Featured Post

I SAID NO TO QUANTUM METHOD

পূর্বে পোস্ট আকারে প্রকাশিত। কারও সাথে ঝগড়া করার জন্য এটা দেইনি। নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম। কেউ মানতে না পারলে আমার কিছু করার নেই।  আ...

Showing posts with label ফেসবুক. Show all posts
Showing posts with label ফেসবুক. Show all posts

Sunday, April 14, 2019

I SAID NO TO QUANTUM METHOD

পূর্বে পোস্ট আকারে প্রকাশিত। কারও সাথে ঝগড়া করার জন্য এটা দেইনি। নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম। কেউ মানতে না পারলে আমার কিছু করার নেই। 

আগেই বলে নেই এই পোস্টের কোন রেফারেন্স হবে না। কাজেই রেফারেন্স পাগলারা পিছু নিবেন না।

আমি একজন কোয়ান্টাম গ্রাজুয়েট। বেশ কয়েকবছর আগে কোয়ান্টাম মেথডের কোর্স করেছিলাম ঢাকায়। এরপর সাইকি হিলিংয়ের কোর্স করে হিলিংও করেছি কিছুদিন। কাজেই কোয়ান্টামের কিছু জ্ঞান আমার হয়েছে। সেখান থেকেই লিখছি।

প্রথম কথা হল, কোয়ান্টাম মেথডে যেসব শিখানো হয় কুরআন-সুন্নাহতে এগুলো কিছুই নেই। কারও যদি জানা থাকে আছে তাহলে প্রমাণ দিবেন প্লীজ। সালাফে-সালাহীনদের মধ্যে কেউই এগুলো করেন নি।

দ্বিতীয়ত, এটাকে চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে গ্রহন করার সুযোগ নেই। কারণ রোগ-মুক্তির চেয়ে ঈমান বড়। ঈমানহারা হয়ে কোণ মুসলিম রোগমুক্তি চাইতে পারে না।

এখন প্রশ্ন হতে পারে, কোয়ান্টাম কিভাবে ঈমান হারা করতে পারে? সবচেয়ে বড় কথা হল, কোয়ান্টাম সকল ধর্মকে "সমান" হিসেবে দেখতে শিখায়। অথচ আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ইসলাম ছাড়া অন্য কিছু কখনই গ্রহন করা হবে না।

First Aid Series (Part 1)

** সাপে কামড় দিলে কি করব?

সাপে কামড় দিলে প্রথম করনীয় হল বিষাক্ত সাপ কামড়েছে নাকি অবিষাক্ত সাপ কামড়েছে তা নির্ধারন করা। যদি কামড়ের স্থানে দুই দাতের চিহ্ন পাওয়া যায় তাহলে বিষাক্ত সাপে কামড়েছে। আর যদি আচরের মত চিহ্ন হয় তাহলে অবিষাক্ত সাপে কামড়েছে।


বিষাক্ত সাপে কামড়ালে কামড়ের স্থানের উপরে ও নিচে হালকা করে বেধে দিতে হবে। টাইট করে বাধলে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যেয়ে পচন ধরতে পারে। এরপর দ্রুত সরকারী হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। কারন সরকারী হাসপাতালে ছাড়া বিষক্রিয়ার আক্রান্ত রোগীকে ভর্তি করবে না।

লক্ষ্য রাখতে হবে রোগী যেন ঘুমিয়ে না পড়ে।

লক্ষ রাখতে হবে সাপে কাটা রোগীকে ফেলে যেন কোথাও না যাই।

বিষের উপর নির্ভর করে বিষাক্ত সাপকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

মূল সমস্যা

নামায পড়া কি?
>ইবাদত
রোযা রাখা?
>আল্লাহর হুকুম
বিয়ে করা?
>ইয়ে মানে...
পাত্র-পাত্রী দেখা?
> না মানে......
সমস্যাটা কোথায় ধরতে পেরেছেন?

ইংরেজদের হাতে মুসলমানমাদের পতনের পর যেসব মুসলিমরা ইংরেজদের অধীনতা মানতে চাই নি তারা ছোট খাট প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে থাকে। ইংরেজরা মুসলিমদের মূল শক্তি মাদ্রাসাগুলোকে পঙ্গু করার জন্য মাদ্রাসার উপার্জনের রাস্তা বন্ধ করে দেয়। ধীরে ধীরে মুসলিমগণ লোকালয় থেকে দূর থেকে দূরবর্তী স্থানে পিছিয়ে যেতে থাকেন। অনেকে সেখানে থেকে সংঘবদ্ধ হয়ে ইংরেজদের ক্ষতিসাধন করতে থাকেন। চতুর ইংরেজরা বুঝতে পারে এভাবে যুদ্ধ করে মুসলিমদের দমিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। বরং মুসলিমদের ঈমানী শক্তির মধ্যে ঘাপলা লাগিয়ে দিতে হবে। ইসলামকে কেবল লেবাসী/আচার-অনুষ্ঠানের ইসলাম বানাতে হবে। সে লক্ষ্যে ইংরেজরা এদেশের মানুষের মধ্যে কুফরী বিষ ঢুকাতে নতুন শিক্ষাব্যবস্থা চালু করে। উইলিয়াম হান্টারের বইয়ে এই বিষয়ে বিস্তারিত পাওয়া যাবে।

দুই জাতের পাগল

পৃথিবীতে দুই ধরনের পাগল আছে। একটা হইল এমনেই পাগল, আরেকটা হইল প্রেমে পাগল!

যারা এমনেই পাগল তাদের জন্য মানুষ দোয়া করে, আফসোস করে করে যে, হায় না কোন অপরাধে এমন আযাবে সে গ্রেফতার হয়েছে। না জানি তার বাবা-মা কত কষ্টে আছে!

আর যার প্রেমে পাগল তাদের দেখলে সামনা-সামনি মুখটা একটু দুঃখী দুঃখী ভাব করে রাখলেও আড়ালে গিয়ে হাসে! কত বড় ব্রেইনলেস হলে এমন পাগলামী করে। আরেকজনের সাথে হাসি-ঠাট্টা করে, "জানিস অমুকে না এই এই গুলা করে। হা হা হা", "তাদের ফ্যামিলিতেও মনে হয় এইগুলাই চলে।"

মূর্খতার কোন লেভেলে পৌছালে মানুষ তার এসব জাহেলিয়াতের কথা, পাপাচারের কথা প্রকাশ্যে বলে বেড়ায় তা সহজেই অনুমেয়। এদের জন্য দোয়া আসে না, আসে শুধু করুণা।

ফেসবুকের পাসওয়ার্ড

অনেকদিন ধরেই ভাবছিলাম ফেসবুক একাউন্টের সিকিউরিটি নিয়ে কিছু লিখব। সময়ের কারণে হয়ে উঠে না। আর এটা নিয়ে অনলাইনে অনেক লেখা-লেখি হয়েছে। অনেকেই অনেক কিছু জানেন। আজকের পাসওয়ার্ড পর্বে আপনার জ্ঞানটুকু নির্দ্বিধায় শেয়ার করুন।

ফেসবুক একাউন্ড নিরাপদ করার প্রথম ধাপ হল শক্তিশালী পাসওয়ার্ড নির্বাচন করা। কিভাবে নির্বাচন করবেন?
  •  পাসওয়ার্ড হবে কমপক্ষে ৮ অক্ষরের। এরচেয়ে বড় হলে আরও ভাল।
  •  আলফা-নিইমারিক অক্ষর থাকবে। অর্থাৎ বর্ণমালা থেকে বর্ণ থাকবে আর সাথে সংখ্যা থাকবে।
  •  ছোট হাতের এবং বড় হাতের অক্ষর থাকবে।
  •  কোন স্পেশাল ক্যারেক্টার যেমন @, #,. ইত্যাদি থাকবে।

এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখলেও মোটামুটি শক্ত ধরনের পাসওয়ার্ড তৈরি হবে। উদাহরণ স্বরূপ, yahoo1995 এই পাসওয়ার্ডটির কথা ভাবা যাক। একে যদি উপরের শর্তগুলো মধ্যে ফেলি তাহলে এটি অনেকধরনের রূপ নিতে পারে। যেমনঃ

আল্লাহর জন্য কাজ


তাবলীগওয়ালারা একটা কথা বলেন যে,তাবলীগের মেহনত আল্লাহ চালিয়ে নিবেন। চাই আমি, আপনি করি বা না করি।

প্রমান পেয়েছি সেদিন।

(ধরি) রাশেদ নামে আমার এক ক্লাসমেট ছিল। মাস্তানী করত। "মাইয়া কেস"-এ এক বড় ভাইরে আমার সামনেই মারধর করেছিল।


সেই রাশেদকে দিয়ে এখন আল্লাহ তার কাজ করাচ্ছেন। প্রিয় বান্দাদের দ্বারে দ্বারে পাঠাচ্ছেন একটি আহ্বান নিয়ে, "চল ভাই, মসজিদে চল" ।

আর আমার মত গোনাহগার নেক কাজ করতে পারব না- সেটাই স্বাভাবিক।

সকল নেক মেহনতের জন্য এই উদাহরণ প্রযোজ্য।আল্লাহ তায়ালা তার কাজ চালিয়ে নিবেন। গোনাহের কারনে আমি বাদ পড়ে যাব।

এটাই সত্য!

Friday, July 7, 2017

কুরআন/হাদীস নিয়ে অযৌক্তিক যুক্তি


আমি যদি বলি রোগ হয়েছে ডাক্তারের কাছে যাবার দরকার নেই, অপারেশনের দরকার নেই। বইপত্র কিনে নিজেই পথ্য নিন, ছুড়ি-চাকু দিয়ে সার্জারি নিজেই করুন। আপনি আমাকে হেমায়েতপুর পাঠাতে চাইবেন। 

আমি যদি বলি বাজার থেকে চাল-ডাল কেনার দরকার কি? কাস্তে-কোদাল নিয়ে নিজেই ফসল ফলিয়ে খাবেন। তাহলে আমাকে বলদ বলবেন।

যদি বলা হয় আইনি ঝামেলা আইনজীবীর কাছে না যেয়ে আইনের বইপত্র কিনে নিজেই মোকাবেলা করতে তাহলে নির্ঘাত মাথায় বাড়ি দেবেন।

যদি বলি দালান বানাতে আবার ইঞ্জিনিয়ার লাগে? নিজে নিজে বই পড়েই তো বানানো যায়। আপনি আমাকে নির্বোধ বলবেন। 

যদি বলি সিএনজি ভাড়া দেয়ার কি দরকার? নিজেই সিএনজি কিনে চালাবেন-তাহলে মুখ খারাপ করে দিবেন। 

যদি বলি মোবাইলের সমস্যায় মেকারের কাছে যাবার প্রয়োজন নেই। স্ক্র ড্রাইভার নিয়ে নিজেই লেগে যান। তাহলে নির্ঘাত আমার সাথে তর্ক জুড়ে দিবেন। 

শুধু আপনি যখন বলেন আলেমদের কি দরকার। কুরআন-হাদীস নিয়ে গবেষণা করতে বসেন - তখন আমি কি করব তাই ভেবে পাই না।

কার টাকা কার পকেটে যাচ্ছে...


ছোট্ট একটি হিসাব করি। 


ধরি, কোন মুসলিমের বাৎসরিক আয় ৬,০০,০০০ টাকা। এর মধ্যে বেতন ৪,৮০,০০০ টাকা। বাকি ১,২০,০০০ টাকা তিনি বিভিন্ন উপলক্ষে বোনাস পেয়ে থাকেন। আরও ধরা যাক, বছরের যেকোন সময় (কুরবানীর ঈদ হতে পারে) তার একাউন্টে বেতন-বোনাস মিলে এককালীন ১,০০,০০০=+ টাকা তার ব্যাংক একাউন্টে জমা হয়। (যেহেতু দিনমজুর টাইপের কাজ ছাড়া প্রায় সকল ধরনের কাজে এখন ব্যাংক একাউন্টে স্যালারী যোগ হয়) 

এখন কারও আয় ২,৫০,০০০ টাকা থেকে ৭,০০,০০০ টাকা হলে তাকে আয়কর দিতে হবে ১০ শতাংশ। এই হিসেবে ঐ মুসলিমের ৬০,০০০ টাকা আয়কর দিতে হবে। ব্যাংকে এককালীন লক্ষাধিক টাকা জমা হবার কারনে তাকে আবগারী শুল্ক বাবদ দিতে হবে (বর্তমান বাজেট অনুযায়ী ১ হাজার। আগে ৫শ' ছিল) ১ হাজার টাকা। ব্যাংক একাউন্ট খোলার জন্য এখন এস এম এস ব্যাংকিং বাধ্যতামূলক। এর চার্জ প্রায় ৩০০ টাকা বছরে। একাউন্ট মেইনটেন্যান্স খরচ ব্যাংক কাটবে ১০০ টাকা। হল ১৪০০ টাকা। এইধরনের বিভিন্ন চার্জের উপর আসবে ভ্যাট। ভ্যাট সহ মোট চার্জ ১৫৫০ টাকা অতিক্রম করে যাবার কথা। আর যদি ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড থাকে তাহলে সেটার চার্জ ধরলাম বছরে ২০০ টাকা। মোট ১৭৫০ টাকা। 

তাহলে ঐ মুসলিমের ৬০,০০০+১,৭৫০=৬১,৭৫০ টাকা হাওয়ার উপরে চলে যাবে।

হুজুরদের যত দোষ!


আমিঃ মেয়েদের জাতটাই খারাপ!
বুদ্ধিজিবীঃ আপনার মা-বোনওতো তাহলে খারাপ। তারা কি খারাপ কাজ করেছে সেটা আগে বলেন।

আমিঃ ছেলেরা সব প্রতারক!
বুদ্ধিজিবীঃ সবাইকে এক পাল্লায় মাপবেন না। খারাপ ছেলে কয়েকটা। আর অন্যরা কি দোষ করল?

আমিঃ ডাক্তাররা সব কসাই। 
বুদ্দিজিবীঃ রোগ হলে ডাক্তারের কাছে যাবেন আবার গালিও দিবেন এমন ডাবল স্টান্ডার্ড কেন? আর কয়জন ডাক্তারকে চিনেন আপনি? 

আমিঃ সব পুলিশ ঘুষ খায়। কেউ কম খায়, কেউবা বেশি। এটাই তফাৎ। 
বুদ্ধিজিবীঃ ভাই, সব পুলিশ খারাপ না। সবাই খারাপ হলে দেশ চলত না। আমি অমুক কাজে থানায় গিয়েছিলাম ......... (চলন্ত) 

আমিঃ সাংবাদিকরা সব হারাম**!
বুদ্দিজিবীঃ একতরফা কথা বলেন কেন? ধানের বস্তা কি কখনও চিটে ছাড়া হয়? 

আমিঃ মাদ্রাসার হুজুর বলাৎকার করেছে। লাথি মেরে হুজুরদের দেশ থেকে বের করা দেয়া দরকার।
বুদ্ধিজিবীঃ ঠিক বলেছেন ভাই। হুজুররা দেশের ১২টা বাজাচ্ছে। এদেরকে দোর্‌রা মারতে মারতে দেশ থেকে বের করে দিতে হবে।

[পেঁচা রাস্ট্র করে পেলে কোন ছুতা,
জাননা সূর্য্যের সাথে আমার শত্রুতা?]

হাইকোর্টের মূর্তি ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা


কয়েকদিন আগে প্রশ্ন রেখেছিলাম যে, আপনার কাছে সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ কি? এবং এর ভিত্তি কি?


কয়েকজন উত্তর দিয়েছেন নিজের মত তবে ভিত্তি কি তা উল্লেখ করেন নি তেমন কেউ। হয়ত ভিত্তির উদ্দেশ্য বুঝতে পারেন নি। পরিষ্কার করি বিষয়টা। কোনটা ভাল, কোন মন্দ, কোনটা সবচেয়ে ভাল, কোনটা সবচেয়ে মন্দ; সেটা যদি যার যার বিচার-বিবেচনা ও বিবেকের উপর ছেড়ে দেই তাহলে এক এক জন এক এক অপরাধের কথা বলবে। কেউ বলবে সবচেয়ে বড় অপরাধ হল খুন করা, কেউ বলবে ধর্ষন করা, কেউ বা অন্য কিছু বলবে। কাজেই এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে মানবীয় যুক্তি-বুদ্ধির উর্ধ্বে উঠে আসমানী কিতাব সমূহের দিকে নজর দিতে হবে। সর্বশেষ আসমানী কিতাব আল-কুরআন অনুযায়ী আল্লাহ তায়ালার নিকট সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ হল "শিরক তথা আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করা।" ভিত্তি কুরআন ও হাদীস।

আবুল ওয়ালীদ এবং বিশর (র)...... আব্দুল্লাহ (ইব্‌ন মাসঊদ) (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেনঃ
"যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলুম দ্বারা কলুষিত করেনি" (৬:৮২) এ আয়াত নাযিল হলে রাসূল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম) এর সাহাবিগণ বললেন, "আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে যুলুম করেনি?" তখন আল্লাহ্‌ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করেনঃ "নিশ্চয়ই শির্‌ক চরম যুলুম।" (সূরা লোকমান, আয়াত ১৩) (সহিহ বুখারি, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৯, ইসলামি ফাউণ্ডেশণ) 

আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নে মাস্‌উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, সবচেয়ে বড় পাপ কোনটি? তিনি বললেনঃ (কাউকে) আল্লাহ্‌র প্রতিদ্বন্দ্বী বা সমকক্ষ সাব্যস্ত করা, অথচ তিনিই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি তাঁকে বললাম, এটা অবশ্যই মহাপাপ। আবার জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোন্‌টি? তিনি বললেনঃ তোমার সন্তান তোমার খাদ্যে ভাগ বসাবে এই আশংকায় তুমি তাকে হত্যা করছ। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, এরপর কোন্‌টি? তিনি বললেনঃ তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে যেনা করা। [সহিহ মুসলিম, পৃষ্ঠা-১৭৪, প্রথম খণ্ড, ইসলামি ফাউণ্ডেশন]

ফেসবুকের একটি ফালতু গল্প !

আগে নিচের বানোয়াট গল্পটা সবাই পড়ে নিন।
.
"ছেলে: এই শোনো,তুমি মিষ্টি না?

মেয়ে: হুমম,কিছু বলবেন?

ছেলে: না।

মেয়ে: তাহলে ডাকলেন কেন?

ছেলে: এমনি-ই।

মেয়ে: আপনি কি পাগল নাকি মাথায় ছিট আছে?

ছেলে: বলতে পারো দুটোই!

মেয়ে: পথ ছাড়ুন,আমি কোন পাগলের সাথে কথা বলি না!

ছেলে: আমি তো তোমার জন্যই পাগল হয়েছি!
একমাত্র তুমি-ই আমাকে ভালো করতে পারো!

মেয়ে: মানে?

ছেলে: মানে আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই!

মেয়ে: মাইনে কত?

ছেলে: মানে?

মেয়ে: বলছি মাসে কত ইনকাম করেন?

ছেলে: এইতো-সামান্য কিছু!

মেয়ে: আপনি কোন সাহসে আমার সাথে প্রেম করতে এসেছেন? দুই মাস পর একটা কোম্পানির এমডির সাথে আমার বিয়ে হবে!
আপনি তো তার বাড়ীর চাকর হবারও যোগ্য না!

ছেলে: তাই নাকি? আপনি আপনার হবু স্বামীকে দেখেছেন?

মেয়ে: না,আজই তার সাথে দেখা হবে।সে আমাদের বাসায় আসবে!

ছেলে: না।সে আর আপনাদের বাসায় যাবে
না!

মেয়ে: মানে, আপনি জানলেন কি করে?

ছেলে: কারণ সেই মানুষটা আমি-ই!

মেয়ে: তু-তু-তুমি! কি বলছো?

ছেলে: হুমম,যা সত্যি তা-ই বলছি!

মেয়ে: ওয়াও,কি হ্যান্ডসাম তুমি! তোমার মত একজন ছেলেকেই তো আমি মনে মনে খুঁজছিলাম!

ছেলে: কিন্তু আমি আপনার মত মেয়েকে খুঁজিনি। আমি খুঁজেছি এমন একটা মেয়ে, যে আমার টাকাকে নয়, ভালোবাসবে শুধু আমাকেই। আমি সত্যি-ই দুঃখিত! আপনার মত অর্থলোভী মেয়েকে আমি বিয়ে করতে পারবো না! আমি চলে যাচ্ছি।"


এইধরনের গল্পের সাথে আমরা কমবেশি সবাই পরিচিত। নিত্যনতুন বেশ ধরে এই গল্পগুলো প্রায়ই আমাদের হোমফিডে ঘুরে বেড়ায় যাদের সারাংশ হল "মেয়েরা খারাপ, অর্থলোভী, শয়তান" ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব মুখরোচক গল্পগুলো ফেসবুকে যতটা জনপ্রিয় বাস্তবের সাথে ঠিক ততটাই বেমানান।

যেকোন বিয়ের আগে অভিভাবকগন সাধারণত কিছু বিষয় দেখে থাকেন। ছেলের অভিভাবক দেখেন মেয়ে সুন্দরী কিনা, পড়াশুনায় কেমন, বাবার অবস্থা কেমন, মার্জিত-ভদ্র কিনা- ইত্যাদি ইত্যাদি। অপরদিকে পাত্রী খোজ নেন যে, ছেলের ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে, কি করে, মাসিক ইনকাম কত, নিজের মেয়ে সুখে থাকবে কিনা ইত্যাদি ইত্যাদি। আরো নানান বিষয়ে খোজ-খবর নেয়া হয় যা যাদের বিয়ে হয়েছে বা হবে হবে করছে তারা ভালভাবেই জানি।

Wednesday, March 8, 2017

বাড়াবাড়ি

কিশোর পাশার কথা মনে আছে কারো? হ্যা, তিন গোয়েন্দার কিশোর পাশা। নিজের মেধা আর বুদ্ধি দিয়ে বহু অপরাধীকে ঘোল খাওয়ানো রকিব হাসানের কিশোর পাশা!
এও নিশ্চয়ই মনে আছে যে, কিশোর পাশা একবার রোলস রয়েস গাড়ি জিতেছিল। কিভাবে জিতেছিল সেটাও একটু বলি।
রোলস রয়েস কোম্পানি থেকে একটি ঘোষনা করা করা হয় যে, একটি জারের ভিতর কতগুলো শিমের বিচি আছে বলতে পারলে তাকে রোলস রয়েস গাড়ি দেয়া হবে। বুদ্ধিমান কিশোর পাশা জারের আয়তন ও শিমের বিচির আয়তন মেপে সবচাইতে কাছাকাছি সঠিক উত্তর দিয়ে গাড়িটি জিতে নেয়।
মজার ব্যাপার হল, রোলস রয়েস কোম্পানি গাড়িটির মালিকানা হস্তান্তর করে নি। শুধুমাত্র ৩০ দিনের জন্য দিন-রাত যেকোন সময়ের জন্য ব্যবহার করতে দিয়েছিল। এটাই ছিল প্রতিযোগীতার পুরস্কার। যদি পুরস্কার হিসেবে আস্ত গাড়িটাই দিত তাহলে সেটা আর পুরস্কার থাকত না, হত বাড়াবাড়ি।
কাল্পনিক হোক বা অবাস্তব, কোনটা পুরস্কার আর কোনটা বাড়াবাড়ি সেটা বোঝার মত বুদ্ধি রোলস রয়েস কোম্পানির থাকলেও আমাদের নেই। আর পুরস্কার বা উপহার হিসেবে যে, নিজের মালিকানাধীন বিষয়ই দেয়া যায় এই ব্যাপারটাও অনেক সময় আমাদের খেয়াল থাকে না। মোবাইল আপনার, আর আমি যদি আপনার মোবাইলটা আমার কোন বন্ধুকে পুরস্কার/উপহার হিসেবে দেই তাহলে সেটা কেমন হয় সহজেই অনুমেয়।
মেহেদী হাসান মিরাজের বাড়ি খুলনায়। বাবা রেন্ট-এ-কারের মাইক্রোবাস চালক। বোন কলেজ স্টুডেন্ট। মিরাজ নিজেও এই বছর এইচ এস সি পাস করেছে। বাড়িতে দুটি ঘর, যার মধ্যে একটি মিরাজের বিভিন্ন মেডেল দিয়ে ভর্তি। বাড়িতে প্রবেশের রাস্তা এতটাই সরু যে ঐ রাস্তায় রিক্সা চলাচল করতে পারে না।
পরিস্কার বোঝা দরকার যে, মিরাজের ফ্যামিলি ছিন্নমূল নয়। তার পরিবারে টানাপোড়ন থাকতে পারে কিন্তু এমন নয় যে, দু'বেলা অন্নসংস্থান হয় না।
কিছুদিন আগেই অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপ দেখেছি আমরা। মিরাজ ছিলেন সেই দলের অধিনায়ক। শান্ত, জাকির হোসনদের মত মিরাজের পারফর্মমেন্স ছিল চোখ ধাধানো। সম্ভবত অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপে ভাল খেলার কারনেই মিরাজ শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পায়।
বাংলাদেশের হয়ে খেলতে নেমে প্রথম ম্যাচেই রেকর্ড করা নতুন কিছু নয়। আশরাফুল সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ানদের একজন, আবুল হাসান রাজু ১১ তম ব্যাটসম্যান হিসেবে শতরান করেন। আর আজকে তারা কোথায়? মিরাজ যে, হারিয়ে যাবে না তার কোন নিশ্চয়তা নেই। মমিনুল হকের রেকর্ডও আমরা দেখতে পারি। টেস্টে ব্যাটিং এভারেজ অনেক বেশি অথচ স্ট্রাইক রেটও ভাল। কিন্তু আজকে তার পরিচয় হয়েছে টেস্ট প্লেয়ার হিসেবে।
প্রধানমন্ত্রী টেস্ট সিরিজে মিরাজের পারফর্মেন্সে খুশি হয়ে খুলনার জেলা প্রশাসককে বাড়ি তৈরি করে দিতে বলেছেন। নির্দ্বিধায় করতালি পাওয়া যেত যদি প্রধানমন্ত্রী নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে বাড়িটা তৈরি করে দিতেন। নিজের টাকায় জমি কিনে তাতে ইট,বালি, সিমেন্ট ঢালতেন।
জেলা প্রশাসক মৌখিক নির্দেশ পেয়ে জমি দেখছে। লিখিত নির্দেশ পেলেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। জেলা প্রশাসক কি নিজের জমি দিবে? নিজের টাকা দিয়ে জমি কিনে দেবে? নিজের বেতনের টাকায় ইট,রড, সিমেন্ট কিনে বাড়ি করবে? উত্তর যদি হ্যা হয়, তাহলেতো কোন কথাই নেই। আর যদি না হয় তাহলে প্রশ্ন উঠে, এটা কি বাড়াবাড়ি হয়ে গেল না? কার টাকা, কার জমি?
মুস্তাফিজুরের বাড়িতে বিদ্যুৎ ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেয়া হয়েছে। কেউ রা করেনি, কারন ঘরে বিদ্যুৎ থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পাকিস্তানকে বাংলাওয়াশ করার পর প্রায় আট কোটি টাকা খেলয়ারদের দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে খেলোয়াড়দের গাড়িও দেয়া হয়েছিল। জাতীয় দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে অন্তত দুটি করে ফ্ল্যাট দেবার পরিকল্পনাও প্রধানমন্ত্রীর আছে বলে জানা যায়।
পৃথিবীতে আর কোন "পেশা"র "চাকুরীজীবি"দের এমন পুরস্কার দেয়া হয় কিনা আমার জানা নেই। কারো জানা থাকলে শেয়ার করুন।
মিরাজের বাড়ি প্রাপ্তিকে 'ইনকাম' বলার সুযোগ নেই। মিরাজ কি মাসে মাসে বাড়ি পাবে? জাতীয় দলের খেলোয়ারা কি বেতনের সাথে মাসে মাসে গাড়ি, দু'টো করে ফ্ল্যাট পায়?
জবাব চাইবার মত যখন কেউ না থাকে তখনই মানুষ বাড়াবাড়ি করতে পারে। আজকে রাজনৈতিক দলের কোন নগণ্য নেতা/কর্মী যদি আমার/আপনার লুঙ্গি খুলে নিয়ে যায় তখন "লুঙ্গি নিছে তো কি হইছে যন্ত্রতো নিতে পারে নাই" বলা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। তবে হ্যা, ভবিষ্যতে যে যন্ত্রও নিয়ে যাবে না, বা যন্ত্র ব্যবহারের উপর ট্যাক্স বসিয়ে কাউকে "পুরস্কার/উপহার" দেয়া হবে না সেই গ্যারান্টি কিন্তু দেয়া যায় না।
কাজেই ট্যাক্স বসানোর আগেই যন্ত্রের ব্যবহার নিশ্চিত করুন। যন্ত্র খোয়া যাবার আগে বেশি বেশি ব্যবহার করে পুষিয়ে নিন। আফসোস কম হবে। ধন্যবাদ।

Thursday, August 25, 2016

ফেসবুক সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধান


ডিসক্লেইমারঃ এই পোস্টের অনেক কথাই নিজের অভিজ্ঞতালদ্ধ। কাজেই কম-বেশি হতে পারে। হয়ত অন্যকারো আর ভাল উত্তর জানা আছে। আমি যা জানি সেটাই শেয়ার করছি।

প্রশ্ন-১ঃ ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক করে কিভাবে? 

উত্তরঃ প্রশ্নটা যতটা সহজ উত্তর ততটাই কঠিন। ব্যবহারকারী বোকা না হলে ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক করা খুব শক্ত। যেমনঃ

১. পাসওয়ার্ড চুরি করাঃ কেউ ফেবুতে পাসওয়ার্ড দিচ্ছে আপনি দেখে নিলেন। কোন খাতায় লিখে রেখেছে। দেখে নিলেন। এটাই সবচেয়ে সহজ। 

২. অপরিচিত কারো ফেসবুক পাসওয়ার্ড পেতে ফিশিং লিংক তৈরি করতে হবে। এটা এমন একটা লিংক যেটাতে কেউ ক্লিক করা মাত্র তার একাউন্টের কিছু তথ্য আপনার হস্তগত হয়ে যাবে। সেই তথ্য দিয়ে উইন্ডোজ কমান্ড প্রমট বা অন্যকোন সফটওয়ারের সাহায্যে একাউন্ট হস্তগত করা যায়। এই লিংক তৈরি করার যাবতীয় কোডিং আপনাকে জানতে হবে। 

৩. সীম ক্লোনিংঃ যার একাউন্ট হ্যাক করতে চান তার যে ফোন নাম্বার ঐ আইডিতে ব্যবহার করা হয়েছে সেই নাম্বার জোগাড় করে তার সীমের ক্লোন সীম উঠাতে হবে। তারপর ঐ সীম ব্যবহার করে একাউন্ট হস্তগত করা যাবে। 

প্রশ্ন-২ঃ হ্যাক থেকে বাঁচার উপায় কি? 

উত্তরঃ

১. পাসওয়ার্ড কারো সাথে শেয়ার করবেন না। কোন বিশেষ কাজের দরুণ সাময়িকভাবে শেয়ার করতে হলে কাজ শেষ হওয়া মাত্র নতুন পাসওয়ার্ড দিন।

২. পাসওয়ার্ড যেন কেউ চুরি করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখুন। মোবাইলে বা কম্প্যূটারে পাসওয়ার্ড দেয়ার সময় কেউ আপনাকে লক্ষ করছে কিনা খেয়াল রাখুন। আপনার ব্রাউজারে “Show Password” অপশনটি থাকলে তা থেকে টিক চিহ্ন উঠিয়ে দিন। পাসওয়ার্ড কোথাও লিখে রাখবেন না। 

৩. পাসওয়ার্ড শক্তিশালী করুন। কিভাবে পাসওয়ার্ড শক্তিশালী করবেন সেটা জানতে গুগলে how to create a strong password লিখে সার্চ করুন।

৪. আপনি যেখান থেকেই ফেসবুকে লগিন করে থাকেন না কেন ফেসবুক ব্যবহার শেষ হলেই লগ আউট করুন। বার বার ইমেইল, পাসওয়ার্ড দেয়া বিরক্তিকর মনে হলেও এটা নিরাপদ। কোন কারনে ফোন চুরি হলেও সমস্যা হবে না। করতে না চাইলে ফোনের সিকিউরিটি শক্ত করে নিন, যেন ফোন চুরি হলেও চোর আপনার ডাটা এক্সেস করতে না পারে।

৫. যারা ফোন নাম্বার দিয়ে ফেসবুকে খুলেছেন এবং কোন ইমেইল যুক্ত করেন নি তারা যত দ্রুত সম্ভব ইমেইল যুক্ত করে নিন। ইমেইলের পাসওয়ার্ড ভুলে যাবেন না। ইমেইল সক্রিয় রাখতে মাসে অন্তত একবার ইমেইল একাউন্টে লগিন/সাইন ইন করুন। 

৬. Login Approval: লগিন এপ্রুভাল চালু করে রাখুন। Settings>Security>Login Approvals এ যান। সেখানে আপনার ফোন নাম্বার দিলে মোবাইলে একটা কোড আসবে। ঐ কোড দিলে login approvals চালু হয়ে যাবে। ধরা যাক, আপনি অপেরা মিনি দিয়ে ফেসবুক ব্যবহার করেন। এখন যদি আপনি UC দিয়ে লগিন করতে চান তাহলে আপনার মোবাইলে ফেসবুক থেকে কোড আসবে। সেই কোড দিলে UC দিয়ে লগিন করতে পারবেন। কোড দেয়ার পর Save Browser/Don’t Save Browser অপশন আসবে। আপনি যদি UC একবারই ব্যবহার করতে চান তাহলে Don’t Save Browser সিলেক্ট করে Continue করুন। আর যদি UC আবারো ব্যবহার করেন তাহলে Save Browser সিলেক্ট করুন। এতে করে আপনি লগ আউট করলেও অন্যকোন সময় লগিন করতে চাইলে কোড চাইবে না। কোন কম্প্যূটারের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার ঘটবে।

দ্রষ্টব্যঃ 

আপনি যে ব্রাউজার (Opera, UC, Chorme, Firefox) সবসময় ব্যবহার করেন শুধু সেই ব্রাউজারের ক্ষেত্রেই Save Browser অপশনটি নির্বাচন করবেন।
ব্রাউজারে History মুছে ফেললে পুনরায় কোড চাইতে পারে। ভয় পাবার কিছু নেই। মোবাইল দেখে কোড দিন।

অনেক সময় কোড আসে না। তখন যে পেইজে কোড চেয়েছে সেখানে দেখতে পাবেন অনেকগুলো অপশন আছে। সেখান থেকে “Send Code To My Mobile” নির্বাচন করলে ফোনে কোড আসবে। 

ধরা যাক, যে নাম্বারটি ফেসবুকে সেট করেছেন সেই সীমটি ফোন থেকে খুলে ফেলেছেন। এখন কম্প্যুটার বা অন্য মোবাইল দিয়ে লগিন করতে চাচ্ছেন। আইডি পাসওয়ার্ড দেয়ার পর কোড চাইল। সেক্ষেত্রে যে ব্রাউজারটি (ধরি, মোবাইলের অপেরা মিনি) ফেসবুকে সেভ করা আছে সেটাতে লগিন করা থাকলে সেখানে নটিফিকেশন আসবে “Access from unauthorized browser” ওখানে ক্লিক করলে দেখাবে কোথ্যেকে লগিন করার জন্য চেষ্টা করা হয়েছে। সেখানে “That was me” তে ক্লিক করলে আবারো “Save Browser” অপশন আসবে। চাইলে সেভ করতে পারেন। অন্যথায় Don’t save দিয়ে continue করুন। এখন অন্য মোবাইল বা কম্প্যুটারের পেইজ টা রিফ্রেশ করলেই আপনার একাউন্ট লগিন হয়ে যাবে। 

Login Approval সেট করার পর আবারো Login Approval ক্লিক করলে “Get Codes” অপশনটি আসবে। ক্লিক করলে ১০ টি কোড পাওয়া যাবে। যদি আপনার কাছে সীম না থাকে এবং এমন কোন ব্রাউজার না থাকে যেটা ফেসবুকে সেভ করা আছে তাহলে কোড চাইলে এই ১০ টি কোডের যেকোন একটি কোড হিসেবে দিয়ে লগিন করা যাবে। আইডি, পাসওয়ার্ড দেয়ার পর কোড চাইলে এই ১০ কোডের একটি দিলেই হবে। একটি কোড একবারের বেশি ব্যবহার করা যাবে না। কাজেই কোডগুলো স্ক্রিনশট নিয়ে যত্নে রেখে দিন। ৮-৯ টা কোড ব্যবহার হয়ে গেলে আবারো কোড পেতে Settings>Security>Login Approval> Get Codes থেকে নতুন করে ১০ টি কোড পাওয়া যাবে। 

৭. Trusted Contact: ট্রাস্টেড কন্টাক্ট সেট করে রাখলে লকড একাউন্ট ফেরত পাবার একটা রাস্তা থাকে। কাজেই ট্রাস্টেড কন্টাক্ট সেট করে রাখুন। Settings>Security>Trusted Contact থেকে আপনার বিশ্বস্থ দু’জন বা তিনজন বন্ধুকে ট্রাস্টেড কন্টাক্ট সেট করুন। 

৮. ফেসবুকে পাওয়া কোন মনোহরী লিংকে ক্লিক না করা। অনেক সময় দেখা যায় অনেকে পোস্ট দিচ্ছেন, “www.facebook2.com এটা ফেসবুকের নতুন লিংক। এই ফেসবুক অনেক সুন্দর। যাদের নেই তারা জলদি ক্লিক করুন” অথবা “who is your top friend” “who has a secret crash on you” ইত্যাদি। এসব সন্দেহজনক পোস্ট থেকে একশ’ হাত দূরে থাকুন এবং অপরকে রাখুন। 

৯. আপনি যদি ফোনে ফেসবুকে ব্যবহার করে থাকেন তাহলে সম্ভব হলে কোন কম্প্যূটার থেকেও মাঝে মাঝে লগিন করুন। কোড চাইলে কোড দিন, ইচ্ছে হলে “Save Browser” দিন; তবে লগ আউট করতে ভুলবেন না। আপনি কোথা থেকে, কিভাবে ফেসবুকে ব্যবহার করছেন ফেসবুক তার হিসেব রাখে। যেটা হ্যাক হওয়া আইডি উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যারা কম্প্যূটারে ফেসবুক ব্যবহার করেন তারাও অন্য মোবাইল বা কম্প্যূটারে মাঝে মাঝে লগিন করুন।

এই স্টেপগুলো ফলো করলে একজন হ্যাকার গলদ্গর্ম হবে আপনার একাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিতে। 

প্রশ্ন-৩ঃ একাউন্ট হ্যাক হয়েছি কিনা বুঝব কিভাবে? 

উত্তরঃ অনেক স্মার্ট হ্যাকার পাসওয়ার্ড হ্যাক করার পরও পাস পরিবর্তন না করে ব্যবহারকারীর গতিবিধি পর্যবেক্ষন করে। তখন কিভাবে বুঝবেন? যদি দেখা যায়, আপনার একাউন্ট থেকে এমন কোন পোস্ট পরেছে যেটা আপনি দেন নি; কারো কাছে মেসেজ গিয়েছে কিন্তু ম্যাসেজটা আপনি দেন নি; কোন পোস্ট/পেইজে লাইক/কমেন্ট পড়েছে কিন্তু সেটা আপনি করেন নি; তাহলে বুঝতে হবে অন্যকেউ আপনার একাউন্ট ব্যবহার করছে। 

প্রশ্ন-৪ঃ আমার একাউন্ট হ্যাক করে লাভটা কি?

উত্তরঃ এই প্রশ্নের উত্তর হ্যাকারই ভাল দিতে পারবে। কেউ হয়ত চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে যে সে কোন একাউন্ট হ্যাক করতে পারে কিনা আর তার চ্যালেঞ্জের ভিকটিম হলেন আপনি। কেউ হয়ত আপনার উপর কোন প্রতিশোধ নিচ্ছে। হতে পারে মানুষকে বিব্রত করাটা তার কাছে নির্মল বিনোদন। আপনার নামে আজে-বাজে কথা বলে, বাজে ছবি পোস্ট করে আপনাকে হেয় প্রতিপন্ন করা, মান-সম্মান নষ্ট করাও উদ্দেশ্য হতে পারে। আজকাল একাউন্ট হ্যাক করে ভিকটিমের বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনদের কাছে টাকাও ধার চাওয়া হচ্ছে। কাজেই ফেসবুকে আপনার কাছে কেউ টাকা চাইলে দিবেন না। আগে ফোনে বা দেখা করে নিশ্চিত হয়ে নিন।

পরের প্রশ্নঃ কেউ আমার আইডি হ্যাক করেছে। কিভাবে আইডি ফিরে পাব? 

উত্তরঃ 

১. যখনি বুঝতে পারবেন আপনার আইডি কেউ হ্যাক করেছে সাথে সাথে Forget Password দিয়ে ইমেইলের মাধ্যমে আইডি ফিরে পেতে পারবেন। ইমেইলে একটা লিংক যাবে সেই লিংকে ক্লিক করলে নতুন পাসওয়ার্ড দিতে পারবেন। 

২. আপনি পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার আগেই যদি হ্যাকার আপনার একাউন্টের ইমেইল এবং ফোন নাম্বার পরিবর্তন করে ফেলে তাহলে যে মোবাইল/কম্প্যূটারের যে ব্রাউজার দিয়ে ফেসবুক চালান সেটা দিয়ে Forget Password অপশনে যাবেন। সেখানে আপনার আইডি username/full name লিখে সার্চ করবেন। রেজাল্ট থেকে আপনার আইডি সিলেক্ট করলে ইমেইলে লিংক পাঠানোর পাতা আসবে। যেহেতু হ্যাকার আপনার ইমেইল পরিবর্তন করে ফেলেছে সেহেতু আপনি no longer access to this এ ক্লিক করুন। নতুন ইমেইল দেয়ার পাতা আসলে সেখানে আপনার ইমেইল পাস দিন। কোন পাতায় আপনার পুরনো পাসওয়ার্ড চাইতে পারে যেন ফেসবুক যাচাই করতে পারে যে, এটা আসলেই আপনার আইডি ছিল। নতুন ইমেইল দেয়া হলে ইমেইল চেক করে দেখুন ফেসবুক থেকে পাসওয়ার্ড রিসেট করার কোন ইমেইল আসছে কিনা। 

বিঃদ্রঃ আমার ধারনা এই পদ্ধতি শুধু পরিচিত ডিভাইসের ক্ষেত্রে কাজ করবে। কারন আমি দুই-একজনের আইডি উদ্ধারের চেষ্টা করে দেখেছি নতুন ইমেইল দেয়ার অপশন আসে না আমার এখানে। অথচ নিজের আইডিতে forget password দিলে পরে নতুন ইমেইল দেয়ার অপশন আসে।

৩. ট্রাস্টেড কন্টাক্ট দিয়েও আইডি রিকভার করা যায়। বিস্তারিত জানতে https://¬web.facebook.com/¬help/¬213343062033160?_rdr এ ক্লিক করুন। 

প্রশ্ন-৬: আমার মেসেজগুলো সিন হয়ে যায়। অথচ আমি মেসেজ দেখিনি। এমন হবার কারনটা কি?

উত্তরঃ সম্ভবত একাধিক ডিভাইস/ব্রাউজার থেকে লগিন করা থাকার কারনে এমন হচ্ছে। ঘাবড়াবার কিছু নেই যদি না সন্দেহজনক কিছু ঘটে। এরপরও যদি আশ্বস্থ না হন তাহলে Settings>Security>Recognized Devices এ যেয়ে কোন কোন ডিভাইস থেকে আপনার আইডিতে লগিন করা হয়েছে সেটা দেখতে পারেন। অপরিচিত কিছু দেখলে সিলেক্ট করে ডিলিট করে দিন। এছাড়াও Settings>Security>Active Session থেকে কখন কখন আপনার আইডিতে লগিন করা হয়েছে সেটাও দেখতে পাবেন। সন্দেহজনক কিছু দেখলে ডিলিট করুন। 

প্রশ্ন-৭: ফ্রেন্ডস ছাড়া আর কেউ যেন আমাকে মেসেজ করতে না পারে এই সেটিংসটা কিভাবে করব?

উত্তরঃ এই সেটিংসটা আগে ছিল। যতদূর জানি বর্তমানে নেই। 

প্রশ্ন-৮: ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পেতে পেতে বিরক্ত হয়ে গিয়েছি। কি করলে কেউ ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠাতে পারবে না?

উত্তরঃ রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট বা ডিলিট না করে ঝুলিয়ে রাখবেন। এক হাজারের উপরে ঝুলিয়ে রাখলে নতুন করে আর কেউ রিকুয়েস্ট দিতে পারবে না।

প্রশ্ন-৯: আমার ছবি চুরি করে এডিট করে বাজে ছবির সাথে জুড়ে দিচ্ছে। কি করব?

উত্তরঃ অনুরোধ করে দেখতে পারেন যেন এমনটা না করে। যদি না শোনে তাহলে সাইবার ক্রাইম বিভাগের সাথে কন্টাক্ট করতে হবে।

প্রশ্ন-১০: আমার ছবি ব্যবহার করে নকল আইডি খুলেছে। কি করতে পারি?

উত্তরঃ প্রথমেই ছবি চুরি ঠেকাতে ছবিতে প্রাইভেসী সেট করুন। সেটা যাদের সাথে শেয়ার করতে চান প্রাইভেসীতে সেই অপশন দিন। সবচেয়ে ভাল হয় অহেতুক ফেসবুকে ছবি শেয়ার না করলে। আর চুরি হওয়া ছবি উদ্ধারে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সাহায্য নিতে হবে। আইডিতে রিপোর্ট করে লাভ নেই। এক আইডি নষ্ট হলে আরেক আইডি খুলবে। 

প্রশ্ন-১১: পরিবারের সদস্যা আমার লিস্টে আছে। কিছু একটা পোস্ট করলেই হাজারটা প্রশ্ন করে। সমাধান কি?

উত্তরঃ ফেসবুকে ফ্রেন্ডলিস্ট কাস্টমাইজ করার সুযোগ আছে। Settings>Privacy তে এই অপশন আছে। জিরো দিয়ে ফেবু চালাচ্ছি বিধায় এখন ফুল সেটিংসটা দিতে পারলাম না। একটু খুজে নিলেই পারবেন।

প্রশ্ন-১২: একলোক ইনবক্সে বাজে কথা বলছে। আমার নামে মানুষের কাছে আজেবাজে কথা ছড়াচ্ছে। কি করতে পারি?

উত্তরঃ একদম কান দেবেন না। কেউ বাজে কথা বললেই আপনি বাজে হয় যান না। ঐলোককে ব্লক দিন জলদি। এরপরও সতর্ক না হলে পুলিশের স্বরনাপন্ন হোন।

প্রশ্ন-১৩: আমার টাইম লাইন কে কে ভিজিট করেছে জানার উপায় কি? 

উত্তরঃ উপায় নেই। অনেক এপস দেখবেন এমনটা বলছে। কিন্তু সেটা সত্য নয় বলেই জানি।

প্রশ্ন-১৪: আইডির নাম পরিবর্তন করেছি। আবার পরিবর্তন করতে চাই। কিন্তু ৬০ দিনের আগে নাকি করতে পারব না। এমন কোন উপায় নেই যে ৬০ দিনের আগেই করতে পারি? 

উত্তরঃ শুনেছি https://free.facebook.com/help/contact/1417759018475333 এই লিংকে গেলে ৬০ দিনের আগেই নাম চেঞ্জ করা যায়। ফটো আইডি কার্ড লাগবে। আর কারনের ক্ষেত্রে Spelling Mistake নির্বাচন করতে হবে। দু-তিনদিনের মধ্যেই নতুন নাম আপনার আইডিতে সেট হয়ে যাবে। তবে এই পরিবর্তন কি স্থায়ী হয়ে যায় কিনা সেটা বলতে পারব না।

প্রশ্ন-১৫: ফোন নাম্বার দিয়ে আইডি খুলেছিলাম। তারপর নাম্বার ডিলিট করে দিয়েছি। ইমেইল এড্রেসও সেট করা নেই। এখন আর আইডিতে ঢুকতে পারছি না। কি করব?

উত্তরঃ এই প্রশ্নটা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে যে, প্রশ্নটা সঠিক কিনা। কারন যোগাযোগ করার কোন উপায় না রেখে ফেসবুকে ফোন ডিলিট করতে দিবে কিনা সন্দেহ আছে আমার। 

সে যাই হোক। ফেসবুকে আপনার আইডি খুজে বের করুন। তারপর নামের উপর ক্লিক করুন। ব্রাউজারের এড্রেস বারে এড্রেসটা দেখুন। www.facebook.com/”.......” পাবেন। / এর পরের অংশটুকু হল আপনার ইউজার আইডি। ইমেইল বা ফোন নাম্বারের জায়গায় এই ইউজার আইডি দিয়ে ফেসবুকে লগিন করতে পারবেন। 

প্রশ্ন-১৬: আমার বয়ফ্রেন্ড/গার্লফ্রেন্ডকে মেসেজ ব্লক দিয়ে সব মেসেজ ডিলিট করে দিয়েছি। এখন আনব্লক করব কিভাবে?

উত্তরঃ যদি আপনি এই মহৎ কর্মটি আপনার মেসেঞ্জার থেকে করে থাকেন তাহলে Settings>Blocked থেকে তাকে আনব্লক করতে পারবেন। আর যদি ব্রাউজার থেকে করতে থাকেন তাহলে Message>New Message এ গিয়ে ব্লককৃত ব্যাক্তির নাম সিলেক্ট করুন। তারপর Message Box এ কিছু একটা লিখে Send বাটন ক্লিক করলেই আনব্লক করার অপশন আসবে।

প্রশ্ন-১৭: আমার বন্ধু কি আমাকে ব্লক দিল নাকি আইডি ডিএক্টিভেট করে রেখেছে বুঝতে পারছি না। কিভাবে বোঝা যাবে?

উত্তরঃ আপনার ফ্রেন্ডলিস্টে যান। সেখানে যদি আপনার বন্ধুর নাম কালো কালিতে দেখতে পান তাহলে আইডি ডিএক্টিভেটেড। আর যদি বন্ধুকে যদি খুজেই না পান তাহলে আপনাকে ব্লক করে দিয়েছে। 

প্রশ্নের ভাডার আপাতত শেষ। তাই পোস্টও শেষ। 

উপাধী-২


অনলাইন আমাকে অনেক উপাধি দিয়েছে। তারমধ্যে নতুন হল তার্কিক উপাধী। বিভিন্নজনের বিভিন্ন অসংগতি যখন চোখে পড়ে তখন চুপ থাকতে কষ্ট হয়। প্রশ্ন করি, উত্তর পেয়ে আবারো প্রশ্ন করি। হয়ে যাই তার্কিক, তর্কবাজ! 

সবক্ষেত্রে আমিই ঠিক এমনটা নয়। দেখাযায় প্রায়ই ভুল বুঝি। ভুল বুঝে প্রশ্ন করার কারনে সঠিকটা জানতে পারি, শিখতে পারি। দুর্বল যুক্তির বিপরীতে সবল যুক্তি সবাই সমানভাবে গ্রহন করতে পারে না। বড়ভাইদের এসবক্ষেত্রে উদার পেয়েছি, তারা মেনে নেন বা না-ই নেন কখনো বিরূপ আচরন করেছেন বলে মনে পড়ে না। জুনিয়ররা অবশ্য অনেক এগ্রেসিভ। তাই জুনিয়র কারো পোস্টে কমেন্ট করার আগে ভাবি কয়েকবার। 

একজনের পোস্ট দেখেছিলাম যে, ২+২ = ৭, ৪+৭ = ১৩ হলে ১১+৮ = কত? জিনিয়াসদের খোজা হচ্ছে এই পোস্টের মাধ্যমে। এবং অসংখ্য জিনিয়াস দেখলাম উত্তর দিচ্ছে মাথা খাটিয়ে। গরুর পালে আমার মত দুই একটা ভেড়া যারা আছেন, তারা কিন্তু পালটা প্রশ্ন করেছেন ২+২ = ৭ কিভাবে হল? 

বলাই বাহুল্য, তারা জিনিয়াস খুজছিল, ভেড়া নয়। তাই প্রতিযোগীতা থেকে আমরা ছিটকে পড়লাম। 

এক মেয়ে আইডি থেকে মাযহাব বিরোধী পোস্ট পড়াতে যখন ছাই দিয়ে ধরলাম তখন লিস্ট থেকে কিক মারা হল উত্তর না দিয়ে। এরপর ইনবক্সে পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করার চেষ্টা! 

এসব ক্ষেত্রে হুমায়ুন আহমেদের একটি ঘটনা আমাকে খুব প্রেরণা যোগায়। এক সাংবাদিক গেল উনার ইন্টারভিউ নিতে। সাংবাদিক দেখেই তিনি বুঝতে পারলেন, এটা ত্যাড়া সাংবাদিক। সাংবাদিক যা বলে উনি তাতেই একমত হয়ে যান। সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, 

"সমালোচকরা বলেন আপনার লেখাগুলো হালকা টাইপ!" 

হুমায়ুন আহমেদের জবাব ছিল, "হালকা টাইপ মানে! এগুলো অবশ্যই হালকা এবং ফালতু লেখা। পড়ার অযোগ্য!" 

(হুবহু মনে নেই) 

ইন্টারভিউ আর জমে না। আমাদের ইনবক্সও জমে না। মেয়ে বলে, 

"কোন পনির? খাওয়ার পনির নাকি?" 

"জ্বী, খাওয়ার পনির।" 

"সিহাল পনির নাকি শিয়াল পন্ডিত?"

"শিয়াল পন্ডিত।" 

"বাস্তবেও শিয়াল পন্ডিত নাকি?" 

"জ্বী, বাস্তবেও তাই।" 

ঝগড়ার উদ্দেশ্য সফল হয় না। অথচ আমি যদি মাথা গরম করে কথা বলতাম তাহলে হয়ত সে "মাযহাবীদের অবস্থা" শিরোনামে স্ক্রিনশট দিয়ে দিত। (এমন পোস্ট দিত সে)। 

অনেক সময় কথা বলি একটা কেউ কেউ বোঝে আরেকটা। বুঝিয়ে বলতে চাইলে বলে, তর্ক করতে চাই না। তখন মেজাজটাই খারাপ হয়। মনেহয় পৃথিবীতে আমারই বাড়তি সময় আছে আর কারো নেই। 

এগ্রেসিভ তর্ক আর শিক্ষনীয় তর্কের মধ্যে পার্থক্য আছে। প্রথম শত্রুতা তৈরি করে আর দ্বিতীয়তা বিজ্ঞতা বাড়ায়!

ছোটখাট ব্যাপার!


ছোটবেলায় এককথায় প্রকাশ পড়েছিলাম, ঘোড়ার ডাক = হ্রেষা। আবার ইতিহাসে পড়েছি শেরশাহ নাকি ঘোড়ার ডাকের প্রচলন করেন। আমি চিন্তা করলাম ঘোড়ায় যে হ্রেষা হ্রেষা বলে ডাকে এটা শেরশাহ লিপিবদ্ধ করেছেন। এর আগে মনেহয় ঘোড়ায় ব্যা ব্যা করে ডাকত। এই ছোট ব্যাপারটা কার কাছে জিজ্ঞেস করি? লুজ্জা! লুজ্জা! 

কিছুদিন আগে ব্যাপারটা বুঝলাম। ঘোড়ার ডাক এককথায় হ্রেষা হলেও, শেরশাহের ঘোড়ার ডাক হ্রেষা নয়, ব্যা ব্যা ও নয়। শেরশাহের ঘোড়ার ডাক হল ঘোড়ায় করে চিঠি পত্রের আদান প্রদানের প্রচলন। 

নাকি আবারো ভুল করলাম। এই ছোট ব্যাপারটা কাকে জিজ্ঞেস করব? লুজ্জা! লুজ্জা!

Sunday, April 10, 2016

হুহ!

যারা বলে সব মেয়েরই বফ আছে, সিংগেল কোন মেয়ে নাই-তাদের বিয়ে যেন আরেকজনের প্রেমিকার সাথেই হয়।
যারা বলে ঘুষ ছাড়া চাকুরী হয় না-তাদের যেন ভিটে বিক্রি করেই ঘুষের টাকা টাকা জোগাড় করা লাগে।
১০০ তে ১০০ উত্তর দেবার পর যে বলে পরীক্ষা ভাল হয় নাই- সে যেন ৬০ এর উপর নাম্বার না পায়।
যারা বলে এই দেশে ভাল মানুষ নাই, সব চোর-বাটপার- তাদের যেন শুধুই চোরের খপ্পরে পড়ে।
যারা বলে মনের সৌন্দর্য আসল, দেহের সৌন্দর্য কিছু না- তারা যেন সুন্দর সাথী না পায়।
যারা ভাবে পৃথিবীতে তার চেয়ে দু:খী কেউ নাই- দু:খ যেন তার পিছু না ছাড়ে।

তনু হত্যা এবং ....

শীতের সকালের ঘুমটা নষ্ট হল বাইরে উত্তেজিত গলার শব্দে। বিরক্তিতে ভ্রু কুঁচকে গেল। একটু পড়েই কলেজে যাবার জন্য উঠতে হত। এখন আগেই ঘুম ভেঙ্গে গেল। কি নিয়ে এত হইচই কানে যেতেই ঘুম ছুটে পালালো। বড় মাঠে কে যেন ফাঁসি নিয়েছে!
আমাদের স্কুলটা একটা বিশাল চতুর্ভুজের মত। মাঠের চারদিকে স্কুল ভবন আর একপাশের দোতলায় কলেজ সেকশন। স্কুলের ভিতরের মাঠের চেয়ে বাইরের মাঠটা আরো বড়। আমরা বলি বড় মাঠ। ভিতরের মাঠে এসেম্বলি হয়। হ্যান্ডবল খেলাও হয়। টিফিনের ফাঁকে ফাঁকে আমরা গোল্লাছুট, বরফ পানিও খেলেছি আগে। কলেজ পড়ুয়ারা নিশ্চয়ই এইগুলা খেলে না। বড় মাঠে অবশ্য প্রমাণ মাপে ক্রিকেট, ফুটবল খেলার পরও আরো জায়গা খালি থাকে। টুর্নামেন্ট না চললে বিকেলে অনেকগুলো গ্রুপ এই মাঠে যার যার খেলা খেলতে পারে।
যাইহোক, স্কুল এবং বড় মাঠের মাঝখানে এ মাথা থেকে ও মাথা পর্যন্ত দেবদারু গাছের সারি। গাছেই নাকি কে আত্মহত্যা করেছে।
তড়িঘড়ি করে হাত মুখ ধুয়ে মায়ের চাদরখানা গায়ে জড়িয়ে বেড়িয়ে পড়লাম ঘটনা কি দেখার জন্য। আরো অনেকেই বের হচ্ছে। মাঠে যেয়ে দেখি পুরো ভীড় জমে গিয়েছে। মহিলারা এক কোণায় দাঁড়িয়ে আছে। ছোটদেরকে ধমক দিয়ে দূরে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। নাহলে ভয় পেয়ে কান্নাকাটি করতে পারে। আমার বন্ধুদের কেউ কেউ মাঠে আগেই এসেছে।
> কে ফাঁসি নিল?
>> তুই চিনস না?
> না চিনি না।
>> কেন। আমগো ক্লাসের হাসানের আব্বা।
হাসান! মুহুর্তের মধ্যে আমার আমার স্মৃতিতে সদা হাস্যোজ্জ্বল এক মুখচ্ছবি ভেসে উঠল। সে বালক শাখায় ছিল আর আমি সম্মিলিত শাখায়। কিছুদিন বালক শাখায় ক্লাস করার সুবাদে হাসানের সাথে ভালই ঘনিষ্ঠতা হয়েছিল। ক্লাসে তার একমাত্র কাজ ছিল আমার পাশে বসে আমাকে চিমটি কাটা! এত শৈল্পিকভাবে চিমটি কাটার মত শিল্পী আর কেউ আছে কিনা জানা নেই।
আমি আশে পাশে খুজি হাসানকে। নেই। হাসানের পরিবারেরও কেউ নেই। কিন্তু হাসানের বাবা আত্মহত্যা করবেন কেন?
বড়দের কথা শুনে মূল ব্যাপারটা বোঝা গেল। গতকাল রাতে কে বা কারা তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন। রাতে আর ঘরে ফেরেননি। উনি আগেও মাঝে মাঝে রাতে ঘরে ফিরতেন না। কাজেই বাসায় কেউ সন্দেহ করেনি। সকালে তারা খবর পেয়েছে। আরো জানা গেল, টাকা-পয়সা সংক্রান্ত ব্যাপারে কয়েকজনের সাথে তার গোলমাল চলছিল। হতে পারে তারাই হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছে।
তারমানে খুন! রহস!
ততদিনে তিনগোয়েন্দার পাঠ শেষ করে মাসুদ রানাও অনেক পড়ে ফেলেছি। আর পুলিশ যেহেতু এখনো আসে নি সেহেতু একটু ছোঁক ছোঁক করা যাক। যদি কোন ক্লু পাওয়া যায়।
গাছের নিচে যেয়ে দেখি এক পাটি জুতো পড়ে আছে। আরেকপাটি কোথায় গেল? এদিক সেদিক খুজি। নেই। চাচার গায়ে চাদর জড়ানো। চাদর গায়ে দিয়ে, লুঙ্গি পড়ে চাচা এত উপরে উঠলেন কিভাবে?
একশ গজ দূরে পানির একটা কল ছিল। ভাবলাম পানি খেয়ে আসি। কলের পাশে কন্সট্রাকশন কাজের জন্য ভাঙা ইটের খোয়া অনেক আগে থেকেই রাখা ছিল। কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে কিন্তু অতিরিক্ত খোয়াগুলো সরানো হয় নি। থেকে থেকে খোয়াগুলো গুড়ো হয়ে গিয়েছে। সেই গুড়ো উপর দিয়ে দুটো সমান্তরাল রেখার উপর আমার দৃষ্টি পড়ল।
অবাক হলাম ভীষন। এখানে এমন হল কিভাবে। এগিয়ে যেতেই পাশে কালোমত একটা কিছু আমার নজরে আসল। ঘাস সরিয়ে দেখলাম একপাটি জুতো।
দুইয়ে দুইয়ে চার মেলাতে এরপর আমার আর কোন অসুবিধাই হয় নি। পরিষ্কার বুঝতে পারলাম, ঘটনা এখানেই ঘটেছে। যে বা যারাই জড়িত থাকুক আংকেলকে মেরে টেনে হিচড়ে এদিক দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হয়ত কোন বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। সেখান থেকে চড় থাপ্পড় বা ধাক্কা ধাক্কি হয়েছে। বেমক্কা কোন আঘাত লেগে আংকেলের প্রানবায়ু বেড়িয়ে গিয়েছে। টানাটানির এক পর্যায়ে তার পায়ের জুতো খুলে যায় এবং পরে অন্ধকারের মধ্যে সম্ভবত এক পাটি জুতোই হত্যাকারী খুজে পেয়েছে। সেটাই গাছের নিচে রেখে দিয়েছিল।
এটা যে পরিষ্কার খুন সেটা বুঝতে শার্লক হোমস হতে হয় না। আমার মত সাধারন একজন কলজে ছাত্রও সেটা বুঝতে পারে। তবে খুন করার ইচ্ছা ছিল কিনা সেটা নিয়ে আমি সন্দিহান। কারন হত্যাকারী যে বা যারাই হোক তারা আংকেলের পরিচিত এবং তার কলিগ। কলিগকে খুন করার মত ঝুকি সাধারনত কেউ নেয় না।
উপরের ঘটনাটি সম্পূর্ণ সত্য। আমি যখন কলেজে পড়ি তখনকার কথা। এই ঘটনার কোন বিচার হয় নি। BCIC র একটি বড় ফ্যাক্টরির এই ঘটনা ধামাচাপা দেয়া হয়। অবশ্যই প্রশাসন এবং CBAর সহায়তায়। তারা অবশ্যই জানে খুনি কে বা কারা। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সাথে কোন মধ্যস্থতা করা হয়েছিল কিনা সেটা অবশ্য আমার জানা নেই। হাসান আমার বন্ধু হলেও এই ব্যাপারটা তাকে জিজ্ঞেস করা যায় না।
সে যাই হোক, আমার মত একটা কলেজ স্টুডেন্ট ঘটনাস্থল একবার দু'বার ঘূড়েই বুঝতে পেরেছিল যে, ঘটনা আত্মহত্যা নয়, বরং খুন। আর এখনকার বাঘা বাঘা ট্রেনিং প্রাপ্ত সেনা, পুলিশ, সিআইডি কর্মকর্তাদের তনু ধর্ষন হয়েছে কি হয় নি সেটা বুঝতে ১৪ বার ময়ণাতদন্ত করতে হয়!
তর্কের খাতিরে ধরা যাক, খুন করার আগে তনুকে ধর্ষন করা হয় নি। তখন নিশ্চয়ই খুব ঝড়ো বাতাস ছিল। ঝড়ো বাতাসে তনুর গা থাকে পোশাক উড়ে যায়। ব্যাপার না, আমারো এমন হয় মাঝে মাঝে লুঙ্গি পড়ে বাইরে গেলে। লুঙ্গি উড়ে যেতে চায়। কোনরকমে সামলাই।
খুন তো হয়েছে। এটাতো নিশ্চিত, নাকি? নাকি সপ্তাহখানেক পরে আবারো ময়ণাতদন্ত করে বলা হয়ে যে, খুনের কোন আলামত পাওয়া যায় নি? যেমনটা পাওয়া যায়নি সাগর-রুনির, যেমনটা পাওয়া যায় নি নুরুল ইসলাম ফারুকীর। নাকি পাওয়া গিয়েছে। হু নোস্‌ ....
টাকা পয়সা দিয়ে এই অর্থব, বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী, কাপুরুষ লোকজন পালে সরকার। সরকারের কি? সরকারতো নিজের পয়সায় পালে না। তাই তাদের গায়ে লাগে না। আর যাদের পয়সায় পালে তারাতো ভিক্টিমই। রক্ষকই যদি ভক্ষক হয় অথবা ভক্ষকদের পৃষ্ঠপোষক হয় তবে উপরওয়ালার দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কোন রাস্তা দেখি না।

পঠিত বই সম্পর্কে মতামত-২

অন্যগল্প পড়ে শেষ করলাম। এই বইয়ে গুনতে যদি ভুল করে না থাকি তাহলে ৫১ টা গল্প আছে। প্রতিটি লেখার প্রতিক্রিয়া আলাদাভাবে দেবার আগে ওভারওল কিছু কথা বলি। নালন্দা প্রুফ নিয়ে আমার আপত্তি আগে থেকেই ছিল। ভেবেছিলাম এবার এদিকে বিশেষ নজর দেয়া হবে। বানান এবং লেখার বিন্যাস প্রতিটি বইয়ের একটা সৌন্দর্য্য। এইদুটো জিনিসের অভাব বইটিতে লক্ষ্যনীয়।
এবার আসি প্রতিটি লেখায়। প্রতিক্রিয়া খুব ছোট হবে।
১. মহুয়া (আগেই পড়েছি মনেহয় লেখকের টাইম লাইনে)
২. সায়াহ্ন (হুম)
৩. অনন্তকালের গল্প (আমার কাছে তো গাঁজাখুরি গল্প লাগল)
৪. শূন্য (হাউমাউ করে কানতে কানতে শ্যাষ 
squint emoticon
 )

৫. নীল অপরাজিতা ( হুররর....)
৬. ময়না পাখি (এই প্লটের লেখা ফেবুতে এতবার পড়েছি যে আর ভাল লাগে না)
৭. ভয় ( GOOD. লেখিকাকে ভয়ের কাহিনি পড়তে হবে)
৮. আমার ভালবাসা (এই লেখাটা Kuch Kuch Hota Hai এর নকল)
৯. ছায়ামূর্তি (সত্যি?)
১০. একটি অপ্রয়োজনীয় ভালবাসার গল্প (লেখিকা তার প্রশ্নের উত্তর জানেন কি?)
১১. অভিশপ্ত ডাকবাংলো (হুম)
১২. রবীন্দ্রনাথ হইতে নিউটন (সাধু-চলিতের এমন মিশ্রণ হয়েছে যে এটা পড়া মানে নিজের উপর একধরের অত্যাচার করা)
১৩. ভূত (গল্পটা ভাল ছিল)
১৪. অতৃপ্ত চাওয়া (যত্তসব)
১৫. প্রতিশোধ (এই গল্পটা শেষ হয়নি। বাকি অংশ ছাপানো হল না কেন বুঝলাম না)
১৬. কভু আগাছা কভু পরগাছা ( এটাও সুন্দর হয়েছে। (Y))
১৭. স্বপ্ন কাজল চোখ (হুম)
১৮. শূন্যকথা (হ!)
১৯. সাক্ষী ( 
frown emoticon
 )

২০. ভালবাসা যখন চোরাবালি ( হুম। অসংগতি আছে কিছু)
২১. বর্ষীয়ান ( এই দুই লাইন লেখার আর কি প্রতিক্রিয়া দিব)
২২. চেনা রূপে অচেনা আত্মা ( বেশি রহস্য দিতে যেয়ে গিট্টু লেগে গেল)
২৩. মিছে মোহ (আমি পাগল)
২৪. একটি স্বপ্নের অপমৃত্যু ( হুম)
২৫. হঠাৎ ভালবাসা (ঘোড়ার ডিম এটা)
২৬. নতুন করে ভালবাসবো (ধুরর**)
২৭. ক্ষনিকের অতিথি ( আহা! উহু!)
২৮. অব্যক্ত ( ছাইপাশ)
২৯. অসমাপ্ত ভালবাসা ( এহ! গল্প!)
৩০. নুহাশের জাদুর কলম অত:পর ( হুম)
৩১. লঞ্চডুবি ( লঞ্চ ডুবছে আর চরিত্র ফেবুতে স্ট্যাটাস দিচ্ছে!)
৩২. নীরব প্রতিশোধ (সূচনাতেই বুঝেছি কাহিনি কি। তাই আর পড়ি নাই)
৩৩. আধারের দানবেরা (কি বলব বুঝতে পারছি না।)
৩৪. লিংক রোড কর্ণার ( হুররর)
৩৫. মা ভাত খাব ( ধুর)
৩৬. মৃত্যু স্পর্শ ( হুম। আরো ভাল কিছু আশা করেছিলাম)
৩৭. ডাইনি বনাম রাজকন্যা ( হুম। চলে)
৩৮. তানহার সেই নিলয় ( Is it a story? doubt not... এটার ভেতরে আরেকটা গল্প ঢুকল কিভাবে? 
gasp emoticon
 এটার লেখক ট্রাই করেছেন কাহিনী সাজাতে।)

৩৯. আত্মহত্যা নাকি প্রতিশোধ ( কোনটাই না। অবাস্তব আর আজাইরা কথাবার্তা)
৪০. ভালবাসার অন্য গল্প ( কি বলব বুঝতে পারছি না)
৪১. শিরোনামহীন গল্প (আহারে। চুকচুক)
৪২. স্বপ্নময় জীবন ( ভাল লেগেছে।)
৪৩. ডেথ সাইকেল ( চলে)
৪৪. মুকুটবিহীন রাজা (এটা সিলেক্ট হল কভাবে?!)
৪৫. দৃষ্টির অগোচরে ( কোন ফিনিশিং নেই)
৪৬. নীলার চোখে জল (আজাইরা)
৪৭. নতুন সূচনা (এটার পেটের মধ্যেও আরেকটা লেখা ঢুকে গিয়েছে। কেউ কি বুঝি বলবেন কিভাবে)
৪৮. ভালবাসি তোমায় (লুতুপুতু)
৪৯. কয়েক ফোটা অশ্রু (খাপছাড়া)
৫০. এক জীবনের গল্প (যত্তসব)
৫১. কে আপন ( এটা চমৎকার ছিল)
সবশেষে বলতে চাই, যাত্রা সবে শুরু। যেতে হবে অনেক দূর।

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ যুক্তিহীন।

বায়োমেট্রিক পদ্ধতি সম্পর্কে বলার আগে জাতীয় পরিচয় পত্রের কথা একটু স্মরণ করি। বিজ্ঞানের ছাত্র হিসেবে আমার জানা ছিল তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে প্রত্যেক মানুষের একটি সতন্ত্র সনাক্তকরন নম্বর থাকাটা জরুরী। একই নাম অনেকের হতে পারে। তাই একক পরিচয়ের জন্য একক নাম্বার রাখার বিষয়টা বিভিন্ন মুভি, সায়েন্স ফিকশনে দেখেছি। কাজেই যখন সরকারের তরফ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র দেবার ঘোষনা দেয়া হয়েছিল তখন আগ্রহ সহকারে নিবন্ধন করতে যাই। সবার মত সেখানে আমার পূর্ণ নাম, পরিচয়, মুখমন্ডলের ক্লোজ ছবি, সনাক্তকারী চিহ্ন, আঙুলের ছাপসহ অনেক তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়।
জাতীয় পরিচয় পত্র হাতে পাবার পর অনেকেরটা দেখলাম নামের বানান ভুল, পিতার/মাতা/স্বামীর নাম বা নামের বানান ঠিক নেই, ছবি ঝাপসাসহ অসংখ্য সমস্যা।আধাদক্ষ, অদক্ষ লোক দিয়ে কাজ করালে যা হয় আর কি। জাতীয় পরিচয় পত্র হবার পর অনেক কাজেই পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু"একমাত্র" জরুরী উপাদান করা হয় নি।
উদাহরণস্বরূপ, পাসপোর্ট করানোর সময় যখন পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগল তখন পলাশ থানা থেকে আমার খোজ করা হল। আমি তখন পলাশেই ছিলাম। মোবাইলে ফোন আসার পর ইনভেস্টিগেটরের সাথে দেখা করলাম। সে প্রথমেই আমার জাতীয় পরিচয়পত্র চাইল। পরিচয়পত্র দিতে চাইলে বলল, জন্মনিবন্ধন আর চেয়ারম্যান সার্টিফিকেটও লাগবে। তখন জন্মনিবন্ধন সবে শুরু হয়েছে। হাই অফিসিয়ালদেরই জন্মনিবন্ধন নেই, আর আমিতো .........! আমার সাথে আমার এক বন্ধু ছিল। সে বুঝল এইগুলো পুলিশের টাকা খাওয়ার ধান্ধা ছাড়া কিছুইনা। সে কিছু টাকা ঐ ইনভেস্টিগেটরের হাতে দিল। এরপর জন্মনিবন্ধনও লাগল না, আবার চেয়ারম্যানও মনে হয় অক্কা পেয়েছিল! বলাই বাহুল্য, ৫ বছর হয়ে গেলেও সেই পাসপোর্ট এখনো পাই নি। এটাও বলে দিচ্ছি, কিছু টাকা বাড়িয়ে পুলিশকে দিলে কোন কাগজপত্র ছাড়াই পাসপোর্ট পেয়ে যাবেন।কোন কথা থেকে কোথায় চলে গেলাম! যাই হোক, বর্তমান জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম, ঠিকানা, সই, ব্লাড গ্রুপ এ তথ্যগুলো আছে। আর পরিচয়পত্র করানোর সময় আঙুলের ছাপ নেয়া হয়েছিল। সেই ছাপ অবশ্যই ডাটাবেসে সংরক্ষিত থাকার কথা। নাহলে আঙুলের ছাপ নেয়ার কোন যৌক্তিকতা থাকত না। এখন আমি যখন কোন সীম কিনব বা পুরাতন কোন সীম রেজিস্ট্রেশন করব, তখন জাতীয় পরিচয়পত্র লাগবে। আর জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম্বার পাওয়া গেল আমার আঙুলের ছাপও পাওয়া যাবে। কারন ডাটাবেসে তা আছে। কিছুদিন আগে যখন জাতীয় পরিচয়পত্রের দ্বারা সীম নিবন্ধনের তোড়জোড় শুরু হল তখন আমার মত অসংখ্য মানুষ (প্রায় সবাই বলতে চাই) তাদের সকল নিবন্ধিত/নিবন্ধিত সীম এস এম এস, মোবাইল এপস অথবা সরাসরি কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে পুনরায় নিবন্ধন করেছেন। এস এম এস , মোবাইল এপস ব্যবহারের কারনে অপারেটরদের পয়সা দিতে হয়েছে।
আবার যারা সশরীরে হাজির হয়েছেন তাদের যাতায়াত খরচ, কায়িক শ্রম ও সময়ের অপচয় হয়েছে। মোদ্দা কথা, বিপুল অংকের টাকার হাতবদল হয়েছে। এই টাকা কার পকেট থেকে গিয়েছে? সরকারের? নাকি আমার আপনার?এখন আবার শুরু হয়েছে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে পুনঃ রেজিস্ট্রেশন। এখানেও যে বিরাট অংকের টাকার খেলা হচ্ছে সেটা কি ভেঙে বলতে হবে? আল্টিমেটলি লুজার কারা? সরকার/অপারেটর? নাকি আমি-আপনি? বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন যখন করতেই হবে তখন গতবারের রেজিস্ট্রেশন কেন নেয়া হল? একবারেই কেন বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে করানো হল না? উত্তর যদি হয় টেকনলজি ছিল না, তবে বলতে হয় আর দু'টো মাসঅপেক্ষা করা হল না কেন?আমাদের কি খেয়ে দেয়ে কোন কাজ নেই? কিছুদিন পর পর গাটের পয়সা খরচ করে ছবি, আইডির ফটোকপি নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করাই আমাদের একমাত্র কাজ? কিছুদিন পর হয়ত পাছার ছাপ দেয়ার ঘোষণা আসবে। তখন আবার পাসপোর্ট সাইজ ছবি, আইডির ফটোকপি দৌড়ে নিয়ে গিয়ে প্যান্ট খুলে পাছার ছাপ দিয়ে আসব। তাই নয় কি?
বিজনেসের ক্লাস যখন করি তখন কথায় কথায় স্যার একদিন প্রফেশনালিজমের কথা বলেছিলেন। উদাহরণ দিতে গিয়ে বলেছিলেন, কারো অফিস যদি হয় ৮ টা থেকে ৫ টা তবে সে ঠিক সকাল ৮টায় অফিসে আসবে, ঠিক ৫টায় বেড়িয়ে যাবে। ৫ টা ১ মিনিটে নয়। কারন অফিস আমাকে ১ মিনিটের টাকা দিবে না। তাই অফিসে এক মিনিট বেশি থাকা কোন প্রফেশনালের কাজ নয়।বাংলাদেশে অবশ্য প্রফেশনালিজমের প্র্যাকটিস নেই। কিন্তু বাংলাদেশে যেসব বিদেশী বা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি আছে তাদের মধ্যে প্র্যাকটিস আছে। আমেরিকায় পিতৃত্বকালীন ছুটি আছে সম্ভবত ১৫দিন। কাজেই বাংলাদেশে যে আমেরিকান কোম্পানি আছে সেটার কর্মচারীরা১৫ দিন ছুটি পান। (ব্যতিক্রম থাকতে পারে) টেলিটক ছাড়া অন্য মোবাইলে অপারেটরগুলো এদেশি নয়। কাজেই ধরে নেয়া যায়, তারা প্রফেশনাল এবং সবকিছুকেই বিজনেস হিসেবে দেখে। কাজেই বার বার সীমের নিবন্ধন, বায়োমেট্রিক নিবন্ধন কোম্পনিগুলো ফ্রীতে সরকারকে করে দিচ্ছে এই ভাবনাটা আমার মতে বোকার মত। এখানে অবশ্যই তাদের কোন স্বার্থ বিদ্যমান। আর সেই স্বার্থ অবশ্যই আমাদের মত গ্রাহকদের বিপক্ষে যাবে। অপারেটরগুলো কোনদিন কোনকিছু গ্রাহকদের স্বার্থে নিঃস্বার্থভাবে করেছে এমন কিছু যদি আপনার জানা থাকে তবে জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।
গতকাল এক জ্ঞানী লোকের কথায় বুঝলাম, সে মনে করে এই আঙুলের ছাপ দেয়ার দ্বারা নাকি সরকারের খুব সুবিধা হবে। কেমন সুবিধা? সরকার নাকি কে কোথায় আছে ততক্ষনাৎ বের করতে পারবে। ইন্ডিয়াতে নাকি হরদম এমন হচ্ছে। তার কথা শুনে আমি নগদে টুট টুট হয়ে গেলাম। কাউকে জিপিএসের মাধ্যমে ট্র্যাক করতে যে আঙুলের ছাপ লাগে না- এই কথাটা তাকে বোঝানোর মত জ্ঞান-বুদ্ধি আমার নেই বলে দু-একটি কথা বলেই ক্ষ্যান্ত দিয়েছিলাম।একজনের ১ টি আইডি কার্ড। ধরাযাক, আইডি কার্ডের বিপরীতে ১০ টি সীম নিবন্ধিত। এই সীমগুলো যেখানেই থাক বা হারিয়ে যাক তার মালিককে তো পাওয়া যাবে। কাজেই বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সীম কেন নিবন্ধন করতে হবে?আরো ধরা যাক, কোন ঘটনাস্থলে কারো আঙুলের ছাপ পাওয়া গেল। জাতীয় পরিচয় পত্রের ডাটাবেস থেকে তার পরিচয় উদ্ধার করা হল। পরিচয় পাবার পর সে কোন সীম ব্যবহার করে সেটাও জানা গেল। সেই সীমের মাধ্যমে তার পজিশনও জানা যাবে। সীমের সাথে আঙুলের ছাপের সম্পর্ক এই ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে ঢুকল না। দুঃখিত।আরো ভয়াবহ ব্যাপার হল, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সীম নিবন্ধনের সময় নাকি জাতীয়পরিচয় পত্রের ডাটাবেসের সাথে আঙুলের ছাপ মিলছে না। তখন আর সীম রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে না। এখন ভেবে দেখার বিষয় হল, আমি কার হাত নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি? আর আমার হাত-ই বা কে নিয়ে গেল?কারো পেতে রাখা জটিল ফাঁদে পা দিচ্ছি কিনা ভালভাবে ভেবে দেখার সময় এসেছে।
ফী আমানিল্লাহ!