Featured Post

I SAID NO TO QUANTUM METHOD

পূর্বে পোস্ট আকারে প্রকাশিত। কারও সাথে ঝগড়া করার জন্য এটা দেইনি। নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম। কেউ মানতে না পারলে আমার কিছু করার নেই।  আ...

Friday, September 18, 2015

মানবতার চাদাবাজি

অহংকার আর বিরক্তি একই কথা নয়। অনেক সময় পোস্টের ভাষ্যে অহংকার প্রকাশ পেলেও বিরক্তিটাই মূল ব্যাপার।
যেখানে চাকুরী করি সেই প্রতিষ্ঠান অত্র এলাকায় মোটামুটি পরিচিত। অন্যকিছু না হোক অন্তত টাকাপয়সার দিক থেকে পরিচিত বাইরের মানূষের কাছে। ভেতরের খবরতো আমরা যারা চাকুরী করি তারা জানি। বাইরের মানুষ ওসব বিশ্বাস করবে না।
আমাদের অবস্থা যাই হোক না কেন বিভিন্ন ধরনের সাহায্যের আবেদন আমাদের কাছে আসে। আজ থেকে ২-৪ বছর আগেও এত আসত না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে যার যাই প্রয়োজন হোক না কেন "অমুক প্রতিষ্ঠানে কাগজ দাও, অনেক টাকা পাবা"- বেশিরভাগই এমনটা ভাবছে এখন। সবচেয়ে বেশি যে বিষয়ের জন্য কাগজ আসে তা হল বিয়ে! অমুকের মেয়ের বিয়ে, তমুকের বোনের বিয়ে এবং দুঃখের কথা হলেও সত্যি যে এসব ক্ষেত্রে প্রায় ৯৫ ভাগ হল হিন্দু ফ্যামিলির মেয়ে!
ভ্রু কুঁচকানোর কিছু নেই। হিন্দু হলে চাঁদা দিব না, মুসলিম হলে দেব - এমনটা ভাবার কোন কারন নেই। চাঁদা সমস্যা নয়। সমস্যা হল সিস্টেম! চট্টগ্রামের রিকশাওয়ালার মেয়ের বিয়েতেও ২০০ বরযাত্রী খাওয়াতে হয়। নাহলে পাত্রপক্ষ বিয়েতে রাজী হতে চায় না। কাজেই ভিক্ষা করে হলেও পাত্র পক্ষের দাবি মেটাতে হবে। অফটপিকে একটা প্রশ্ন রাখি, মুসলিম ধর্মেতো যৌতুক নিষিদ্ধ, কিন্তু আমরা মানি না। হিন্দু ধর্মে কি বৈধ? জানা আছে কি?
এসব গরীব হিন্দু পরিবারে সদস্যরা তাদের মেয়েদের বিয়েতে অনেকটা স্ববর্স্ব খোয়ানোর মত অবস্থা হয়। এইসব বিয়ের খাওয়া বা যৌতুক কোনটাই ইসলামী শরীয়ার দৃষ্টিতে বৈধ না। দুঃখ লাগে আমাদের চাঁদার টাকা ভাল কোন কাজে লাগছে না।
আচ্ছা গরীবদের কথা বাদই দিলাম। যাদের টাকাপয়সা আছে তাদের কথাই বলি। আমাদের এখানে চাকুরী করে ঢাকায় ফ্ল্যাট-দোকান নেই, এমন লোকের সংখ্যা কম। স্থানীয়দের বাদ দিয়ে অবশ্য। প্রায় প্রত্যেকেরই ফ্লাট, অথবা জমি বা অন্য কোন সম্পত্তি আছে। কাজেই ফট করে ৩০-৪০ লাখ টাকার দরকার হলে জোগাড় করতে পারবে না এটা কেন জানি বিশ্বাস হতে চায় না।
একটা সময় ছিল যখন মানুষের আর কোন উপায় থাকত না তখন অন্যের কাছে হাত পেতে দিত। পোলা বিদেশ যাবে? জমি বিক্রি করো। মেয়ের বিয়ে? গাভিটা বিক্রি করে দাও। অসুখ হয়েছে? ভিটে বন্ধক দাও।
এখন আর সেদিন নেই। আমার এক কলিগের দুটো কিডনিই বিকল হয়ে গেল। ভারতে চিকিৎসা করবেন। কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন। অতি চালাকীর কারনে তার রোগ জটিল আকার ধারন করেছে। কোম্পানির ডাক্তার এই ব্যাপারে তার উপর যথেষ্ঠ ক্ষ্যাপা। তবুও তার রিকমেন্ডশনে কোম্পানি তাকে মোটা অংকের টাকা দিয়েছে। তবুও সে আমাদের নিকট সাহায্যের আবেদন করেছে। অথচ ঢাকায় তার ফ্ল্যাট আছে। সমালোচকদের মুখে শুনি তার স্ত্রী নাকি তাকে ফ্ল্যাট বিক্রি করতে দিচ্ছে না বা তারও ফ্ল্যাট বিক্রি করার ইচ্ছে নেই। যারা খোজ খবর রাখে তাদের কাছে শুনি, তার স্ত্রী এখন তার মরার অপেক্ষায়।
কার জন্য তাহলে গাড়ী-বাড়ী? কি হবে এসব করে?
আজকে একটা আবেদন এসেছে। তিনি বিসিআইসির একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক। বয়স ৪৯ বছর। আমাদের এখানে টিউশনি করান। জ্ঞাতার্থে বলে রাখি, প্রফেশনালি কেউ যদি আমাদের এখানে টিউশনি করায় তবে মাসে লাখ খানেকের কাছাকাছি টাকা ইনকাম করা তার জন্য কোন ব্যাপারই না।
এইলোকেরও কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট হবে। ৩০-৪০ লাখের মত খরচাপাতি লাগবে। যে চার্ট দেখলাম সে অনুযায়ী যদি টাকা উঠে তবে আমাদের এখান থেকে মানবিকতার খাতিরেই সে সাড়ে সাত লাখ টাকা পেয়ে যাবে। আর কোম্পানি যদি CSR ফান্ড থেকে দেয় তাহলেতো কথাই নেই। বসদের ছেলেমেয়েকে হয়ত পড়িয়েছেন, মেনেজ হয়ে যেতেই পারে।
যাদের টাকা নেই, তাদের কথা ভিন্ন। কিন্তু টাকা যাদের থাকার কথা তারাও যখন হাত পাতে তখন আল্টিমেটলি অভাবীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। কারন আমাদের হাত তখন আর প্রসারিত হতে চায় না। গুটিয়ে থাকতে চায়।
মূলকথায় আসি। মাসের ১৫ দিন পার হয়ে গিয়েছে। মানিব্যাগের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌছেছে যে, খালি হয়ে যাবার আশংকায় বাজারে যাওয়া হচ্ছে না। কাউয়ার ঠেং, বগার ঠেং রান্না করে নাকে-মুখে গুজে দিয়ে পড়ে থাকি। ভাবছি আর না, মানবিকতার চাঁদা দিয়ে নিজেই থালা হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাব।
যা আছে কপালে!

তাকওয়া ও বিভ্রান্তি

[বিতারিত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থণা করছি]
খুবই সাধারন কিছু কথাবার্তা লিখব। অনেকটা বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আলাপ করার মত। এই লেভেলে কথা বলার জন্য রেফারেন্স দরকার হয় না। কাজেই সেদিকে যাব না।
মুসলিম হতে হলে প্রথমেই যেটা প্রয়োজন সেটা হল আল্লাহর প্রতি ঈমান। তারপর অন্যান্য বিষয়সমূহের প্রতি ঈমান। ঈমানের তারতম্য ও বিভ্রান্ত বিশ্বাসের কারনে কোন মুসলিমের আমলের তারতম্য ঘটে। অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন, আমি নিজেও একসময় চিন্তিত ছিলাম যে, আল্লাহ একজন, কুরআন একটি, মুহাম্মদ (সাঃ) একজন। তারপরও মুসলমানদের মধ্যে কেন এত বিভেদ? কাদের কথা বার্তা সঠিক? কাদেরকে আমরা অনুসরণ করব? যেহেতু আমরা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর যুগ পাই নি।
মুসলিমদের মধ্যে ভাগাভাগির একমাত্র কারন হল ধর্ম বিশ্বাস বা আকীদাগত বিভ্রান্তি। এই বিষয়টি নিয়ে আপাতত আলোচনা না-ই করলাম। ধরে নিলাম, একদল লোকের আকীদায় কোন বিভ্রান্তি নেই। তারপরও দেখা যায় তাদের মধ্যে আমলের কমবেশি হচ্ছে। একই বিষয়ে দু'জনের কার্যকলাপ দু'রকম হচ্ছে।
এমনটা হবার কারন তাদের মধ্যে তাকওয়া বা আল্লাহর প্রতি ভয়ের তারতম্য। একজন হয়ত আল্লাহকে বেশি ভয় পান, অন্যজন শয়তানের প্ররোচনায় অতটা সতর্ক নন।
উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।
কেউ গোসলখানায় গোসল করার সময় দরজা টেনে দিল। ফলে বাইরের দুনিয়া তার আড়ালে চলে গেল। এরপর সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে গোসল সম্পন্ন করল। আরেকজন একই ভাবে দরজা টানার পর মনে মনে খেয়াল করল বাকি দুনিয়া আমার আড়াল হলেও আল্লাহর কাছ থেকেতো আমি আড়ালে নই। সে শরীরে কাপড় রেখেই গোসল করল।
গোসল কিন্তু দু'জনেরই হল। কিন্তু দু'জনের আমল ভিন্ন হল এবং তার প্রতিফল ভিন্ন হবে সেটাই স্বাভাবিক।
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে উলঙ্গ হয়ে গোসল করা কি হারাম? জ্বী না হারাম নয়, জায়েজ। তবে উত্তম নয়। প্রতমোক্ত ব্যক্তি জায়েজের উপর আমল করেছেন, দ্বিতীয় ব্যক্তি করেছেন উত্তমের উপর।
বর্তমান যুগ হচ্ছে জায়েজের যুগ। বেশিরভাগ মানুষই জায়েজের উপর আমল করতে চায়। নগণ্য সংখ্যক মানুষই আল্লাহতে ভীত হয়ে উত্তমের উপর আমল করে থাকেন। আমাদের কোম্পানীর প্রোভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচুইটি ইত্যাদি কোম্পানির কাছে জমা থাকে। কিন্তু প্রতিবছর এই ফান্ডের যে লভ্যাংশ আসে সেটা সবার মধ্যে বিলি করে দেয়া হয়। আমাদের ইমাম সাহেব বলে দিলেন যে, "এই টাকা নিজের জন্য খরচ করা জায়েজ আছে তবে কারো যদি তাকওয়া বেশি হয় তবে তা ভিন্ন বিষয়।" টাকা-পয়সার ব্যাপারে আবার তাকওয়া!
সঞ্চয়ী হিসাব থেকে লভ্যাংস পাওয়া যায়, পাওয়া যায় বিভিন্ন সুদভিত্তিক শেয়ার ব্যবসা থেকে, FDR থেকে, সঞ্চয়পত্র থেকে, এছাড়াও নানা উৎস থেকে।
যেকোন কিছু আমলের কুরআন-হাদীসের নির্দেশনা জরুরী। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর কাছ থেকে সাহাবাগন (রাঃ) কুরআনুল কারীম শিখেছেন, শিখেছেন বিভিন্ন আয়াতের ব্যাখ্যা। আমল করেছেন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর অনুমতি ক্রমে বা নির্দেশনায়। এখন কেউ যদি প্রশ্ন করে, কুরয়ান-হাদীসের কোন জায়গায় আছে যে, সাহাবীদের পরে কেউ কুরআন-হাদীস সাহাবীদের চেয়ে ভাল বুঝবে না?
তার এই প্রশ্নের জবাব বুঝিয়ে দেয়ার মত ঘিলু অন্তত আমার নেই।
জীবনের সব ব্যাপারেই এই বিষয়টা সামনে রাখা দরকার। কুরআন-হাদীস কি বলেছে এবং সাহাবারা কিভাবে তার আমল করেছেন। অনেক মেয়েই বলে থাকে পর্দা করে মেয়েদের বাইরে যাওয়া জায়েজ। তারা এই কথার রেশ ধরে (অপ্রয়োজনে) মেয়েদের হাট-বাজার, চাকুরী-বাকুরী ইত্যাদি ব্যাপারে অনেক কিছুই বলে থাকেন। অথচ আয়েশা (রাঃ) মেয়েদের মসজিদের গমনের ব্যাপারে (রাসূলুল্লাহর (সাঃ) মৃত্যুর পর) নেগেটিভ কথা বলেছেন!
ঐযে বললাম, তাকওয়া! দু'জন পর্দানশীল মেয়ের তাকওয়ার পরিমাণ কিভাবে সমান হতে পারে যখন একজন বাধ্য না হলে ঘরেই থাকে আর অন্যজন কারনে-অকারনে ঘুড়ে বেড়ায়? টাইট ফিট বোরকা পরে, নিজের ব্যাগের ফিতা দু'বুকের মাঝখান দিয়ে টেনে দেয়?
সম্ভব? 

রশি ও তাবিজ

বিভিন্ন হাদীসে তাবিজ, কবজ, রশি, সূতা, তাগা, ঝাড়-ফুঁক ইত্যাদি ব্যবহার শিরক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পক্ষান্তরে অন্যান্য হাদীসে ঝাড়-ফুঁক ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ সকল হাদীসের সমন্বয়ের জন্য অনেক আলিম বলেছেন, কুরআনের আয়াত, হাদীস বা ভাল অর্থের দু'আ দ্বারা যেমন ঝাড়ফূঁক বৈধ, তেমনি এরূপ আয়াত, হাদীস বা ভাল অর্থের দু'আ লিখে 'তাবিয' আকারে ব্যবহারও বৈধ। কোনো কোনো আলিম বলেছেন যে, কুরআনের আয়াত, হাদীস বা ভাল অর্থেবোধক দু'আ দিয়া ঝাড়-ফুঁক বৈধ, কারণ তা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। তবে তাবীজ ব্যবহার কোনোভাবেই বৈধ নয়, কারণ তা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত নয়। হাদীস শরীফে কুরআনের আয়াত বা ভাল দু'আ দ্বারা ঝাড়-ফুঁক দেওয়া বৈধ বলে সুস্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নিজে অনেককে ফুঁক দিয়েছেন। তবে তিনি নিজে বা তাঁর সাহাবীগণ কখনো কাউকে তাবিজ লিখে ব্যবহার করতে দিয়েছেন বলে কোনো সহীহ বর্ণনা পাওয়া যায় না। উকবা ইবনু আমির আল-জুহানী (রাঃ) বলেন,
"একদল মানুষ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নিকট আগমন করেন। তিনি তাদের ৯ জনের বাইয়াত গ্রহণ করেন এবং একজনের বাইয়াত গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। তারা বলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি ৯ জনের বাইয়াত গ্রহণ করলেন কিন্তু একে পরিত্যাগ করলেন? তিনি বলেন, এর দেহে একটি তাবিজ আছে। তখন তিনি তার হাত ঢুকিয়ে তাবিজটি ছিড়ে ফেলেন। অতঃপর তিনি তার বাইয়াত গ্রহণ করেন এবং বলেনঃ "যে তাবিজ ঝুলালো সে শিরক করল।"
আব্দূল্লাহ ইবনু মাসঊদের (রাঃ) স্ত্রী যাইনাব (রাঃ) বলেন,
"ইবনু মাসঊদ (রাঃ) যখন বাড়িতে আসতেন তখন সাড়া দিয়ে আসতেন। ... একদিন তিনি এসে সাড়া দিলেন। তখন আমার ঘরে একজন বৃদ্ধা আমাকে ঝাড়ফুঁক করছিল। আমি বৃদ্ধাকে চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখি। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) ঘরে ঢুকে আমার পাশে বসেন। এমতাবস্থায় তিনি আমার গলায় একটি সুতা দেখতে পান। তিনি বলেন, এ কিসের সুতা? আমি বললাম, এ ফুঁক দেওয়া সুতা। যাইনাব বলেন, তিনি সুতাটি ধরে ছিড়ে ফেলেন এবং বলেন, আব্দুল্লাহ্র পরিবারের শিরক করার কোন প্রয়োজন নেই। আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছিঃ "ঝাড়-ফূঁক, তাবীজ-কবজ এবং মিল-মহব্বতের তাবীজ শিরক।" যাইনাব বলেন, তখন আমি আমার স্বামী ইবনু মাসঊদকে বললাম, আপনি এ কথা কেন বলছেন? আল্লাহর কসম, আমার চক্ষু থেকে পানি পড়ত। আমি অমুক ইহুদির কাছে যেতাম। সে যখন ঝেড়ে দিত তখন চোখে আরাম বোধ করতাম। তখন ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেনঃ এ হলো শয়তানের কর্ম। শয়তান নিজ হাতে তোমার চক্ষু খোচাতে থাকে। এরপর যখন ফুঁক দেয়া হয় তখন সে খোচানো বন্ধ করে। তোমার জন্য তো যথেষ্ঠ ছিল যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যা বলতেন তা বলবে। তিনি বলতেনঃ অসুবিধা দূর করুন, হে মানুষের প্রতিপালক, সুস্থতা দান করুন, আপনিই শিফা বা সুস্থতা দানকারী, আপনার শিফা (সুস্থতা) ছাড়া আর কোন শিফা নেই, এমন (পরিপূর্ণ) শিফা বা সুস্থতা দান করুন যার পরে আর কোন অসুস্থতা অবশিষ্ট থাকবে না।"
তাবিয়ী ইসা ইবনু আবি লাইলা বলেন,
"আমরা সাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনু উকাইন বানূ মা'বাদ জুহানীকে (রাঃ) অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পেলাম। আমরা বললাম, আপনি কোনো তাবিজ ব্যবহার করেন না কেন? তিনি বলেনঃ আমি তাবিজ নেব? অথচ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ যদি কেউ দেহে (তাবিজ জাতীয়) কোনো কিছু লটকায় তবে তাকে উক্ত তাবিজের উপরেই ছেড়ে দেওয়া হয়।"
তাবিয়ী উরওয়া ইবনুয যুবাইর বলেনঃ
"সাহাবী হুযাইফা (রাঃ) একজন অসুস্থ মানুষকে দেখতে যান। তিনি লোকটির বাজুতে একটি রশি দেখতে পান। তিনি রশিটি কেটে দেন বা টেনে ছিড়ে ফেলেন এবং বলেন, অধিকাংশ মানুষই আল্লাহর উপর ঈমান আনে এবং তারা শিরকে লিপ্ত থাকে।"
[সূত্রঃ কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা। ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর। আস-সুন্নাহ পাবলিকেশন্স। পৃষ্ঠা নংঃ ৩৮৪, ৩৮৫, ৩৮৬, ৩৮৭]

অফিসিয়াল পিসি

[আমাদের অফিসে পিসি আছে। কিন্তু......]
৩২৩ চেংটেংটর, ১-৪২০ পৃঃ।
মাননীয় কর্তৃপক্ষ, 
বংচং লিমিটেড।
ভাঙ্গাচুড়া, চুঙ্গাদেশ।

বিষয়ঃ অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের আবেদন।
জনাব,
যথাবিহীত সম্মান প্রদর্শন পূর্বক বিনীত নিবেদন এই যে, আমরা বংচং লিমিটেডের কতিপয় খেদমতগার গভীর উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষন করিতেছে যে, আপনাদের দয়ায় আমাদের নিকট যেসব নিয়ামত পৌছিয়াছে সেগুলোর সঠিক ব্যবহার হইতেছে না। আমরা বরাবরই দেখিয়াছি আপনারা আমাদের সকল সুযোগ সুবিধার প্রতি লক্ষ্য রাখিয়া যাহা যাহ প্রয়োজন সকলি আমাদিগকে সরবরাহ করিয়া থাকেন। আমাদের প্রতি দয়াপরবশ হইয়া আপনারা কেবল বিদ্যুৎ, টেবিল-চেয়ার, খাতা-কলম, পাখা, শীতলীকরন যন্ত্রতো বটেই একটি মহামান্য হিসাব যন্ত্রও প্রদান করিয়াছেন। আমরা অত্যন্ত পুলকিত যে, এই মহামান্য হিসাব যন্ত্রের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য ইহাকে অন্তর্জালের বাহিরে রাখা হইয়াছে, এমনকি ইহা হইতে "স্বর" কাড়িয়া লইয়া ইহাকে বাক প্রতিবন্ধী বানাইয়া রাখা হইয়াছে।
কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় এই যে, ইহার মাউসের ডান বোতাম খানি এখনো কার্যক্ষম রহিয়াছে, ইহার কিবোর্ডের নাম্বার প্যাড দ্বারা এখনো সংখ্যা লিপিবদ্ধ করা সম্ভব হইতেছে। এইসব অমূল্য বৈজ্ঞানিক আবিস্কারসমূহ সুলভে পাইয়া আমাদের মধ্য হইতে অনেকেই ইহার অপব্যবহার করিতেছে। যাহাতে দেশ ও জাতি তথা সমগ্র বিশ্ববাসী ও বর্হিবিশ্ববাসীর হইলোক এবং পরলোকের অবর্ণনীয় ক্ষতি সাধন হইতেছে।
অতএব, বিনীত প্রার্থনা, উক্ত উচ্ছক্ষমতা সম্পন্ন পারমানবিক বৈজ্ঞানিক আবিস্কারের সঠিক ব্যবহার ও দীর্ঘায়ু নিশ্চিতকর এবং সমগ্র সৃষ্টিকুলকে রক্ষা করিবার প্রয়াসে মাউসের ডান বোতমখানি ও কিবোর্ডের নাম্বার প্যাড সহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা (যাহা যাহা না হইলেই নয় উহা ব্যতীত) বাতিল করিয়া এই অধমদিগকে আপনার কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ এবং আমৃত্য খেদমত করিয়ার সুযোগ দিয়া বাধিত করিয়া আপনার মহানুভবতার পরিচয় দিবেন।
বিনীত,
বংচং লিমিটেডের সকল খাদেমগনের পক্ষ হইতে
বাং লং মিং
সহকারী খেদমতগার,
বংচং লিমিটেড।

লেখা ও মতামত

ফেসবুকে যখন কোন লেখা দেই (গল্প) তখন অন্যান্য লেখকদের মত আমিও মতামত আশা করি। কিন্তু ঝামেলার কথা হল যাদের লেখনি আমার চেয়ে ভাল তারা হয়ত আমার পোস্ট পড়েই না। আর পড়লেই ভাবে ধূর এইসব ছাইপাসে কি কমেন্ট করব (আমি যেমনটা মাঝে মাঝে ভাবি)। আর যাদের লেখনি আমার তুলনায় কম তাদের কমেন্ট যদি সমালোচনার হয় তবে আমার কাছে ঠিক যৌক্তিক বা যথার্থ মনে হয় না।
আমার এক কলিগ আছেন যিনি ভার্চুয়াল না, বাস্তব জীবনে একজন লেখক। তার লেখা পত্রিকায় যায়। গতকালের দৈনিক আজাদীতে উনার একটা লেখা প্রকাশিত হয়েছে। উনার ভাষ্যমতে উনি লেখাটা দিতে চান নি, কিন্তু উনার বন্ধু জোর করে নিয়ে গিয়েছেন। উনাকে ধরলাম আমার একটা লেখা দেখে দিতে। অসমাপ্ত লেখাটা পড়ে উনি যেসব ত্রুটি বের করেছেন সেগুলো আমার কাছে খুবই যূক্তিযুক্ত লেগেছে।
প্রথমেই বললেন, শুরুর দিকে ঘটনা শুরু হবার প্রস্তুতি নিয়ে কিছু লিখতে। যেমন, কেউ বাড়ি যেতে চাইলে তার প্রস্তুতি হিসেবে ব্যাগ গোছানোর ব্যাপারটা থাকে। প্রস্তুতি ছাড়া দেশের বাড়িতে যাওয়াটা স্বাভাবিক নয়।
স্বাভাবিক ঘটনার বর্ণনায় কোন গল্প হয় না। স্বাভাবিক ঘটনার মধ্যে পাঠক কোন আগ্রহ খুজে পায় না। কাজেই সে ঐ লেখা পড়বে না। পাঠকের আগ্রহ ধরে রাখার জন্য অপ্রত্যাশিত কোন ব্যাপার নিয়ে আসতে হবে।
আমার ঐ লেখায় ঘটনার প্রবাহে ছেদ পড়ে যাচ্ছে। এক প্যারার ঘটনার সাথে আরেক প্যারার ঘটনার সম্পর্ক আরো সুদূঢ় করার পরামর্শ দেন।
বর্ণনাভঙ্গি সহজ সরল- এটা ভাল, কিন্তু আরো ইনফরমেটিভ হতে হবে। একই বাক্যে যত বেশি সম্ভব ইনফরমেশন দিতে হবে। তাহলে বিরক্তির উদ্রেগ হবে না।
মাথায় যা আসে লিখে ফেলেন। তারপর সম্পাদনার সুযোগ তো আছেই। তখন কাটাছেড়া করে মূল বিষয়টাকে আকর্ষনীয় করতে হবে। হাবিজাবি এত কিছু লেখার চেয়ে লেখার মত লেখা একটা লিখতে পারলেই হল। সে জন্য সময় লাগলে লাগুক। অসুবিধা কি?
উনার কথা শোনার পর আর এক শব্দও লেখা হয় নি। আর যতটুকু লেখা হয়েছে সেখানেও ছুড়ি চালাতে হবে বলে মনে হচ্ছে। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কি দাঁড়ায়। আয়না না হোক, আয়নার কাছাকাছি গেলেই আমি খুশি হব।