Featured Post

I SAID NO TO QUANTUM METHOD

পূর্বে পোস্ট আকারে প্রকাশিত। কারও সাথে ঝগড়া করার জন্য এটা দেইনি। নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম। কেউ মানতে না পারলে আমার কিছু করার নেই।  আ...

Friday, September 18, 2015

NO VAT ON EDUCATION

ঘুমাবার আগে ছোট্ট করে দু'টো গল্প বলে যাই। নাহলে হয়ত ঘুমটা ভাল হবে না। যাদের জানা আছে তারা স্কিপ করে নিচে চলে যান। বর্ণনায় কিছু এদিক সেদিক হলেও কিছু করার নেই।
ইদুরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে এক কৃষক ইদুর ধরার জন্য ফাঁদ পাতল। ফাঁদ দেখে ইদুর দৌড়ে গেল মুরগীর কাছে সাহায্য চাইতে। মুরগী ভেবে দেখল ফাঁদ পাতা হয়েছে ইদুরের জন্য। কিছু হলে ইদুরের হবে, তার তো কিছু হবে না। সে ইঁদুরের কথায় কান দিল না।
ইদুর গেল খাসীর কাছে। একই যুক্তিতে খাসীও তাকে ফিরিয়ে দিল। এরপর গেল গরুর কাছে। গরুর কাছেও পাত্তা না পেয়ে ইঁদুর নিরাশ হয়ে গেল। একসময় ফাঁদে ইদুর ধরা পড়ল। ইঁদুর খেতে তখন সাপও আসল। ফাঁদে আটকা পড়া ইঁদুরের কিচ কিচে সজাগ হয়ে কৃষক যখন ফাঁদ বের করতে গেল তখন সাপ তাকে দংশন করল।
কৃষককে তখন হাসপাতালে নেয়া হল। সাপের বিষ বের করা হলেও কৃষক ছিল দুর্বল। ডাক্তার তাকে ভালমন্দ খেতে পরামর্শ দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দিল। ভালমন্দ খাবারের প্রথম ফাঁড়াটা গেল মুরগীর উপর দিয়ে। কৃষকের অসুস্থতার খবর পেয়ে তার আত্মীয়-স্বজনরা তাকে দেখতে এল। তাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করতে হয়। এবার খাসীর পালা। আত্মীয়দের আপ্যায়নে খাসীর জীবন গেল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশন কৃষক মারাই গেল। তখন তার কুলখানীতে গরু জবাই দেয়া হল।
ইঁদুরের সমস্যা মুরগী, খাসী পার হয়ে গরুতে গিয়ে শেষ হল।
একবার তিন বিদেশী জঙ্গলে ঘুড়তে যেয়ে জংলীদের হাতে বন্দী হল। জংলীরা তাদের ধরে নিয়ে তাদের সর্দারের কাছে নিয়ে গেল। বহু অনুনয় বিনয়ের পর জংলী সর্দার তাদের এক শর্তে ছেড়ে দিতে রাজি হল। কি শর্ত? শর্ত হল তাদেরকে প্রত্যেককেই পৃথক পৃখকভাবে বন থেকে তাদের পছন্দমত সুন্দর কোন ফল এনে দিতে হবে। তারা রাজি হল। তারা যেন পালিয়ে যেতে না পারে সেজন্য তাদের সাথে দু'জন করে গার্ড দেয়া হল।
সর্বপ্রথম যে ফিরে এল সে একটা আমড়া সর্দারের সামনে রাখল। তখন সর্দার তার সঙ্গীদের নির্দেশ দিল আমড়াটা যেন ঐলোকের পিছন দিকে দিয়ে ভরে দেয়া হয়। তাই করা হল। সর্দারের কান্ড দেখে জংলীরা খুব মজা পেল। পরেরজন কি নিয়ে আসে সে অপেক্ষাতেই রইল।
পরের জন নিয়ে আসল আম। তাকেও একই ভাবে পিছন দিক দিয়ে............... । ভরে দেয়ার পর সবাইকে অবাক করে দিয়ে লোকটা হো হো করে হেসে উঠল। সবাইতো ভারি অবাক। কি হল? কি হল?
তখন সে বলল, "আমি আসার সময় দেখলাম, আরেকজন কাঠাল নিয়ে আসছে। আমার আম নাহয় গেল, ওর কাঠাল কিভাবে যাবে?" এই বলে সে আরেক চোট হেসে নিল!
বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফীর উপর ৭.৫% ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। যেহেতু বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে সব বড়লোকের পোলাপান পড়ে, সেখানে পড়তে মেধা লাগে না, সেখানে কোন পড়াশোনা হয় না এবং সার্টিফিকেট কিনতে পাওয়া যায় সেহেতু অনেকেই এই ব্যাপারটাতে একমত হয়েছে। আরে, লক্ষ লক্ষ টাকা ফী দিতে পারলে মাত্র ৭.৫% ভ্যাট দিতে সমস্যা কি? এইজন্য আবার আন্দোলন করা লাগে নাকি?
১০০ টাকায় ৭.৫০ টাকা। ১০০০ টাকায় হয় ৭৫ টাকা। ১০,০০০ টাকায় ৭৫০ টাকা আর ১,০০,০০০ টাকায় হয় মাত্র ৭৫০০ টাকা!
ভ্যাটম্যানের আসলে বয়স হয়েছে। নাহলে সে সবার জন্যই ৭.৫% ভ্যাট নির্ধারণ করত। ভ্যাটম্যানের বোঝা দরকার ছিল, বড়লোকের ছেলে-মেয়ে যদি লাখে ৭৫০০ টাকা দিতে পারে তাহলে গরীবের ছেলে-মেয়েরা হাজারে ৭৫ টাকা দিতেও পারবে। আমি ভ্যাটম্যানের কৃপাদৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই এইব্যাপারে। আশাকরি অতিদ্রুত এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নিবেন।
সরকারী কর্মচারী/কর্মকর্তারা বেতন কম পান বলে তাদের বেতন প্রায় ৯১-১০১% বৃদ্ধি করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে এতে তাদের দুর্নীতির মাত্রা কমবে এবং সেবার পরিমান বাড়বে। এই যুক্তিতে মন্ত্রীদের বেতন ৫০০% বাড়ানো দরকার। তাদের বেতনও নিশ্চয়ই কম। নাহলে তাদের চেয়ে দুর্নীতিবাজ এদেশে আছে নাকি?
সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফীর উপর যদি ৭.৫% কর আরোপ করা হলে এই বাড়তি টাকা ম্যানেজ করা তেমন একটা সমস্যা হবে না। তখন মন্ত্রীদের মধ্যে ভ্যাটম্যানের জনপ্রিয়তাও বাড়বে, মন্ত্রীদের দুর্নীতি কমবে আর সেবাও বাড়বে।
তাই মি. ভ্যাটম্যান। একটু ভেবে দেখবেন। আপনার ভালর জন্যই বললাম।
তখন আমরা হো হো করে হাসব। আর ভাবব, " আম নাহয় গেল, কাঠাল কিভাবে যাবে?"

ট্রু অর ফল্‌স

ঘটনা-১
প্রায় দুই-যুগ আগের কথা। দুর্গা পূজার মৌসুম। এদেশের অনেক জায়গার মত খুলনার এক স্কুলের দশম শ্রেণির কিছু ছাত্র পরিকল্পনা করেছে পূজা দেখতে যাবে। এদের মধ্যে রয়েছে তিন বন্ধু। তিনজনই মুসলিম। উদ্দেশ্য পূজা দেখা নাকি অন্য কিছু তারাই ভাল বলতে পারবে। কাহিনীর খাতিরে ধরে নেয়া যাক তাদের নাম আবুল, শরীফ ও বুলু।
এক সন্ধ্যায় তিন বন্ধু বেড়িয়ে পড়ল পূজা দেখতে। শীতকাল হওয়ায় চাদর দিয়ে নিজেদের শরীর ভালভাবেই মুড়িয়ে নিয়েছে। হালকায় কুয়াশা গলিয়ে তিন বন্ধু হেটে চলেছে পূজা মণ্ডপের উদ্দেশ্যে। সবচেয়ে বড় পূজার মণ্ডপটা কাছেই। যতই কাছাকাছি যাচ্ছে ততই পূজোর ঘণ্টার আওয়াজ জোড়াল হচ্ছে। রাস্তার ওদের মত অনেক ছেলে-মেয়ে আছে। ভিড়ের মধ্যে মিশে যেতে বেশি বেগ পেতে হল না।
এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করতে করতে তিন বন্ধুর নজর পরে এক মেয়ের দিক। মেয়েটা তাদের চেয়ে একটু ছোটই হবে। অপূর্ব চেহারার মেয়েটার দিক থেকে তারাতো বটেই পূজোতে আসা কোন ছেলেই চোখ ফেরাতে পারছিল না। মেয়েটাকে দেখার পর তাদের আর কোনকিছুই ভাল লাগছিল না। বিশেষ করে বুলু যেন একটু খ্যাপাটেই হলে গেল। মেয়েটাকে বুলুর চাই-ই চাই। আবুল এবং শরীফ বুদ্ধি দিল, মেয়েটাকে তুলে নিয়ে যাবে সুযোগ মত। তুলে নিয়ে যাবার মত কাজ করতে বুলুর মন সায় দেয় না। কিন্তু শরীফ ও আবুলের জোরাজুরিতে মানাও করতে পারে না। বন্ধুদের কাছে কাপুরুষ হতে চায় না।
তারপর একদিন সুযোগ বুঝে তিনজনে মিলে ঐ মেয়েটিকে স্কুলে যাবার পথে পথ আটকে ফেলে। মেয়েটি বিপদ বুঝে চিৎকার শুরু করে। আবুল সাথে সাথে মেয়েটির মুখ চেপে ধরে। অন্য দুজন হাত-পা ধরে চ্যাংদোলা করে বয়ে নিতে চায়। মেয়েটি তখন প্রাণপণ চেষ্টা করছে তাদের কাছ থেকে ছাড়া পেতে। হাত-পা ছোড়াছুড়ির কারনে ঠিকমত ধরে রাখা যাচ্ছে না। এক ফাকে মুখ থেকে আবুলের হাত ছুটে যেতেই মেয়েটি জোরে চিৎকার দিয়ে উঠে। সেই সাথে দূর থেকে কার যেন ডাক শোনা যায়। তিন-বন্ধু বুঝতে পারে আর জোরাজুরি করে লাভ নেই। তাই মেয়েটিকে ছেড়ে দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
এই ঘটনায় ঐ মেয়ের পরিবার মামলা দায়ের করে। মামলার খবর পেয়ে বুলু পালিয়ে যায়। বাড়ির সাথে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখে সে। একে একে হাইস্কুল, কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে পড়াশুনা শেষ করে সরকারী উঁচু পদে চাকুরী পাবার পর বাড়িতে আসে। আবুল আর শরীফ এলাকায় বখাটে হিসেবেই থেকে যায়।
ঘটনা-২
স্কুল পার হয়ে দেশের এক স্বনামধন্য কলেজে ভর্তি হয়েছে সবুজ আর ফরিদ। পড়াশুনায় তেমন একটা ভাল না হলেও মেয়েদের পিছে পিছে ঘোরার ব্যাপারে দু'জনের কোন ক্লান্তি নেই। দ্বিতীয় বর্ষে উঠার পর প্রথমবর্ষের এক মেয়েকে দারুণ পছন্দ হয় সবুজের। অপরূপা হবার কারণে সবুজের মত আরো অনেকেরই মেয়েটার দিকে নজর পড়ে। সবাইকে পাল্লা দিয়ে আর ফরিদের সাহায্যে মেয়েটার সাথে সবুজের সখ্যতা গড়ে উঠে। ক্লাস ফাঁকি দিয়ে প্রায়ই তারা কলেজের পিছনের বিশাল দিঘীর পাশে বসে প্রেমালাপে মত্ত থাকত।
এদিকে মেয়েটির বড় বোনের দেবরও মেয়েটিকে ভালবাসে। কলেজে ভর্তির আগে তার সাথেই মেয়েটির প্রেম ছিল। ব্যাপারটা এমন ছিল কলেজে আসলে সবুজের সাথে প্রেম আর ঘরে গেলে বেয়াইয়ের সাথে প্রেম! বেয়াই ছিল খুবই চালাক। কিছুদিনের মধ্যেই সে বুঝতে পারে কোথাও কোন গণ্ডগোল হয়েছে। খোজ নিয়ে জানতে পারে মেয়েটা তার কলেজেরই আরেক ছেলের সাথে প্রেমে মত্ত। মেয়েটিকে হারানোর ভয়ে তার বড় ভাইয়ের মাধ্যমে মেয়ের ফ্যামিলিতে বিয়ের প্রস্তাব পাঠায়। কিন্তু মেয়ের আপত্তির কারণেই হোক বা যেকোনো কারণেই হোক মেয়েপক্ষ আর এ বিয়ের ব্যাপারে আগ্রহ দেখায় না।
এতে সেই ছেলে উত্তেজিত হয়ে উঠে। এসিড ছুড়ে মারার হুমকি পর্যন্ত দেয় মেয়েটাকে। কিন্তু মেয়েটা পাত্তা দেয় নি। ভেবেছে অত সাহস কি আর হবে? কিন্তু একদিন সন্ধ্যায় মেয়েটি যখন তার পড়ার টেবিলে ছিল তখন সেই ছেলে জানালা দিয়ে এসিড ছুড়ে মারে। মেয়েটির পুরো মুখসহ শরীরের নানা জায়গা ঝলসে যায়। এসিড লেগে ছেলেটির হাতেও কনুই পর্যন্ত ঝলসে যায়। ঢাকা মেডিকেলে যখন যন্ত্রণায় মেয়েটি কাতরাচ্ছিল তখন সবুজ আর ফরিদ তাকে দেখতে যায়। তার রূপের আর তখন কিছুই অবশিষ্ট নেই। এসিডে ঝলসে যাওয়া বিকৃত চেহারা দেখে দু'জনেই শিউরে উঠে।
এই মেয়েটার আজো বিয়ে হয়নি। বিকৃত চেহারার মেয়েকে কেই বা বিয়ে করতে চায়? আর সেই ছেলে যে পালিয়েছে আর কোন খবর নেই। বড় ভাই তাকে আশ্রয় দেয় নি। আসলেও তাড়িয়ে দিয়েছে।
ঘটনা-৩
এবার আসি সাম্প্রতিক হবিগঞ্জের রুহুল আর অর্ণার কথায়। যারা জানেন তারাতো জানেন-ই, যারা জানেন না তাদের জন্য সংক্ষেপে বলি। প্রকাশ্যে এক স্কুল ছাত্রীকে মারধর ও তা ভিডিও করে ফেসবুকে আপলোডের ঘটনায় কয়েকদিন আগে বাংলাদেশের ভার্চুয়াল দুনিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সর্বত্র ছিঃ ছিঃ পড়ে যায়। পুলিশ দ্রুত রুহুলকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার পর রুহুলের কথায় বেড়িয়ে আসে এক চমকপ্রদ কাহিনী।
হবিগঞ্জ হল রুহুলের মামার বাড়ি। ঢাকা থেকে হবিগঞ্জ গিয়ে রুহুল ক্লাস সিক্সে ভর্তি হয়। এসময় পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী অর্ণার সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এই কথা তার গার্জিয়ান জানতে পারলে তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু বাবা-মার কাছে অর্ণার সাথে যোগাযোগ করবে না-এমন শপথ করে রুহুল আবার হবিগঞ্জে ফিরে ক্লাস নাইনে বাণিজ্য শাখায় ভর্তি হয়। রুহুল অর্ণাকে এড়িয়ে চললেও অর্ণা তার পিছু ছাড়েনি। পরিবারে সিদ্ধান্তে রুহুল স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। টানা ২০ দিন সে স্কুলে যায় নি। তারপর তার ক্লাস টিচারের কথায় আবার স্কুলে যাওয়া শুরু করে।
ঘটনার কিছুদিন আগে অর্ণা একটি ব্যাগে তার জামাকাপড় নিয়ে এসে রুহুলকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেয়। কিন্তু বিয়ের বয়স হয়নি-এইধরনের অজুহাতে রুহুল তাকে ফিরে যায়। এতে অর্ণা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।
এরপর অর্ণা হৃদয় নামের এক ছেলের সাথে সম্পর্ক করে এবং রুহুলের বিরুদ্ধে হৃদয়কে খেপিয়ে তোলে। এরপর একদিন হৃদয় তার বন্ধুদের নিয়ে অর্ণার স্কুলের সামনে রুহুলকে আটকিয়ে মারধর করে। অর্ণাও তখন পাশেই ছিল এবং তার বান্ধবীদের সাথে হাসিঠাট্টাও করছিল। এতে রুহুল চরম অপমানিত বোধ করে। তারপর থেকেই রুহুল প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ খুঁজতে থাকে। এক পর্যায়ে অর্ণাকে মারধর করে। এসময় ঘটনার ভিডিও করে রুহুলের বন্ধুরা। পরে সেই ভিডিও ফেবুতে আপলোড দেয় তার বন্ধুরা। রুহুল জানতে পেরে সাথে সাথে ডিলিট দেয়। কিন্তু ততক্ষণে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তারপরের ঘটনা তো উপরে বললামই।
রুহুলের শ্রেণী শিক্ষক অবশ্য রুহুলকে ভদ্রছেলেদের একজন বলে উল্লেখ করেছেন।
প্রথমোক্ত দুই ঘটনা আমার কলিগদের মুখে শোনা। আর ৩য় ঘটনাটি মিডিয়ার প্রকাশিত। বিস্তারিত পাবেন আজকের আমারদেশের প্রথম পাতায়।
আমার লেখার উদ্দেশ্য কাউকে দায়ী করা নয়। এধরনের ঘটনার জন্য কে দায়ী সে-ই আলোচনায় আমি যাব না। প্রথমোক্ত ঘটনা দুটি বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আমার কোন সন্দেহ নেই। কারণ যাদের কাছে শুনেছি তারা দু'জনেই আমার কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি। বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যে বলায় তাদের কোন লাভ নেই।
শেষোক্ত ঘটনায় প্রথমদিকে পাবলিক রিএকশন ছিল একরকম। পুরো ঘটনা জানার পর এখন অন্যরকম হবার কথা। অবশ্য রুহুল সত্য বলছে এমনটা এখনো প্রমাণিত হয় নি। সে ফেঁসে গিয়েছে। এখন নিজেকে সেভ করতে নানান কথা বলবে সেটাই স্বাভাবিক। অর্ণা, হৃদয় ও রুহুলের বন্ধুদের জেরা করলে প্রকৃত সত্য বোঝা যাবে।
মূলকথা যেটা বলতে চাই সেটা হল, প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ায় কিছু পেলেই তা বিশ্বাস না করা। সাংবাদিকরাও মানুষ। তারা স্থলণের ঊর্ধ্বে নন। বরং তারা প্রায়ই ফেইক নিউজ প্রদান করে থাকেন। এমনকি কবর থেকে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান নাকি জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বাণী দেন!
দোষী যে-ই হোক তার শাস্তিই কাম্য। সাংবাদিকদের দরকার খবর। খবরকে পত্রিকায় বা টিভিতে প্রকাশিত/প্রচারিত "সংবাদ" করাই তাদের কাজ। তাদেরকে এ কারণেই বেতন দেয়া হয়। যে যত ভালভাবে এই কাজটি করতে পারে সে তত ভাল সাংবাদিক। কাজেই আমার পরামর্শ থাকবে কোন সাংবাদিকের সাথে যখন কথা বলবেন (যেটা প্রকাশিত হতে পারে) তখন মোবাইলের অডিও/ভিডিও রেকর্ডার চালু করে পুরো কথাবার্তা রেকর্ড করে রাখবেন। এখনকার প্রায় সব মোবাইলেই অডিও/ভিডিও রেকর্ড করা যায়। কাজেই আপনার কথার উপর ভিত্তি করে সাংবাদিক যদি কোন খবর কে "সংবাদ" করে খবর পালটে দেয় তবে তাকে মিথ্যেবাদী প্রমাণ করার হাতিয়ার আপনার কাছে থাকবে। অবশ্য সাংবাদিক আর আমি যদি একই ক্যাটাগরির হই তাহলে আর এই সূত্র খাটবে না।
অশুভ রাত্রি!

সানি লিউন

এই বিষয়টা নিয়ে আমার আপাতত লেখার কোন ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু আমার ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের ধোঁআশে ভাবভঙ্গির কারনে লিখতে হচ্ছে। আশা করি আর কেউ পড়ুক বা না পড়ুক তারা পড়ে অন্তত আমার দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করবেন।
দ্বিমুখীতা বা ডাবল স্ট্যান্ডার্ড মানব চরিত্রের অন্যতম বড় ত্রুটি। আমি নিজের জন্য যা ভাল মনে করি, অপরের জন্য তা ভাল মনে করি না। বিরক্ত-রাগান্বিত হই। উদাহরণ দেই। বাসের জন্য অপেক্ষা করার বিষয়টা কমবেশি সবার জীবনেই আছে। যেদিন রাস্তায় লোক বেশি থাকে সেদিনের অবস্থা করুণ পর্যায়ে যায়। লোক ভর্তি কোন বাসে ঠেলা-ঠেলি করে উঠলেন। আপনার পিছনে আরো কয়েকজন উঠল। উঠার পর পরবর্তীতে যখন বাসটা আরো লোক উঠানোর জন্য থামল, তখন আমার ভাল লাগল না। "বাস ভর্তি হয়ে গিয়েছে", "দাড়ানোর জায়গা নেই", "গরমে সেদ্ধ হয়ে যাচ্ছি", "মানুষ উঠে কেন? দেখছে না জায়গা নেই" - ইত্যাদি নানাবিধ কথা বলে নিজেকে জাহির করে থাকি। অথচ কিছুক্ষন আগেই আমি ঠেলাঠেলি করে উঠলাম। আমি ভুলে যাই আমার যেমন গন্তব্যে পৌছাতে হবে, তেমনি আমার মত শতশত মানুষেরও পৌছাতে হবে। কারো কারো হয়ত আমার চেয়েও বেশি প্রয়োজন গন্তব্যে পৌছানো। কেউ হয়ত আমারে চেয়েও বেশিক্ষন ধরে অপেক্ষা করে আছে। ভাবখানা এমন যেন আমি পৌছাতে পারলেই চলবে। আর কেউ পৌছাতে পারুক বা না পারুক। এমন ঘটনা আরো আছে, সিএনজিতে উঠলে বাসকে সহ্য করতে পারি না। বাসে থাকলে সিএনজিকে পিষে ফেলতে ইচ্ছে করে। ইত্যাদি ইত্যাদি।
আবার কাছের মানুষের ক্ষেত্রে আমাদের দ্বিমুখীতা আরো স্পষ্ট হয়ে উঠে। যে লোক প্রতিদিন দুই প্যাকেট সিগ্রেট খায় সেও চায় না তার ছেলে সিগ্রেট ধরুক। মদখোর ব্যক্তি চায় না তার ছেলে-মেয়ে মদ খাক। পাড়ার রোমিও ছেলেটা চায় না তার বোনের পিছনে কেউ লাইন দিক। রিকশাওয়ালাও চায় না তার ছেলে বড় হয়ে রিকশা চালাক। বরং সবাই তার ভবিষ্যত/অনুজ প্রজন্মকে সুস্থ দেখতে চায়। চায় সে যাই করুক না কেন তার আপনজনেরা যেন ভাল থাকে। সুস্থ, সুন্দর পরিবেশে থাকে। ঠিক একই কারনে মেমোরী কার্ডে জিবির উপর জিবি সানি লিয়নের ভিডিও থাকলেও সানি লিয়নের আগমনের পক্ষে যাওয়া উচিত কিনা সেটা নিজেদেরই বিবেচনা করা দরকার।
এখানে যদি কেউ ভন্ডামী দেখে, তাহলে আর কি করার আছে।
সানি লিউনের মত পর্ণস্টার এদেশে আসার মত পরিস্থিতি একদিনে তৈরি হয় নি। একসময় আসত গানের শিল্পীরা। এসেছে হিরো, হিরোইন রা। তাদের প্রোগ্রামের মাধ্যমে যে টাকার খেলা হয়েছে তা পর্ণস্টার আসার প্লাটফর্ম তৈরি করে দিয়েছে। আপতদৃষ্টে মনে হচ্ছে গানের শিল্পী, নাচের শিল্পী, নায়ক-নায়িকা আসার মত পর্ণস্টার আসাটাও একটি অতি স্বাভাবিক ঘটনা। আসতেই পারে। আসছে নাচতে, গাইতে। পর্ণস্টারগিরি করতেতো আসছে না! কথা সেখানেই। গান, নাচের কথা হলে গান-নাচের শিল্পী আনলেইতো হত। পর্ণস্টার আনার কি দরকার? আর আজকে নাহয় শিল্পী পর্ণ শো করবে না, কিন্তু আগামীতে? এখন যদি এসব পর্ণস্টারদের নাচ-গানের মত অতিস্বাভাবিক শো বন্ধ করা না যায় বা কোনরূপ বিরোধীতার সম্মুক্ষীন না হয় তবে নিকট ভবিষ্যতে এদের পর্ণশো করতেই আনা হবে। আর এদেশের মিডিয়াগুলো ব্যাপক কভারেজ দিবে।
"যাদের চাহিদা আছে, সামর্থ্য আছে, তারা যাবে; যাদের চাহিদা নেই, টিকেট কেনার সামর্থ নেই; তারা যাবে না। সিম্পল। সমস্যাটা কোথায়?"
দেশেতো একশ্রেণীর মানুষের কাছে ইয়াবার ব্যাপক চাহিদা আছে। সামর্থ্যও আছে। আছে গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইনের চাহিদা। অস্ত্রের চাহিদাও কম নয় বলেই ধারনা করি। তাহলে এসবও অবাধে প্রবেশের সুযোগ দেয়া হোক।
না, না, না। তখনতো দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট হবে। ছিনতাই-রাহাজানি বাড়বে। আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হবে।
কথা এটাই। পার্থক্য হল মাদকের শক্তি আর অস্ত্রের ঝনঝনানি প্রত্যক্ষ প্রভাব চোখে পড়ে। আর ঐসবের প্রতিক্রিয়া চাক্ষুস দেখা যায় না। অনেকটা স্লো পয়জনের মত। মরে, কিন্তু বন্দুকের গুলির মত হুট করে মরে না। ধীরে ধীরে মরে।
"দেশে এত এত পতিতা থাকার পরও তাদের বিরুদ্ধে কিছু না বলে, তাদেরকে পুনর্বাসন না করে সানি লিয়নের পিছনে লাগার কারনটা বোঝা গেল না।"
কেউতো মানা করেনি পুনর্বাসন করতে। এখন ভাবা দরকার কিভাবে পুনর্বাসন করা যায়। তারমানে এই নয় যতক্ষন তাদের পুনর্বাসন করা না হচ্ছে ততক্ষন তাদের জন্য প্রোগ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে, বিদেশী পতিতার ভচাম নৃত্য উপভোগ করতে হবে। যেসব ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি বা যারাই হোক, এসবের আয়োজন করে থাকে তাদের শুভবুদ্ধির উদয় কবে হবে কে জানে!
কেউ কেউ আবার সানি লিয়নের ছোটবেলার কথা সামনে এনে মানুষের মনে একধরনের সমবেদনা কাড়ার চেষ্টা করেছেন। ছোটবেলায় কে কি করেছে না করেছে, তার জন্য তাকে দায়ী না করা গেলেও যখন তার স্বাধীনতা এসেছে তখন সে কি করেছে বা কি করছে সেটার দায়ভার তাকেই নিতে হবে। সানি এখন কি? পর্ণস্টার। সে দেহব্যবসা ছেড়ে দিয়েছে বা দিবে এমন খবর পেয়েছেন কেউ? বয়স হয়ে গেলেতো ছাড়তেই হবে। সেটা অবশ্যই ভিন্ন বিষয়।
“হেফাজত তাহলে সানি লিয়নের কথা জানে?”
প্রথম প্রথম এই ধরনের বক্তব্যগুলো ফান করার জন্য দেয়া হচ্ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে এধরনের বক্তব্যের মধ্যে বিকৃত মানসিকতা ছাপ পাওয়া যায়। ভাবভঙ্গিতে মনে হচ্ছিল, হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ সানির নিয়মিত খদ্দের বা নিশ্চয়ই ভিডিও দেখে তাদের কাম-বাসনা চরিতার্থ করে! তা না হলে মাদ্রাসার হুজুরেরা সানি লিয়নের কথা জানল কিভাবে? (নাউজুবিল্লাহ!)
এইগুলোর জবাব দেয়ার রূচি হয় না। অন্যকথা বলি।
আমাদের একটা সাধারণ প্রবনতা হচ্ছে মাদ্রাসার সাথে সংশ্লিষ্টদের হেয় প্রতিপন্ন করার মানসিকতা। চাই সে ছাত্র হোক বা শিক্ষক। তার জ্ঞান-গরীমা, আর্থিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলা। তাকে দুনিয়া এবং দুনিয়ার জ্ঞান সম্পর্কে অজ্ঞ ও উদাসীন মনে করা। ধারনা করা সমসাময়িক বিষয়গুলো নিয়ে তাদের কোন ধারনাই নেই।
এই ধারনার উপর ভিত্তি করে তাদের সম্পর্কে যা নয় তাইতো বলি-ই, গালিগালাজ করতেও পিছপা হই না। ছোট্ট একটা প্রশ্ন করি। এদেশে যেসব ইসলামী মাসিক পত্রিকাগুলো বের হয় সেগুলোর কতগুলো আমরা পড়েছি? অন্তত কতগুলোর নাম জানি? আমার লিস্টে কি এমন কেউ আছেন যে নিয়মিত কোন ইসলামী মাসিকের গ্রাহক? থাকলে প্লিজ কোন পত্রিকা পড়েন উল্লেখ করুন। মাসিক মদীন, আদর্শ নারী, মঈনুল ইসলাম, আল-কাউসার-ইত্যাদি পত্রিকায় সময় সাময়িক বিষয়গুলো নিয়ে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে প্রচুর লেখা প্রকাশিত হয়। ১৫-২০ টাকা দিয়ে এসব পত্রিকা আমরা কিনি না ঠিকই, কিন্তু গলাবাজি আর গালিবাজি দিয়ে পুষিয়ে দেই। নিজের যোগ্যতা নিয়ে চিন্তা করি না।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের অতি মূল্যবাদ মগজ দিয়েছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমরা তা ব্যবহার করি না। কেউ শিখিয়েও দেয় না কিভাবে ব্যবহার করতে হবে। কারও শেখারও কোন আগ্রহ নেই।
দুঃখজনক!

মানবতার চাদাবাজি

অহংকার আর বিরক্তি একই কথা নয়। অনেক সময় পোস্টের ভাষ্যে অহংকার প্রকাশ পেলেও বিরক্তিটাই মূল ব্যাপার।
যেখানে চাকুরী করি সেই প্রতিষ্ঠান অত্র এলাকায় মোটামুটি পরিচিত। অন্যকিছু না হোক অন্তত টাকাপয়সার দিক থেকে পরিচিত বাইরের মানূষের কাছে। ভেতরের খবরতো আমরা যারা চাকুরী করি তারা জানি। বাইরের মানুষ ওসব বিশ্বাস করবে না।
আমাদের অবস্থা যাই হোক না কেন বিভিন্ন ধরনের সাহায্যের আবেদন আমাদের কাছে আসে। আজ থেকে ২-৪ বছর আগেও এত আসত না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে যার যাই প্রয়োজন হোক না কেন "অমুক প্রতিষ্ঠানে কাগজ দাও, অনেক টাকা পাবা"- বেশিরভাগই এমনটা ভাবছে এখন। সবচেয়ে বেশি যে বিষয়ের জন্য কাগজ আসে তা হল বিয়ে! অমুকের মেয়ের বিয়ে, তমুকের বোনের বিয়ে এবং দুঃখের কথা হলেও সত্যি যে এসব ক্ষেত্রে প্রায় ৯৫ ভাগ হল হিন্দু ফ্যামিলির মেয়ে!
ভ্রু কুঁচকানোর কিছু নেই। হিন্দু হলে চাঁদা দিব না, মুসলিম হলে দেব - এমনটা ভাবার কোন কারন নেই। চাঁদা সমস্যা নয়। সমস্যা হল সিস্টেম! চট্টগ্রামের রিকশাওয়ালার মেয়ের বিয়েতেও ২০০ বরযাত্রী খাওয়াতে হয়। নাহলে পাত্রপক্ষ বিয়েতে রাজী হতে চায় না। কাজেই ভিক্ষা করে হলেও পাত্র পক্ষের দাবি মেটাতে হবে। অফটপিকে একটা প্রশ্ন রাখি, মুসলিম ধর্মেতো যৌতুক নিষিদ্ধ, কিন্তু আমরা মানি না। হিন্দু ধর্মে কি বৈধ? জানা আছে কি?
এসব গরীব হিন্দু পরিবারে সদস্যরা তাদের মেয়েদের বিয়েতে অনেকটা স্ববর্স্ব খোয়ানোর মত অবস্থা হয়। এইসব বিয়ের খাওয়া বা যৌতুক কোনটাই ইসলামী শরীয়ার দৃষ্টিতে বৈধ না। দুঃখ লাগে আমাদের চাঁদার টাকা ভাল কোন কাজে লাগছে না।
আচ্ছা গরীবদের কথা বাদই দিলাম। যাদের টাকাপয়সা আছে তাদের কথাই বলি। আমাদের এখানে চাকুরী করে ঢাকায় ফ্ল্যাট-দোকান নেই, এমন লোকের সংখ্যা কম। স্থানীয়দের বাদ দিয়ে অবশ্য। প্রায় প্রত্যেকেরই ফ্লাট, অথবা জমি বা অন্য কোন সম্পত্তি আছে। কাজেই ফট করে ৩০-৪০ লাখ টাকার দরকার হলে জোগাড় করতে পারবে না এটা কেন জানি বিশ্বাস হতে চায় না।
একটা সময় ছিল যখন মানুষের আর কোন উপায় থাকত না তখন অন্যের কাছে হাত পেতে দিত। পোলা বিদেশ যাবে? জমি বিক্রি করো। মেয়ের বিয়ে? গাভিটা বিক্রি করে দাও। অসুখ হয়েছে? ভিটে বন্ধক দাও।
এখন আর সেদিন নেই। আমার এক কলিগের দুটো কিডনিই বিকল হয়ে গেল। ভারতে চিকিৎসা করবেন। কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন। অতি চালাকীর কারনে তার রোগ জটিল আকার ধারন করেছে। কোম্পানির ডাক্তার এই ব্যাপারে তার উপর যথেষ্ঠ ক্ষ্যাপা। তবুও তার রিকমেন্ডশনে কোম্পানি তাকে মোটা অংকের টাকা দিয়েছে। তবুও সে আমাদের নিকট সাহায্যের আবেদন করেছে। অথচ ঢাকায় তার ফ্ল্যাট আছে। সমালোচকদের মুখে শুনি তার স্ত্রী নাকি তাকে ফ্ল্যাট বিক্রি করতে দিচ্ছে না বা তারও ফ্ল্যাট বিক্রি করার ইচ্ছে নেই। যারা খোজ খবর রাখে তাদের কাছে শুনি, তার স্ত্রী এখন তার মরার অপেক্ষায়।
কার জন্য তাহলে গাড়ী-বাড়ী? কি হবে এসব করে?
আজকে একটা আবেদন এসেছে। তিনি বিসিআইসির একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক। বয়স ৪৯ বছর। আমাদের এখানে টিউশনি করান। জ্ঞাতার্থে বলে রাখি, প্রফেশনালি কেউ যদি আমাদের এখানে টিউশনি করায় তবে মাসে লাখ খানেকের কাছাকাছি টাকা ইনকাম করা তার জন্য কোন ব্যাপারই না।
এইলোকেরও কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট হবে। ৩০-৪০ লাখের মত খরচাপাতি লাগবে। যে চার্ট দেখলাম সে অনুযায়ী যদি টাকা উঠে তবে আমাদের এখান থেকে মানবিকতার খাতিরেই সে সাড়ে সাত লাখ টাকা পেয়ে যাবে। আর কোম্পানি যদি CSR ফান্ড থেকে দেয় তাহলেতো কথাই নেই। বসদের ছেলেমেয়েকে হয়ত পড়িয়েছেন, মেনেজ হয়ে যেতেই পারে।
যাদের টাকা নেই, তাদের কথা ভিন্ন। কিন্তু টাকা যাদের থাকার কথা তারাও যখন হাত পাতে তখন আল্টিমেটলি অভাবীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। কারন আমাদের হাত তখন আর প্রসারিত হতে চায় না। গুটিয়ে থাকতে চায়।
মূলকথায় আসি। মাসের ১৫ দিন পার হয়ে গিয়েছে। মানিব্যাগের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌছেছে যে, খালি হয়ে যাবার আশংকায় বাজারে যাওয়া হচ্ছে না। কাউয়ার ঠেং, বগার ঠেং রান্না করে নাকে-মুখে গুজে দিয়ে পড়ে থাকি। ভাবছি আর না, মানবিকতার চাঁদা দিয়ে নিজেই থালা হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাব।
যা আছে কপালে!

তাকওয়া ও বিভ্রান্তি

[বিতারিত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থণা করছি]
খুবই সাধারন কিছু কথাবার্তা লিখব। অনেকটা বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আলাপ করার মত। এই লেভেলে কথা বলার জন্য রেফারেন্স দরকার হয় না। কাজেই সেদিকে যাব না।
মুসলিম হতে হলে প্রথমেই যেটা প্রয়োজন সেটা হল আল্লাহর প্রতি ঈমান। তারপর অন্যান্য বিষয়সমূহের প্রতি ঈমান। ঈমানের তারতম্য ও বিভ্রান্ত বিশ্বাসের কারনে কোন মুসলিমের আমলের তারতম্য ঘটে। অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন, আমি নিজেও একসময় চিন্তিত ছিলাম যে, আল্লাহ একজন, কুরআন একটি, মুহাম্মদ (সাঃ) একজন। তারপরও মুসলমানদের মধ্যে কেন এত বিভেদ? কাদের কথা বার্তা সঠিক? কাদেরকে আমরা অনুসরণ করব? যেহেতু আমরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর যুগ পাই নি।
মুসলিমদের মধ্যে ভাগাভাগির একমাত্র কারন হল ধর্ম বিশ্বাস বা আকীদাগত বিভ্রান্তি। এই বিষয়টি নিয়ে আপাতত আলোচনা না-ই করলাম। ধরে নিলাম, একদল লোকের আকীদায় কোন বিভ্রান্তি নেই। তারপরও দেখা যায় তাদের মধ্যে আমলের কমবেশি হচ্ছে। একই বিষয়ে দু'জনের কার্যকলাপ দু'রকম হচ্ছে।
এমনটা হবার কারন তাদের মধ্যে তাকওয়া বা আল্লাহর প্রতি ভয়ের তারতম্য। একজন হয়ত আল্লাহকে বেশি ভয় পান, অন্যজন শয়তানের প্ররোচনায় অতটা সতর্ক নন।
উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।
কেউ গোসলখানায় গোসল করার সময় দরজা টেনে দিল। ফলে বাইরের দুনিয়া তার আড়ালে চলে গেল। এরপর সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে গোসল সম্পন্ন করল। আরেকজন একই ভাবে দরজা টানার পর মনে মনে খেয়াল করল বাকি দুনিয়া আমার আড়াল হলেও আল্লাহর কাছ থেকেতো আমি আড়ালে নই। সে শরীরে কাপড় রেখেই গোসল করল।
গোসল কিন্তু দু'জনেরই হল। কিন্তু দু'জনের আমল ভিন্ন হল এবং তার প্রতিফল ভিন্ন হবে সেটাই স্বাভাবিক।
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে উলঙ্গ হয়ে গোসল করা কি হারাম? জ্বী না হারাম নয়, জায়েজ। তবে উত্তম নয়। প্রতমোক্ত ব্যক্তি জায়েজের উপর আমল করেছেন, দ্বিতীয় ব্যক্তি করেছেন উত্তমের উপর।
বর্তমান যুগ হচ্ছে জায়েজের যুগ। বেশিরভাগ মানুষই জায়েজের উপর আমল করতে চায়। নগণ্য সংখ্যক মানুষই আল্লাহতে ভীত হয়ে উত্তমের উপর আমল করে থাকেন। আমাদের কোম্পানীর প্রোভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচুইটি ইত্যাদি কোম্পানির কাছে জমা থাকে। কিন্তু প্রতিবছর এই ফান্ডের যে লভ্যাংশ আসে সেটা সবার মধ্যে বিলি করে দেয়া হয়। আমাদের ইমাম সাহেব বলে দিলেন যে, "এই টাকা নিজের জন্য খরচ করা জায়েজ আছে তবে কারো যদি তাকওয়া বেশি হয় তবে তা ভিন্ন বিষয়।" টাকা-পয়সার ব্যাপারে আবার তাকওয়া!
সঞ্চয়ী হিসাব থেকে লভ্যাংস পাওয়া যায়, পাওয়া যায় বিভিন্ন সুদভিত্তিক শেয়ার ব্যবসা থেকে, FDR থেকে, সঞ্চয়পত্র থেকে, এছাড়াও নানা উৎস থেকে।
যেকোন কিছু আমলের কুরআন-হাদীসের নির্দেশনা জরুরী। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছ থেকে সাহাবাগন (রাঃ) কুরআনুল কারীম শিখেছেন, শিখেছেন বিভিন্ন আয়াতের ব্যাখ্যা। আমল করেছেন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর অনুমতি ক্রমে বা নির্দেশনায়। এখন কেউ যদি প্রশ্ন করে, কুরয়ান-হাদীসের কোন জায়গায় আছে যে, সাহাবীদের পরে কেউ কুরআন-হাদীস সাহাবীদের চেয়ে ভাল বুঝবে না?
তার এই প্রশ্নের জবাব বুঝিয়ে দেয়ার মত ঘিলু অন্তত আমার নেই।
জীবনের সব ব্যাপারেই এই বিষয়টা সামনে রাখা দরকার। কুরআন-হাদীস কি বলেছে এবং সাহাবারা কিভাবে তার আমল করেছেন। অনেক মেয়েই বলে থাকে পর্দা করে মেয়েদের বাইরে যাওয়া জায়েজ। তারা এই কথার রেশ ধরে (অপ্রয়োজনে) মেয়েদের হাট-বাজার, চাকুরী-বাকুরী ইত্যাদি ব্যাপারে অনেক কিছুই বলে থাকেন। অথচ আয়েশা (রাঃ) মেয়েদের মসজিদের গমনের ব্যাপারে (রাসূলুল্লাহর (সাঃ) মৃত্যুর পর) নেগেটিভ কথা বলেছেন!
ঐযে বললাম, তাকওয়া! দু'জন পর্দানশীল মেয়ের তাকওয়ার পরিমাণ কিভাবে সমান হতে পারে যখন একজন বাধ্য না হলে ঘরেই থাকে আর অন্যজন কারনে-অকারনে ঘুড়ে বেড়ায়? টাইট ফিট বোরকা পরে, নিজের ব্যাগের ফিতা দু'বুকের মাঝখান দিয়ে টেনে দেয়?
সম্ভব?