি বললেনঃ তোমার সন্তান তোমার খাদ্যে ভাগ বসাবে এই আশংকায় তুমি তাকে হত্যা করছ। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, এরপর কোন্‌টি? তিনি বললেনঃ তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে যেনা করা। [সহিহ মুসলিম, পৃষ্ঠা-১৭৪, প্রথম খণ্ড, ইসলামি ফাউণ্ডেশন]

Wednesday, March 8, 2017

বাড়াবাড়ি

কিশোর পাশার কথা মনে আছে কারো? হ্যা, তিন গোয়েন্দার কিশোর পাশা। নিজের মেধা আর বুদ্ধি দিয়ে বহু অপরাধীকে ঘোল খাওয়ানো রকিব হাসানের কিশোর পাশা!
এও নিশ্চয়ই মনে আছে যে, কিশোর পাশা একবার রোলস রয়েস গাড়ি জিতেছিল। কিভাবে জিতেছিল সেটাও একটু বলি।
রোলস রয়েস কোম্পানি থেকে একটি ঘোষনা করা করা হয় যে, একটি জারের ভিতর কতগুলো শিমের বিচি আছে বলতে পারলে তাকে রোলস রয়েস গাড়ি দেয়া হবে। বুদ্ধিমান কিশোর পাশা জারের আয়তন ও শিমের বিচির আয়তন মেপে সবচাইতে কাছাকাছি সঠিক উত্তর দিয়ে গাড়িটি জিতে নেয়।
মজার ব্যাপার হল, রোলস রয়েস কোম্পানি গাড়িটির মালিকানা হস্তান্তর করে নি। শুধুমাত্র ৩০ দিনের জন্য দিন-রাত যেকোন সময়ের জন্য ব্যবহার করতে দিয়েছিল। এটাই ছিল প্রতিযোগীতার পুরস্কার। যদি পুরস্কার হিসেবে আস্ত গাড়িটাই দিত তাহলে সেটা আর পুরস্কার থাকত না, হত বাড়াবাড়ি।
কাল্পনিক হোক বা অবাস্তব, কোনটা পুরস্কার আর কোনটা বাড়াবাড়ি সেটা বোঝার মত বুদ্ধি রোলস রয়েস কোম্পানির থাকলেও আমাদের নেই। আর পুরস্কার বা উপহার হিসেবে যে, নিজের মালিকানাধীন বিষয়ই দেয়া যায় এই ব্যাপারটাও অনেক সময় আমাদের খেয়াল থাকে না। মোবাইল আপনার, আর আমি যদি আপনার মোবাইলটা আমার কোন বন্ধুকে পুরস্কার/উপহার হিসেবে দেই তাহলে সেটা কেমন হয় সহজেই অনুমেয়।
মেহেদী হাসান মিরাজের বাড়ি খুলনায়। বাবা রেন্ট-এ-কারের মাইক্রোবাস চালক। বোন কলেজ স্টুডেন্ট। মিরাজ নিজেও এই বছর এইচ এস সি পাস করেছে। বাড়িতে দুটি ঘর, যার মধ্যে একটি মিরাজের বিভিন্ন মেডেল দিয়ে ভর্তি। বাড়িতে প্রবেশের রাস্তা এতটাই সরু যে ঐ রাস্তায় রিক্সা চলাচল করতে পারে না।
পরিস্কার বোঝা দরকার যে, মিরাজের ফ্যামিলি ছিন্নমূল নয়। তার পরিবারে টানাপোড়ন থাকতে পারে কিন্তু এমন নয় যে, দু'বেলা অন্নসংস্থান হয় না।
কিছুদিন আগেই অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপ দেখেছি আমরা। মিরাজ ছিলেন সেই দলের অধিনায়ক। শান্ত, জাকির হোসনদের মত মিরাজের পারফর্মমেন্স ছিল চোখ ধাধানো। সম্ভবত অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপে ভাল খেলার কারনেই মিরাজ শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পায়।
বাংলাদেশের হয়ে খেলতে নেমে প্রথম ম্যাচেই রেকর্ড করা নতুন কিছু নয়। আশরাফুল সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ানদের একজন, আবুল হাসান রাজু ১১ তম ব্যাটসম্যান হিসেবে শতরান করেন। আর আজকে তারা কোথায়? মিরাজ যে, হারিয়ে যাবে না তার কোন নিশ্চয়তা নেই। মমিনুল হকের রেকর্ডও আমরা দেখতে পারি। টেস্টে ব্যাটিং এভারেজ অনেক বেশি অথচ স্ট্রাইক রেটও ভাল। কিন্তু আজকে তার পরিচয় হয়েছে টেস্ট প্লেয়ার হিসেবে।
প্রধানমন্ত্রী টেস্ট সিরিজে মিরাজের পারফর্মেন্সে খুশি হয়ে খুলনার জেলা প্রশাসককে বাড়ি তৈরি করে দিতে বলেছেন। নির্দ্বিধায় করতালি পাওয়া যেত যদি প্রধানমন্ত্রী নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে বাড়িটা তৈরি করে দিতেন। নিজের টাকায় জমি কিনে তাতে ইট,বালি, সিমেন্ট ঢালতেন।
জেলা প্রশাসক মৌখিক নির্দেশ পেয়ে জমি দেখছে। লিখিত নির্দেশ পেলেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। জেলা প্রশাসক কি নিজের জমি দিবে? নিজের টাকা দিয়ে জমি কিনে দেবে? নিজের বেতনের টাকায় ইট,রড, সিমেন্ট কিনে বাড়ি করবে? উত্তর যদি হ্যা হয়, তাহলেতো কোন কথাই নেই। আর যদি না হয় তাহলে প্রশ্ন উঠে, এটা কি বাড়াবাড়ি হয়ে গেল না? কার টাকা, কার জমি?
মুস্তাফিজুরের বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেয়া হয়েছে। কেউ রা করেনি, কারন ঘরে বিদ্যুৎ থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পাকিস্তানকে বাংলাওয়াশ করার পর প্রায় আট কোটি টাকা খেলয়ারদের দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে খেলোয়াড়দের গাড়িও দেয়া হয়েছিল। জাতীয় দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে অন্তত দুটি করে ফ্ল্যাট দেবার পরিকল্পনাও প্রধানমন্ত্রীর আছে বলে জানা যায়।
পৃথিবীতে আর কোন "পেশা"র "চাকুরীজীবি"দের এমন পুরস্কার দেয়া হয় কিনা আমার জানা নেই। কারো জানা থাকলে শেয়ার করুন।
মিরাজের বাড়ি প্রাপ্তিকে 'ইনকাম' বলার সুযোগ নেই। মিরাজ কি মাসে মাসে বাড়ি পাবে? জাতীয় দলের খেলোয়ারা কি বেতনের সাথে মাসে মাসে গাড়ি, দু'টো করে ফ্ল্যাট পায়?
জবাব চাইবার মত যখন কেউ না থাকে তখনই মানুষ বাড়াবাড়ি করতে পারে। আজকে রাজনৈতিক দলের কোন নগণ্য নেতা/কর্মী যদি আমার/আপনার লুঙ্গি খুলে নিয়ে যায় তখন "লুঙ্গি নিছে তো কি হইছে যন্ত্রতো নিতে পারে নাই" বলা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। তবে হ্যা, ভবিষ্যতে যে যন্ত্রও নিয়ে যাবে না, বা যন্ত্র ব্যবহারের উপর ট্যাক্স বসিয়ে কাউকে "পুরস্কার/উপহার" দেয়া হবে না সেই গ্যারান্টি কিন্তু দেয়া যায় না।
কাজেই ট্যাক্স বসানোর আগেই যন্ত্রের ব্যবহার নিশ্চিত করুন। যন্ত্র খোয়া যাবার আগে বেশি বেশি ব্যবহার করে পুষিয়ে নিন। আফসোস কম হবে। ধন্যবাদ।

Saturday, July 11, 2015

কথা বলুন

কেস স্টাডি-১ 

রাফি দশম শ্রেণীর ছাত্র। মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে। তার বাবা সরকারী চাকুরী করেন। যা মাইনে পান তা দিয়ে টেনেটুনে সংসার চলে। সঞ্চয় তেমন একটা করতে পারেন না। রাফি অনেকদিন থেকেই এন্ড্রয়েড সেট কিনে দেবার কথা বলছে বাবাকে। শরীফ সাহেব এই মাসে না, সামনের মাসে - এসব বলে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন। আর অল্প অল্প করে টাকা সরিয়ে রাখছেন। 

আজ রাফি খুব খুশি। আজকে তার আব্বু মোবাইলে কিনে নিয়ে আসবেন। সকালে বলে গিয়েছেন যে, অফিস থেকে ফেরার পথে কিনে নিয়ে আসবেন। রাফি যদিও নিজে দেখে কিনতে চেয়েছিল, শরীফ সাহেব বাসায় ফিরে রাফিকে নিয়ে আবার বের হবার ঝামেলা করতে চান নি। রাফি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। পড়ার টেবিলে আজ মন বসছে না। রাত ন'টা বাজতে চলল!

দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ শুনেই রাফি দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলে দিল। শরীফ সাহেবের হাত খালি। রাফির দৃষ্টি লক্ষ্য করে রহমান সাহেব বললেন,

"এই মাসে কিনে দিতে পারব না। টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। সামনের মাসে কিনে দিব, দেখি..."

রাফি মুখটা কালো করে ফেলল। তার অসম্ভব রাগ হচ্ছে। সে দুমদাম পা ফেলে ঘরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিল। সেই রাতে আর সে দরজা খুলল না, ভাতও খেল না।

কেস স্টাডি-২ 

নীলু সাধারনত সন্ধ্যার পর ঘর থেকে বের হয় না। এমন নয় যে তার পরিবার থেকে নিষেধ করা। তার অন্য ভাই-বোনেরা ঠিকই সন্ধ্যার পর বাইরে থাকে বা বের হয়। নীলুর ভাল লাগে না। যতকিছুই হোক সন্ধ্যার মধ্যে নীলু বাসায় ফিরতে চেষ্টা করে।

আজকে বের হতে হল। সারাদিন মাথাটা ধরে ছিল। ভার্সিটিতেও যাওয়া হয় নি। কালকে একজন মানুষের জন্মদিন। তার প্রিয় মানুষটার! তার জন্য কিছু একটা কেনা দরকার। বিকেলের দিকে মাথা ধরা কমায় এখন নীলু বের হয়েছে। রিকশা নিয়ে নীলু একটা গিফট শপের সামনে নামল।

রিক্সাওয়ালাকে ভাড়া দেবার সময় নীলুর চোখ রাস্তার উল্টোদিকে গেল। আরেহ! ইশতি না? হ্যা ইশতিইতো! ও এখানে এই সময় কি করছে?

ইশতিয়াকও রিক্সাথেকে নামল। ইশতিয়াকের সাথে আরো একজন আছে। একটা মেয়ে! পোশাক-আশাক তেমন ভাল না। নীলুর অবাক দৃষ্টির সামনে ইশতিয়াক মেয়েটাকে নিয়ে "হোটেল নিরিবিলি" তে ঢুকে গেল।

নীলু কি করবে বুঝতে পারছে না। ওর দুনিয়াটা কেমন যেন ঘোলা হয়ে আসছে। চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসছে।

ছিঃ ছিঃ এই ইশতিকে আমি ভালবেসেছি? সন্ধ্যাবেলাতেই মেয়ে নিয়ে হোটেলে......! নীলু আর কিছু ভাবতে পারছে না। নীলু মোবাইল বের করে লিখল "I HATE YOU" তারপর সেন্ড করে মোবাইল অফ করে দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বাসায় ফিরে গেল।

কেস স্টাডি-৩ 

ফখরুল সাহেব দীর্ঘদিন ধরে একটি গার্লস স্কুল এন্ড কলেজের কলেজ শাখায় শিক্ষকতা করেন। ঘড়ি ধরে প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটায় ঘর থেকে বের হন। ১৫ মিনিট হাটেন। হাটতে হাটতেই কলেজে পৌছে যান।

আজ ঘর থেকে বের হয়ে হাটার সময় ফখরুল সাহেব একটা ব্যাপার খেয়াল করলেন। আশে-পাশের লোকজন তার দিকে কেমন করে যেন তাকাচ্ছে। প্রথমে অবাক হওয়া দৃষ্টি, তারপর মুখে মুচকি হাসি। ফখরুল সাহেব কিছুই বুঝতে পারছেন না। সবাই এমন করছে কেন?-ভাবতে ভাবতেই তিনি কলেজে প্রবেশ করলেন।

ক্লাস নিতে গেলেও একই ব্যাপার ঘটতে লাগল। মেয়েগুলো মুচকি মুচকি হাসছে আর নিজেদের মধ্যে ফিসফিস করে কি যেন বলছে?

হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকের মত ফখরুল সাহেবের মাথায় একটা কথা আসল। আচ্ছা প্যান্টের চেইন খোলা নাতো? আড়চোখে তাকিয়ে দেখলেন আরে তাইতো! চেইনতো খোলা-ই, ফাঁক দিয়ে শার্টের মাথাও বেড়িয়ে আছে!

এইধরনের ঘটনা আমাদের আশেপাশে অসংখ্যবার ঘটছে। এর কারন কি হতে পারে? এর একমাত্র কারন হল আমাদের কথা না বলা। কেউ হয়ত আমাকে বোকা বলতে পারেন। বাঙালী জাতি আবার কথা বলে না! কি বলে এসব পাগলের মত?

আসলে বাঙালী জাতি কথা বলে ঠিকই। কিন্তু কাজের কথা বলে না। উদ্দেশ্যহীনভাবে সারাদিন বক বক আমরা করতে পারব। কিন্তু যখন ভাল কোন কথা বলতে হবে, কাউকে কিছু বোঝাতে হবে বা কারো কোন ভুল সংশোধন করে দিতে হবে তখন আমরা বোবা হয়ে যাই।

"এসব কথা কি কেউ কখনো বলে?" , "বললে না জানি কি মনে করে" - এসব ভেবে আমরা চুপ থাকি। আর আমাদের এই চুপ থাকাতে আমাদের জীবনে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়।

প্রথম কেস স্টাডির কথাই বলি। শরীফ সাহেব ঠিকই টাকা নিয়ে বের হয়েছিলেন মোবাইল কেনার জন্য। লাঞ্চের সময় তার কলিগ বশির সাহেব তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ধার চান। বশির সাহেবের ছোট মেয়েটার কয়েকদিন ধরে খুব জ্বর। ডাক্তার দেখিয়েছিলেন। ডাক্তার কয়েকটি টেস্ট করাতে বলেছেন। হাতে টাকা নেই, তাই আর টেস্টগুলো করাতে পারছিলেন না। আজ তাই নিরুপায় হয়ে শরীফ সাহবের দারস্থ হতে হল।

শরীফ সাহেব যদি বাসায় ফিরে রাফিকে ডেকে নিয়ে কথাগুলো বুঝিয়ে বলতেন তাহলে হয়ত সেরাতে রাফি অভুক্ত অবস্থায় রাত কাটাতে হত না।

ইশতিয়াকের সাথের মেয়েটার নাম পলি। ইশতিয়াকের মামাতো বোন। এই বছরই এইচ.এস.সি পরীক্ষা দিয়েছে। ভর্তি পরীক্ষা দিতে তার ঢাকায় আসা। ঢাকায় ইশতিয়াক ছাড়া তাদের পরিচিত আর কেউ নেই। তাই ঢাকায় আসার পর ভর্তি পরীক্ষা না হওয়া পর্যন্ত ইশতিয়াকের দায়িত্ব পড়েছে পলি থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করা। ইশতিয়াক নিজেই মেসে থাকে। মেসেতো আর মেয়ে নিয়ে থাকা সম্ভব না। তাই হোটেলে নিয়ে আসা। এই হোটেলের মালিক ইশতিয়াকের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সুমনের মামা। সব শোনার পর হোটেলে রাখতে সুমনের মামা আপত্তি করেন নি। তাই পলিকে নিয়ে ইশতিয়াক হোটেল এসেছিল।

এসব কথা পলি জানে না। ইশতিয়াককে কোন ব্যাখ্যা দেবার সুযোগও সে দেয় নি।পরিণামে তাদের সম্পর্কের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হল।

ফখরুল সাহেব রাস্তাদিয়ে হাটার সময় অসংখ্য মানুষের সাথে তার দেখা হয়েছে। কেউ তাকে মুখ ফুটে তাকে চেইন লাগানোর কথা বলেনি। তিনি আবার কি মনে করেন, লজ্জা পান কিনা! পরিনতিতে ফখরুল সাহেব বড়ধরনের লজ্জায় পড়লেন।

ঘটনাগুলো কাল্পনিক হলেও এদের ভিত্তি কিন্তু একেবারে উড়িয়ে দেবার মত নয়। আমরা যদি সঠিক সময়ে সঠিক কথাটি বলতে পারি, সঠিক প্রশ্নটি করতে পারি তবে এধরনের অনেক অনাকাঙ্খিত ঘটনা সহজেই এড়ানো সম্ভব।

পারিবারিক যেকোন সমস্যার সম্মুখীন হলে পরিবারের সবাই মিলে পরামর্শ করতে পারি। পরিবারের ছোট সদস্যদের কাছ থেকেও মতামত চাইতে পারি। হয়ত তার কাছ থেকেও বর্তমান সমস্যার চমৎকার কোন সমাধান আসতে পারে। সব ব্যাপার আমরা "বড়"দের মাথায় নাও আসতে পারে। এর মাধ্যমে পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কের সবারই যেমন ধারনা থাকবে তেমনি ভবিষ্যতের যেকোন পরিস্থিতির জন্য মানসিকভাবে সবাই প্রস্তুত থাকবে।

অনেক সময় দেখা যায় আমরা সঠিক মানুষের সাথে আলোচনা করি না। ১৭-১৮ বছরের কোন ছেলে বা মেয়ে যখন কোন সমস্যায় পড়ে তখন সে সবার আগে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা বান্ধবীর সাথে আলোচনা করে। তার বন্ধুরও বয়সও ১৭-১৮ ই। একই বয়সের কারো সাথে আলোচনা করলে সুষ্ঠ সমাধান আশা করা যায় না। কারন সেও একই ধরনের সমস্যায় থাকতে পারে। অথবা সে কোনদিন ঐ পরিস্থিতিতে পড়েনি। তাহলে সে কিভাবে সমাধান\পরামর্শ দেবে? যে কখনো কম্প্যূটার দেখেনি তাকে যদি ল্যাপটপ দিয়ে ফেসবুক চালাতে বলা হয় তবে সে কি পারবে? পারবে না। এসব ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভাল হয় পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা করা। কারন তারাই সবচেয়ে আপন। তারাই সবসময় আপনার ভাল চায়।

আর পরিবারের বয়োজেষ্ঠ সদস্যদেরও উচিত বয়কনিষ্ঠ সদস্যদের প্রতি লক্ষ্য রাখা। তারা কোন কথা বললে তা মনোযোগ দিয়ে শোনা। কোন সমস্যার কথা বললে এমনভাবে তার সমাধান দেয়া যেন সে ভাবে আপনি তার পক্ষে আছেন। হয়ত আপনি সুষ্ঠ সমাধানই দিয়েছেন কিন্তু আপনার কথা-বার্তার ধরনের তার মনে হয়েছে আপনি তাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না বা তার কথা বুঝতে পারছেন না অথবা তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, সেক্ষেত্রে সে আপনার সমাধান গ্রহন করবে না। মুখে মেনে নিলেও মনে মনে মানবে না। সবচেয়ে বড় বিপদ হল ভবিষ্যতে আর কোন কথা আপনার সাথে শেয়ার করতে চাইবে না। কাজেই খুবই সতর্কতার সাথে কথা বলতে হবে।

আশে-পাশের সবার মধ্যে এই কথা বলার অভ্যাস চালু করতে আমাদের নিজেদেরই উদ্যোগী হতে হবে। নিজে থেকেই অনেক কিছু পরিষ্কার করতে হবে। সাহস করে "কথাটা" বলেই ফেলতে হবে। ধৈর্য্য ধরে "ব্যাখ্যা" শুনতেই হবে।

আমরা কি পারিনা আরেকটু সাহসী হতে? পারি না আরেকটু ধৈর্য্য ধরতে?

Saturday, October 25, 2014

রবির ভেড়া গ্রাহক

ওয়ালটনের এন্ড্রয়েডে দেখলাম বিল্টইন একটা এপস্‌ আছে। BDPLAN। অন্যকোন সেটে আছে কিনা জানি না। এটাতে বাংলাদেশের সবগুলো মোবাইল ফোন অপারেটরদের বিভিন্ন ইন্টারনেট প্যাকেজ সম্পর্কে তথ্য আছে। কিভাবে একটিভ করতে হয়, কত টাকা কাটবে, কতদিন মেয়াদ--এইসব। আমার একটা ররি সীম আছে। এটাই ঐ এন্ড্রয়েডে লাগানো ছিল। ২ টাকা দিয়ে ৪এম্বি কিনলাম। 3G গতি! ওহ সরি, রবিরতো আবার 3.5G!!

পরীক্ষামূলকভাবে চালানোর জন্য প্যাকেজটা নিলাম। কয়েকটা পেইজ বুকমার্কস করতে করতেই ৪এম্বি শেষ! মনেহয় ব্যাকগ্রাউন্ড এপস চালু ছিল। অটোরিনিউ প্যাক। ২৪ ঘন্টা পর আবার টাকা কেটে ফেলবে। কিন্তু আমারতো আর দরকার নেই। ডিএকটিভেট করে দেই।

ঢুকলাম BDPLAN এ! ওমা! এক্টিভেশন কোড আছে, কিন্তু ডিএক্টিভেশন কোড নেই!

খুব বেশি অবাক হয়নি। ফোন কম্পানির বাটপারি এই দেশে নতুন কিছু না। ভাবলাম ওয়েবসাইটে থাকতে পারে। পিসি দিয়ে রবির ওয়েবসাইটে ঢুকলাম। পুরো ওয়েবসাইট ছানাছানি করেও কিভাবে ডিএক্টিভেট করতে হয় বুঝতে পারলাম না। ডিরেক্ট কোড নেই।

রবি অন্যকোন দিক দিয়ে এক নাম্বার না হলেও বাটপারী আর গ্রাহকদের গালী খাওয়াতে একনম্বর সে অভিজ্ঞতা আমার আগেই হয়েছে।

গ্রামীন, বাংলালিংকে দেখেছি তারা গ্রাহকদের রেটিং দেয়। গ্রামীনের যেমন স্টার গ্রাহক আছে তেমনি বাংলালিংকের আছে সিলভার, গোল্ড, প্লাটিনাম-ইত্যাদি। এই রেটিংগুলা কিন্তু পজিটিভ। আমার ধারনা রবিরও রেটিং আছে। তবে নেভেটিভ রেটিং। এই যেমন গরু গ্রাহক, ছাগল গ্রাহক, ভেড়া গ্রাহক-ইত্যাদি।

কেন জানি আমার নিজেকে রবির ভেড়া গ্রাহক মনে হয়। একবার একটা জরিপ করেছিল রবি থেকে। নানা কিছু জিজ্ঞেস করার পর জানতে চাইল যে, আমার কোন পরিচিত লোককে আমি রবির কানেকশন নিতে উৎসাহিত করব কিনা? আমি না উত্তর দিয়েছিলেন। এরপর থেকেই মনে হয় রবি আমাকে ভেড়া গ্রাহকদের টপ থ্রীতে তালিকাভুক্ত করেছে। আমার আরেকটা দোষ হল কিছু হলেই কাস্টমার কেয়ারে ফোন দেই আর ভ্যা ভ্যা শুনি। এখন বিপদে যখন পড়ছি ফোনতো দিতেই হবে। নাইলে প্রতিদিন ২ টাকা(!) করে কাটবে। দিলাম ফোন।

এখন আমি যেহেতু ভেড়া গ্রাহক আমার ফোন পেয়ে রবি কাস্টমার কেয়ার অফিস কেঁপে উঠবে এটা আমি মোটেই আশা করি নাই। সুরেলা মহিলা কন্ঠ সুরে সুরে আমাকে স্বাগতম জানাল অবশ্য। তারপর তাদের কারেন্ট প্রমোশন শুনালো বাধ্যতামূলক। স্কিপ করার কোন উপায় নাই। একমিনিট মনেহয় খেয়ে দিল। তারপর বাংলা শুনতে চাইলে...... এইগুলো এল। তাড়াতাড়ি কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধির নাম্বার চাপলাম। এরপর আমার মাথায় সাত আসমান ভেঙে পড়ল!

"সম্মানিত (ভেড়া) গ্রাহক। আমাদের কাছে আপনার প্রতিটা মুহূর্ত (প্রতিটা লোম) খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের কাস্টমার প্রতিনিধির সাথে কথা বলতে হলে আপনাকে ছয় মিনিট অপেক্ষা করতে হতে পারে।"

হতে পারে বলতে কিছু নেই। ঝাড়া ছয়মিনিট পরে লাইন দিল। এইখানে কপাল একটু ভাল যে, কলটা একটা ছেলে ধরেছিল। মেয়ে ধরলে কি হত বা হয়, সেটা অনেক আগে একটা পোস্টে লিখেছি আমি।

"শুভসন্ধ্যা স্যার, কিভাবে সাহায্য করতে পারি?"

>আমি ... প্যাকেজ নিয়েছিলাম। এটা অফ করে দেন।

"স্যার, আমি আপনাকে মেসেজ পাঠিয়ে দিচ্ছি। আপনি সহজেই করতে পারবেন।"

>মেসেজ পাঠাতে হবে না। আপনি করে দেন।

"ঠিক আছে স্যার। আমি করে দিচ্ছি। আরেকটা মেসেজও আপনাকে পাঠিয়ে দিচ্ছি। আপনি ভবিষ্যতে নিজে নিজেই করতে পারবেন। আমাকে একটু সময় দিবেন স্যার।"

>ওকে...

[আমি মিনিট গুনতেছি]

"আপনাকে ধন্যবাদ স্যার, আমাকে সময় দেয়ার জন্য। আপনার প্যাকেজ ডিএক্টিভেট হয়ে গেছে।"

>আচ্ছা, আমি একটা কথা বলি?

"সিউর স্যার।"

>আপনাদের ওয়েবসাইটে এত কিছু আছে। প্যাকেজের ডিটেলস! কিন্তু ডিএকটিভেশন কোড নাই কেন?
"স্যার, আপনাকে আমি মেসেজ করে দিয়েছি স্যার, কিভাবে আপনি অফ করবেন।"

>আচ্ছা ধরেন, আমি যদি আবার দশ বছর পর এই প্যাকেজটা নেই, আমি কি দশ বছর ধরে এই মেসেজটা আমার ইনবক্সে রাখব?

"যদি আপনি প্রয়োজন মনে করেন স্যার!"

>কিহ!!

"যদি আপনি প্রয়োজন মনে করেন।"

>ও আচ্ছা......!!"

"আর কোনভাবে আপনাকে সাহায্য করতে পারি স্যার?"

>ন্‌...না

বলেই ফট করে রেখে দিলাম। এভাবেই রবির কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধির সাথে একজন ভেড়া গ্রাহকের কথোপকথন শেষ হল!

Monday, October 13, 2014

প্রাণের বিজ্ঞাপন

"প্রাণ" এর পন্যগুলো যেমন-ই হোক, প্রাণের মালিক কাদিয়ানী হোক আর মুসলিম হোক। প্রাণ+আরএফএল গ্রুপের পন্যের জিঙ্গেল/বিজ্ঞাপনগুলো কিন্তু চমৎকার। অন্তত আমার কাছে ভাল লাগে।
প্রথমেই আসি ‪প্রাণ‬ মিল্ক ক্যান্ডির জিঙ্গেল এ।
"ছোটভাইয়ার কাছে আছে এমনি গরু
প্রাণ মিল্ক ক্যান্ডি দেয় সে প্রতিদিন 
ইয়া ইয়া য়ো! 
চার চোর করবে চুরি ভাইয়ার গরু
রেগে মেগে ভাইয়ার গরু 
করল মার শুরু।
প্রাণ মিল্ক ক্যান্ডি .........সে যে পেল
যেই খাবে সেই হবে আসল হিরো।
প্রাণ মিল্ক ক্যান্ডি প্রাণ মিল্ক ক্যান্ডি
ইয়া ইয়া য়ো!"

প্রাণ ম্যাঙ্গো জুস প্যাক।
১. "আমার প্রাণ জুস প্যাক চাই
আমি প্রাণ ছাড়া কিছু খাবো না।
মাঙ্গো জুস প্যাক ছাড়া কিছু খাবো না
ডিবিডি ডিবিডি ডাবা ডীম
পাকা আম তুলে নিন।"

২. প্রাণ খুলে হাসা আর প্রাণে প্রাণে দোলা
প্রাণটা জুড়িয়ে যায় প্রাণের স্পর্শে
প্রাণ ছাড়া নিষ্প্রাণ, প্রাণ থাক পাশে
খাটি আম, সেরা টেস্ট
প্রাণ ম্যাঙ্গো জুস প্যাক বেস্ট।

প্রাণ ফ্রুটো
[এটা সবচেয়ে ফেবারিট]
Sun is burning 
আহা আহা! 
Coo Cool feelings
ওহো ওহো!
অসময় যন্ত্রণা হোক হোক মধুময় 
সময় অসময় হয়ে যাক ফ্রুটোময়।

Fun is running 
আহা আহা!
গোল গোল sipping
ওহো ওহো! 
প্রাণে প্রাণ জড়িয়ে হোক আরো মধুময়
সময় অসময় হয়ে যাক ফ্রুটোময়!

‪আরএফএল‬ টিউবওয়েল
"অল্পচাপে বেশি পানির জন্য আরএফএল!"
আরএফএল পাইপ
"আরএফএল পাইপ বানাইয়া দিসে ছাইড়া
জনম ভইরা চলতেয়াছে
আরএফএল পিভিসি পাইপ।
আধা থেকে চৌদ্দ ইঞ্চি 
নানা রকম পাইপ ভাই,
আরএফএল এর মত টেকসই
এর কোন তুলনা নাই।
বাড়িঘর, কৃষিকাজে কিংবা ...... চাই
আরএফএল পিভিসি পাইপ"

আরএফএল বালতি
">> ওজন আছে!! 
>>> আবার জিগায়!!!" [ এটাতো বিখ্যাত]

আরএফএল চেয়ার
"চেয়ারম্যানের চেয়ার! আরএফএল চেয়ার!!"
আপাতত এই কয়েকটিই মনে আছে। 

দেশপ্রেম!

আমার দেশপ্রেম দেখে আমি নিজেই বিস্মিত হই।
দেশি পেয়াজ ২৫ টাকা আর ভারতীয় পেয়াজ ২০ টাকা হলে কমদামীটাই কিনি আর পাশের বাসার ছেলেটা ফেন্সি খেয়ে টাল হয়ে থাকলে "বজ্জাত" বলে গালাগালি করি।
পকেটে থাকা মোবাইল ফোনের এয়ারটেল সীমটা নর্দমায় ফেলে দিতে পারি না, কিন্তু ফেলানীর ঝুলন্ত লাশ দেখে চিল্লাচিল্লি করি।
আমি হৃতিক রোশনের ইয়া বড় ফ্যান। তাইতো ওর কোন ছবি মিস না করলেও "গুন্ডে" ছবি নিয়ে গাইগুই করি।
পাকিস্তানী ছাটে পাঞ্জাবী পড়ি আর "বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পোশাক শিল্প" আলোচনা সভায় যোগদান করি।
টকশোতে বাংলাদেশের সংস্কৃতি কিভাবে গ্রাস হচ্ছে সে বিষয় জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করি আর বাসায় যেয়ে বউয়ের সাথে "ইস পেয়ারকো মে ক্যায়া নাম দু" উপভোগ করি।
দেশের হাসপাতাল গুলোর অবস্থা থেকে ডাক্তারদের একহাত নেই আর একটু পাল্‌স বেড়ে গেলে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চেকআপ করাতে যাই।
রাস্তায় একটু জ্যামে পড়লে ট্রাফিক পুলিশের চৌদ্দগুষ্ঠী উদ্ধার করি। কিন্তু কোনদিন ২০ টাকা বের করে ১/২ লিটার পানি কিনে কুচকুচে কালো চেহাড়ার ঐ মানুষটাকে খাওয়াই না।
বাংলাদেশের বুক চিড়ে ভিনদেশী গাড়ী যেতে চাইলে "মুক্ত বাণিজ্য" বলে চালিয়ে দেই। আর উত্তর মেরুতেও যদি কেউ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কথা বলে তখন মাথা গরম হয়ে যায়।
হুমায়ূন আহমেদের বইয়ে "সুরসুরি" বলে অভিহিত করে এসব বই পড়তে নিরুৎসাহিত করি আর সারাদিন ইন্টারনেটে "সুরসুরি" দাপিয়ে বেড়াই।
পাশের গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করলে তাকে কোনদিন ৫ টাকা সাহায্য করি না। তবে "মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক" কে এ নিয়ে মাথা ফাটিয়ে দিতেও ২য়বার ভাবি না।
সত্যিইতো আমি অনেক বড় দেশপ্রেমিক! আমাদের দেশপ্রেম দুনিয়ার কেউ মাপতে পারবে না!! মুনাফিকদের সর্দারও আমার দেশপ্রেম দেখলে বিস্মিত হত, কোন সন্দেহ নেই।

সাম্প্রতিক ইস্যু

কেউ একজন আমাকে জিজ্ঞেস করল সাম্প্রতিক ইস্যুতে আমার কোন পোস্ট/মন্তব্য নেই কেন। বড় বড় সেলেব্রেটি সবাই কিছু না কিছু বলছে। আমি এত বড় চেলেব্রেটি হয়ে নীরব কেন? ঘুড়িয়ে ফিরিয়ে এটা ওটা বললেও আসল কথা কিন্তু বলিনি।
আসল কথা হল, জ্ঞানের অভাব। পড়াশুনার প্রতি সীমাহীন আলস্য। সাম্প্রতিক ইস্যু নিয়ে লিখতে হলে রেফারেন্স রাখাও জরুরী। আমার আবার রেফারেন্স খেয়াল থাকে না। কোন একটা ঘটনা পড়লে ঝাপসা ঝাপসা মনে থাকে, কিন্তু কোথায় পড়েছি তা মনে থাকে না। কাজেই সাম্প্রতিক কোন কিছু নিয়ে হালকা কথাবার্তা ছাড়া আমার দ্বারা আর কিছু সম্ভব হয় না।
ও হ্যা, সাম্প্রতিক ইস্যু বলতে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলী শান্তিরক্ষী বাহিনীর "সন্ত্রাসদমন" ইস্যুর কথা বলা হচ্ছে। আপনারা নিশ্চয়ই প্রতিদিনই দেখতে পাচ্ছেন যে, ৬-১০ বছর বয়সী সন্ত্রাসীরা কত নির্মমভাবে ইসরায়েলী ধ্বংসজজ্ঞ চালাচ্ছে। ইসরায়েলী শান্তিরক্ষী বাহিনী তাদের সামলাতে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে!
আপনার কি কোন ফিলিংস হয় না? না, আমার কোন ফিলিংস হয় না। আমি শুধু মাউসের স্ক্রল বাটন ব্যবহার করি।
অনেকেই দেখছি SAVE GAZA লিখে বিভিন্ন ধরনের প্রোফাইল পিকচার বা কভার ফটো আপলোড দিচ্ছেন। আমার SAVE GAZA দরকার নেই।
শরীরে যখন কোন ফোঁড়া হয় তখন সেই ফোঁড়ার উপর আপনি যতই মলম লাগান না কেন কাজ হবে না। ফোঁড়া গেলে ভিতর থেকে বিষ বের করে দিতে হবে।বিষ না বের করে মলম দিলে কিছুদিন শান্ত থাকবে তারপর আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। গাজা সেইভ করব? কতদিন সেভ করে রাখা যাবে? ইসরাইল যতদিন থাকবে গাজায় শান্তি থাকবে? কাজেই SAVE GAZA নয় DESTROY ISRAEL হতে হবে। ইসরাইল নেই, গাজা সেভ করার দরকারও নেই। তখন তারা নিজেরাই নিজেদের খেয়াল রাখতে পারবে।
অনেকে ইভেন্ট খুলছেন। নাম দিচ্ছেন PRAY FOR GAZA. ভাল কথা। দোয়াতো করাই যায়। হাত তুলে দোয়া করি সেই দোয়া মাথার উপরে উঠে না। হারাম উপার্জন দ্বারা দেহ চলে। সুদ-ঘুস দিয়ে কেনা জামা পড়ি। সেই দেহ নিয়ে, সেই জামা পড়ে দিনরাত ২৪ ঘন্টা মসজিদে সেজদা দিয়ে পড়ে থাকলেও কোন লাভ নেই।
উপার্জনের পর আসে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা। কোথায় যেন পড়েছিলাম কেউ যদি দৃষ্টির হেফাজত করে তবে আল্লাহ তায়ালা তাকে এমন ঈমানের নূর দেবেন যা সে অন্তরে অনুভব করতে পারবে। ভাল কাজ করা তেমন শক্ত কিছু না। শক্ত হল মন্দ থেকে বিরত থাকা। শরীয়তের নির্দেশ হল, ভাল কাজ করতে হবে। মন্দ কাজ থেকে ফিরতে হবে। তাহলেই আল্লাহর সাহায্য-মদদ আমাদের সাথে থাকবে। এখানে ফিফটি-ফিফটির কোন সুযোগ নেই। আমরা আল্লাহুকে ডাকতে ডাকতে বুক ভাসিয়ে ফেলি কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।
পণ্যবর্জন নিয়ে আর কি বলব? ছয়বছর ধরে অনলাইনে। কমতো দেখলাম না। ফেলানীকে কাটাতারে ঝুলানোর পর একবার রব উঠল ভারতের পন্যবর্জন করো। শাহবাগীরা কিছুদিন আগে পাকিস্তানী পণ্যবর্জনের ডাক দিল। মায়ানমারের বিজিপির হাতে বাংলাদেশের জওয়ান খুন হবার পর মায়ানমারের পণ্যনিয়েও কিঞ্চিত কথাবার্তা উঠেছিল। আর এখন রব উঠেছে, ইহুদি পণ্য বর্জন করতে হবে।
পণ্যবর্জনের কথা উঠলেই নানান কথা চলে আসে। কেউ কেউ তালিকা দিতে শুরু করেন কোনগুলো ইহুদি পণ্য। আমার এত জ্ঞান নেই। আমি কোন তালিকাও প্রকাশ করতে পারি না। আলাদা আলাদা ভাবে পাকিস্তানী পণ্য, ভারতীয় পণ্য, মায়ানমারের পণ্য না দিয়ে বাংলাদেশী পণ্যের তালিকা করা দরকার। সেগুলো ব্যবহার করলেই বাকিসব পণ্য এমনিতেই বর্জন হয়ে যাবে।
সমালোচকদের অভাব নেই। কোনদিন ছিলও না। এইসব আলোচনা করলেও কেউ যদি ভাবে যে, ঠিক আছে আজ থেকে লাক্স সাবান ব্যবহার করব না, কেয়া সাবান ব্যবহার করব (কথার কথা) তবে সেইসব সমালোচকগন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেন। "আপনি একা বর্জন করে তাদের কিছুই করতে পারবেন না।", "পারলে সব কিছু দেশি ব্যবহার করে দেখান।" ," আরে আপনি যে কম্পিউটার ব্যবহার করছেন সেটাইতো ইহুদি পন্য। বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়ারদের একটা সার্কিট বানানোরই ক্ষমতা নেই।", "কোনটা রেখে কোনটা ছাড়বেন? লোম বাছতে কম্বল উজার হবার দশা হবে।" --ইত্যাদি ইত্যাদি ব্লা ব্লা ব্লা!!
এত সমালোচনার ফাঁকে একটু যাও ইচ্ছে কারো মনে ভিতর জাগে সেটা মরে যায়। বাংলাদেশের বাঙ্গালীদের মধ্যে সামনে টানার লোক নেই। সবাই পিছনদিকে টানে। কাজেই যেই লাউ সেই কদু। কিছুদিন হয়ত পেপসির বিক্রি একটু কম হবে। অন্যকিছু খাবে। কিন্তু সংকল্প করবে না যে, ড্রিংসই করব না। পেপসি, কোলা, ফান্টা- না খেলে কেউ মারা যাবে না। আর এইগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ভাল কিছু করে বলে জানা নেই। একই কথা সিগ্রেটের ক্ষেত্রেও বলা যায়।
স্বাস্থ্যের জন ভাল না, শরীরের জন্য কোন উপকার নেই--সেটাতেই বাঙ্গালী মজে আছে। একইভাবে, দেশের জন্য ভাল না, দেশি পণ্য বাজার পাচ্ছে না--সেইসব পণ্যেই বাঙ্গালী মজে আছে এবং থাকবে। শংকর জাত/মুসল্লী থেকে এর চেয়ে ভাল কিছু আশা করার সুযোগ নেই।
আগে কেউ ভাল কিছু বললে আশাবাদী হতাম। মনেহত, না এখনো সুযোগ আছে। ভাল কিছু করার। এখন আশাবাদী হবার ইচ্ছেটাই মরে গিয়েছে।