Featured Post

I SAID NO TO QUANTUM METHOD

পূর্বে পোস্ট আকারে প্রকাশিত। কারও সাথে ঝগড়া করার জন্য এটা দেইনি। নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম। কেউ মানতে না পারলে আমার কিছু করার নেই।  আ...

Sunday, April 10, 2016

কর্জে হাসানা

ইসলামের দু'একটা আইন মাঝে মাঝে আমার জ্ঞানে আসে না। মূল প্রসঙ্গে যাবার আগে একটু ঘুরে ফিরে আসি।
ধার বা কর্জে হাসানাকে ইসলামে যথেষ্ঠ উৎসাহিত করা হয়েছে। কেউ যদি ধার চায় তবে তাকে সাহায্য করা এবং কেউ বিপদে পড়লে না চাইলেও উপযাজক হয়ে ধার দেয়া পূন্যের কাজ। কর্জে হাসানার প্রচলনের অভাবে সুদি ব্যাংকের ঋনের বেড়াজালে মানুষ আটকে যেতে পারে। যাই হোক, ধরা যাক, আমার এক বন্ধু সিলেটের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চাকুরী করে। বিপদে পড়ে আমি তার কাছে ১ লাখ টাকা ধার চাইলাম। সে নানা কিছু চিন্তা করে আমাকে ধার দিতে রাজি হল।
এই ঘটনা যদি বিকাশ যুগের আগের হয় তবে টাকা পাঠানোর জন্য তাকে দূরবর্তী কোন ব্যাংকে যেতে হবে। ধরা যাকে সেই ব্যাংকটি গাড়ি যোগে এক ঘন্টার দূরত্ব অবস্থিত। যেতে আসতে মিনিমান দুই ঘন্টা। আমাকে ধার দিতে তার জীবন থেকে দু'ঘন্টা সময় ব্যয় হল, তার ভ্রমণের কষ্ট হল, টাকা পাঠানোর ব্যাংক ফীটাও তাকে ভরতে হল। বন্ধু আমার এই সব নীরবে সহ্য করল এই আশায় যে, যথা সময়ে আমি তার টাকা ফেরত দেব।
কিন্তু আফসোসের কথা হল তার যথাসময় আর আমার যথাসময় এক নয়। দুই মাসের কথা বলে টাকা নিয়েছি, ৫ বছর পেরিয়ে গিয়েছে, কিন্তু আমার যথাসময় আর আসে না।
এখন দেখা যাক ৫ বছরে তাত্ত্বিকভাবে একলাখ টাকার মূল্যমান কত থাক।
ইসলামিক আইন অনুযায়ী এক লাখ টাকা আমার হাতে থাকলেও বছর বছর আমার বন্ধুকেই যাকাত দিতে হবে। টাকা তার হাতে নেই, টাকার কোন সুবিধাও সে পাচ্ছে না, কিন্তু যাকাত তাকে দিতে হবে!
১,০০,০০০/৪০ = ২,৫০০। একলাখ টাকার প্রতিবছরে যাকাত ২৫০০ টাকা। কাজেই আমার বন্ধু ৫ বছরে যাকাত দিল = ২৫০০*৫ = ১২,৫০০ টাকা।
টাকার মূল্যমান দিন দিন কমছে। আজ থেকে ১০ বছর আগে ১০০ টাকায় যে পরিমান পন্য কেনা যেত এখন পাওয়া যাচ্ছে তার অনেক কম। মুদ্রাস্ফীতির কারনে এখন ১০ টাকাকে কোন টাকাই মনে হয় না। দেশ-বিদেশ ব্লগ হতে জানা যায়, ১৯৭৪ সালে এক টাকায় সে পন্য পাওয়া যেত ২০১৪ সালে সে পন্যের মূল্য হয়েছে ১২.৪৫ টাকা। অর্থ্যাৎ ৪০ বছরের ব্যবধানে পন্যের দাম বেড়েছে প্রায় ১২.৪৫ গুন। কাজেই ৫ বছরে পন্যের দাম বাড়বে ১২.৪৫*৫/৪০ = ১.৫৬ গুন। অর্থাৎ পাঁচ বছর আগে আমার বন্ধু একলাখ টাকায় যে পন্য কিনতে পারত পাঁচবছর পর সে পন্য কিনতে তার লাগবে = ১০০০০০*১.৫৬ = ১৫৬০০০ টাকা!
কি হিসেব করলাম! নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছে না! পাঁচ বছরে আমার বন্ধু নীট লস = ১৫৬০০০-১০০০০০+১২৫০০ = ৬৮৫০০ টাকা! নিশ্চয়ই আমার হিসেবে কোন ভুল হয়েছে!
মূল্যস্ফীতির কারনে ক্ষতির পরিমানটা চোখে দেখা যায় না। কিন্তু যাকাত দিতে হয় নগদ টাকায়। ইসলামের বিধান অনুযায়ী যাকাত প্রদানে সম্পদ কমে যায় না আর ধারের টাকার যাকাত প্রকৃত মালিককেই দিতে হয়! টাকা তার আয়ত্ত্বে নেই, তারপরও!
আল্লাহই ভাল জানেন। তিনি সৃষ্টিকর্তা। সৃষ্টির জন্য কোনটা ভাল, কোনটা মন্দ সে অনুযায়ীই তিনি বিধান দেন। সৃষ্টির সেটা বুঝে আসুক বা না আসুক, ভাল লাগুক বা না লাগুক - তার কাজ সে বিধান অনুযায়ী চলা।
বিকাশ যুগে ধারের ক্ষেত্রে ক্ষতির নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। ধরেন আপনার বন্ধু আপনার কাছে ১০ হাজার টাকা ধার চাইল। আপনি জিজ্ঞেস করাতে বলল বিকাশ করে দিতে। আপনি ১০ হাজার বিকাশ করলেন ২০০ টাকা ফী সহ। ফেরত নেবার সময় কিন্তু সে আর ফী দিয়ে পাঠাবে না। তোলার সময় আপনি আবার ২০০ টাকা ফী দিলেন। আপনার পকেট থেকে হাওয়ায় উড়ে গেল ৪০০ টাকা! শুধু বিকাশ দিয়েই ব্রাক ব্যাংক কোটি কোটি টাকা আপনার আমার পকেট থেকে খসিয়ে নিচ্ছে।
খুব কম সংখ্যক মানুষই আছে যারা এইসব লসের ব্যাপারে সচেতন। সচেতনরা ১ সপ্তাহের কথা বলে টাকা নিলে ১ সপ্তাহ পরেই ফেরত দেয়। টাকা গ্রহন ও প্রদানের সম্পূর্ণ ফী নিজেরাই বহন করে। ধার দানকারী ব্যক্তির ঘাড়ে চাপায় না।
এইসব কারনে "কর্জে হাসানা"র আমল থেকে দিন দিন মানুষ দূরে সরে যাচ্ছে। আর সুদ ভিত্তিক টাকা লেনদেনের সাথে নতুন নতুন মানুষ জড়িয়ে পড়ছে। সবদিকেই সমস্যা। 
unsure emoticon

তাবলীগ বিদ্বেষীদের অভিযোগ-১

"ইসলামের ভিত্তি হল পাঁচটি। তাবলীগীরা ছয় নাম্বার কোথায় পেল?"
তাবলীগের সাথে শত্রুতা পোষনকারী কিছু ভাইয়ের মুখে এই উক্তি আমরা শুনেই থাকি। শুনে যতটুকু রাগ লাগে তারচেয়ে বেশি অবাক হই। আগে ইসলামের ভিত্তি নিয়ে দু'টো কথা বলে নেই।
সবাই আমরা জানি, ইসলাম পাঁচটি খুটির উপর প্রতিষ্ঠিত। আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, মুহাম্মদ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার রাসূল" এই কথার সাক্ষ্যদান করা, সালাত কায়েম করা, রমজান মাসে সাওম পালন করা, সম্পদের যাকাত প্রদান করা এবং হজ্ব পালন করা।
প্রশ্নঃ তাবলীগীরা কি এই পাঁচটি ভিত্তি অস্বীকার করে? অথবা এর সাথে কোন কিছু সংযোজন-বিয়োজন করে?
এবার আসি ছয় নাম্বার প্রসঙ্গে। যারা এই বিষয়টা নিয়ে ইসলামের পাঁচ ভিত্তির বিপরীতে দাঁড় করাতে চান, তাদের যদি জিজ্ঞেস করা হয়, ছয় নাম্বারগুলো বলেন তো ভাই কি কি? আমার সন্দেহ হয়, তারা বলতে পারবে না।
আমি বলছি।
১. কালিমা (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ) ২. নামায ৩. এলেম ও জিকির ৪. একরামুল মুসলিমিন ৫. ছহি নিয়ত ৬. দাওয়াতে তাবলীগ
কালেমা এবং নামায নিয়ে বলার কিছু নেই। এইদুই বিষয় সবাই জানে। অন্য পয়েন্টগুলো বর্ণনা করার সময় তাবলীগের ভাইরা যা যা বলেন তার একটু আভাস দেই। তারা প্রথমেই সংজ্ঞা দেন, তারপর ফজিলতের একটি হাদীস বর্ণনা করেন, তারপর কিভাবে সে বিষয়টিকে নিজের মধ্যে আনা যায় সে ব্যাপারে কথা বলেন।
উদাহরণস্বরূপঃ এলেমের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলা হয়, আল্লাহর কখন কোন আদেশ, কখন কোন নিষেধ তা জানিয়া রাসূলুল্লাহর (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তরীকায় আমল করা। তারপর এলেমের ফজিলত কি এবং আমরা কিভাবে এলেম শিখতে পারি সে ব্যাপারে বলা হয়।
প্রত্যেকটি পয়েন্টই মূলত এই তিনভাগে বিভক্ত। সংজ্ঞা, ফজিলত, আমল করার উপায়।
একইভাবে জিকিরের সংজ্ঞা দেয়া হয়, সর্বাবস্থায় আল্লাহর ধ্যান খেয়াল অন্তরে পয়দা করা। একরামুল মুসলিমিনঃ মুসলমান ভাইয়ের অবস্থা বুঝিয়া তার উপকার করা। ছহি নিয়তঃ আমরা যা কিছু করব আল্লাহকে খুশি করার জন্য করব। দাওয়াতে তাবলীগঃ আল্লাহর দেয়া জান, মাল, সময় নিয়া আল্লাহর রাস্তায় বাহির হইয়া জান, মাল, সময়ের সঠিক ব্যবহার শিক্ষা করা।
পোস্ট ছোট করা উদ্দেশ্যে একেবারেই সংক্ষিপ্ত লিখলাম। এখন এই বিষয়গুলো ইসলামের পাঁচ খুটির সাথে সাংঘর্ষিক কিনা বা এই বিষয়গুলো ইসলাম বহির্ভূত কিনা সেটা পাঠকের বিবেচনার উপর ছেড়ে দিলাম!

পয়জন, স্লো পয়জন!

আরবী ভাষার কিছু শব্দের সঠিক বাংলা প্রতিশব্দ নেই। ভাষা যেহেতু ভাবের প্রকাশ, সেহেতু ভাবই এখানে মুখ্য। ভাব প্রকাশে মাতৃভাষার প্রয়োগ সর্বাধিক হলেও, অনেক ভাষাই স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। বাংলাও তার ব্যাতিক্রম নয়। আরবী শব্দগুলোর প্রতিশব্দ না পেয়ে অনেকেই কাছাকাছি শব্দ ব্যবহার করেন। এই প্রসঙ্গে আবুল হোসেন ভট্টাচার্য তার বই "আমি কেন ইসলাম গ্রহন করলাম" এ কিছু আলোচনা করেছেন। ব্যাপারটা আমি স্লো পয়জন হিসেবে দেখেছি। কাজেই যারা এই পোস্ট পড়বেন আশা করি তারাও স্লো পয়জন হিসেবেই দেখবেন। তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত আকারে লেখার চেষ্টা করছি।
‪পূজা_ও_ইবাদত‬
পূজার সংজ্ঞায় তিনি লিখেন, "পক্ষান্তরে ঘট বা মূর্তি অথবা উভয়কে সম্মুখে রেখে ফুল, চন্দনাদি সহযোগে নির্দিষ্ট মন্ত্রপাঠ করে মূর্তির উদ্দেশ্য পাদ্য-অর্ঘ্য ভোগ-নৈবদ্য প্রভৃতি নিবেদন করাকে পূজা বলা হয়ে থাকে।
মনে রাখা প্রয়োজন যে, সন্ধ্যা, আহ্নিক, তর্পন প্রভৃতি সম্পূর্ন পৃথক ব্যাপার। পূজার সাথে ওগুলর কোন সম্পর্ক নেই এবং ওগুলোতে মূর্তি, ফুল, চন্দন বা ভোগ-নৈবদ্যের প্রয়োজন হয় না। সুতরাং ওগুলোকে পূজা বলাও হয় না। মোটকথা ঘট বা মূর্তি ছাড়া এবং ভোগ-নৈবদ্যাদি ব্যতিরেকে পূজা হতেই পারে না। বিশেষ করে পুরোহিত ছাড়া পূজা যে পূজা হতেই পারে না সেকথাও প্রায় সকলেরই জানা রয়েছে। কেননা, ব্রাক্ষণ ছাড়া অন্য কারো পূজা করার অধিকার নেই।
পক্ষান্তরে ইবাদত শব্দের মোটামুটি তাৎপর্য হলো 'উবুদিয়াত' বা দাসত্ব করা। আর তা করতে হয় ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি মুসলমানকে। অর্থাৎ একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ করে জীবনের প্রতিটি চিন্তা, প্রতিটি কাজ এমনকি প্রতিটি পদক্ষেপকে তাঁর দেয়া জীবনবিধানের আলোকে পরিচালিত করার নাম হলো 'ইবাদত'। এমতাবস্থায় পূজা এবং এবাদত সমার্থবোধক হতে পারে কিনা সেকথা ভেবে দেখার সনির্বদ্ধ অনুরোধ জানিয়ে রাখছি।" 
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, সেসময় সাধারন লোকদের মধ্যে থেকে তো বটেই আলেমদের কেউ কেউ না বোঝেই ইবাদত, নামায প্রভৃতি শব্দের স্থলে "পূজা"শব্দটির ব্যবহার করেছিলেন। তাদের উদ্দেশ্যে লিখেছিলেন।
‪‎স্বর্গ_ও_জান্নাত‬
"মানবের আদি পিতা হযরত আদম (আঃ)-কে যে তাঁর সহধর্মিনীসহ জান্নাতে অবস্থান করতে বলা হয়েছে মুসলমানমাত্রেরই সেকথা জানা রয়েছে। পবিত্র কুরআনের বঙ্গানুবাদ করতে গিয়ে কতিপয় প্রখ্যাত আলেম জান্নাতের বাংলা প্রতিশব্দ হিসেবে 'স্বর্গোদ্যান' শব্দটি ব্যবহার করেছেন। অথচ বেদ-পুরাণাদিতে স্বর্গের যে বিবরণ পরিলক্ষিত হয় তার সাথে জান্নাতের কোনও তুলনাই হতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়ঃ
(ক) মহাভারতের বর্ণনায় প্রকাশঃ কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ অবসান হলে ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠির জীবিতাবস্থায়, সশরীরে এবং পদব্রজে স্বর্গে গমন করেন, এমনকি একটি কুকুরও তিনি সাথে নিয়ে যান।
(খ) রামায়নের বর্ণনায় দেখা যায়ঃ রাবণ মৃত্যুকালে শ্রীরাম চন্দ্রকে যেসব উপদেশ দিয়েছিলেন তার মধ্যে একথাও ছিল যে, 'হে রাম! সৎকার্য কখনও ফেলে রাখবে না। সকল মানুষই যাতে সহজে এবং পদব্রজে স্বর্গে যেতে পারে, সেজন্য আমি স্বর্গ ও মর্ত্যের মধ্যে পথ-নির্মানের ইচ্ছা করেছিলাম। কিন্তু আজ-কাল করে ফেলে রাখার জন্য সে সাধ আমার পূরণ হল না।'
(গ) বিভিন্ন পুরাণ-ভাগবত প্রভৃতি ধর্মগ্রন্থের বর্ণনা থেকে জানা যায়ঃ
স্বর্গে উর্বশী, মেনকা, রম্ভা, তিলোত্তমা প্রভৃতি নামে বহুসংখ্যক বেশ্যা রয়েছে। দেবতাদের মনোরঞ্জন ছাড়াও তাদের কাজ হলোঃ স্বর্গগমনেচ্ছায় অসুর অর্থাৎ সুর বা দেবতা নয় এমন কোনও ব্যক্তি সৎকাজ বা তপস্যায় রত হলে তাকে ভ্রষ্ট এবং চরিত্রহীন করে তার স্বর্গগমনের পথ রোধ করা।
তাছাড়া স্বর্গে বসবাসকারী দেব-দেবীদের যেসব লীলাকাহিনী উপরোক্ত ধর্মগ্রন্থসমূহে বর্ণিত রয়েছে, তা যদি সত্য হয় তবে সে জায়গাটাকে কোনওক্রমেই সৎসাধু মানুষের বসবাসযোগ্য বলে মনে করা যায় না।
উল্লেখ্য, স্বর্গ সম্পর্কে বেদ-পুরাণাদিতে এমনি ধরনের বহু ঘটনাই বর্ণিত রয়েছে, বাহুল্য বোধে সেগুলোকে তুলে ধরা হলো না। তবে একান্ত বাধ্য হয়েই একথা বলতে হচ্ছে যে, পবিত্র কুরআনের এই সব অনুবাদকের উদ্দেশ্য যত সৎ এবং মহৎই হোক, আসলে তাঁদের এই কাজের হলে জান্নাতের গুরুত্ব এবং মর্যাদাও ভীষণভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।
পরিশেষে সশরীরে এবং পায়ে হেঁটে যে-স্বর্গে যাওয়া যায় আর যে-স্বর্গের সাথে মর্ত্যের পথ নির্মাণ সম্ভব অন্তত সে-স্বর্গ এবং জান্নাত এক হতে পারে কি না সেকথা ভেবে দেখার অনুরোধ জানিয়ে প্রসঙ্গের ইতি টানছি।"
‪#‎আল্লাহ_ও_ঈশ্বর‬
[এই বিষয়টা এতই প্রকাশ্য যে, এই বিষয়ে লিখলাম না- লেখক]
‪#‎জাতীয়_সঙ্গীত‬
[আমাদের জাতীয় সঙ্গীত যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুড়ের একটি কবিতার প্রথম ১০ লাইন-এই কথা আমার জানা ছিল না। এই বইটা পড়তে যেয়ে পেলাম কবিতায় নাকি "ওমা! তোর চরণেতে দিলাম মাথা পেতে।" লাইনটি আছে। পড়ার পর অনেক্ষন চেষ্টা করেছি জাতীয় সঙ্গীত স্মরণ করার। কিন্তু এই লাইন পেলাম না। পরে খোজ খবর নিয়ে জানতে পেরেছি আমরা যে দশ লাইন গাই ঐটা পূর্ণাঙ্গ কবিতা নয়। আরো বাকি আছে। আজকে এক ভাইয়ের সহায়তায় পুরো কবিতাটা পড়লাম। আবুল হোসেন ভট্টাচার্য এই অনুচ্ছেদে যে কথাটি বোঝাতে চেয়েছেন সেটি হল কোন মুসলমান একমাত্র আল্লাহর সামনে ছাড়া আর কারও চরণে মাথা পেতে (প্রণাম, সিজদাহ্‌) দিতে পারে না। সে মা হোক, আর যে-ই হোক। তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন, এই কবিতায় কোন জাতীকে গড়ে তোলার মত কোন উপাদান না থাকায়, জাতীয় সঙ্গীতরূপে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এটি রচিত হয়েছিল কিনা। এই ব্যাপারে একজন মুসলমানের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হতে পারে তা পাঠকদের উপরেই ছেড়ে দিলাম।-লেখক]
‪‎বেদীর_ইতিবৃত্ত‬
"উল্লেখ্য, যজ্ঞ-কুণ্ডের নিকটে ভূপৃষ্ট থেকে কিছুটা উঁচু করে বাঁধানো আয়তাকার স্থানকে 'বেদী বলা হয়ে থাকে। আচার্য, অধবুর্য, ঋত্মিক প্রভৃতিরা তার ওপর উপবেশন করে অগ্নিতে আহুতি প্রদান এবং সাথে সাথে 'বেদমন্ত্র' পাঠ করতেন বলে নাম 'বেদী' রাখা হয়েছিল।
বৈদিক যুগের পরবর্তী সময় থেকে এ যাবত পূজার মূর্তি এবং ঘট স্থাপনের জন্যে বেদীর ব্যবহার প্রচলিত রয়েছে। বলাবাহুল্য, এটা সংস্কৃতভাষার একটি বিশেষ শব্দ এবং বেদ-পুরাণাদির বহু স্থানেই এই 'বেদী' শব্দের উল্লেখ রয়েছে।
অতএব বেদী যে মূর্তিপূজারই অঙ্গবিশেষ এবং একান্তরূপেই হিন্দুদের ধর্মীয় বিষয়, সেকথা খুলে বলার অপেক্ষা রাখে না। অথচ কোনওরূপ বিচার-বিবেচনা না করেই আমাদের কিছুসংখ্যক কিশোর-তরুন এবং বুদ্ধিজীবী বাংলা-ভাষা ও বাঙালি ঐতিহ্যের নামে অন্যান্য কতিপয় শব্দের ব্যবহার শুরু করেছেন।
সর্বাধিক দুঃখজনক হলো, এই বেদী শব্দের সাথে শহীদ শব্দের সংযোগ ঘটিয়ে তাঁরা আমাদের অতি শ্রদ্ধাভাজন শহীদদের মর্যাদা ধূলায় লুটিয়ে দিয়েছেন। জানি, আমার এ কথা পাঠ করে তাঁরা ভীষনভাবে মনোক্ষুন্ন হবেন। কেউ কেউ ক্রুদ্ধও হতে পারেন। অতএব তাঁদের অবগতির জন্য বলতে হচ্ছে, যেহেতু শহীদমিনারের চত্বরে বসে যজ্ঞে আহুতি দেয়া বেদপাঠ করা হয় না, পূজার ঘট বা মূর্তিও সেখানে স্থাপন করা হয় না। অতএব সে চত্বরের নাম বেদী অর্থাৎ শহীদবেদী রাখাটা শুধু বিভ্রান্তিকরই নয় একান্তরূপে সংগতিবিহীনও বটে।
মনে রাখা প্রয়োজন, 'অর্ঘ্য', 'অঞ্জলি', 'আলপনা' প্রভৃতি শব্দ মূর্তি এবং নরপূজার উদ্দেশ্যেই রচিত হয়েছে এবং বহুকাল ধরে হিন্দুসমাজ কর্তৃক সেই উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সুতরাং ওগুলো যে মূর্তি এবং নরপূজার সাথেই একান্তরূপে সংশ্লিষ্ট সেকথা বলার অপেক্ষা রাখে না।
পক্ষান্তরে ইসলামের সাথে মূর্তি এবং নরপূজার সামান্যতম সম্পর্কও নেই, থাকতে পারে না। তা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, মাতৃভাষা প্রভৃতি যেকোনও ছদ্মাবরণেই অনুষ্ঠিত হোক না কেন। এমতাবস্থায় 'আলপনা অংকন', 'শহীদবেদী'তে 'অঞ্জলি প্রদান', 'শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন' প্রভৃতি দ্বারা শুধু ইসলামের মধ্যে মূর্তি এবন নর-পূজার অনুপ্রবেশই ঘটানো হচ্ছে না-আমাদের পরম শ্রদ্ধাভাজন শহীদদের প্রচ্ছন্নভাবে মূর্তিরূপে ব্যবহার করে তাঁদের মর্যাদা ভীষণভাবে ক্ষুণ্ন করার কাজও চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
আরবী 'শহীদ' শব্দের স্থে সংস্কৃত 'বেদী' শব্দের এই গোঁজামিল কিভাবে শহীদদের মর্যাদা ভীষনভাবে ক্ষুণ্ন হওয়ার কারণ ঘটিয়েছে অতঃপর ধর্মশাস্ত্রের একটি বর্ণনা তুলে ধরে তা দেখানো যাচ্ছে।
প্রজাপতি দক্ষের একশত পাঁচটি কন্যার মধ্যে সর্বজেষ্ঠ্যা সতীর বিবাহ হয়েছিল শূলপানি (শিব-মহাদেব)-এর সাথে। ব্রক্ষা, বিষ্ণুসহ প্রায় সকল দেবতাই এই বিয়ে উপলক্ষে হাটকেশ্বর তীর্থে সমবেত হয়েছিলেন এবং দক্ষের অনুরোধে ব্রক্ষা এই বিয়েতে পৌরহিত্য করেছিলেন। যজ্ঞানুষ্ঠানকালে বেদীতে উপবিষ্ট অবগুণ্ঠনবতী (ঘোমটা দেয়া) সতীর প্রতি ব্রক্ষার দৃষ্টি পতিত হলে চতুরানন (চারটি মুখবিশিষ্ট) ব্রক্ষ সকলের অজ্ঞাতে সর্বশরীর দর্শন করেন। কিন্তু অবগুণ্ঠনের জন্য মুখমণ্ডল দর্শনে ব্যর্থ হন। কৌশলে কার্যোদ্ধারের জন্যে তিনি যজ্ঞ-কুণ্ডে কাঁচা কাষ্ঠ নিক্ষেপ করতে থাকেন। ফলে প্রচণ্ড ধোঁয়া থেকে নিরাপদ থাকবার জন্যে চোখ বন্ধ করেন। বলাবাহুল্য, ব্রক্ষা এই সুযোগেরই প্রতীক্ষায় ছিলেন। সুতরাং সুযোগ বুঝে অবগুণ্ঠন উন্মোচন করে তিনি সতীর মুখমণ্ডল দর্শন করেন। উল্লেখ্য, 'সর্বাঙ্গ' দর্শন করেই তিনি কামাতুর হয়ে পড়েছিলেন। এখন মুখমন্ডল দর্শনে অবস্থা চরমে উপনীত হওয়ায় বীর্যস্থলিত হয়ে বেদীর ওপর পতিত। ব্রক্ষাও সাথে সাথে বালি দ্বারা বীর্যগুলো ঢেকে ফেলেন। কিন্তু বর মহাদেবের দিব্যদৃষ্টির কাছে তা গোপন থাকে না।
নিজের স্ত্রীর ওপর ব্রক্ষার এই কামাতুর দৃষ্টি স্বাভাবিকরূপেই মহাদেবকে ক্রোধান্বিত করে তোলে। তিনি অভিশাপ দিতে উদ্যত হন। অবশেষে ব্রক্ষার ক্ষমা প্রার্থনায় ক্রোধ প্রশমিত হয়। তবে নিজের স্ত্রীর ওপর কামসক্ত অবস্থায় স্থলিত ব্রক্ষার এই বীর্য ব্যর্থ হতে না দিয়ে তৎসংশ্লিষ্ট বালিসমূহ তিনি অঙ্গুষ্ঠপ্রমাণ (বৃদ্ধাঙ্গুলির সমান)'মুনি'তে পরিণত করেন। এইরূপ প্রতিটি বালিকণা থেকে এক এক করে মোট অষ্টাশিতি সহস্র মুনির উদ্ভব ঘটে এবং বালি থেকে উদ্ভূত বিধায় তাঁদের নাম হয় 'বালখিল্য মুনি'। 
------স্কন্দ পুরাণ, নাগর খন্ড, ৭৭ অধ্যায়।
উল্লেখ্য, বেদীর ওপর সংঘটিত এমনি ধরনের বহু ঘটনার কথাই পৌরণিক ধর্মগ্রন্থসমূহে লিখিত রয়েছে। এখন প্রশ্ন হল, বেদীর সাথে এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনা জড়িত থাকার কথা জানার পরও কোন বিবেকবান ব্যক্তি আমাদের ঐতিহ্যবাহী শহীদমিনারের চত্বরকে 'শহীদবেদী' বলে আখ্যায়িত করতে পারেন কি না এবং তদ্বারা পরম শ্রদ্ধাস্পদ শহীদদের মর্যাদা ধূলায় লুটিয়ে দেয়া হয় কিনা?"
লেখক আবুল হোসেন ভট্টাচার্য একে একে পৌরহিত্য সমাচার, লগ্ন-মহিমা, লক্ষ্ণীমাহাত্ম্য নিয়ে লিখেছেন। পোস্ট ছোট করার উদ্দেশ্যে ওসব আমি টুকলাম না। তবে ফোঁটা, সিদুরের কথা যা লিখেছেন সেখান থেকে টুকে দিচ্ছি।
"প্রাচীনকালে হিন্দুসমাজে ব্রাক্ষ, দৈব, আর্য, প্রজাপাত্য, গান্ধর্ব, রাক্ষস, অসুর এবং পৈশাচ - এই আট প্রকারের বিয়ে প্রচলিত ছিল- এর মধ্যে বল পূর্বক বা অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে যে বিয়ে করা হতো তাকে বলা হতো রাক্ষস বিয়ে।
নির্দিষ্ট কোনও চিহ্ন না থাকায় অনেক সময়ে এভাবে বিবাহিতা নারীদের বলপূর্বক নিয়ে যাওয়া হতো। ফলে শুধু ঐসব নারীদের জীবনই ব্যর্থ বিড়ম্বিত হতো না, তাদের স্বামীদের সংসারেও দারুণ অশান্তি সৃষ্টি হতো। সে কারণেই বিবাহিত নারীদের চিহ্নিত করার জন্য তাদের কপালে সিঁদুরের ফোঁটা প্রথা প্রচলিত হয়। যেহেতু বর্তমানে এ ধরনের বিয়ে প্রচলিত নেই, অতএব ফোঁটা দেয়ার প্রয়োজনীয়তাও শেষ হয়ে গিয়েছে।
উল্লেখ্য, আজকাল যেসব রাক্ষস বলপূর্বক নারীদের ধরে নিয়ে যায় তারা ফোঁটার খাতির করে না। বিবাহিতা জেনেও রেহাই দেয় না। অতএব ফোঁটা দিয়ে তাদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব না। এখন ফোঁটা দেয়ার অর্থই যে আমাদের পূর্ব-পুরুষদের বর্বরতাকে পরিস্ফুট করে তোলা, সেকথা খুলে বলার প্রয়োজন হয় না। আর এ কাজ যে আমাদের পক্ষে মোটেই গৌরবজনক নয় সুতরাং বাঞ্ছনীয়ও নয় সে কথাও সহজেই বোধগম্য। তবে ধরে নেয়া যেতে পারে যে, পূর্ব-পুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা বা মমত্ববোধের জন্যে বিবাহিতা হিন্দু নারীরা আজও এ প্রথা ধরে রেখেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হল, মুসলমান সমাজে এ ধরনের কিছু না ঘটা সত্ত্বেও বিবাহিত-অবিবাহিতা নির্বিশেষে মুসলমান মেয়েদের কেউ ফোঁটা দেয়ার কাজ শুরু করলেন কোন হিসেবে?"
সূত্রঃ আমি কেন ইসলাম গ্রহণ করলাম। লেখকঃ আবু হোসেন ভট্টাচার্য। জ্ঞান বিতরনী প্রকাশনী।পৃষ্ঠাঃ ১৪১-১৫৬।
কিছুদিন আগেও কেউ যদি আমাকে বলত "জল, জলখাবার, মাংস" ইত্যাদি হিন্দুয়ানী শব্দ তখন তার উপর রাগ লাগত। ভাবতাম শব্দের আবার হিন্দু-মুসলমান কি? শব্দতো শব্দ-ই। এখন আর তেমনটা মনে হয় না। এই শব্দগুলো কি অর্থে ব্যবহৃত হত, উৎপত্তি কিভাবে হয়েছে জানা নেই। প্রচলিত অর্থে ভুল শব্দ ব্যবহার করছি কিনা-এখন এই প্রশ্ন মনের ভিতর উঁকি দিয়ে যায়।
আল্লাহই ভাল জানেন!

ঘৃনার চাষাবাদ (খেলাধুলা ও অন্যান্য)


আবেগকে একপাশে রেখে লেখার চেষ্টা করছি। কিছুদিন আগে এক জ্ঞানী ব্যক্তির পোস্ট দেখলাম। তিনি পোস্ট দিয়েছেনঃ
আপনি কি?
ক) হানাফী 
খ) সালাফী
গ) আহলে হাদীস 
ঘ) মুসলিম

এই জ্ঞানগর্ভ প্রশ্নের জবাবে আমি ছোট্ট একটা পালটা প্রশ্ন করতে চাইঃ
আপনি কি?
ক) শ্বেতাঙ্গ
খ) কৃষ্ণাঙ্গ
গ) ইন্ডিয়ান
ঘ) মানুষ

আমার প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে জ্ঞানী ব্যক্তির প্রশ্নেরও উত্তর পাওয়া যাবে।
বস্তুত এইসব প্রশ্ন করার উদ্দেশ্য ভাল কিছু নয়। একমাত্র উদ্দেশ্য বিভেদ সৃষ্টি করা, ঘৃণার বাষ্প ছড়ানো। সেন্সটা এমন হয় যে, আমি যদি হানাফী ফিকহের অনুসারী হই তবে আমি মুসলিম নই, সালাফী হলেও নই, আহ্‌লে হাদীস হলেও নই। আবার মুসলিম হলে আমি হানাফী ফিকহ্‌ এর অনুসারী হতে পারব না, সালাফী হতে পারব না, আহলে হাদীস হতে পারব না।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, যার ঈমান ও আক্বীদা ঠিক আছে সে-ই মুসলিম। এখন প্রশ্ন করার বিষয় হল হানাফী, সালাফী ও আহলে হাদীসের মধ্যে ঈমান ও আক্বীদাগত এমন কোন বিষয় আছে কিনা (থাকলে কি কি) যার দ্বারা তাদেরকে মুসলিমদের কাতার থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায়, অমুসলিম ঘোষনা করা যায়। জ্ঞানী ব্যক্তিদের নিকট এই অধমের সামান্য জিজ্ঞাসা।
মাশরাফি বিন মুর্তজাকে পরিচয় করিয়ে দেবার কিছু নেই। বাংলাদেশের দলের ক্যাপ্টেন-এই পরিচয়ের আগে তার পরিচয় তিনি একজন খেলোয়াড়। তিনি জানেন “খেলা” মানে কি। সমস্যা হল আমরা যারা বাংলাদেশ দলের (এবং অন্যান্য) সমর্থক আছি তারা জানি না। খেলা চলাকালীন বা খেলার আগে-পরে আমরা ভুলে যাই খেলা শুধুমাত্র “বিনোদনের” একটা মাধ্যম। এর বেশি কিছু নয়। মাশরাফিরা এই ব্যাপারটা ভাল করে জানেন বলেই তারা যেকোন পরিস্থিতিতেই সংযত থাকেন।
খেলা সেটা ভারতের সাথেই হোক বা পাকিস্তানের সাথে, খেলা খেলা-ই। এটা কোন যুদ্ধ নয়। খেলোয়ার হিসেবে তারা যদি এটা মনে রাখতে পারে তবে দর্শক হিসেবে আমাদেরও মনে রাখা উচিত।
একজন মুসলিম যখন নামায পড়তে যায় তখন তার পাশে কে দাড়িয়েছে, সে চোর না ভদ্রলোক, ঘুষখোর নাকি সুদখোর-এসব নিয়ে মাথা ঘামায় না। মসজিদের প্রবেশ করা মাত্রই সবাই মুসুল্লি। কোম্পানি সিইও এবং সুইপার পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নামায পরে। ধরাযাক, কোন কারনে আমি মক্কায় গিয়েছি। সেখানে আমার পাশে নামায পড়ার জন্য আফ্রিদি আসল। অথবা ইরফান পাঠান আমার পাশে দাড়াল। তখন কি আমি তাদের ঘাড় ধরে বের করে দিব?
ইসলাম একের পাপের বোঝা আরেকজনের ঘাড়ে চাপায় না। আমার উর্ধ্বতন বা অধঃস্তন পুরুষ নিজ দায়িত্বে যতই পাপাচারে লিপ্ত হোক না কেন সেই পাপের হিসাব তাদেরকেই দিতে হবে। দুনিয়ার আইনেও দেখি কেউ যদি খুন করে তবে ফাঁসি তার বাপ-ভাইকে দেয়া হয় না। অপরাধ প্রমাণিত হলে তাকেই দেয়া হয়।
একাত্তর এবং পূর্ববর্তী সময়ে পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী আমাদের প্রতি যে অন্যায় করেছে তার জন্য এখন কি আফ্রিদিকে দোষী সাব্যস্থ করব? একাত্তর পরবর্তী সময়গুলোতে ভারত যত অন্যায় আমাদের সাথে করেছে তার জন্য ভিরাটকে দোষী সাব্যস্থ করব? পাকিস্তান-ভারতের সাথে এতই শত্রুতার জন্য যাদেরকে দায়ী করছি তারা কি আদৌ ঐসব বিষয়ের জন্য দায়িত্ববান? তারা কি ঐ অপকর্মগুলো নিজেরা করেছে নাকি করতে নির্দেশ দিয়েছে? পাকিস্তানে যে সূর্য্য আলো দেয় একই সূর্য্য আমাদেরও আলো দেয়। তাহলেতো সূর্য্যালোক যেন এই দেশের মাটিতে না পড়ে সে ব্যবস্থা করতে হবে। ভারতকে আজই জানিয়ে দিতে হবে তাদের দেশের নদীর পানি যেন আমাদের দেশের ভিতরে ঢুকতে না পারে।
প্রাক ইসলামিক যুগে আরবের গোত্রসমূহের মধ্যে ভয়াবহ বিবাদ ছিল। সবাই যখন ইসলাম গ্রহন করল তখন যুগের পর যুগ চলে আসা বিবাদ ভুলে ভুলে সবাই আল্লাহর জন্য পরস্পরকে ভালবাসলেন। ভেবে দেখার বিষয় হল, অযৌক্তিকভাবে আমরা সেই প্রাক ইসলামিক যুগের দিকে পা বাড়াচ্ছি কিনা!

আমার প্রথম মোবাইলে কেনার আশ্চর্য ঘটনা (ভিডিও ছাড়া)


এইচ এস সি পরীক্ষা শেষ হয়েছে তখন। প্র‍্যাকটিক্যাল চলছে। এরই মধ্যে খবর পেলাম এস এস সিতে ভাল রেজাল্টকয়ারীদের বোর্ড থেকে টাকা দিচ্ছে। কলেজের নোটিশ বোর্ডে দেখলাম আমার নামটাও আছে! টাকার পরিমাণটাও আমার জন্য যথেষ্ঠ। ভাবলাম দু-একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফর্ম কেনার টাকা হাতে রেখে বাকি টাকা দিয়ে একটা মোবাইল কিনব। এক বন্ধুর বাসা থেকে পুরনো পত্রিকা নিয়ে পড়তাম তখন। ফিচারড ফোনের বড় বড় বিজ্ঞাপন থাকত তখন পেপারে। সেখান থেকে সাধ ও সাধ্যের সমন্বয়ে সেট পছন্দ করার চেষ্টা করতাম। অবশেষে এক ফ্লেক্সির দোকানে একটা বিজ্ঞাপন দেখে একটা সেট পছন্দ হল। দোকানমালিককে বলে রাখলাম টাকা হাতে পেলেই এই সেটটা আমাকে এনে দিতে হবে।
এরই মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হল। তাবলীগের বড় ভাইরা আমাদের পিছনে সময় দিচ্ছেন। একটা জামাত বের করা যায় কিনা। এইচ এস সি পরীক্ষার পর জামাত বের করা কঠিন। কারন তখন অনেক ছাত্র কোচিং এ ভর্তি হয়। আমি সারাদিন নানা ধান্ধায় থাকি। আর একা একা জামাতে যাব না-এটা আগেই বলে দিয়েছি। খুব যে যাবার ইচ্ছা ছিল তেমনটাও নয়। যাই হোক, প্রায় রাত দশটার দিকে আমার এক বন্ধু আসল। সে এস এস সির পর জামাতে বের হয়েছিল। ঘনিষ্ঠ বন্ধু হবার কারনে আমি ব্যাগ গুছিয়ে নিলাম। সারারাত মসজিদে রাত্রিযাপন করে পরদিন ভোরে কাকরাইল মসজিদের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। খরচা হিসেবে মোবাইল কেনার জন্য যে টাকা আলাদা করে রেখেছিলাম সে-ই টাকা নিয়ে নিলাম। ভাবলাম পরে টাকা জমিয়ে কিনব।
জামাতে থাকাকালীন সপ্তাহে একদিন বাসায় ফোন দিতাম। মানে পাশের বাসায় ফোন দিলে আম্মাকে ডেকে দিত। আম্মা সারা সপ্তাহ অপেক্ষায় থাকতেন আমার ফোনের জন্য।
এভাবে কিছুদিন অতিক্রান্ত হবার পর আমি ফিরে এলাম। আসার দু-একদিন পর আম্মা নিজে থেকেই বলছেন একটা মোবাইল কিনতে। আমি বললাম, মোবাইলের টাকাতো খরচ করে ফেলেছি। উনি বললেন টাকা উনি দেবেন। আমিতো পুরো অবাক! ঘটনাটা কি? আগে একবার আম্মাকে বলেছিলাম টাকা দিতে মোবাইল কেনার জন্য। তখন উনি টাকা দেন নি। আর এখন টাকা সাধছেন!
আপার কাছে শুনলাম ঘটনা। আমি জামাতে থাকাকালীন একদিন আম্মার মনে হল আমার সাথে কথা বলবেন। উনার এই স্বভাব আছে। একবার যদি মনে হয়, কারো সাথে দেখা করবেন বা কথা বলবেন তবে যতক্ষন পর্যন্ত সেটা না হবে ততক্ষন পর্যন্ত আর শান্তি নেই। তো, আম্মা পাশের বাসায় গেলেন আমাকে ফোন করার জন্য। যার মোবাইল তিনি আম্মাকে বললেন, খালাম্মা ৭ টাকা করে মিনিট কাটে! মোটকথা, তার আচরনে আম্মা খুব কষ্ট পেলেন।
আমি মনে মনে শুকরিয়া আদায় করলাম। জামাতেও যেতে পারলাম, ফিরেই মোবাইল পেয়ে যাচ্ছি। আবার সেই ফ্লেক্সির দোকানে গিয়ে বললাম সেট নিয়ে আসতে। কয়েকদিন পর উনি আমাকে Samsung SGH N710 মডেলের সেটটি এনে দিলেন।
তাবলীগে সময় দিলে দুনিয়াদারীর কোন ক্ষতি হয় না। ভাইদের জীবনে এমন অসংখ্য ঘটনা রয়েছে। কাকরাইল মসজিদে সাথীদের অভিজ্ঞতার বিবিরণ শুনলে হতবাক হয়ে যেতে হয়। আমার আমার এটা অতি সামান্য ব্যাপার।
নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞ, ক্ষমাশীল!