Featured Post

I SAID NO TO QUANTUM METHOD

পূর্বে পোস্ট আকারে প্রকাশিত। কারও সাথে ঝগড়া করার জন্য এটা দেইনি। নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম। কেউ মানতে না পারলে আমার কিছু করার নেই।  আ...

Friday, September 18, 2015

লেখা ও মতামত

ফেসবুকে যখন কোন লেখা দেই (গল্প) তখন অন্যান্য লেখকদের মত আমিও মতামত আশা করি। কিন্তু ঝামেলার কথা হল যাদের লেখনি আমার চেয়ে ভাল তারা হয়ত আমার পোস্ট পড়েই না। আর পড়লেই ভাবে ধূর এইসব ছাইপাসে কি কমেন্ট করব (আমি যেমনটা মাঝে মাঝে ভাবি)। আর যাদের লেখনি আমার তুলনায় কম তাদের কমেন্ট যদি সমালোচনার হয় তবে আমার কাছে ঠিক যৌক্তিক বা যথার্থ মনে হয় না।
আমার এক কলিগ আছেন যিনি ভার্চুয়াল না, বাস্তব জীবনে একজন লেখক। তার লেখা পত্রিকায় যায়। গতকালের দৈনিক আজাদীতে উনার একটা লেখা প্রকাশিত হয়েছে। উনার ভাষ্যমতে উনি লেখাটা দিতে চান নি, কিন্তু উনার বন্ধু জোর করে নিয়ে গিয়েছেন। উনাকে ধরলাম আমার একটা লেখা দেখে দিতে। অসমাপ্ত লেখাটা পড়ে উনি যেসব ত্রুটি বের করেছেন সেগুলো আমার কাছে খুবই যূক্তিযুক্ত লেগেছে।
প্রথমেই বললেন, শুরুর দিকে ঘটনা শুরু হবার প্রস্তুতি নিয়ে কিছু লিখতে। যেমন, কেউ বাড়ি যেতে চাইলে তার প্রস্তুতি হিসেবে ব্যাগ গোছানোর ব্যাপারটা থাকে। প্রস্তুতি ছাড়া দেশের বাড়িতে যাওয়াটা স্বাভাবিক নয়।
স্বাভাবিক ঘটনার বর্ণনায় কোন গল্প হয় না। স্বাভাবিক ঘটনার মধ্যে পাঠক কোন আগ্রহ খুজে পায় না। কাজেই সে ঐ লেখা পড়বে না। পাঠকের আগ্রহ ধরে রাখার জন্য অপ্রত্যাশিত কোন ব্যাপার নিয়ে আসতে হবে।
আমার ঐ লেখায় ঘটনার প্রবাহে ছেদ পড়ে যাচ্ছে। এক প্যারার ঘটনার সাথে আরেক প্যারার ঘটনার সম্পর্ক আরো সুদূঢ় করার পরামর্শ দেন।
বর্ণনাভঙ্গি সহজ সরল- এটা ভাল, কিন্তু আরো ইনফরমেটিভ হতে হবে। একই বাক্যে যত বেশি সম্ভব ইনফরমেশন দিতে হবে। তাহলে বিরক্তির উদ্রেগ হবে না।
মাথায় যা আসে লিখে ফেলেন। তারপর সম্পাদনার সুযোগ তো আছেই। তখন কাটাছেড়া করে মূল বিষয়টাকে আকর্ষনীয় করতে হবে। হাবিজাবি এত কিছু লেখার চেয়ে লেখার মত লেখা একটা লিখতে পারলেই হল। সে জন্য সময় লাগলে লাগুক। অসুবিধা কি?
উনার কথা শোনার পর আর এক শব্দও লেখা হয় নি। আর যতটুকু লেখা হয়েছে সেখানেও ছুড়ি চালাতে হবে বলে মনে হচ্ছে। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কি দাঁড়ায়। আয়না না হোক, আয়নার কাছাকাছি গেলেই আমি খুশি হব।

Monday, July 27, 2015

বাটপারীতে নোবেল

গ্রামীণফোনের যে বা যারা পলিসি মেকার বা উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করে তাদের সাথে দেখার করার একটা শখ ইদানিং মনের ভিতর জেগে উঠেছে। লোকটা আর কিছু বুঝক বা না বুঝুক, ব্যবসা কাকে বলে সেটা অন্য সব টেলিফোন অপারেটরদের থেকে অনেক অনেক বেশি বোঝে। এমন লোকের সাক্ষাৎ পাওয়াও ভাগ্যের ব্যাপার!
গ্রামীণ ছাড়া যতগুলো মোবাইল অপারেটর আছে গ্রামীণের মত তাদেরও বিভিন্ন মেয়াদের ইন্টারনেট প্যাকেজ আছে। সবারই মাসভিত্তিক প্যাকেজ আছে। সবার মত গ্রামীণেরও মাস ৩০ দিনে ছিল। কিন্তু এখন এটা ২৮ দিনে। প্রিপেইড গ্রাহদের জন্য এখন গ্রামীণের মাসিক প্যাকেজ হল ২৮ দিনের। সুতরাং ইন্টারনেট প্যাকেজের ক্ষেত্রে গ্রামীণের ১ মাস = ২৮ দিন।

অনেকদিন গ্রামীণের নেট প্যাকেজ ব্যবহার করেছি। আগে ত্রিশ দিনই ছিল। ২৮ দিন করাতে খুবই বিরক্ত হয়েছি। কিন্তু একটু চিন্তা করতেই ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছি।
ফ্রেব্রুয়ারী বাদ দিলে বছরে বাকি থাকে এগার মাস। প্রতিমাসে ২ দিন করে কমাতে এগারো মাসে কমল ২২ দিন। এরই মধ্যে ৭টি মাস হল ৩১ দিনে। ২২ এর সাথে ৭ যোগ করে পাই ২৯। গ্রামীণের হিসেবে আরো একটি বাড়তি মাস!
বাহ! কি চমৎকার! এখন থেকে ১২ মাসে বছর নয়। ১৩ মাসে বছর। গ্রামীণকে আরো সনির্বদ্ধ অনুরোধ হইল তারা যেন ব্যাংকগুলোকে/সরকারকে বলে তের মাসে বছর পাশ করিয়ে নেয়। আগামী বছর থেকে ক্যালেন্ডারের পাতায় যেন ১৩ টি মাস দেখতে পাই। ডিসেম্বেরের সাথে মিল রেখে ১৩ তম মাসের নাম গ্রামীন্বর রাখা যেতে পারে।
তাই যে লোকটি গ্রামীনের লক্ষ-কোটি টাকা মুনাফা এনে দিল তার সাথে তো আমি দেখা করতে চাইতেই পারি। সফল ব্যবসায়ী হিসেবে তাকে শান্তিতে নোবেল দেয়ারও দাবি জানাই।
প্লীজ গ্রামীণ! ভদ্রলোককে আমার সাথে দেখা করিয়ে দাও। প্লীইইইইইজ...

আমাদের আরাফাত ভাই

আরাফাত ভাইয়ের বয়সটা বেড়েই চলেছে। ভয়ে হিসেব করেন না। না জানি কত হয়েছে! তবে মনে মনে জানেন, তার পরিবারের লোকজনও জানে যে, তার বয়স ৩০ পেড়িয়ে গেছে আরো অনেক আগেই। দুঃখের বিষয় হল, আরাফাত ভাইয়ের বিয়ে করা হয় নি।

ছাত্র জীবনে লেখাপড়া বেশি ভাল লাগত না। তাই তেমন কোন ডিগ্রীও নেই তার। বাবা সরকারী চাকুরী করেন, সরকারী বাসায় থাকেন-তাই পরিবারের বড় ছেলে হয়েও খুব বেশি দায়িত্ববোধ কাঁধে নেন নি। তাবলীগ তাবলীগ করে কতদিকে সফর করেছেন! বাসা থেকে কাজ করার জন্য সবসময় চাপ দিত। উনি মনের মত কাজ পান না।

বিয়ের বয়স পার হয়ে যায়, চাকুরী মেলে না। বহু কাঠ-খড় পুড়িয়ে অবশেষে একটা চাকুরী উনি পেলেন। সেটাও সরকারী চাকুরী-ই। এখানে বাসা আছে। এবার তাহল বিয়ে করতে হয়।

বিয়ে করতে যেয়ে এবার আর কোন পাত্রীই পাওয়া যায় না। উনার বয়সী তো বটেই, আশেপাশের বয়সী যত মেয়ে আছে সবার তো কবেই বিয়ে হয়ে গেছে। আর ছোট বিয়ে করতে চাইলে ১০-১২ বছরের ছোট হয়ে যায়। মেয়ের ফ্যামিলি রাজি হয় না। এ কোন মুসিবত!

মুশকিল যেমন আছে, আসানও তেমন আছে। আরাফাত ভাইয়ের এই বিপদে এগিয়ে এলেন তারই এক সাথী ভাই। লম্বা সফরে ঐ ভাইয়ের সাথে পরিচয় হয়েছিল। সফর শেষ হবার পরও সেই ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ ছিল। কাকতালীয় ভাবে আরাফাত ভাই যেখানে চাকুরী পান মুশফিক সেখানে আগে থেকেই চাকুরী করে। পাত্রী মুশফিকেরই ছোট বোন।

সুমী সবে এইচ এস সি পাশ করেছে। রেজাল্টও ভাল। সুমীর ইচ্ছা আরো লেখাপড়া করার। কিন্তু তার ফ্যামিলির ইচ্ছা অন্যরকম। মুশফিকের আছে আরাফাত ভাইয়ের কথা শুনে সোবহান সাহেব একফাঁকে এসে আরাফাত ভাইয়ের সাথে কথা বলে গেলেন। পাত্র হিসেবে আরাফাত ভাইকে তার খুবই পছন্দ হল। কৌশলে আরাফাত ভাইয়ে পৈত্রিক ঠিকানাটাও সোবহান সাহেব জেনে নিলেন।

সোবহান সাহেব একদিন সময় করে আরাফাত ভাইয়ের বাবা আশরাফ সাহেবের সাথে দেখা করতে আসলেন। আশরাফ সাহেবের সাথে কথা বলেও সোহবান সাহেবের খুব পছন্দ হল। তিনি তাদের সাথে কথা বার্তা একরকম পাকা করেই আসলেন। এখন শুধু তাদের মেয়ে পছন্দ হলেই হল।

সুমী বা আরাফাত ভাই এইসবের কিছুই জানে না। আশরাফ সাহেব একদিন তার স্ত্রীকে নিয়ে সোবহান সাহেবের বাড়িতে আসলেন। সুমীর সাথে পরিচয় করিয়েও দিলেন। কথা বার্তায় সুমী বুঝতে পারল তার বিয়ের কথা বার্তা চলছে। সুমী আশরাফ সাহেবদের সাথে তেমন কোন কথা না বলে গুমোট হয়ে রইল।

মুশফিকের কাছে আরাফাত ভাইয়ের বিবরন শুনে সুমী আরো চিমসে গেল। রাতে শুরু হল তার কান্না। খাওয়া দাওয়াও বন্ধ। সোবহান সাহেব বিচলিত হলেন না। তিনি মেয়েকে সাফ জানিয়ে দিলেন, এখানেই তাকে বিয়ে দেয়া হবে। তিনি কথা দিয়ে ফেলেছেন। মিসেস সোবহান এসে মেয়েকে অনেক বোঝালেন। সুমী উল্টোদিকে শুয়ে শুধু কাদছে। রাতে একবার সুইসাইড করার চেষ্টা করল সুমী। কিন্তু ওড়না ছিড়ে যাওয়ায় কোমড়ে ব্যথা পাওয়া ছাড়া আর কোন লাভ হল না।

আরাফাত ভাইকে ফোন দিয়ে আশরাফ সাহেব শুধু এতটুকুই বললেন, পাত্রী পাওয়া গেছে, বাড়ি এসো।
আরাফাত ভাই বাড়ি এসেই শোনেন আগামী শুক্রবার তার বিয়ে। আজ বাদে কাল বৃহস্পতি, তারপরই শুক্রবার!

আরাফাত ভাই মনে মনে প্রমাদ গুনলেন। অবস্থাদৃষ্টেতো মনে হচ্ছে উনার মতামতের কোন গুরুত্ব দেয়া হবে না। থাক, মেয়ের ফ্যামিলি, মেয়ে রাজি থাকলেই হয়। মিসেস আশরাফ এই ব্যাপারে ছেলেকে আশ্বস্থ করলেন।

যথাসময়ে তাদের বিয়ে হয়ে গেল। সুমীকে নিয়ে আসা হল সেদিনই। সারাপথ সুমী কারো সাথে কোন কথা বলেনি। খাওয়া-দাওয়াও করেনি। বিস্ময়ের ব্যাপার হল কান্নাকাটিও করেনি।

বাসর ঘরে যখন আরাফাত ভাই ঢুকলেন তখন তার পড়নে ভারী পাঞ্জাবী। সারাদিনের ধকলে ক্লান্তও বটে। এদিকে চারদিক ফুলের গন্ধে ম ম করছে। আরাফাত ভাইয়ের মাথা ধরে গেছে।

ঘরের ঢোকার সময় সালাম দেয়ার দরকার ছিল। টেনশনে ভুলে গিয়েছেন। এখন কি দিবেন? ইতস্তত করে দিয়েই ফেললেন। সেই সালামের জবাব আরাফাত ভাইয়ের কান পর্যন্তই পৌছাল না।

আগে গোসল দেয়া দরকার। ড্রয়ার থেকে টান দিয়ে লুঙ্গি আর গামছে নিয়ে আরাফাত ভাই বাথরুমে ঢুকে গেলেন। কোমড়ে গামছা পেচিয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন শাওয়ারের নিচে। টানা দশমিনিট ভেজার পর শরীর যেন একটু ঠান্ডা হল। এরপর সাবান আর শ্যাম্প মেখে আবারো দশমিনিট শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে আরাফাত ভাই একটু ধাতস্থ হলেন।

পাঞ্জাবীটা ঘামে চিট চিট করছে। পড়তে আর রুচি হচ্ছে না। আরাফাত ভাই লুঙ্গি আর পাতলা একটা গ্যাঞ্জি পড়ে বেড়িয়ে আসলেন। গ্যাঞ্জির উপর দিয়ে হালকা ভুড়ির ভাব লক্ষ করে আরাফাত ভাই একটু বিব্রত হয়ে পড়লেন।

সুমী তখনো পাথরের মূর্তির মত স্থির হয়ে বসে আছে। আরাফাত ভাই মৃদু একটু কাশলেন। সুমীর তাতে কোন ভাবান্তর হল না। আরাফাত ভাই নার্ভাস হয়ে গেলেন। তাবলীগ করার কারনে তিনি কখনই মেয়েদের ধারা-কাছে যান নি। আর মেয়েরাও তাকে দেখলে অন্যদিকে সরে যেত। কাজেই নিতান্তই অপরিচিত একজন মেয়ের সাথে কিভাবে কথা বলবেন ভেবেই পেলেন না।

উপায়ান্তর না দেখে আরাফাত ভাই জায়নামাজে দাড়িয়ে গেলেন। নামায শেষে নাতিদীর্ঘ দোয়া করলেন। এবার যেন একটু আত্মবিশ্বাস ফিরে পেলেন।

ভাবলেন আমার এতক্ষন যেমন লাগছিল মেয়েটারও তো তেমন লাগতেই পারে। তিনি খড়খড় করে গলাটা পরিষ্কার করে বললেন,

"ড্রেস চেঞ্জ করে ফ্রেশ হয়ে নিন। ভাল লাগবে..."

সুমী চুপ।

আরেকবার চেষ্টা করা যাক।

"নাকি কিছু খাবেন? ক্ষুধা লাগে নি?"

> আমাকে নিয়ে ভাবতে হবে না।

সুমীর তীক্ষ্ণ অথচ মৃদু গলাটা আরাফাত ভাইকে যেন চাবুকের মত আঘাত করল। উনি বুঝতে পারলেন উনি জীবনের সম্ভবত সবচেয়ে বড় ভুলটা করে ফেলেছেন। এই মেয়েতো বিয়েতে রাজি ছিল না। নিশ্চয়ই তার বাবা জোর করে তাকে বিয়ে দিয়েছে।

ইস! কাজটা একদম ভাল হয়নি। আমিতো একটা গাধা, আগেই কেন ভালভাবে খোজ নিলাম না!

প্রচণ্ড আফসোসে আরাফাত ভাই জায়গায় দাড়িয়েই নিজের অজান্তে মাথা নাড়তে লাগলেন।



বিপদে পড়লে আরাফাত ভাইয়ের মাথা খুব দ্রুত খেলে না। স্লো মোশনে খেলে। অন্যেরা যে বিপদ থেকে ফটাফট উঠে যায় সেখানে উনি উঠেন ঢিমেতালে। বাইরে থেকে কেউ দেখলে ভাববে উনার গরজ নেই। আসলে তা নয়। এই মুহূর্তেও আরাফাত ভাইয়ের মাথা ভিতরে ভাবনার ঝড় বইছে।

কেন আমাকে মেয়েটা পছন্দ করবে না? কেন বিয়েতে রাজি হয়নি?

আমার বয়স বেশি!

আর?

মেয়েটার হয়ত পড়াশোনার ইচ্ছা ছিল। বিয়ের ফলে সে ধরেই নিয়েছে তাকে আর পড়তে দেয়া হবে না।

আর?

মেয়েটার হয়ত বিভিন্ন শখ-আহ্লাদ ছিল, বিয়ে করার কারনে ধরেই নিয়েছে স্বামী এবং শ্বশুড়বাড়ির লোকজন সেগুলো পূরণ হতে দিবে না।

তাহলে এই মুহূর্তে আমি কি করতে পারি?

যেভাবেই হোক, মেয়েটাকে বোঝাতে হবে আমি তার পক্ষের লোক। আর আমি যেটা আশংকা করছি যদি সেগুলোই হয় তবে আমার বয়স বেশি-এই ব্যাপারটাতে তো আমার কিছু করার নেই। আমি কেন, কারোরই কিছু করার নেই। সো, এই পয়েন্ট বাদ। পড়াশোনা? ওকে, যতদূর করতে চায় আমি বাধা দিব না। আর শখ? কি শখ আমি কিভাবে জানব?

হয়ত বিড়াল পুষে, হয়ত ফুলের বাগানের শখ, হয়ত ঘুড়তে পছন্দ করে--আচ্ছা যাই হোক। পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের বাইরে না গেলে আমি আপত্তি করব না। অবশ্য এই বয়সের একটা মেয়ের পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের বাইরে তেমন কিছু থাকারও কথা নয়।

আচ্ছা, সে কি সারাদিন না খেয়ে ছিল? এই বয়সের মেয়েরা রাগ করলে তো খাওয়া-দাওয়া করার কথা না। আরেক ঝামেলা, কথাবার্তার যে ঝাজ! খাওয়ার কথা বললে আবার গ্লাস দিয়ে ঢিল দেবে নাতো?

দিলে দিক, আমার বউ, তার ভাল-মন্দ সব কিছুর দায়িত্ব এখন আমার। আমাকেই সামলাতে হবে।

আরাফাত ভাই বিছানার এক কোনায় বসলেন।

"দেখুন, আমি বুঝতে পেরেছি আপনি এই বিয়েতে সন্তুষ্ট হতে পারেন নি।" -মৃদু গলায় শুরু করলেন আরাফাত ভাই। "আসলে আমি জানতাম যে, মেয়ে, মেয়ের পরিবার-এই বিয়েতে রাজি। আমাকে সম্ভবত ভুল তথ্য দেয়া হয়েছে। আমি কখনই মেয়ের অসন্তুষ্টির সাথে বিয়ে চাইনি। আমার বয়স বেশি। লেখাপড়াও তেমন একটা করিনি। তাই অনেক খোজাখুজির পরও আমার সমমানের পাত্রী পাওয়া যাচ্ছিল না। যখন শুনলাম মেয়ের ফ্যামিলি রাজি তখন অন্যকিছু খোজ নেবার প্রয়োজন মনে করিনি। এমনকি পাত্রীও দেখিনি। বিয়েতে মত দিয়েছি। কোন ভাবে যদি বুঝতে পারতাম এমন কিছু ঘটবে তবে হাজারবার ভাবতাম।"

"বিয়ে, সংসার নিয়ে আমি অনেক ভেবেছি বিয়ের আগে।"-একটু দম নিয়ে আবারো শুরু করলেন আরাফাত ভাই। "আমি বিশ্বাস করি, মাঝি ও বৈঠার সমন্বয়ের মাধ্যমেই একটি নৌকা ভালভাবে চলতে পারে। মাঝি আছে বৈঠা নাই, নৌকা অচল। আবার বৈঠা আছে মাঝি নেই-তাতেই কোন লাভ নেই। কাজেই আপনার আমার সংসার যদি হয় তবে দু'জনের সম্মতিতেই হবে। বিয়ে যেহেতু হয়েই গিয়েছে সেহতু আমি ধরেই নিচ্ছি সংসার আমাদের করতে হবে। আমি নিজে পড়াশুনা বেশি করিনি। কিন্তু আমি চাই আপনি আপনার পড়াশুনা শেষ করুন। আমার বাড়ি থেকে একটু দূরেই সরকারী কলেজ আছে। আপনি চাইলে কালই সেখানে আপনাকে ভর্তি করে দেব........"

>আমার পানির পিপাসা পেয়েছে। --আরাফাত ভাইয়ের কথায় বাধা পড়েছে। আরাফাত ভাই স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেললেন। মনে হচ্ছে প্রাথমিক ধাক্কাটা কেটে গিয়েছে।

আরাফাত ভাই নিজেই উঠে পাশের টেবিল থেকে পানি ও সেমাইয়ের বাটি হাতে নিয়ে আসলেন।

"নিন পানি নিন। সেমাইটাও একটু খেয়ে দেখুন।"

"জানেন, আমার বন্ধু-বান্ধব প্রতিবছর এদিক সেদিক বেড়াতে যায়। বিভিন্ন জায়গায় তারা গিয়েছে। বান্দরবান, রাঙামাটি, বক্সবাজার, সুন্দরবন, জাফলং... আমি একবারও তাদের সাথে যাই নি। সবসময় ভেবেছি যাব, তবে বিয়ের পর যাব। খুব মজা হবে তাই না?"

>চুপ করেন। আপনি বড় বেশি কথা বলেন।

ধমক খেয়ে আরাফাত ভাই চুপসে গেলেন। এই মেয়ে দেখা যায় কঠিন চীজ। তবে আরাফাত ভাই হতাশ হলেন না। তিনি খেয়াল করলেন, সুমীর গলায় আগের কাঠিন্য আর নেই। কার কাছ থেকে যেন শুনেছেন যেই মেয়ে যত কঠিন, সেই মেয়ের ভালবাসার ক্ষমতাও তত বেশি। কথাটা তিনি বিশ্বাসও করেন নি, অবিশ্বাসও করেন নি। দেখা যাক কোথাকার পানি কোথায় গড়ায়।

আরাফাত ভাই লক্ষ্য করলেন ইতোমধ্যে সুমী সেমাই শেষ করেছে। তিনি আরেকটা বাটিতে কিছু ফল কাটা ছিল সেগুলোও নিয়ে আসলেন। দু'টুকরো আপেল হাতে নিয়ে নিজেই চিবুতে শুরু করলেন। ইচ্ছা করছিল একটুকরো সুমীকেও খাইয়ে দেন। কিন্তু অত সাহস আরাফাত ভাই করতে পারলেন না। সমস্যা নেই, বেঁচে থাকলে আরাফাত ভাইয়ের ইচ্ছা পূরণ হবে।

সুমী অবশ্য ফলের বাটির দিকে হাত বাড়ালো না। সেমাই আর পানি খেয়ে আবারো মূর্তি হয়ে গিয়েছে। আরাফাত ভাই দীর্ঘনিশ্বাস গোপন করে বললেন,

"আচ্ছা ঠিক আছে। আপনি শুয়ে পড়ুন। আমি বারান্দার সোফায় ঘুমাবো।"

সুমী কিছুই বলল না।

সোফায় শুয়ে আরাফাত ভাই উদাস মনে আকাশের তারা গুনতে লাগলেন। ভবিষ্যতের কথা ভাবছেন। ভাবছেন সুমীর মন তিনি জয় করতে পারবেন তো? তবে আরাফাত ভাই আশাবাদী। যাই ঘটুক তিনি নিরাশ হবেন না। যেটা হবে, সেটা ভালই হবে।

সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে আরাফাত ভাইয়ের চোখ মুদে এল।

মুক্ততদন্ত-২

ধর্মদ্রোহী বলে থাকে,
“ইতিহাস থেকে জানা যায় মুহাম্মদ সা: ধর্মগুরু ছিলেন ওয়ারাকা বিন-নোফেল, যে কিনা ছিলেন ইহুদি- খ্রিস্টানদের ধর্মপুস্তক তাওরাত, জবুর ও ইনজিল কেতাবে বিশেষজ্ঞ । কোরানে তাওরাত, জবুর ও ইনজিলের সাথে অনেক মিল থাকার এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় কারণ”
এই প্রসঙ্গে আমি কিছু বলব না। ইতিহাস ও প্রামাণ্যগ্রন্থগুলো কি বলে সেটাই আগে দেখে নেই। ক্যারেন আর্মস্ট্রং তার গ্রন্থে লিখেন,
“মুহাম্মদ (সঃ) তাঁর কাজ নিতে (খাদিজা রাঃ এর ব্যবসার কাজ-লেখক) সম্মত হন এবং দুঃসাহসী অভিযাত্রায় পথে নামেন। সফরসঙ্গী জনৈক মায়সারা অসংখ্য অদ্ভূত ব্যাপার লক্ষ্য করেছিল, যথাযথভাবে তা খাদিজাকে অবহিত করেছে সে। এক মংক, দাবী করেছিল সে, তাকে এক পাশে ডেকে নিয়ে বলেছে মুহাম্মদ (সঃ) সেই পয়গম্বর আরব বিশ্ব যাঁর পথ চেয়ে আছে। পরে সবিস্ময়ে জানিয়েছিল সে, দুজন ফেরেশতা তাকে প্রখর সূর্য্যের রশ্মি থেক মুহাম্মদ (সঃ) ছায়া দিতে দেখার কথা। এসব ঘটনা শোনার পর খাদিজা সরাসরি চাচাত ভাই ওয়ারাকা ইবন নওফল, অর্থাৎ হানিফের সঙ্গে পরামর্শ করতে যান। নওফল খৃস্টধর্মে দীক্ষা নিয়েছিলেন এবং অন্যান্য ঐশীগ্রন্থ পাঠ করেছিলেন। ওয়ারাকাও আরব বিশ্বের পয়গম্বরের জন্য অধীর অপেক্ষায় ছিলেন, খাদিজার কাছে খবর পেয়ে চিৎকার করে ওঠেন তিনিঃ ‘একথা যদি সত্যি হয়, খাদিজা, মুহাম্মদই নিঃসন্দেহে আমাদের জাতির পয়গম্বর’”
[অনুবাদ, মুহাম্মদ : মহানবীর (সঃ) জীবনী, লেখকঃ ক্যারেন আর্মস্ট্রং, পৃষ্ঠাঃ ৯০- ৯১]
প্রথমবার রসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নিকট ওহী আসার পর তিনি যখন খাদিজা (রাঃ)র কাছে ছুটে যান ভীত অবস্থায় তখন
“দ্রুত তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন খাদিজা। ঈশ্বর এত নিষ্ঠুর আর খেয়ালী আচরণ করেন না। ঈশ্বর যেভাবে চান ঠিক সেভাবে জীবন যাপনের প্রয়াস পেয়েছেন মুহাম্মদ (সঃ) এবং প্রতিদানে ঈশ্বর কখনও তাঁকে হতাশ হতে দেবেন না”
“স্বামীকে আরও আশ্বাস দেয়ার জন্য খাদিজা তার চাচাত ভাই ওয়ারাকার সঙ্গে পরামর্শ করার প্রস্তাব দেন। ঐশী গ্রন্থ সম্পর্কে জ্ঞান ছিল ওয়ারাকার, অভিজ্ঞ মতামত দিতে পারবেন তিনি। ওয়ারাকার অবশ্য কোন সংশয়ই ছিল না। ‘সুসংবাদ!’ চট করে বলে উঠেছেন তিনিঃ ‘তুমি যদি আমাকে সত্যি বলে থাক, হে খাদিজা, ওর কাছে সর্বশ্রেষ্ঠ নামুসের আগমন ঘটেছে, বহু আগে মোজেসের কাছে যার আবির্ভাব ঘটেছিল, আর হ্যাঁ, তিনি তার জাতির পয়গম্বর। পরে, কা’বায় মুহাম্মদের (সঃ) সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে এই ক্রিশ্চান পণ্ডিত একমাত্র ইশ্বরের নতুন পয়গম্বরের কাছে ছুটে গিয়ে তাঁর কপালে চুমু খেয়েছিলেন”
[অনুবাদ, মুহাম্মদ : মহানবীর (সঃ) জীবনী, লেখকঃ ক্যারেন আর্মস্ট্রং, পৃষ্ঠাঃ ৯৭]
বুখারী শরীফ পর্যালোচনা করলে আমরা এইসকল ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারি। সংক্ষিপ্ত হোক বা বিস্তারিত মূল কথা এটাই যে, দুইবারই রসূলুল্লাহ (সাঃ) কে তার স্ত্রী খাদিজা (রাঃ) ওয়ারাকার সাথে পরামর্শ করতে নিয়ে যান। ওয়ারাকার যদি নবী (সাঃ)এর ধর্মগুরু হতেন তাহলে স্বাভাবিক যুক্তি বলে তিনি নিজেই ওয়ারাকার কাছে ছুটে যেতেন। তাছাড়া ওয়ারাকার ছিলেন খাদিজার (রাঃ) চাচাতো ভাই, রসূল (সাঃ) এর নয়। কাজেই ধর্মগুরু হবার দাবির অসাড়তা আরো গভীর ভাবে প্রমাণিত হয়। আর ওয়ারাকা বিন নওফল রসূলুল্লাহ (সাঃ) কে জাতির পয়গম্বর বলে উল্লেখ্য করেছেন। কাজেই তিনি অন্যের কাছে ধর্মশিক্ষা নেবেন না, বরং অন্যরাই তার কাছ থেকে ধর্মশিক্ষা নিবে। স্বাভাবিক যুক্তি এটাই বলে।
এই প্রসংগে আরো কিছু কথার অবতারনা করা যাক।
“খাদীজা (রাঃ) এইরূপে সান্ত্বনা দিয়া হযরতকে লইয়া বংশের বৃদ্ধ মুরব্বী চাচাত ভাই অরাকা ইবনে নওফেলের নিকট গেলেন। অরাকা সত্যান্বেষী সুজ্ঞানী লোক ছিলেন, অতি বৃদ্ধ হওয়ায় অন্ধ হইয়া গিয়াছিলেন। জাহেলিয়াতের যমানাতেই তিনি সত্য ধর্মের তালাশে সিরিয়া দেশে যাইয়া ঈসায়ী ধর্মীয় এক খাঁটি আলামের নিকট হইতে খাঁটি ঈসায়ী ধর্ম গ্রহন করিয়াছিলেন। তিনি এবরানী ভাষা লিখিতেন এবং এবরানী হইতে ইঞ্জিল কিতাবের আরবী তরজমাও করিতেন। তাহাতে পূর্বের আসমানী কিতাবসমূহে তাঁহার দক্ষতা ও পারদর্শিতা ছিল। তিনি নবীগনের প্রতি অহী ও অহীবাহক ফেরেশতা জিব্রিলের বিষয় জানিতেন”
[বোখারী শরীফ, পৃষ্ঠা-১০, ১ম খন্ড, হামিদিয়া লাইব্রেরী]
লক্ষ করার বিষয় এই যে, উপরোক্ত বিবরনীর মাধ্যমে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে অরাকা বিন নওফেল ভালভাবেই পড়তে-লিখতে জানতেন। এমনকি তিনি ভিন্ন ভাষা হতে আরবী ভাষায় ইঞ্জিলের তরজমা করেছেন। অথচ রসূলুল্লাহ (সাঃ) লেখাপড়া জানতেন না। এই প্রসঙ্গে ক্যারেন আর্মস্ট্রং তার গ্রন্থে লিখেন,
“মুহাম্মদ (সঃ)-এর লেখা-পড়া সম্পর্কে প্রাথমিক সূত্রে কোন উল্লেখ মেলে না। চিঠি লেখার প্রয়োজন হলে তিনি তা শ্রুতিলিখন করাতেন এবং আলীর মত সাক্ষর কেউ তা লিপিবদ্ধ করতেন। পড়া শোনা জানার ক্ষমতা সারাজীবন গোপন রাখতে এক বিরাট প্রতারণার প্রয়োজন হত। এটা তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের পরিপন্থী; তাছাড়া, এরকম একটা ব্যাপার চালিয়ে যাওয়া কঠিন ছিল, কেননা আপন গোত্রের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জীবন যাপন করেছেন তিনি”
[অনুবাদ, মুহাম্মদ : মহানবীর (সঃ) জীবনী, লেখকঃ ক্যারেন আর্মস্ট্রং, পৃষ্ঠাঃ ১০০]
আর কিছু বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে করিনা। গুরু হলেন একাধিক ভাষায় পারদর্শী; অথচ তার শিষ্য একেবারেই নিরক্ষর!
যুক্তির কি ছিরি!

Saturday, July 11, 2015

যাকাত ট্রাজেডী


লোক দেখানোর কথা না হয় বাদই দিলাম। যাদের নিয়ত ভাল তাদের কথাই বলি। হ্যা, যাকাতের ব্যাপারে তাদের কথা বলি। আমাদের সামাজিক অবকাঠামো এমন যে, কোন কিছু চাইলেই করা যায় না। আপনি যদি চানও সঠিকভাবে কোন কিছু করতে, কতটুকু পারবেন কে জানে! 

আমি যতদূর জানি, যাকাতের উদ্দেশ্য হল ধনী-গরীবের ব্যবধান কমানো। যাকাতের (বা যেকোন দানের) প্রধান হক্বদার আত্মীয়-স্বজন, তারপর পাড়া প্রতিবেশি, তারপর অন্যরা। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী বাদ দিয়ে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় গিয়ে পথশিশু বা বৃদ্ধাশ্রমের বয়োবৃদ্ধদের সেবার কোন যৌক্তিকতা দেখি না। সমালোচনা করা আমার এই কথার উদ্দেশ্য না। শুধুমাত্র ক্রম উল্লেখ্য করতে চেয়েছি। 

এই রমজানে বেশিরভাগ মুসুল্লী যাকাত আদায় করে থাকেন। রমজান মাসে যেকোন ফরজ আমল অন্যমাসের ৭০ টি ফরজের সমান। যেকোন নফল অন্যমাসের ১ টি ফরজের সমান। কাজেই বলা যায় রমজান মাসে যাকাত আদায় করলে অন্যমাসের থেকে ৭০গুন বেশি সওয়াব পাওয়া যাবে ইন শা আল্লাহ। 

আশেপাশে অসংখ্য যাকাত ফান্ড। মুসলিম মূল আক্বীদার যাকাত ফান্ডতো আছেই, সেই সাথে রয়েছে আওয়ামীলীগের যাকাত ফান্ড, বিএনপির যাকাত ফান্ড, মাজারীদের যাকাত ফান্ড! জামাতের আছে কিনা কে জানে? থাকতেই পারে। 

আর সরকারী যাকাত ফান্ডতো আছেই। সরকারী যাকাত ফান্ডে যাকাতের টাকা বা কোন ধরনের ডোনেশন দিলে ইনকাম ট্যাক্স রিবেটও পাওয়া যায়। সুবিধাই সুবিধা! 

তবে যেকোন যাকাত ফান্ডের অসুবিধা একটাই। যাকাতের টাকা কোথায় খরচ হচ্ছে বোঝার উপায় নেই। কখন খরচ হচ্ছে সেটাও জানা যাচ্ছে না। হয়ত আপনি টাকা দিলেন আজকে, নিয়ত করলেন আজকেই আমার টাকাটা খরচ হয়ে যাক। কিন্তু কোন ফান্ডে ধরা যাক যদি ১০ লাখ টাকা উঠে তবে সেই টাকা ১ দিনেই খরচ হয় না। ধীরে ধীরে খরচ হয়। আপনার টাকা কখন খরচ হল সেটা বোঝার কোন উপায় দেখি না। 

প্রশ্ন করতে পারেন ফান্ডে দেয়ার দরকার কি? নিজ হাতে গরীবের হাতে তুলে দেব। ব্যাপারটা হয়ত ভাবা সহজ, বাস্তবায়ন এত সহজ নয়। ধরাযাক, আপনি কোন প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করেন। আপনার বস একটা যাকাত ফান্ড চালায়। আপনার বস যখন আপনাকে চিঠি ধরিয়ে দেবে তখন উপায় থাকবে কি? 

আপনার এলাকার মসজিদের ইমাম সাহেব আপনাকে চিঠি ধরিয়ে দিলেন। এলাকার সরকারদলীয় বড়ভাই তার যাকাত ফান্ডের জন্য আপনাকে চিঠি দিলেন। অমুকের মেয়ের বিয়ে ঈদের পর, তাকে দিতে হবে। বিগত সময় মেসে ছিলেন, মেসের বাবুর্চি-বয় আপনার মুখে দিকে তাকিয়ে আছে...... (ইত্যাদি ইত্যাদি) 

আপনার যাকাতের টাকা ভাগ হয়ে যাচ্ছে। ভেবেছিলেন আত্মীয়কে দেবেন যেন সে সাবলম্বী হতে পারে। তার ভাগের টাকা কম পড়ে যাচ্ছে। টাকার পরিমান ভাল হলে হয়ত সে জীবিকার কোন উপায় করতে পারত। কম টাকা তার হাতে যাওয়া মাত্র সে খরচ করে ফেলবে। ঈদের সময়, তার খরচ হয়ে যাবে এটাই স্বাভাবিক। পরিণামে যে গরীবই থেকে যাচ্ছে। তার অবস্থা কোন উন্নতি হচ্ছে না। পরের সে আবার যাকাতের টাকার মুখাপেক্ষী হয়ে যাচ্ছে। বার বার হয়ত তাকে দেয়াও যাচ্ছে না। কারন গরীব আত্মীয় একাধিক থাকতে পারে। তাদেরও হক আছে। তারাও আপনার মুখ চেয়ে আছেন। 

বলা যেতে পারে, যাকাতের টাকা ফান্ডে দিব না। এমনি দানের টাকা দিব। ঈদের সময় অতিরিক্ত টাকা ম্যানেজ করাই মুশকিল। অন্যমাসে যা খরচ হয়, ঈদের সময় খরচ হয় প্রায় তার দ্বিগুন। কাজেই দানের টাকা হাতে থাকবে এমন গ্যারান্টি কি? কোন গ্যারান্টি নেই। 

ইমাম সাহেব গতকাল জুমাবারের খুতবায় বলতে ছিলেন, "হাদীস শরীফে আসছে, 'উপরের হাত নিচের হাত অপেক্ষা উত্তম'-এই হাদীসের বিভিন্ন ব্যাখ্যা যখন মুহাদ্দেসীন কেরাম করছিলেন তখন ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এই হাদীসের ব্যাখ্যায় করেন, 

ওহে মুহাদ্দিসগন শোনো। রাতের অন্ধকারে তোমরা টাকা নিয়ে গরীবের দুয়ারে দুয়ারে যাবে। বিনয়ের সহিত বললে, হে ভাই, এই টাকাগুলো নিয়ে আমাকে উদ্ধার করো। তোমার হাত থাকবে নিচে, আর গরীব ভাইয়ের হাত থাকবে উপরে। তার হাতই উত্তম। কারন সে তোমার যাকাত গ্রহণ করে তোমাকে উদ্ধার করবে।" 

আমরা কি পারছি? না পারছি না...