Featured Post

I SAID NO TO QUANTUM METHOD

পূর্বে পোস্ট আকারে প্রকাশিত। কারও সাথে ঝগড়া করার জন্য এটা দেইনি। নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম। কেউ মানতে না পারলে আমার কিছু করার নেই।  আ...

Showing posts with label গল্প. Show all posts
Showing posts with label গল্প. Show all posts

Sunday, April 14, 2019

হিরো টু জিরো টু হিরো

একটা গল্প বলি কেমন? গল্পটা হয়ত সত্যি নয়, হয়ত গল্পটা কাল্পনিক। তবুও এটা আমার ভাললাগার একটা গল্প।

গল্পটা একজন শিক্ষককে নিয়ে। নিবেদিত প্রাণ এক শিক্ষকের যিনি সত্যিকার অর্থেই শিক্ষকতাকে মহান পেশা হিসেবে নিয়েছেন। তিনি বেসরকারী একটি ফান্ডের আওতাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করছেন সুনাম ও নিষ্ঠার সাথে।

তাই বলে তার শত্রুরা কিন্তু থেকে নেই। শিক্ষকদের মধ্যেই একটা গ্রুপ আছে যারা কোচিং বানিজ্যে লিপ্ত । তারা এই প্রতিষ্ঠানকেও কুলষিত করতে চায়। সব শিক্ষার্থীকে তাকে পিতার মত সম্মান করলেও কোটার পক্ষে অবস্থানের কারনে তাকে নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। ক্যাম্পাসে পক্ষ বিপক্ষ দল মুখোমখি অবস্থান নেয়। হাতাহাতির ঘটনা পর্যন্ত ঘটে।

Friday, July 7, 2017

ফেসবুকের একটি ফালতু গল্প !

আগে নিচের বানোয়াট গল্পটা সবাই পড়ে নিন।
.
"ছেলে: এই শোনো,তুমি মিষ্টি না?

মেয়ে: হুমম,কিছু বলবেন?

ছেলে: না।

মেয়ে: তাহলে ডাকলেন কেন?

ছেলে: এমনি-ই।

মেয়ে: আপনি কি পাগল নাকি মাথায় ছিট আছে?

ছেলে: বলতে পারো দুটোই!

মেয়ে: পথ ছাড়ুন,আমি কোন পাগলের সাথে কথা বলি না!

ছেলে: আমি তো তোমার জন্যই পাগল হয়েছি!
একমাত্র তুমি-ই আমাকে ভালো করতে পারো!

মেয়ে: মানে?

ছেলে: মানে আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই!

মেয়ে: মাইনে কত?

ছেলে: মানে?

মেয়ে: বলছি মাসে কত ইনকাম করেন?

ছেলে: এইতো-সামান্য কিছু!

মেয়ে: আপনি কোন সাহসে আমার সাথে প্রেম করতে এসেছেন? দুই মাস পর একটা কোম্পানির এমডির সাথে আমার বিয়ে হবে!
আপনি তো তার বাড়ীর চাকর হবারও যোগ্য না!

ছেলে: তাই নাকি? আপনি আপনার হবু স্বামীকে দেখেছেন?

মেয়ে: না,আজই তার সাথে দেখা হবে।সে আমাদের বাসায় আসবে!

ছেলে: না।সে আর আপনাদের বাসায় যাবে
না!

মেয়ে: মানে, আপনি জানলেন কি করে?

ছেলে: কারণ সেই মানুষটা আমি-ই!

মেয়ে: তু-তু-তুমি! কি বলছো?

ছেলে: হুমম,যা সত্যি তা-ই বলছি!

মেয়ে: ওয়াও,কি হ্যান্ডসাম তুমি! তোমার মত একজন ছেলেকেই তো আমি মনে মনে খুঁজছিলাম!

ছেলে: কিন্তু আমি আপনার মত মেয়েকে খুঁজিনি। আমি খুঁজেছি এমন একটা মেয়ে, যে আমার টাকাকে নয়, ভালোবাসবে শুধু আমাকেই। আমি সত্যি-ই দুঃখিত! আপনার মত অর্থলোভী মেয়েকে আমি বিয়ে করতে পারবো না! আমি চলে যাচ্ছি।"


এইধরনের গল্পের সাথে আমরা কমবেশি সবাই পরিচিত। নিত্যনতুন বেশ ধরে এই গল্পগুলো প্রায়ই আমাদের হোমফিডে ঘুরে বেড়ায় যাদের সারাংশ হল "মেয়েরা খারাপ, অর্থলোভী, শয়তান" ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব মুখরোচক গল্পগুলো ফেসবুকে যতটা জনপ্রিয় বাস্তবের সাথে ঠিক ততটাই বেমানান।

যেকোন বিয়ের আগে অভিভাবকগন সাধারণত কিছু বিষয় দেখে থাকেন। ছেলের অভিভাবক দেখেন মেয়ে সুন্দরী কিনা, পড়াশুনায় কেমন, বাবার অবস্থা কেমন, মার্জিত-ভদ্র কিনা- ইত্যাদি ইত্যাদি। অপরদিকে পাত্রী খোজ নেন যে, ছেলের ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে, কি করে, মাসিক ইনকাম কত, নিজের মেয়ে সুখে থাকবে কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি। আরো নানান বিষয়ে খোজ-খবর নেয়া হয় যা যাদের বিয়ে হয়েছে বা হবে হবে করছে তারা ভালভাবেই জানি।

Sunday, April 10, 2016

পঠিত বই সম্পর্কে আমার মতামত

এইবার যে বই গুলো কিনেছি তার অধিকাংশ বই পড়া শেষ হয়ে গিয়েছে। এখন মতামত জানানোর পালা। সবগুলো নিয়ে একসাথে মতামত জানালে পোস্ট অনেক বড় হত। আমি জানি আমার লিস্টে বইপড়ুয়ারা আছেন। মূলত তাদের উদ্দেশ্য করেই এই পোস্ট। বলাই বাহুল্য, কোন ছড়া বা কবিতার বই এগুলোর মধ্যে নেই।
যেহেতু মোশতাক আহমেদের বই বেশি কেনা হয়েছে তাই তাকে দিয়েই শুরু করি।
১. নিলির ভালবাসাঃ বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি। সায়েন্স ফিকশন হিসেবে এটা একটা ফালতু বই। অসঙ্গগতিতে ভর্তি। কাহিনীকে চুইংগামের মত টেনে লম্বা বানানো হয়েছে। তবে লেখকের কল্পনাশক্তির প্রশংসা করতেই হয়। সায়েন্স ফিকশন না হয়ে রোমান্টিক হলে ভাল হত। প্রকাশক সম্ভবত এই বই দিয়ে ব্যবসা করতে চেয়েছেন। ক্রেতাকে ঠকাতে কার্পণ্য করেন নি।
২. ক্রিঃ এটাও বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি। ভালই লেগেছে।
৩. প্রজেক্ট ইক্টোপাসঃ বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি। মোটামুটি।
৪. দ্বিতীয় প্রথিবীঃ বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী। বইটা পড়ার পর পরই বইয়ের পিছনের পাতায় আমি মতামত টুকে রেখেছিলাম। সেটাই তুলে দিচ্ছি। গল্পের প্রথমদিকে জানা যায়, হিরিরা মানুষের স্মৃতি পঠন ও মুছতে সক্ষম। সেক্ষেত্রে হিরিরা আত্মাহুতি না দিয়ে সকলের স্মৃতি মুছে দিতে পারত। স্মৃতি সংযোজন করতে পারত যে, লিলিলি বিষাক্ত গ্রহ, এই গ্রহ মানুষ বসবাসের উপযোগী নয়। নিয়ানা আরেকটু ভাবতে পারত। যাইহোক, লেখকের যেভাবে খুশি গল্প সেভাবেই চলবে।
ভাল লেগেছে।
৫. বায়োবোট নিওক্সঃ বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী। এটাও ভাল লেগেছে।
৬. প্রজেক্ট হাইপারঃ গল্পের শুরু হয়েছে সুন্দর ভাবে। এগিয়ে গেছে সুন্দরভাবে। শেষের দিকে এসে আমার বিরক্তি উদ্রেগ হয়েছে।
৭. গিটোঃ বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি। গতানুগাতিক। শেখার কিছু নেই। বিজ্ঞানেরও তেমন কিছু নেই।
৮. নিঃসঙ্গ জিরি। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি। ভালই।
৯. রিবিট ও এলিয়েন নিনিটিঃ বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি। কাহিনি মোটামুটি। তবে অহেতুক বাক্যালাপে ভর্তি। বাচ্চারা যেন বুঝতে পারে এজন্য মনেহয় সহজ ব্যাপারগুলো ভেঙে ভেঙে লিখেছন লেখক।
১০. অশুভ আত্মাঃ ভৌতিক উপন্যাস। সুখপাঠ্য হয়েছে। এক শোয়াতে শেষ করেছি বইটা।
১১. নীল জোছনার জীবন। প্যারাসাইকোলজি উপন্যাস। ভাল লাগেনি। 
unsure emoticon
১২. বৃষ্টি ভেজা জোছনা। প্যারাসাইকোলজি। এই বইটা ভালই লেগেছে। শেখারও কিছু কিছু বিষয় এতে আছে।
এবার কিছু সাধারন কথা বলি। আমার মনেহয়, লেখকের বিজ্ঞানিক কল্পকাহিনি লেখার ক্ষেত্রে আরো নতুনত্ব আনা উচিত। কোন গ্রহে হারিয়ে গেলাম, সেখান থেকে ফিরে এলাম অথবা এলিয়েনরা পৃথিবী আক্রমন করবে, তাদের হারিয়ে দিলাম--টাইপ কাহিনি অনেক পুরনো। কাজেই একই কাহিনির বর্ণনাতে যদি নতুনত্ব আনা না যায় তবে তা বোরিং হয়ে যাবে। আর একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম লেখকের গত দু'বছরের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিগুলো ভাল লাগে নি। যেগুলো তার আগে লেখা সেগুলো পড়া যায়।
***আহসান হাবীব।
আহসান হাবীবের দু'টো বই কেনা হয়েছে এবার। 'আমি কেউ না' আর 'কেঁচো খুড়তে এনাকোন্ডা'। প্রথমটি মূলত রম্য রচনা। আর দ্বিতীয়টি বাচ্চাদের বই। দুটোই সুখপাঠ্য। বাচ্চাদের বই হলেও ওটাতে নতুন দু'একটি ব্যাপার শিখতে পেরেছি।
***সুমন্ত আসলাম
মহাকিপ্পন। এটাও রম্য উপন্যাস বলা যায়। সুমন্ত আসলামের সব লেখার মত এটাও শেষের দিকে নাটকিয় মোড় নিয়েছে কাহিনি। সুখপাঠ্য ছিল।
***রোহিত হাসান কিছলু
দুষ্টু বাহিনি। নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে এটা ছোটদের জন্য লেখা বই। তবে আমি পড়ে খুবই মজা পেয়েছি।
***আবু হেনা রনি।
খাট'ই বন্ধু। জ্বী, মিরাক্কেল তারকা রনির বই। স্মৃতিচারণ মূলক বই। এই ধরনের লেখা আমার আগে থেকেই ভাল লাগে। এটাও ব্যাতিক্রম নয়। লাভড দিস বুক।
***হুমায়ূন আহমেদ
বাদশাহ নামদার। ভাল্লাগছে খুব। সবাই পড়বেন এই বইটা।
***হূমায়ূন কবীর
আমার রোগী বন্ধুরা। বাংলাদেশী এক প্রবাসী ডাক্তারের তার বিভিন্ন রোগীদের জীবনগাথা এই উপন্যাসে উঠে এসেছে। আমেরিকানদের নিয়ে আমাদের অনেক ভুল ধারনা হয়ত ভেঙে যাবে।
***মেহেরুন নেছা রুমা
সম্পর্ক। চারটি ভিন্ন ভিন্ন গল্প নিয়ে বইটা। নালন্দা প্রকাশনের এক ভাই এই বইটা আমাকে দিলেন টেস্ট কেস হিসেবে। আমিও নিলাম। কথায় কথায় তিনি অনেক কথাই বললেন। অভি, তোমার লেখনির অনেক প্রশংসাও করেছেন উনি। নামটা আমি জিজ্ঞেস করি নাই অবশ্য।
গল্প গুলো পড়ার সময় কিছু কিছু জায়গায় আমি ডিফেন্সিভ ফিল করেছি। কাহিনি খুবই সাবলীল। ছোট ছোট গল্প যারা লিখেন তাদেরকে এই বইটা হেল্প করতে পারে।
***রফিক আনোয়ার।
তিমির পেটে বসবাস। এই লেখকের লেখা আগে কখনো পড়িনি। টেস্ট কেস হিসেবে বইটা কিনেছিলাম চট্টগ্রাম বই মেলা থেকে। মুগ্ধ হবার মত একটা বই। অসংখ্য চরিত্র আছে এই উপন্যাসে। বিস্তৃত পটভূমিতে লেখা। তবে চিটাগাং এই লেখক তার লেখনীর ভিতরে মাজারীদের প্রতি সহানুভূতি এবং তাবলীগের প্রতি বিরূপতা ঢুকিয়ে দিতে চেয়েছেন বলে মনে হয়েছে। যা যথেষ্ঠ বিরক্তির উদ্রেগ করেছে।
***আবুল হোসেন ভট্টাচার্য
আমি কেন ইসলাম গ্রহণ করলাম। এই বইটা সবার পড়া উচিত। অনেক কিছু জানা যাবে। তবে বাচ্চাদের কিছুদিন পরে পড়াই ভাল। এই লেখকের বাকি বইগুলোও আমি সংগ্রহ করব ইন শা আল্লাহ!
কেউ যদি কোন বই সম্পর্কে আরো কোন তথ্য জানতে চান তাহলে কমেন্ট বক্সতো আছেই। 

Monday, January 25, 2016

মূলার গল্প


মূলার সিজনে মূলা নিয়ে কোন কথা হবে না, তা কিভাবে হয়। মূলায় মূলায় মূলান্বিত একটা গল্প শেয়ার করি।

গল্পটি অবশ্য অফিসে কলিগের কাছে শোনা। নিজের ভাষায় লিখি।

এক লোক মেয়ে বিয়ে দেবার কিছুদিন পর মেয়েকে দেখতে বেয়াই বাড়ি গেল। বেয়াইতো তাকে দেখে খুব খুশি। কিছুক্ষনের মধ্যেই রান্না-বান্নার হুলস্থুল পড়ে গেল।

খেতে বসলে প্রথমেই আসল মূলার শাক। এরপর আসল মূলা কুচিতে রান্না করার চিংড়ির ভূনা। এটা খাওয়া শেষ হতে না হতেই আরেকবাটিতে আসল গরুর গোশতের গরমা গরম তরকারি। গরুর গোশতের মধ্যে আবার গোশতের চেয়ে মূলার টুকরা বেশি! এরপর আসল ডাল। ডালের মধ্যেও গোল গোল করে মূলা কাটা!

বিদায়বেলায় গৃহকর্তা আফসোস করে তার বেয়াইকে বলছেন,

"বেয়াই! আসলেন তো আসলেন, মূলার সিজনে আসলেন না। খুব ইচ্ছা ছিল মূলা দিয়ে আপনাকে দু'টো ভাত খাওয়াই!"

খুনসুটি


> এমনে কাঁপতাছো কেন? কি হইছে? 

- শীত লাগে... 

> শীত বেশি নাকি তোমার? এক কাজ করবা প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে মধু মিশাইয়া এক গ্লাস পানি খাইবা। শইল গরম থাকব।

- পারব না... 

> পারবা না কেন? গোসল করছো? 

- না করি নাই। পানি অনেক ঠান্ডা! 

> এই জন্যইতো শীত বেশি লাগে। গোসল করে না কিছু না! ঠান্ডা পানি দিয়া গোসল করলে শীত কম লাগে। যাও গোসল করো গিয়া। গোসল কইরা শইল্যে গ্লিসারিন মাখবা। দেখবা শীত নাই হইয়া গেছে। 

- পারব না। তুমি গোসল করো পারলে... 

> একবার না করলাম? 
gasp emoticon
 

- একশবার করবা। সারাদিন গোসল করবা... 

> সরিষার তেল গরম কইরা আনি? মালিশ কইরা দিলে শীত কম লাগব। 

- লাগবে না... 

> তেল মালিশ লাগত না, গোসলও করতা না, সকালে মধু খাইতে কইলাম ঐটাও পারবা না... পারবা টা কি তুমি?

- তুমি লেপের নিচে আসো। তোমাকে হাগ দিতে পারব! 

> -_-
squint emoticon

একটু খানি রস!


ঘুমাবার আগে ছোট্ট একটা গল্প বলি। কিছুক্ষন আগেই গল্পটা শুনলাম। এক লোকের গরু ঢুকে গিয়েছে মসজিদে। মসজিদের হুজুর ক্ষেপে গিয়ে নালিশ দিলো গ্রামের মাতব্বরের কাছে। বিচার বসল। মাতব্বর সাহেব প্রথমেই গরুর মালিকের খোজ নিতে বললেন। খোজ নিয়ে দেখা গেল ওটা মাতব্বরেরই গরু। এখন মাতব্বর হুজুরকে কাছে ডেকে বললেন,

"হুজুর, ঐটাতো গরু! বোঝে না। তাই মসজিদে ঢুকে পড়েছে। আপনি আমাকে কখনো দেখেছেন মসজিদে ঢুকতে?"

তেলাপোকার অভিশাপ


মাথার ভিতরে তেলাপোকার কুচকাওয়াজ শুরু হয়েছে। ব্যাকগ্রাউন্ডে রণ সঙ্গীত বাজছে। কাজী নজরুল ইসলামের রণসঙ্গীত নয়। তেলাপোকার রণসঙ্গীত। কথাগুলো এখনি বোঝা না গেলেও একটু পরেই ক্লিয়ার হতে শুরু করবে। 

"আমরা তেলা, করছি খেলা........."

করুক গে। আমি ভয় পাই নাকি? আমি তেলাপোকা ভয় পাই না। তেলাপোকাতো ভয় পেত রিমু। ভাবলেই হাসি আসে। তেলাপোকার মত সামান্য একটা জিনিসকে কেউ ভয় পায়? রিমু শুধু সামান্য জিনিসকেই ভয় পেত না, একটু বোকাটেও ছিল। ক্লাস নাইনে পড়া অন্য মেয়েরা যেখানে তাদের প্রেমকল্পনায় বিভোর সেখানে রিমুর এসব কিছুই ছিল না। এমনকি ক্লাশে সবচেয়ে দুষ্টু ছেলে সাজিদ যে তাকে পছন্দ করত এটাও সে বুঝত না। 

সাজিদ অবশ্য রিমুকে বোঝাতে চেষ্টা কম করেনি। সাজিদের ইচ্ছে ছিল আকার ইঙ্গিতে আগে বোঝাই, তারপর যদি ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায় তাহলে সামনা-সামনি বলা যাবে। সাজিদ কারো কাছে হেল্প না চেয়ে নিজেই নিজেই চেষ্টা করতে থাকে। 

ক্লাশ টেনে উঠার পর প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসের জন্য ছাত্রছাত্রীদের মধ্য থেকে বিভিন্ন গ্রুপ করা হয়। কি আশ্চর্য্য দেখেন। যে একটা মেয়ে সাজিদের গ্রুপে পড়ল সেই মেয়েটাই রিমু! সাজিদ মনে মনে অসম্ভব খুশি হল। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে ইতরামো, ফাঁজলামো সবই চলত। রিমু মাঝে মাঝে চোখ পাকানি দিলেও সাজিদ তেমন গাঁ করত না। কারন সাজিদের ধারনা ছিল এসব রিমু মনে মনে উপভোগই করে। 

সবচেয়ে বেশি মজা হয়েছিল সেদিন তেলাপোকার ব্যবচ্ছেদ হয়েছিল। হাঃ হাঃ হাঃ... 

মাথার যন্ত্রণাটা ধীরে ধীরে অসহ্য হয়ে উঠছে। সেই সাথে বাড়ছে তেলাদের রণসঙ্গীত! 

আমরা তেলা, করছি খেলা
মানি না গরীব-ধনী......... 

স্যার আগেই বলেদিয়েছিলেন আগামী সপ্তাহে তেলাপোকার ব্যবচ্ছেদ করা হবে। সবাই যেন একটা-দুটো তেলাপোকা ধরে নিয়ে আসে। সাজিদ অবশ্য একটা-দুটো ধরে ক্ষ্যান্ত হল না। ঘরময় ছুটোছুটি করে ৬ টা তেলাপোকা ধরে পলিথিন বন্দি করে স্কুলে নিয়ে গেল। 

সাজিদ এত তেলাপোকা দিয়ে কি করেছে সেই গোমর ফাঁস হল টিফিনের সময়। টিফিনের বাটি খুলেই রিমুর বিকট চিৎকার। চার-পাচটে তেলাপোকা তার বক্সের ভিতর! তাও জীবন্ত। বাক্সখোলা হতেই তেলাগুলো মনের আনন্দে রিমুর গায়ে ছোটাছুটি শুরু করল। এদিক ওদিক ছিটকে গেলেও দুই-একটা তার জামার ভিতর ঢুকে গেল। আর রিমুর সেকি চিৎকার! চিৎকার করতে করতে সারা ক্লাস ছুটে বেড়াচ্ছে ক্লাস টেনের একটা মেয়ে! কোথায় তার ওড়না ছিটকে গেল, কোথায় গেল স্কার্ফ?-কে জানে! 

ছোটাছুটির এক পর্যায়ে বেঞ্চের পায়ার সাথে বেধে হোচট খেল রিমু। টাল সামলাতে না পেরে পড়ে গেল। মাথাটা বেকায়দাভাবে দেয়ালের সাথে বাড়ি খেল। পরক্ষনেই রিমু জ্ঞান হারাল। 

এতক্ষন যারা রিমুর ছোটাছুটি দেখে হাসাহাসি করছিল এবার তারা সবাই চিৎকার করে রিমুকে ধরতে গেল। চারপাঁচজন মিলে রিমুকে পাজকোলা করে বাইরে নিয়ে এল। চিৎকার চেচামেচি শুনে এরই মধ্যে টিচাররা চলে এসেছেন। দ্রুত রিমুকে হাসপাতালে নেয়া হল। দুর্ঘটনার কারনে স্কুল ছুটি দিয়ে দিলেন প্রধান শিক্ষক। সবাই মিলে দলবেধে রিমুকে দেখতে হাসপাতালে চলে গেল। গেল না শুধু একজন। 

ক্লাস টেনের বিজ্ঞান শাখার কক্ষের এক কোণায় শুধু সাজিদ নামের একটা ছেলে বসে রইল।

রিমুর আর জ্ঞান ফেরেনি। ফিরবেও না কোনদিন। সে এখন অন্যজগতের বাসিন্দা। সাজিদকেও আর কখনো স্কুলে দেখা যায় নি। বন্ধুবান্ধবরা কেউ দেখতে আসলেও সে দেখা করেনি। কিছুদিন পর সাজিদরা অন্য এলাকায় চলে গেলে আর কেউ খোজ নিতে আসেনি। 

মাথার যন্ত্রনাটা অসহ্য পর্যায়ে চলে গেছে। খামচে ধরে সব চুল ছিড়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে। মনে হচ্ছে অসংখ্য তেলাপোকা মগজটাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে আর নতুন শক্তিতে তেলা সঙ্গীত গাইছে। মাথাটাকে ফাঁটিয়ে তেলাপোকাগুলোকে বের করে দিতে পারলে ভাল হত। 

দুম! দুম! দুম! 

আহ! এবার একটু শান্তি লাগছে। তেলাপোকার গুঞ্জন একটু যেন কমেছে। যদিও আমি জানি এখনি আবার শুরু হবে। হোক! আমি কি ভয় পাই? সবকটাকে পিষে মারব আমি। 

দুম! দুম! দুম! 

সামনের দেয়ালটা লালচে হয়ে গিয়েছে। দৃষ্টিও ঝাপসা হয়ে আসছে। 

কেউ একজন রুমে ঢুকেছে। দৌড়ে এসে কেউ একজন আমাকে ধরল। ফুঁপিয়ে কান্নার শব্দ যেন পেলাম।

"সাজিদ, বাপ আমার। এমন করিস না বাপ। শান্ত হ, শান্ত হ"

মা না বড় বিরক্ত করে। আমার কি এত কিছু শোনার সময় আছে? আমার মাথার ভিতরে তেলাপোকারা চিৎকার করছে,

"আমরা তেলা, করছি খেলা,
মানি না গরীব-ধনী,
তুই খুনী, তুই খুনী"

Saturday, October 17, 2015

আরাফাত ভাইয়ের ঈদ!

কুরবানীর ঈদটা না গেলে আসলে আরাফাত ভাইয়ের ধৈর্য্য সম্পর্কে ভালভাবে ধারনা পাওয়া যেত না। কুরবানী যেহেতু কিনতে হবে সেহেতু কুরবানীর ঈদের প্রস্তুতি ঈদের বেশকিছুদিন আগে থেকেই শুরু হয়। টাকা জোগাড় করে রাখতে হয় দ্বিগুন পরিমান। যদি কোন অঘটন ঘটে তাহলে যেন বিপদে পড়তে না হয়। রোজার ঈদের মত জামা-কাপড় কেনার হ্যাপা না থাকলেও অন্যান্য হ্যাপাতো আছেই।
হাটে যাও, হাটে যাও... হো
ছুড়ি ধারাও, বটি ধারাও... ছো
চাপাতি কিনো, কোবানি কিনো... কো
.....................................
.....................................
এই আরাফাত ভাই, আপনার লিস্টি এত লম্বা কেন?

নিজে থেকে গরু কিনতে না পারলে আরাফাত ভাইয়ের শান্তি লাগে না। আরে কোরবানীর ঈদের মজাটাইতো গরু-খাসী কেনা। এখানে যদি দূরে দূরে থাকি তাহলে আর কিভাবে হবে? বিপুল বিক্রমে আরাফাত ভাই চললেন কুরবানীর হাটে। সাথে শরীক আছে আরো কয়েকজন।
আগের রাতে তুমুল বর্ষণের কারণে হাটে থকথকে কাঁদা। কাঁদা পানির সাথে গরুর বর্জ্য মিশে চারদিকে পুরো মঁ মঁ করেছে সুগন্ধে।
আরাফাত ভাই বুদ্ধি করে বার্মিজ স্যান্ডেল পড়ে এসেছেন। কাদাপানি গেলে বার্মিজের উপর দিয়ে যাক। চামড়ার ক্ষতি করে লাভ কি? চারপাশে গরু উঠেছে ভালই। দামও মোটামুটি। এখানে থেকেই কিনে ফিরবেন নাকি আরো দুটো হাট ঘুড়বেন সেই আলোচনা যখন চলছিল ঠিক তখনি "ধর ধর" রবে শোরগোল শুরু হয়ে গেল। পিছনে ফিরে তাকাতেই আরাফাত ভাই দেখলেন একদল লোক তার দিকেই ছুটে আসছে। তবে লোকগুলো নিজের ইচ্ছায় আসছে না। একটা দুই শিংওয়ালা হাতি ফোঁসফোঁস করতে করতে তাদের টেনে নিয়ে আসছে। কাদার মধে ক্ষুর দেবে যাবার থপ থপ শব্দ আর গরম ফোঁস ফোঁসের শব্দে আরাফাত ভাই জায়গায় জমে গেলেন। আগেই বলেছি আরাফাত ভাইয়ের মাথা বিপদে একটু ধীরে কাজ করে। হাতিটার শিং যখন আরাফাত ভাইয়ের হালকা গজিয়ে উঠা ভূড়ি থেকে একফুট দূরে তখন লোকজন টেনে হাতির গতিরোধ করতে সমর্থ হল। আর আরাফাত ভাইও যেন দেহে প্রাণ ফিরে পেলেন। হুড়মুড় করে ছুটতে যেয়েই উনার বার্মিজ স্যান্ডেলখানা ফুৎ করে পিছলে গেল আর আরাফাত ভাই ধরাম করে ধরাশয়ী হলেন। গরুর তামাশায় লোকজন যেমন থমকে গিয়েছিল, আরাফাত ভাইয়ের তামাশায় তারা হো হো করে হেসে উঠল। আরাফাত ভাইয়ের বেগতিক অবস্থা দেখে সেদিনের মত গরুক্রয় কর্মসূচি স্থগিত করা হল।
বাসায় আসার পর সুমিভাবি আরাফাত ভাইকে ১৪ বার গোসল করালেন। তারপরও নাকি আরাফাত ভাইয়ের গা থেকে দুর্গন্ধ যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে আরাফাত ভাইয়ের চোখ লাল হয়ে এসেছে দেখে হয়ত সুমি ভাবির মনে একটু দয়া হল। আরাফাত ভাই সর্বশেষ গোসলখানা দিলেন আতর আর বডি স্প্রে দিয়ে। তারপরও রাতের বেলা যখন ঘুমাতে গেলে তখন সুমিভাবি একটা বালিশ তার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে দিলেন,
"আজকে আপনি সোফায় ঘুমান। আমি এই অবস্থায় আপনার সাথে ঘুমাতে পারব না।"
মনের দুঃখে আরাফাত ভাই.........
ঈদের দিন কুরবানী করার সময় আরাফাত ভাই গরুর মাথা ধরলেন। যিনি জবাই করবেন তিনি বার বার বলে দিলেন কোন অবস্থাতেই মাথা ছাড়া যাবে না। জবাই করার সময় যে গলার কাছে রক্তনালী চেপে ধরেছিল তার হাত ছুটে গেল হুড়োহুড়িতে। আর যায় কোথায় ফিনকি দিয়ে রক্ত এসে আরাফাত ভাই পুরো গোসল। চমকে উঠে আরাফাত ভাই মাথা ছেড়ে দিলেন। এরপর যেন কেয়ামত শুরু হয়ে গেল। গরুর মাথার বাড়িতে দুইজন ছিটকে গেল। লাফ দিয়ে গরু উঠে দিল দৌড়। বাচ্চা পোলাপান যারা কাছে দাঁড়িয়ে ছিল তারা দিল দৌড়। একজনতো ধাক্কা খেয়ে ড্রেনেই পড়ে গেল। সারা গায়ে রক্ত মেখে আরাফাত ভাই স্ট্যাচু হয়ে গেলেন!
পাচ ঘন্টা পর আরাফাত ভাই যখন শেষবারের মত গরুর বন্টণকৃত অংশ নিয়ে ঘরে আসলেন তখন সুমি ভাবি দরজা খুলেই নাঁকমুখ কুঁচকে উঠে তাড়াতাড়ি নাকে কাপড় চাপা দিলেন।
"এই এমন বিদঘুটে গন্ধ আসে কোথা থেকে? দেখিতো এর মধ্যে কি?"
"কি আবার গরুর ভুড়ি...!"
"এই পচা ভুড়ি কে খাবে? ওমাগো, গন্ধেইতো মরে যাচ্ছি। আমি এইগুলো করতে পারব না। তাড়াতাড়ি ফেলে দিয়ে আসেন এইগুলা।"
"কি বলে! ভুড়ি ফেলব কেন? ভুড়ি খেতে কত মজা! গোশতের চেয়ে ভুড়ির মজাইতো বেশি!"
"আপনি ভুড়ি ফেলে দিয়ে আসবেন কিনা বলেন!"
মনের দুঃখে আরাফাত ভাই.........
রাতে ঘুমুতে যাবার সময় সুমি ভাবিকে ডেকে আরাফাত ভাই কাধটা একটু মালিশ করে দিতে বললেন। কোপাকুপি, টানাহেচড়ায় কাঁধ ব্যথা করছে। বলেই আরাফাত ভাই উপুড় হয়ে শুয়ে পড়লেন। সুমিভাবি কি একটা মলম বের করে ভালভাবে দলাই মলাই করে দিলেন। একটু যখন আরাম বোধ হল তখন আরাফাত ভাই ঘুরে শুয়ে একটানে সুমিভাবিকে বুকের উপর নিয়ে আসলেন।
চরম লুমান্টিক অবস্থায়ও সুমিভাবির নাকটা কেন জানি কুঁচকে উঠল। ছিটকে দূরে সরে যেয়ে বললেন,
"এই আপনি গোসল করেন নাই?"
"কি বল? গোসল করব না কেন?"
"তাহলে আপনার গা থেকে ভুড়ির গন্ধ আসছে কেন?"
"ভুড়ির গন্ধ আসছে? কোথায়? নাতো... কোন গন্ধইতো নাই..."
"আপনিতো পাবেনই না। ভুড়ি ফেলে দিয়ে আসতে বলছি বলে কি কাঁচাই খেয়েছেন নাকি? এই নিন বালিশ, সোফায় গিয়ে ঘুমান..."
"ঈদের দিন এইগুলো কি শুরু করলে তুমি?"
"আপনি যাবেন কিনা বলেন!"
এবং আবারো মনের দুঃখে আরাফাত ভাই........

Saturday, July 11, 2015

কলম (ব্যাক কভার)

ধাক্কা দিতেই ক্যাঁচ ক্যাঁচ শব্দের দরজার কপাট খুলে গেল। বদ্ধ ঘরে ভ্যাপসা গন্ধ নীলার নাকে আঘাত করল। ধীর পায়ে নীলা ঘরের ভিতর প্রবেশ করল। একপাশের জানালার ফাঁক দিয়ে আলোর রশ্মি ঘরের মেঝেতে পড়ছে। সেই আলোতে সবকিছু কেমন অদ্ভূত দেখাচ্ছে। এগিয়ে গিয়ে নীলা জানালায় হাত দিল। হুড়কো শক্ত হয়ে আছে। বহুদিন বন্ধ থাকার কুফল। ধরে একটু জোড়ে নাড়াচাড়া করতেই অবশ্য জানালা খোলা গেল। এতক্ষনে ঘরের ভিতরের সবকিছু পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে।

ধূলোর পুরু স্তর পড়ে গেছে মেঝেতে। আসবাবপত্রগুলোরও একই অবস্থা। ঘরে তেমন কিছু নেই অবশ্য। জানালার পাশেই একটি খাট, তার উল্টোদিকে একটি ড্রেসিং টেবিল, আর একপাশে টেবিলের সাথে দুটো চেয়ার। সবকিছু ধূলোয় মাখামাখি।

কেন জানি ঘরটা নীলুর খুব পছন্দ হল। পরে এসে একসময় ঘরটা পরিষ্কার করাতে হবে। জানালাটা বন্ধ করে ঘুড়তেই চোখের কোণে কি যেন ঝিক করে উঠল। টেবিল আর চেয়ারের পায়ার ফাঁক দিয়ে কি যেন দেখা যাচ্ছে। পুরনো আমলের ভারী চেয়ারটা টেনে সরাতে নীলুর একটু কষ্টই হল। ছোট্ট একটা বাক্স অবহেলায় পড়ে আছে।

নীলু বাক্সটা তুলে নিল। বাক্সটা দেখে যতটা ভারী মনে হচ্ছিল আসলে ততটা নয়। সারাঘরে ধূলোয় ভর্তি অথচ বাক্সটার গায়ে একটুও ধুলো নেই। মৃসণভাবে বার্নিশ করা বাক্সটার গা। আলো পড়লেই চকচক করে উঠে। একপাশে পিতলের হুক লাগানো। হুক ধরে টান দিতেই উপরের ডালা খুলে গেল।

বাক্সের ভিতরে কালো কাপড়ের একটা পুটুলি দেখা গেল। পুটুলির মাথা একপাশে সুতো দিয়ে বাধা। আর ভাজ করা একটা সাদা কাগজ। বাক্সটার মতই এগুলোর গায়েও কোন ময়লা নেই। মনে হয় এইমাত্র কেউ মুছে পরিষ্কার করে রেখে গিয়েছে। কাগজের প্রতি নীলা তেমন একটা আগ্রহ বোধ করছে না। পুটুলির ভিতরে কি আছে দেখা দরকার। বাক্সটা টেবিলের উপর রেখে পুটুলিটা হাতে নিল। ভিতরে শক্ত কিছু আছে। বাধন খুলে হাতের উপর পুটুলিটা উপুড় করতেই কলমের মত কি যেন একটা হাতের তালুতে পড়ল।

হ্যা, কলমই তো। তবে কেমন জানি একটু অদ্ভুত! ভীতিকর! লম্বায় বর্তমান সাধারন কলমের চেয়ে ২-১ ইঞ্চি লম্বা হবে। ফাউন্টেন পেনের মত মোটা। রঙটাও অদ্ভুত। টকটকে লাল। দু'পাশে রুপালি লাইনিং আছে। নিবটা খুবই ছোট। একটু শুধু বেড়িয়ে আছে। একদম সূচাগ্র। আর উপরের অংশটুকুর জন্যই কলমটাকে ভীতিকর লাগছে। পিছনটা অনেকটা বাদুড়ের মাথার মত। একটা বাদুড় যেন হা করে আছে। দু'টি শ্বদন্ত বেড়িয়ে আছে। তবে চোখ দু'টো সবুজ।

বাদুড়ের সবুজ চোখ! হাস্যকর না? নীলার কিন্তু হাসি আসছে না। কেমন যেন শীত শীত লাগছে। কলমটাও কেমন যেন হাতের মধ্যে গরম হয়ে উঠেছে। এই ঘরে নীলুর আর ভাল লাগছে না। কলমটা হাতে নিয়ে নীলা বেড়িয়ে এল।
এলোমেলো পায়ে বারান্দা ধরে এগিয়ে চলল...!

Monday, October 13, 2014

সবচেয়ে রোমান্টিক গল্প!

অপেক্ষা করতে করতে অস্থির হয়ে গিয়েছে নজরুল। এত সময় লাগে? বিয়ে হয়েছে আজ দশ বছর। এতদিন পরেও এত সাজগোজ করার কি আছে? পার্লারে যে ঢুকেছে আর বেরোনের খবর নেই। এতক্ষন কি করে? যত্তসব!
বিরক্তিতে গজগজ করতে করতে নজরুল হাতের ঘড়ির দিকে তাকাল। দেরি হয়ে যাচ্ছে। রাত ন'টায় দাওয়াতে যাবার কথা। এখন অলরেডী সাড়ে ন'টা বেজে গিয়েছে। অপেক্ষার সময়গুলো যেন কাটতেই চায় না। চারপাশেও এমন কিছু নেই যা দেখে মনোযোগ অন্যদিকে সরানো যাবে।
এসব ভাবতে ভাবতেই পার্লার থেকে বর্ষা বেড়িয়ে এল। বর্ষাকে দেখেই নজরুল অবাক চোখে তাকিয়ে রইল। এই মেয়েটা তার বউ! তার বউ এত সুন্দর! ঠিক দশ বছর আগে বর্ষাকে দেখে বুকের ভিতর যে চিন চিন ব্যথা অনুভূত হয়েছিল আজকে আবার তেমনি হচ্ছে। হালকা মেকাপে বর্ষাকে অপূর্ভ লাগছে। ঠোটের কোণে রহস্যময় মৃদু হাসি। নজরুল নতুন করে আবারো বর্ষার প্রেমে পড়ে গেল।
নজরুলের দৃষ্টি অনুভব করে বর্ষা একটু লজ্জাই পেল। জিজ্ঞেস করল,
"কেমন লাগছে আমাকে?"
নজরুল বর্ষার হাত ধরে গাড়ি দিকে টেনে নিয়ে যেতে যেতে বলল,
"বাসায় চলো। বলছি কেমন লাগছে!"
বর্ষা এবার একটু শব্দ করে হেসে উঠল। তারপর নজরুলের পিছু পিছু গাড়িতে উঠল।

‪দুই বন্ধু ও দাদু‬

আমার ছোটবোনের লেখা গল্প।

অনেক অনেক দিন আগের কথা। এক গ্রামে বাস করতে দুই বন্ধু। একজনের নাম পল্টু, আরেকজনের নাম বিল্টু। তাদের দু'জনের মধ্যে ছিল ভাব। তারা একে অন্যের বিপদে এগিয়ে আসত। একদিন তারা মেলায় ঘুরতে গেল। সে মেলায় ছিল খুব ভীড়। তখন পল্টু বলল, ।

"বিল্টু আমার খুব পানির তৃষ্ণা পেয়েছে।"
বিল্টু বলল,
"তুই এখানে বস। আমি পানি নিয়ে আসছি।"
বিল্টু গেল পানি খোজে। পানি নিয়ে এসে দেখে পল্টু নেই। বিল্টু পল্টুকে খুজতে খুজতে এক গুহার সামনে এসে থামল। সে গুহার ভিতরে ঢুকল। দেখতে পেল এক বুড়ো দাদু বসে আছে। বুড়ো দাদু বিল্টুকে দেখে বলল,
"কে তুমি? এখানে এসেছো কেন?"
বিল্টু দাদুকে সব খুলে বলল। শুনে দাদু বলল,
"আমি জানি পল্টু কোথায় আছে।"
"আপনি জানেন!! আমাকে সেখানে নিয়ে চলুন।"
দাদু বিল্টুকে এক গভীর জঙ্গলে নিয়ে গেল। সেখানে এক কুঁড়েঘর ছিল। সে কুঁড়ে ঘরে থাকত এই ডাইনি বুড়ি। বিল্টু পল্টুকে উদ্ধার করার জন্য যাচ্ছিল। কিন্তু দাদু বিল্টুকে থামতে বলল।
"তুমি যদি এখন যাও, তাহলে ডাইনি বুড়ি তোমাকে মেরে ফেলবে।"
বিল্টু বলল, "তাহলে আমি কিভাবে উদ্ধার করব পল্টুকে?"
দাদু বলল, "ঐ যে বটগাছ দেখতে পাচ্ছো, সে বটগাছের নিচে আছে মড়ার খুলি। সেখানে ভেঙ্গে ফেললেই ডাইনি বুড়ি মরবে।"
তারা দু'জন তাড়াতাড়ি কাজ শুরু করল। মড়ার খুলি ভেঙ্গে ফেলল। আর ডাইনি বুড়ী মারা গেল। বিল্টু পল্টুকে উদ্ধার করল।
তারপর তাঁরা দু'বন্ধু একসাথে বাড়ি ফিরে গেল।
[আমার ছোটবোন যখন ক্লাস ফাইভে ছিল তখন সে এই গল্পটি লিখে। স্কুল ম্যাগাজিনের জন্য যখন লেখা চায় তখন সে একটি লেখা দেয়। তার এক বান্ধবীর পীড়াপীড়িতে সে এই গল্পটি তার বান্ধবীকে দেয়। দুঃখের বিষয় তার নিজের দেয়া গল্পটি ছাপানো না হলেও এই গল্পটি তার বান্ধবীর নামে ছাপা হয়।]

World Cup

বিশ্বকাপ শুরু হবার পর থেকেই ঘরের ভিতর স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে। মাঠের খেলা আর মাঠেই নেই; মনের ভিতরও শুরু হয়েছে। শুরুটা অবশ্য আমিই করেছিলাম। সুখে থাকতে ভূতে কিলায় বলে একটা কথা আছে না? সুখেই ছিলাম। এখন ভূতের রামকিল খেয়ে রাতদিন চোখে সর্ষেফুল দেখার অবস্থা।
ঘটনা তাহলে খুলেই বলি। সেদিন ছিল ওর জন্মদিন। "ও" কে? "ও" হলেন আমার উনি! ঘরের লোক, ঘরণি। কেক-টেক কাটার পর্ব শেষ হতে আমি উনাকে একটা সারপ্রাইজ গিফট দিলাম। উনি খুশি মনে আমার গিফট গ্রহন করলেন। প্যাকেট খোলার পর থেকেই সারপ্রাইজ গিফট আমার জন্য বিরাট পেইন নিয়ে আসল।
তিনি একজন ব্রাজিল সাপোর্টার। আমি তাকে ক্ষেপানোর জন্য উপহার দিয়েছি আর্জেন্টিনার দশ নম্বর জার্সি! ক্ষেপানোর হেপা যে এতদূর গড়াবে তা কে জানত! আমি প্রবলভাবে মেসির ভক্ত। সারাদিন মেসির গুনগান গাই।
যাই হোক, প্যাকেট খোলার পর তার মুখের হাসি ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে গেল। চোখদুটো জ্বলতে শুরু করল। তারপর সেই জ্বলজ্বলে চোখের আগুনে আমাকে পুড়িয়ে দিয়ে উনি গটগট করে হেটে গিয়ে বেডরুমের দরজা বন্ধ করে দিলেন। আমি বিমর্ষ হয়ে ভাবতে লাগলাম, আজকের রাতটা সোফার উপর মশাদের আতিথ্য গ্রহন করতে হবে। এই পর্যন্ত যতবার দরজা বন্ধ হয়েছে, ততবার তাই করতে হয়েছে।
ভেবেছি ঘটনা বোধহয় এখানেই খতম। পরেরদিন অফিস থেকে ফেরার সময় আমরা চক্ষু ছানাবড়া হয়ে গেল। আমার বাসা পাঁচতলায়। সেই পাঁচতলার বারান্দা থেকে বিরাট এক হলুদ পতাকা নিচতলা অবধি ঝুলছে! আমার বাসায় ব্রাজিলের পতাকা! এ দেখার আগে আমার...........!!
খেতে বসে দেখি তরকারী সব হলুদ দেখতে লাগলাম। হলুদ বেশি হয়েছে? নাকি মাথাটাই বিগড়ে গেল? মুখে দিয়ে দেখি হলুদ আসলেই বেশি। উনি দিব্যি খেয়ে নিচ্ছেন! কোন বিকার নাই। আমাকে জব্দ করতেই উনার এই বুদ্ধি! কোনমতে ঐ হলুদ পদার্থগুলা গলধকরন করলাম।
পরেরদিন অফিস যাবার পথে নিচতলার ভাড়াটে বললেন,
"ভাই, আপনাকেতো আর্জেন্টিনার পাগলা সাপোর্টার বলেই জানতাম। ভোল পাল্টালেন কবে? এফিডেভিট করিয়েছেন?" বলেই একটা মিচকা হাসি দিয়ে আমার পিত্তি জ্বালিয়ে দিল। বলাই বাহুল্য তিনিও হলুদের দলের লোক।
অফিসে যেয়েই মোবাইল দিয়ে ফেসবুকে একটা "হলুদ কার্ড" এর ছবি আপলোড দিয়ে উনাকে ট্যাগ দিলাম। উনাকে হলুদ কার্ড দেখিয়ে দিলাম। আমিও পারি! এইবার মনটা একটু শান্ত হল।
আমার অফিসটা বাসা থেকে বেশি দূরে না। হেটে গেলে ৫-৭ মিনিট লাগে। লাঞ্চ টাইমে বাসায় এসে লাঞ্চ করি। সেদিন বাসায় ফিরে দরজার নব ধরে মোচড় দিয়ে দেখি দরজা খোলা না। ভিতর থেকে লক করে দিয়েছে। কলিংবেল টিপলাম কয়েকবার। তাও খোলে না। একটু পর দরজার নিচ দিয়ে একটা "লাল কার্ড" বেরিয়ে এল!
আমি হতাশ হয়ে বুঝে নিলাম আজকের লাঞ্চটা আমাকে বাইরেই করতে হবে। তবে আমিও দেখে নেব। এতসহজে ছেড়ে দেব না। অফিসে গিয়েই একটা স্ট্যাটাস দিলাম, "ছোটবেলায় মেয়েদের দেখেছি মানুষকে খাইয়ে আনন্দ পেত। কি কলিযুগ আসল! এখনকার মেয়েরা মানুষকে ভুখা রেখেই আনন্দ পায়!"
অফিস শেষে বাসায় ফিরে দেখি ভার্সিটি পড়ুয়া ছোট বোন এসেছে। আমাকে দেখে ফিচকা একটা হাসি দিল। আমি বুঝলাম, আমার শান্তি শেষ। একজনের জ্বালায় বাঁচি না। একজন আরেকজন এসে মহাজোট হয়েছে। আমাকে একা পেয়ে ছন্দে ছন্দে বলল,
"ভাইয়া, তুমি না আর্জেন্টিনার এত্ত বড় ফ্যান!
তোমার বাসায় ব্রাজিলের পতাকা ক্যান?"

আমি ওর গলা চেপে ধরার ভঙ্গি করতেই সে "ভাবিইইই!!!" বলে একটা চিৎকার দিয়ে পালিয়ে গেল।
পরেরদিন অফিসে যাবার সময় বাসার চাবি নিয়ে নিলাম। লাঞ্চ আওয়ারে এসে দেখি যথারীতি লক করা। হে হে...আজকে আমার কাছে চাবি আছে! তালা খুলে নিজের বাসায়তেই চোরের মত ঢুকলাম! উনি তখন শাওয়ারে বিজি। আমি পেটপুড়ে ভাত খেয়ে নিলাম। তারপর ভাতের মধ্যে ঢেলে দিলাম পানি। তরকারীতেও পানি দিব কিনা ভাবলাম। থাক! আর্জেন্টিনার সাপোর্টাররা এত নিষ্ঠুর না! একটু দয়ামায়া আছে তাদের অন্তরে। খাওয়া শেষে যেভাবে এসেছিলাম, সেভাবেই অফিসে ফিরে গেলাম।
বাসায় ফেরার পথে পাশের দোকানে ৪ ফিট বাই ২.৫ ফিট একটা পোস্টার দেখলাম মেসির। কিনে নিলাম। বাসায় এসে সদর দরজায় লাগিয়ে দিলাম। ঘরে ঢুকে দেখি উনি কোমড়ে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আমার দিকে তাকিয়ে চোখ পাকাচ্ছেন। আমি এমনভাব করতে লাগলাম যেন আমার মত সহজ-সরল, নিষ্পাপ লোক আল্লাহ পৃথিবীতে একজনই পাঠিয়েছেন!
পরেরদিন লাঞ্চের সময় বাসায় এসে দরজার অবস্থা দেখে আমার মাথায় হাত! হায়! হায়! এটা কি হল?
মেসির হাতে কাপ ছিল। এখন দেখি কাপ নেই। হাতে লাউ দেখা যাচ্ছে! একটানে ছিড়ে পোস্টার ডাস্টবিনে ফেলে দিলাম।
রাগে ফুলতে ফুলতে বাসায় ঢুকলাম। আজকে অবশ্য লক করা ছিল না। বোধহয় বুঝতে পেরেছে আমি চাবি চুরি করেছি। একটু পর আসল ঘটনা বুঝলাম।
খেতে বসে দেখি আমার পছন্দের সব তরকারী! ঘটনা কি? কোন দুসরা ছাড়বে কে জানে! আরে, মাথাটাই খারাপ হয়ে গেল নাকি? ফুটবল খেলায় দুসরা আসবে কোথ্যেকে?
যাইহোক, সন্দেহের দৃষ্টিতে তরকারীগুলো দেখতে লাগলাম। অল্প একটু মুখে দিয়ে তারপর পাতে নিচ্ছি। উনি আমার কান্ডকারখানা দেখে ফিচকা ফিচকা হাসতেছেন আর গুনগুন করে গান গাইতেছেন।
গলাটা বড় মিষ্টি। আমি কান পেতে শোনার চেষ্টা করলাম। উনি বুঝতে পেরেই মনে হয় গলা আরেকটু চড়িয়ে দিলেন।
"মাছি যখন লাউ লইয়া 
আমার দরজার সামনে দিয়া..."

"তবেরেএএএ............"
আমি খাওয়া ফেলে এক ঝটকায় উঠে দৌড়ানি দিলাম। উনি অবশ্য আমার আগেই দৌড়ে বেডরুমে ঢুকে দরজা লক করে দিয়েছেন। দরজার ভিতর থেকেও উনার হাসি আমার কানে আসছিল।
হায় খোদা! চোখ বন্ধ করা যায়, মুখ বন্ধ করা যায়, কান কেন বন্ধ করা যায় না??
আমাদের এই যুদ্ধ শেষ হল আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার পর। ব্রাজিল হারার পর আমি উনার চোখের পানি মুছে দিলাম। আর আর্জেন্টিনা হারার পর উনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।
অতঃপর আমরা সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগলাম।

Sunday, October 12, 2014

কুহুক

এক

"নাম কি?"
-"কুহুক"
-"কি!??"
-"জে কুহুক।"
-"কি করো?"

ছেলেটি মাথা নিচু করে হাসল। বিরক্তিতে মনসুর সাহেবের ভ্রু কুঁচকে গেল। বিরক্তি নিয়েই তিনি টেবিলে রাখা চায়ে চুমুক দিলেন। তার বিরক্তি আরো বেড়ে গেল। এত করে বলার পরেও পিয়ন বদমাইশটা চায়ে চিনি কম দিয়েছে। ছোটবেলা থেকেই তিনি কম চিনিতে কিছু খেতে পারেন না। বিরস মুখে আরেকটা চুমুক দিয়ে তিনি ছেলেটার দিকে তাকালেন।


 কিছুদিন পরপরই গ্রাম থেকে একেকজন তার কাছে আসে। তবে এত কমবয়সী কেউ আর আগে আসেনি। ১২-১৩ বছরের একটা বাচ্চা ছেলে। মাথা ভর্তি কোকড়ানো চুল। ময়লা হয়ে আসা একটা গেঞ্জি আর জিন্স পড়ে তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আসার পর থেকে ছেলেটি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। একবারো উপর দিকে তাকায় নি। তার এত বড় অফিসে তাকিয়ে দেখার মত অনেক কিছুই আছে। কিন্তু ছেলেটি মনে হয় মেঝে দেখেই আনন্দ পাচ্ছে।

মনসুর সাহেব বা হাতে ধরা চিঠির দিকে তাকালেন। নরসিংদীর খানেপুর গ্রামের হাইস্কুলের হেডমাস্টারের চিঠি। ছেলেটি সাথে করে নিয়ে এসেছে। একসময় তিনি ঐ স্কুলে পড়তেন। হেডমাস্টার সাহেবের কথা তার মনে আছে। তাকে খুবই স্নেহ করতেন।

"বাবা মনসুর,

পত্রপাঠে সালাম নিও। আশা করি আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে ভালই আছো। আমাদের এইদিকের সব খবরা খবর ভাল। শুধু আমার হাপানির টানটা একটু বাড়িয়াছে। শীতকালে বিশেষ কষ্টে থাকি।

পর সমাচার এই যে, তোমার কাছে যেই ছেলেটাকে পাঠাইলাম সে আমার বিশেষ প্রিয় পাত্র। পড়াশুনায়ও খুব ভাল। দাবা খেলায় অত্র এলাকায় তাহার সুনাম রহিয়াছে। ছেলেটির পিতা-মাতা, আত্নীয়-স্বজন বলিতে কেহ নাই। এতদিন আমার কাছে ছিল। বৃদ্ধ এক প্রধান শিক্ষকের পক্ষে তাহার ভরণপোষন করা সহজসাধ্য নহে। তাই তোমার কাছে পাঠাইলাম। যদি পার ওকে দেখিয়া রাখিও।এই ছেলের সম্পর্কে অত্র এলাকায় বিশেষ কিছু কথা মানুষের মুখে মুখে ফিরিতেছে। অনেকে বলে তাহার অনেক ক্ষমতা। আমিও কিছু প্রমাণ পাইয়াছি। চিঠিতে বলিলে তুমি বুঝিতে পারিবে না। তোমার কাছে কয়েকদিন থাকুক। তুমি নিজেই দেখিতে পাইবে।শুনেছি সামনের মাসে তুমি আমাদের এখানে আসিবে। আসিলে অবশ্যি দেখা করিও।

ইতিআব্দুল মতিন।

প্রধান শিক্ষক, খানেপুর উচ্চ বিদ্যালয়।"

"এই ছেলে, এদিকে আসো।"

কুহুক জায়গায় দাড়িয়েই আবার হাসল। একচুলও নড়ল না। মনসুর সাহেব আবার বিরক্ত হলেন। আজকালকার ছেলেমেয়ে কথাই শুনতে চায় না।

"তোমার আত্নীয়স্বজন কেউ নাই?"

-"জ্বে না।"

-"এই চিঠিতে বলা হয়েছে তোমার কি যেন বিশেষ ক্ষমতা আছে। তুমি কি বলবে কি ক্ষমতা আছে?"

কুহুক আবার চুপ। মনসুর সাহেবের বিরক্তি সীমা ছাড়িয়ে যেতে লাগল। মনসুর সাহেব বেল টেপার কথা ভুলে গিয়ে ডেকে উঠলেন-

"মকবুল!!!মকবুল!!!!"
-"জ্বি স্যার???" 
-"এই ওকে নিয়ে যাও, বাইরের ঘরে বসিয়ে রাখ। অফিস থেকে বের হবার সময় সঙ্গে নিয়ে যাব।"
-"জ্বি স্যার।"

মকবুল কুহুককে নিয়ে বেড়িয়ে গেল। মনসুর সাহেব অন্যমনস্কভাবে চায়ে আবার চুমুক দিয়েই চমকে উঠলেন। এখন চা আগের চেয়ে মিষ্টি লাগছে! ঠিক যতটুকু উনার পছন্দ।

মনসুর সাহেব অবাক হয়ে চায়ের দিকে তাকিয়ে রইলেন।

দুই

বিকেল সাড়ে পাঁচটায় মনসুর সাহেব রুম থেকে বের হলেন। বের হতেই কুহুকের উপর তার নজর পড়ল। ছেলেটা সোফায় গুটিসুটি মেরে শুয়ে আছে। বোধহয় ঘুমিয়েই পড়েছে।

"মকবুল!!এই মকবুল!!"
-"জ্বী স্যার??!!" মকবুল দৌড়ে এল।
-"ও এখানে এভাবে ঘুমোচ্ছে কেন? বাইরে থেকে কেউ আসলে কি ভাববে?"
মকবুল মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল।
"ওকে কিছু খেতে দিয়েছো?"
মকবুলের মাথাটা আরো নিচু হয়ে গেল। মনসুর সাহেব রাগ সামলালেন।
"যাও, ওকে ঘুম থেকে তোল। তুলে নিচে গাড়ির কাছে নিয়ে আসো।"
"জ্বী স্যার।"-মকবুল দৌড়ে গেল।

মনসুর সাহেব নিচে নেমে এলেন। তাকে দেখেই জমির গাড়ি আনতে ছুটে গেল। জমির মনসুর সাহেবের ড্রাইভার। বাড়ীর কেয়ারটেকারের দায়িত্বও তার। সকাল বেলা মনসুর সাহেবকে অফিসে দিয়ে যায়, আবার বিকেলে এসে নিয়ে যায়। আর সারাদিন বাড়ীতেই থাকে। যেদিন অফিস থাকে না সেদিন সে কোথায় যেন হারিয়ে যায়। মনসুর সাহেব জানতে চাননি, জানার আগ্রহও বোধ করেন নি। 

জমির গাড়ী বের করতে করতে মকবুল কুহুককে নিয়ে নেমে এল। না খেয়ে থেকে ছেলেটার মুখ আমসি হয়ে আছে। সে ঘুম ঘুম চোখে গাড়ীতে জমিরের পাশে বসল।

মনসুর সাহেবের বাড়ীটা শুধু প্রকান্ড বললে ভুল হবে। ঢাকা শহরে এতবড় বাড়ী বোধহয় কমই আছে। বাড়ীটা চারদিক দিয়ে উচু পাচিলে ঘেরা। দাড়োয়ান আছে চারজন। পালা করে ডিউটি দেয়। মনসুর সাহেব কুকুর পছন্দ করেন না। তাই পাহাড়াদার কোন কুকুর নেই। তবে সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরাগুলো রাতদিন চব্বিশ ঘন্টা ক্লান্তিহীন পাহাড়া দিয়ে যাচ্ছে।

বেশিরভাগ প্রকান্ড বাড়ীর মত মনসুর সাহবের বাড়ীটা বলতে গেলে খালিই। পুরো বাড়ীতে তার সাথে তার মেয়ে মিলি আর মিলিকে দেখাশোনা করার জন্য একজন মহিলা থাকেন। মহিলা প্রায় ৭ বছর ধরে এখানে আছেন। মিলি বলতে গেলে তার হাতেই বড় হয়েছে। মূল দালানের একপাশে বাবুর্চি, মালি, ড্রাইভার আর  দাড়োয়ানদের জন্য ব্যারাকের মত একতলা ঘর তোলা আছে। তাদের রান্না-বান্না,খাওয়া-শোওয়া সব সেখানেই। মূল বাড়ীতে বাবুর্চি রইস মিয়া ছাড়া আর অন্যদের প্রবেশাধিকার নেই।

 গাড়ীর শব্দ পেয়ে মিলি দৌড়ে এল। একহাতে একটা টেডীকে জড়িয়ে রেখেছে। মনসুর সাহেব গাড়ী থেকে নেমে মিলিকে জড়িয়ে ধরলেন। মেয়েটাকে যতবার দেখেন ততবার মনসুর সাহেবের বুকের ভিতরে মোচর দিয়ে উঠে। কি নিষ্পাপ ৭ বছরের একটা মুখ! পুরোপুরি তার মায়ের মত!জন্মের সময় মাকে হারিয়েছে। মনসুর সাহেব সেদিন চোখের পানিতে স্ত্রীকে বিদায় দিয়েছিলেন আর হাসিমুখে মেয়েকে বরণ করেছিলেন।

মেয়েটা যত বড় হচ্ছে ততই অদ্ভূত হয়ে যাচ্ছে। সারাদিন ঘরের মধ্যে একা একাই থাকে। মনসুর সাহেব লক্ষ্য করেছেন মিলি প্রায়ই দোতলার বারান্দায় টাঙানো তার মায়ের ছবি দিকে তাকিয়ে থাকে। ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে যায়। কেউ ডাক দেবার আগপর্যন্ত ওভাবেই দাঁড়িয়ে থাকে। মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আর ব্যবসায়ীক ব্যস্ততায় মনসুর সাহেব দ্বিতীয়বার আর সংসার করেননি। এখন মনে হচ্ছে মেয়েরদিকে তাকিয়ে হলেও তার সংসার করা উচিত ছিল। তাহলে মেয়েটা অন্তত একটা সঙ্গ পেত।

 কয়েক সেকেন্ডেই মনসুর সাহেবের মাথায় এতসব ভাবনা খেলে গেল। ততক্ষনে কুহুককে নামিয়ে দিয়ে জমির গাড়ী পার্ক করতে গেছে। মিলি অবাক হয়ে কুহুককে দেখছে। কুহুকের কোন দিকে খেয়াল নেই, সে তাকিয়ে আছে মাটির দিকে।

"মামনি, ও হচ্ছে কুহুক। কয়েকদিন আমাদের এখানে থাকবে।"

মিলি একটু তাকিয়ে থেকে ঘাড় কাত করল। মনসুর সাহেব মেয়েকে কোলে তুলে নিলেন।

"রইস মিয়া, রইস মিয়া!!!"

হন্তদন্ত হয়ে রইস মিয়া হাজির হল।

"রইস মিয়া, ওর নাম কুহুক। কয়েকদিন আমাদের সাথে থাকবে। তুমি নিচতলার একটা ঘর খুলে দাও। আর শোন, ওকে কিছু খেতে দাও আগে।"

"জ্বী আচ্ছা, স্যার।" রইস মিয়া কুহুকের হাত ধরে টেনে নিয়ে গেল।

"জমির!!"

জমির গ্যারেজ থেকে বেড়িয়ে আসল।

"জমির, তুমি ঐ ছেলের মাপে কিছু কাপড় চোপড় নিয়ে আসো। আর শোনো, ওর দিকে একটু খেয়াল রাখবে। কিছু ঘটলে আমাকে জানাবে।"

"জ্বী স্যার, ঠিক আছে।" জমির মাথা নাড়ল। মনসুর সাহেব মেয়েকে নিয়ে উপরে চলে এলেন।

তিন

মনসুর সাহেব সিংগাপুর থেকে ফিরলেন বৃহস্পতিবার ভোড়ে। প্রায় একসপ্তাহ দেশে ছিলেন না। মেয়েকে ছেড়ে তিনি বিদেশে যেতে চাননা। তারপরো মাঝে মাঝেই অতি জরুরী কিছু মিটিং থাকে, এড়ানো সম্ভব হয় না। বাড়ীতে পা দিয়েই তিনি অনুভব করলেন কি যেন একটা ঘটেছে। দ্রুত উপরে উঠে মিলির রুমে ঢুকলেন। মিলি ঘুমুচ্ছে, একহাতে জড়িয়ে রেখেছে তার প্রিয় টেডী। মনসুর সাহবে কিছুটা নিশ্চিন্ত বোধ করলেন। মেয়ের কপালে হালকা একটা চুমু দিয়ে বেডরুমে চলে এলেন।

খেতে বসে মনসুর সাহেবের খটকা কেটে গেল। ডাইনিং এর জানালায় একটা চড়ুই পাখি! একটু কান পাততেই মনসুর সাহেবের কানে এল অন্য পাখিদের কলকাকলি। বিস্ময়ে মনসুর সাহেব খাবার কথা ভুলে গেলেন। তিনি টেবিল থেকে উঠে জানালার পাশে দাড়ালেন। গাছের ডালে দুটো শালিক বসে আছে! এই বাড়ীটা কিনেছেন প্রায় ১০ বছর হয়েছে। কোনদিন কোন পাখি আশে পাশে দেখেছেন বলে মনসুর সাহেব মনে করতে পারলেন না। শুধু পাখি কেন, কোন প্রানীই এই বাড়ীর ধারে কাছে আসত না। মনসুর সাহেব এখন বাগানের এক কোনায় একটা সাদা বেড়ালও দেখতে পেলেন।

উলটো দিকের জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতেই মনসুর সাহেবের চোখ কপালে উঠে গেল। বাম পাশের কোনার জাম গাছে ডালে কুহুক বসে আছে। তার দুই কাধে দুই চড়ুই বসে কিচির মিচির করছে। কুহুক হাসছে। মনসুর সাহেবের মনে হল কুহুক চড়ুইয়ের কিচিরমিচির বুঝতে পেরেই হাসছে।

একটু পরে কুহুক নিচে নেমে এল। বাগানের ভিতর দিয়ে হাটতে লাগল। প্রতিটা ফুল ছুয়ে ছুয়ে দিল। মনসুর সাহেবের মনে হল তার হাতের ছোয়ায় ফুলগুলো কেমন যেন হেসে উঠল। আরো উজ্জ্বল হয়ে ফুটতে লাগল।
মনসুর সাহেব বেডরুমে এসে গভীর চিন্তায় ডুবে গেলেন।

                                                                  
বিকেল বেলা মনসুর সাহেব বাগানে হাটতে বের হলেন। হাটতে হাটতে হঠাৎ মিলির উপর নজর পড়ল। মিলি তাকে দেখতে পায়নি। সে উলটো দিকে তাকিয়ে হাত দিয়ে কাকে যেন ইশারা করছে। মনসুর সাহেব খেয়াল করতেই বাগানের উলটো দিকে কুহুককে দেখতে পেলেন। সেও মিলির দিকে হাত দিয়ে কি যেন ইশারা করছে। অনেকটা বাচ্চাদের ইশারা ইশারা খেলার মত। কুহুকের প্রতিটা ইশারার সাথে সাথে মিলি যেন হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ছে। মনসুর সাহেব মনসুর সাহেব মিলিকে কখনো এভাবে হাসতে দেখেন নি। মিলিকে বাগানেও ঘুরতে দেখেননি। ফুলের রেনুতে মিলির এলার্জি আছে। তাই মনসুর সাহেব কখনো তাকে বাগানে নিয়ে আসেন নি। আজকে মিলি ফুল হাতে নিয়ে বাগানে ঘুরছে। কি হচ্ছে এসব!! দুঃচিন্তায় মনসুর সাহেবের মাথা চিন চিন করতে লাগল। 

একটু এগিয়ে এসে মনসুর সাহেব জমিরকে ডাকলেন।

"জমির!!" 

বাগানের ভিতর থেকে জমির বেড়িয়ে এল। মুখ একটু যেন ফ্যাকাসে। মনসুর সাহেব অবশ্য তা খেয়াল করলেন না।

"আচ্ছা তোমাকে বলেছিলাম কুহুকের উপর খেয়াল রাখতে। রেখেছিলে??" 

"জ্বী স্যার, ওকে সব সময় চোখে চোখে রাখি।"

"বলোতো, ও সারাদিন কি করে।"

"স্যার, তেমন কিছুতো করে না। বাড়ীরে বাইরে যেতে পারে না। বেশিরভাগ সময়ই বাগানের মধ্যে ঘুরে বেড়ায়। সকাল বেলায় দেখি মাঝে মাঝে গাছে উঠে বসে থাকে। আমি অনেকবার নিষেধ করেছি স্যার, যেন গাছে না উঠে।"

"হুম, আর কি দেখেছো?"

"ছেলেটা তেমন একটা কথা বলে না। একশটা জিজ্ঞেস করলে একটা জবাব দেয়। তবে স্যার একদিন সন্ধ্যায় দেখলাম ফুলের সাথে কি যেন বিড়বিড় করে বলছে। আমার মনে হয় ছেলেটার মাথায় গন্ডগোল আছে।"

এমন সময় মিলির কান্নার শব্দ পাওয়া গেল। মনসুর সাহেব ছুটে গেলেন। 

"কি হয়েছে মামনি?"

মিলির ইশারায় মনসুর সাহেব যা বুঝলেন তা হচ্ছে মিলি তার প্রিয় টেডীটাকে খুজে পাচ্ছে না। 

"কাঁদে না মামনি। নিশ্চয় কোথাও পড়েছে। আমরা খুজে দিচ্ছি। পাওয়া যাবেই।" 

মিলির এই ভাল্লুকটা মনসুর সাহেব গতবার সিঙ্গাপুর থেকে ফেরার সময় নিয়েছিলেন। মুক্তা ও সোনার কারুকাজ করা এই খেলনার দাম পড়েছিল প্রায় ২ হাজার ডলার।

গাছের আড়াল থেকে কুহুক বেড়িয়ে এল। এসেই মিলির দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ল। মিলি আরো জোড়ে কেঁদে উঠল। মনসুর সাহেব মেয়েকে কোলে তুলে নিলেন। 

জমির এতক্ষন দাঁড়িয়ে দেখছিল। কুহুক বেড়িয়ে আসাতে জমির গিয়ে তার কলার চেপে ধরল।

"স্যার, নিশ্চয়ই এই হারামি নিয়েছে।" বলেই ঠাস করে একটা চড় মেরে দিল। " বল, কোথায় রেখেছিস, বল!!" বলেই আরেক চড়।

কুহুক চুপ। 

"বদমাইসের বাচ্চা, চোর। চুরি করতে আইসছ এই বাড়ীতে। আইজ তরে চুরির মজা বুঝামু।" 

"আহ! জমির!! ছেড়ে দাও ওকে।"

"স্যার, আপনে বুঝতেছেন না..."

"ছাড়ো বলছি!" মনসুর সাহেব ধমকে উঠলেন। ধমক খেয়ে জমির কুহুকের কলার ছেড়ে দিল। 

"এই ছেলে আমার দিকে দেখ।"-মনসুর সাহেব বলে উঠলেন। কুহুক একবার তাকিয়েই চোখ নামিয়ে নিল।

"তুমি ওর খেলনা নিয়েছো??" 

কুহুক চুপ। কোন কথা বলল না। মনসুর সাহেব দুঃখিত হলেন। ছেলেটাকে তার ভালই মনে হয়েছিল। অন্তত চোর মনে হয় নি। 

"জমির।"

"জ্বী স্যার।"

"ওকে বাড়ী থেকে বের করে দাও। আমি কোন চোর পুষব না।"

" জ্বী স্যার। ঠিকাছে। এই ব্যাটা চোরের বাচ্চা, আয় আমার সাথে।" জমির টানতে টানতে কুহুককে নিয়ে গেল। মনসুর সাহেব মেয়েকে নিয়ে উপরে চলে এলেন।

রাতে মিলিকে কিছুতেই খাওয়ানো গেল না। কাদতে কাদতে মনসুর সাহেবের কোলেই ঘুমিয়ে পড়ল। মেয়ের শোকে মনসুর সাহেবেরও খাওয়া হল না। তিনিও মেয়ের পাশে শুয়ে মেয়ের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে ঘুমিয়ে পড়লেন।

                                                
সকাল বেলা পাখির কিচির মিচিরে মনসুর সাহেবের ঘুম ভাঙল। মিলি বিছানায় নেই। মনসুর সাহেব বারান্দার দিকে এগোতেই দেখেন মিলি তার মায়ের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে কাদছে। মিলি তার বাবাকে দেখেই দৌড়ে এল। মনসুর সাহেব মেয়েকে বুকে তুলে নিলেন। মিলি কাদতে কাদতে বলল,

"কুহুক চুরি করেনি আব্বু। ও আমাকে ভাল করে দিয়েছে। দেখো আমিও তোমাদের মত কথা বলতে পারি।"

মনসুর সাহেব গভীর আবেগে মেয়েকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন। তার চোখ ভিজে আসতে শুরু করেছে। 

[সমাপ্ত]

[বিঃদ্রঃ এই গল্পের সাথে হুমায়ূন আহমেদের একটা গল্পের মিল রয়েছে। কারন ঐ গল্পটা পড়েই এই গল্পটা লেখা হয়েছে। যদিও হুমায়ূন আহমেদের লেখনীর ধারে কাছেও এটা নাই। তারপর যদি কারো ভাল লাগে তবে পুরো ক্রেডিট তার। আর না লাগলে দায়দায়িত্ব সব আমার। ধন্যবাদ।]