Featured Post

I SAID NO TO QUANTUM METHOD

পূর্বে পোস্ট আকারে প্রকাশিত। কারও সাথে ঝগড়া করার জন্য এটা দেইনি। নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম। কেউ মানতে না পারলে আমার কিছু করার নেই।  আ...

Saturday, January 31, 2015

অন্তরমিল

"বাড়ি যাবেন নাকি?"
"হ্যা। যাবো তো..."
"কবে যাবেন?"
"অমুক তারিখে?"
"ও তাই নাকি? তাহলেতো ভালই। আমিও যাব ঢাকা। চলেন একসাথে যাই।"
"না। আপনার সাথে যাব না।"
"কেন? কি হয়েছে?"
"ভয়ে যাব না।"
"ভয়!! কিসের ভয়?"
"কিসের ভয় পরে বলছি। আগে বলেন বনী ইসরাঈলের নাম শুনেছেন?"
"শুনেছি মনে হয়। তো?"
"বনী ইসরাঈল কিভাবে ধ্বংস হয়েছে জানেন? জানা থাকলেও শোনেন আবার। বনী ঈসরাঈলের মধ্যে সর্বপ্রথম অধঃপতন শুরু হয় এভাবে যে, তাদের মধ্যে কেউ খারাপ কাজ করলে অন্যেরা বাধা দিত। কিন্তু পূর্ব সম্পর্কের দরূন তার সাথে উঠা-বসা, খানা-পিনা চালিয়ে যেত। ফলে আল্লাহ তায়ালা একের অন্তরকে অন্যের অন্তরের সাথে মিলিয়ে দিলেন। ফলে সকলেই ধ্বংস হয়ে গেল।
সেদিন আপনি উরু দেখা যায় এমন একটা হাফপ্যান্ট পড়ে ব্যাডমিন্টন খেলতে গেলেন। আমি আপনাকে বলেছিলাম, এটা কি পড়েছেন? হাটুর পর্যন্ত ঢাকা থাকে এমন কিছু পড়তে পারেন না? নাভি থেকে হাটুর নিচ পর্যন্ত ঢাকা রাখা ছেলেদের জন্য ফরয। আপনি নিজে গোনাহ করছেন। আমাদের চোখে পড়ছে। আমাদেরও গোনাহ হচ্ছে। যে দেখায় এবং যে দেখে-দুইজনেরই গোনাহ।
আপনি আমার কথা উড়িয়ে দিলেন। টিটকিরি মেরে বললেন, "ওসব আমার জানা আছে। ওসব বহুত দেখেছি।"
এখন যদি আমি আপনার সাথে আগের মতই আপনার সাথে উঠা-বসা করি, চলা-চল করি তবে আমার ভয় হয় একদিন আমিও আপনার মত অর্ধউলংগ হয়ে সবার সামনে নির্লজ্জের মত চলাফেরা করব। আমি নির্লজ্জ হতে চাই না। তাই, আপনার সাথে আমার যাওয়া সম্ভব না। আপনি আপনার মত যান। আমি আমার মত যাব ইন শা আল্লাহ!"

একজন জাপানী মহিলার দৃষ্টিতে ইসলাম ও পর্দা (প্রথম পর্ব)

[এই পোস্টটি মাননীয় শেখ আব্দুল আজিজ বিন বায এর 'ইসলামী হিজাব বা পর্দা' বইটির একটি অংশ। প্রতি মুসলিম নারীর অবশ্য পাঠ্য। আশাকরি, বর্তমানে যারা পর্দা (?) করেন তাদের অনেকের কিছু ভ্রান্তধারনার অবসান হবে]
বোন খাওলা একজন জাপানী নাগরিক। তিনি বর্তমানে রিয়াদস্থ জাপানী দূতাবাসে কর্মরত তাঁর স্বামীর সাথে রিয়াদে অবস্থা করছেন। গত ২৫/১০/১৯৯৩ তারিখে তিনি সৌদি আরবের আল-কাসীম প্রদেশের কেন্দ্র "বুরাইদা" শহরের ইসলামি কেন্দ্রের মহিলা বিভাগে আসেন এবং ইসলাম ও পর্দা সম্পর্কে তাঁর নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে ইংরেজী ভাষায় একটি লিখিত প্রবন্ধ পড়ে শোনান। পরে উপস্থিত বোনেদের সাথে আলোচনা ও মত বিনিময় করেন। তাঁর মূল প্রবন্ধটির বঙ্গানুবাদ এখানে পেশ করা হল।
আমার ইসলামঃ
ফ্রান্সে অবস্থান কালে আমি ইসলাম গ্রহণ করি। ইসলাম গ্রহনের পূর্বে অধিকাংশ জাপানীর ন্যায় আমিও কোন ধর্মের অনুসারী ছিলাম না। ফ্রান্সে আমি ফরাসী সাহিত্যের উপর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর লেখাপড়ার জন্য এসেছিলাম। আমার প্রিয় লেখক ও চিন্তাবিদ ছিলেন সাঁর্তে, নিৎশে ও কামাস। এদের সবার চিন্তাধারাই নাস্তিকতাভিত্তিক।
ধর্মহীন ও নাস্তিকতা প্রভাবিত হওয়া সত্ত্বেও ধর্মের প্রতি আমার প্রবল আগ্রহ ছিল। আমার অভ্যন্তরীণ কোন প্রয়োজন নয়, শুধুমাত্র জানার আগ্রহই আমাকে ধর্ম সম্পর্কে উৎসাহী করে তোলে। মৃত্যুর পরে আমার কি হবে তা নিয়ে আমার কোন মাথাব্যথা ছিল না, বরং কিভাবে জীবন কাটাব এটাই ছিল আমার আগ্রহের বিষয়।
দীর্ঘদিন ধরে আমার হচ্ছিল আমি আমার সময় নষ্ট করে চলেছি, যা করার তা কিছুই করছি না। ঈশ্বরের বা স্রস্টার অস্তিত্ব থাকা বা না থাকা আমার কাছে সমান ছিল। আমি শুধু সত্যকে জানতে চাইছিলাম। যদি স্রস্টার অস্তিত্ব থাকে তাহলে তাঁর সাথে জীবন যাপন করব, আর যদি স্রস্টার অস্তিত্ব খুজে না পাই তাহলে নাস্তিকতার জীবন বেছে নেব, এটাই ছিল আমার উদ্দেশ্য।
ইসলাম ছাড়া অন্যান্য ধর্ম সম্পর্কে আমি পড়াশুনা করতে থাকি। ইসলাম ধর্মকে আমি ধর্তব্যের মধ্যে আনিনি। আমি কখনো চিন্তা করিনি যে এটা পড়াশোনার যোগ্য কোন ধর্ম। আমার বদ্ধমূল ধারণা ছিল, যে ইসলাম ধর্ম হল মূর্খ ও সাধারণ মানুষদের একধরনের মুর্তিপূজার ধর্ম। কত অজ্ঞানই না আমি ছিলাম!
আমি কিছু খৃষ্টানের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করি। তাদের সাথে আমি বাইবের অধ্যয়ন করতাম। বেশ কিছুদিন গত হবার পর আমি স্রস্টার অস্তিত্বর বাস্তবতা বুঝতে পারলাম। কিন্তু আমি এক নতুন সমস্যার মধ্যে পড়লাম, আমি কিছুতেই আমার অন্তরে স্রস্টার অস্তিত্ব অনুভব করতে পারছিলাম না, যদিও আমি নিশ্চিত ছিলাম যে স্রস্টার অস্তিত্ব রয়েছে। আমি গির্জায় গিয়ে প্রার্থনা করার চেষ্টা করলাম, কিন্তু বৃথাই চেষ্টা, আমি শুধু স্রস্টার অনুপস্থিতিই অনুভব করতে লাগলাম।
তখন আমি বৌদ্ধ ধর্ম অধ্যয়ন করতে শুরু করলাম। আশা করছিলাম এই ধর্মের অনুশাসন পালনের এবং যোগাভ্যাসের মাধ্যমে আমি ঈশ্বরকে অনুভব করতে পারব। খৃষ্টানধর্মের ন্যায় বৌদ্ধধর্মেও আমি অনেক কিচু পেলাম যা সত্য ও সঠিক বলে মনে হল। কিন্তু অনেক বিষয় আমি বুঝতে বা গ্রহণ করতে পারলাম না। আমার ধারনা ছিল, ঈশ্বর বা স্রস্টা যদি থাকেন তাহলে তিনি সকল মানুষের জন্য এবং সত্য ধর্ম অবশ্যই সবার জন্য সহজ ও বোধগম্য হবে। আমি বুঝতে পারলাম না, ঈশ্বরকে পেতে হলে কেন মানুষকে স্বাভাবিক জীবন পরিত্যাগ করতে হবে।
আমি এক অসহায় অবস্থায় নিপতিত হলাম। ঈশ্বরের সন্ধানে আমার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা কোন সমাধানে আসতে পারলাম না। এমতাবস্থায় আমি একজন আলজেরীয় মুসলিমের সাথে পরিচিত হলাম। তিনি ফ্রান্সেই জন্মেছেন, সেখানেই বড় হয়েছেন। তিনি নামাজ পড়তেও জানতেন না। তার জীবনযাত্রা ছিল একজন সত্যিকার মুসলিমের জীবনযাত্রা থেকে অনেক দূরে। কিন্তু আল্লাহর প্রতি তার বিশ্বাস ছিল খুবই দৃঢ়। তার জ্ঞানহীন বিশ্বাস আমাকে বিরক্ত ও উত্তেজিত করে তোলে। আমি ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে অধ্যয়ন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।
শুরুতেই আমি পবিত্র কুরআনের এক কপি ফরাসী অনুবাদ কিনে আনি। কিন্তু আমি ২ পৃষ্ঠাও পড়তে পারলাম না, কারণ আমার কাছে তা খুবই অদ্ভূত মনে হচ্ছিল।
আমি একা একা ইসলামকে বোঝার চেষ্টা ছেড়ে ছিলাম এবং প্যারিস মসজিদে গেলাম, আশা করছিলাম সেখানে কাউকে পাব যিনি আমাকে সাহায্য করবেন।
সেদিন ছিল রবিবার এবং মসজিদে মহিলাদের একটি আলোচনা চলছিল। উপস্থিত বোনেরা আমাকে আন্তরিকতার সাথে স্বাগত জানালেন। আমার জীবনে এই প্রথম আমি ধর্মপালনকারী মুসলিমদের সাথে পরিচিত হলাম। আমি অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম যে, নিজেকে তাঁদের মধ্যে অনেক সহজ ও আপন বলে অনুভব করতে লাগলাম, অথচ খৃষ্টান বান্ধবীদের মদ্যে সর্বদাই নিজেকে আগন্তক ও দূরাগত বলে অনুভব করতাম।
প্রত্যেক রবিবারে আমি আলোচনায় উপস্থিত হতে লাগলাম, সাথে সাথে মুসলিম বোনদের দেওয়া বইপত্র পড়তে লাগলাম। এসকল আলোচনার প্রতিটি মুহূর্ত এবং বইয়ের প্রতি পৃষ্ঠা আমার কাছে ঈশ্বরের প্রত্যাদেশের মত মনে হতে লাগল। আমার মনে হচ্ছিল, আমি সত্যের সন্ধান পেয়েছি। সবচেয়ে অদ্ভূত ব্যাপার হল, সেজদায় রত অবস্থায় আমি স্রষ্টাকে আমার অত্যন্ত কাছে অনুভব করতাম।
আমার পর্দাঃ
দু'বছর আগে যখন ফ্রান্সে আমি ইসলাম গ্রহণ করি তখন মুসলিম স্কুলছাত্রীদের ওড়না বা স্কার্ফ দিয়ে মাথা ঢাকা নিয়ে ফরাসীদের বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। অধিকাংশ ফরাসী নাগরিকের ধারণা ছিল, ছাত্রীদের মাথা ঢাকার অনুমতি দান সরকারী স্কুলগুলোকে ধর্মনিরপেক্ষ রাখার নীতির বিরোধী। আমি তখনো ইসলাম গ্রহণ করিনি। তবে আমার বুঝতে খুব কষ্ট হত, মুসলিম ছাত্রীদের মাথায় ওড়না বা স্কার্ফ রাখার মত সামান্য একটি বিষয় নিয়ে ফরাসীরা এত অস্থির কেন। দৃষ্যতঃ মনে হচ্ছিল যে, ফ্রান্সের জনগন তাদের ক্রমবর্ধমান বেকার সমস্যা, বৃহৎ শহরগুলোতে নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি আরব দেশগুলো থেকে আসা বহিরাগতদের ব্যাপারে ব্যাপারে উত্তেজিত ও স্নায়ুপীড়িত হয়ে পড়েছিলেন, ফলে তাঁরা তাঁদের শহরগুলোতে ও স্কুলগুলোতে ইসলামি পোষাক দেখতে আগ্রহী ছিলেন না।
অপরদিকে আরব ও মুসলিম দেশগুলোতে মেয়েদের মধ্যে, বিশেষ করে যবতীদের মধ্যে ইসলামি হিজাব বা পর্দার দিকে ফিরে আসার জোয়ার এসেছে। অনেক আরব বা মুসলিম, এবং অধিকাংশ পাশ্চাত্য জনগনের কাছে এটা ছিল কল্পনাতীত; কারন তাদের ধারণা ছিল যে পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রসারের সাথে সাথে পর্দা প্রথার বিলুপ্তি ঘটবে।
ইসলামি পোশাক ও পর্দা ব্যবহারের আগ্রহ ইসলামি পুর্নজাগরণের একটা অংশ। এর মাধ্যমে আরব ও মুসলিম জনগোষ্ঠী সমূহ তাদের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট, অর্থনৈতিক ও উপনিবেশিক আধিপত্যের মাধ্যমে যে গৌরব বিনষ্ট ও পদদলিত করার প্রতিনিয়ত চেষ্টা করা হচ্ছে।
জাপানী জনগনের দৃষ্টিতে মুসলমানদের পুরোপুরি ইসলাম পালন একধরনের পাশ্চাত্য বিরোধীতা ও প্রাচীনকে আঁকড়ে ধরে রাখার মানসিকতা, যা মেজি যুগে জাপানীদের মধ্যে বিদ্যমান ছিল। তখন তারা প্রথম পাশ্চাত্য সভ্যতার সংস্পর্শে আসে এবং পাশ্চাত্য জীবনযাত্রা ও পোশাক পরিচ্ছদের বিরোধীতা করে।
মানুষ সাধারনত ভালমন্দ বিবেচনা না করেই যে কোন নতুন বা অপরিচিত বিষয়তের বিরোধীতা করে থাকে। কেউ কেউ মনে করেন যে, হিজাব বা পর্দা হচ্ছে মেয়েদের নিপীড়নের একটি প্রতীক! তাঁরা মনে করেন, যে সকল মহিলা পর্দা মেনে চলে বা চলতে আগ্রহী তারা মূলতঃ প্রচলিত প্রথার দাস। তাদের বিশ্বাস, এ সকল মহিলাদেরকে যদি তাদের ন্যাক্কারজনক অবস্থা সম্পর্কে সচেতন করা যায় এবং তাদের মধ্যে নারীমুক্তি ও স্বাধীন চিন্তার আহ্ববার সঞ্চারিত করা যায় তাহলে তারা পর্দাপ্রথয়া পরিত্যাগ করবে।
এ ধরনের উদ্ভট-বাজে চিন্তা শুধু তাঁরাই করেন যাদের ইসলাম সম্পর্কে ধারনা খুবই সীমাবদ্ধ। ধর্মনিরপেক্ষ ও ধর্মবিরোধী চিন্তাধারা তাঁদের মনমগজ এমনভাবে অধিকার করে নিয়েছে যে তাঁরা ইসলামের সার্বজনীনতা ও সার্বকালীনতা বুঝতে একেবারেই অক্ষম। আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিশ্বের সর্বত্র অগনিত অমুসলিম মহিলা ইসলাম গ্রহণ করছেন, যাদের মধ্যে আমিও রয়েছি। এদ্বারা আমরা ইসলামের সার্বজনীতা বুঝতে পারি।
এত কোন সন্দেহ নেই যে, ইসলামি হিজাব বা পর্দা অমুসলিমদের জন্য একটি অদ্ভূত ও বিস্ময়কর ব্যাপার। পর্দা শুধু নারীর মাথার চুলই ঢেকে রাখে না, উপরন্তু আরো এমন কিছু আবৃত করে রাখে যেখানে তাদের কোন প্রবেশাধিকার নেই, আর এজন্যই তাঁরা খুব অস্বস্তি বোধ করেন। বস্তুতঃ পর্দার অভ্যন্তরে কি আছে বাইরে থেকে তাঁরা তা মোটেও জানতে পারেন না।
প্যারিসে অবস্থান কালেই, ইসলাম গ্রহনের পর থেকে আমি হিজাব বা পর্দা মেনে চলতাম।১ আমি একটা স্কার্ফ দিয়ে আমার মাথা ঢেকে নিতাম। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে একই রঙের স্কার্ফ ব্যবহার করতাম। হয়ত অনেকে এটাকে নতুন একটা ফ্যাশন ভাবত। বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থানকালে আমি কাল বোরকায় আমার সমস্ত দেহ আবৃত করে রাখি, এমনকি আমার মুখমন্ডল এবং চোখও।
টীকা-১: এখানে ও সামনের আলোচনায় লেখিকা হিজাব বা পর্দা বলতে মুখমণ্ডল ও কবজি পর্যন্ত দুহাত বাদে পুরো শরীর ঢেকে রাখা বোঝাচ্ছেন। পবিত্র কুরআনে ও হাদীসের আলোকে সকল মুসলিম ইমাম ও আলিম একমত যে মেয়েদের সম্পুর্ণ শরীর অনাত্মীয় পুরুষদের থেকে আবৃত করতে হবে, শুধুমাত্র মুখমণ্ডল ও হাত খোলা রাখতে কেউ কেউ অনুমতি দিয়েছেন। এ ব্যাপারে আগে আলচনা হয়েছে।
["আগো আলোচনা" বলতে এখানে যে বইয়ে এই জাপানী মহিলার আত্মকথা এসেছে সে বইয়ের পূর্বের আলোচনা বোঝানো হয়েছে।--লেখক]
যখন ইসলাম গ্রহণ করি তখন পাঁচ ওয়াক্ত (নামাজ) আদায় করতে পারব কিনা, অথবা পর্দা করতে পারব কিনা তা নিয়ে আমি গভীরভাবে ভেবে দেখিনি। আসলে আমি নিজেকে এ নিয়ে প্রশ্ন করতে চাইনি; কারন আমার ভয় হত, হয়ত উত্তর হবে না সূচক এবং তাতে আমার ইসলাম গ্রহণের সিদ্ধান্ত বিঘ্নিত হবে। প্যারিসে মসজিদে যাওয়ার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত আমি এমন এক জগতে বাস করেছি যার সাথে ইসলামের সামান্যতম সম্পর্ক ছিল না। নামাজ, পর্দা কিছুই আমি চিনতাম না। আমার জন্য একথা কল্পনা করাও কষ্টকর ছিল যে আমি নামাজ আদায় করছি বা পর্দা পালন করে চলছি। তবে ইসলাম গ্রহণের ইচ্ছা আমার এত গভীর ও প্রবল ছিল যে ইসলাম গ্রহণের পরে আমার কি হবে তা নিয়ে আমি ভাবিনি। বস্তুতঃ আমার ইসলাম গ্রহণ ছিল আল্লাহর অলৌকিক দান। আল্লাহু আকবার।
ইসলামি পোশাক বা হিজাবে আমি নিজেকে নতুন ব্যক্তিত্ব অনুভব করলাম। আমি অনুভব করলাম যে আমি পবিত্র ও পরিশুদ্ধ হয়েছি, আমি সংরক্ষিত হয়েছি। আমি অনুভব করতে লাগলাম আল্লাহ আমার সঙ্গে রয়েছেন।
[চলবে]

নিকাহ/বিয়ে/শাদী/ম্যারেজ (শেষাংশ)

[এই পর্বের প্রায় সবটুকুই "আদর্শ বিবাহ ও দাম্পত্য---আব্দুল হামীদ মাদানী"-বইটি থেকে তুলে দেয়া হয়েছে। তাই আলাদাভাবে রেফারেন্স দিলাম না। মূল বইয়ে অনেক বিস্তারিত থাকায় সেখান থেকে মূল বিষয়গুলো দেয়ার চেষ্টা করেছি। কোন ভুল-ভ্রান্তি হলে দায়িত্ব আমার। মূল লেখকের নয়।]
:::::::::বিবাহের পূর্বে দেশাচার::::::::

১. যেকোন দিন বিবাহের দিন ধার্য করা যায়। এরজন্য কোন দিনকে শুভ বা অশুভ মনে করা ঠিক নয়। পঞ্জিকা দেখে শুভাশুভ দিন নির্বাচন বিদাত এবং বিজাতির অনুকরণ।

২. নিমন্ত্রণপত্রের কোণে হলুদ লাগিয়ে দেয়া বিদআত। এতে কোন শুভলক্ষণ আছে মনে করা শির্ক।

৩. ছেলেমেয়ের পর্দার বিধান লংঘিত হয়ে যায় এমন কোন আচার অনুষ্ঠান যেমন গায়ে হলুদ, "লগন", পান-চিনি ইত্যাদি বৈধ নয়।

৪. পাত্র-পাত্রীকে বিয়ে ঠিক হয়ে যাবার পর বাইরে যেতে না দেয়া, এই দিনে মসজিদে বা পীরের থানে সিন্নি বিতরণ অরা প্রভৃতি বিদআত ও শির্ক।

৫. বিভিন্ন অনুষ্ঠান বিধবা নারীদের আসতে না দেয়া ইসলামী প্রথা নয়।

৬. পুরুষ রঙ ব্যবহার করতে পারে না। তাই হাতে-পায়ে মেহেন্দি লাগাতে পারে না। হলুদ ব্যবহার করাও তার জন্য শোভনীয় নয়।

৭. রাতে ক্ষীর মুখে দেয়াও দেশাচার। সম্ভবত এটা অনুপ্রবেশ করা প্রথা। ইসলামী নয়।

৮. গীত-পার্টি, লেডিস ডান্স, অসার ও অশ্লীল মজলিসে কোন মুসলিম নারীর উপস্থিত হওয়া এবং ক্ষীর খাওয়ানো নিঃসন্দেহে হারাম। যেমন মহিলাদের এই কীর্তিকলাপ দর্শন করা বা নাচে ফেরি দেওয়া পুরুষদের জন্য বিশেষভাবে হারাম।

৯. আইবুড়ো বা থুবড়া ভাতের (অবিবাহিত অবস্থার শেষ অন্নগ্রহণের) অনুষ্ঠানো বিজাতীয় প্রথা। এই দিনের ক্ষীর-সিন্নি বিতরনও বিদআত।

১০. বিয়ের অনুষ্ঠানে অপব্যয় বা বিভিন্ন বিষয়ে গোঁ ধরে অযথা জটিলতার সৃষ্টি করা ঠিক নয়।

:::::::::বিবাহ বন্ধন:::::::::::

ইসলামী বিবাহে আকদের সময় ২ টি সাক্ষী জরুরী। পাত্র-পাত্রী যদি বিবাহে কোন শর্ত লাগাতে চায় তা লাগাতে পারে। তবে সে শর্ত যেন কোন হালালকে হারাম বা হারামকে হালাল না করে।

:::::::::আক্‌দ কিভাবে হবে?::::::::::

মোহরানা ধার্য ইত্যাদি হয়ে থাকলে কাজী বা ইমাম সাহেব সূক্ষ্ণভাবে খোজ নিবেন যে, অলী কে এবং শরয়ী কিনা? বরের চার স্ত্রীর বর্তমানে এটা পঞ্চম বিবাহ তো নয়? বর মুসলিম তো? পাত্রী ইদ্দতের মধ্যে তো নয়? গর্ভবতী তো নয়? পাত্রের দ্বিতীয় বিবাহ হলে পূর্বের স্ত্রীর বর্তমানে এই পাত্রী তার বোন, ফুপু, বুনঝি বা ভাইঝি তো নয়। এই পাত্রী সধবা হয়ে কারো স্বামীত্বে নেই তো? পাত্রীর দ্বিতীয় বিবাহ হলে তার পূর্বস্বামী যথারীতি তালাক দিয়েছে তো? পাত্রী রাজী আছে তো? পাত্রীর কোন বৈধ শর্ত তো নেই? দু'জন সঠিক ও উপযুক্ত সাক্ষী আছে কিনা? ইত্যাদি।

অতঃপর সহীহ হাদীসসম্মত খুৎবা পাঠ করবেন। খুতবায় উল্লেখিত আয়াতাদির অনুবাদ পাত্রকে বুঝিয়ে দেওয়া উত্তম। প্রকাশ যে, এ খুৎবা আক্‌দের জন্য জরুরী নয়, সুন্নত। অতঃপর অলীকে বলতে বলবেন অথবা তার তরফ থেকে ওকীল হয়ে বরের উদ্দেশ্যে একবার বলবেন, "এত টাকা দেনমোহরের বিনিময়ে অমুক গ্রামের অমুকের কন্যা অমুকের (স্পষ্ট নাম উল্লেখ করে) তোমার সহিত বিবাহ দিচ্ছি।"

পাত্র বলবে, "আমি এই বিবাহ কবুল করছি।"

এরপর সকলে বরের উদ্দেশ্যে একাকী এই দুআ করবে, [যার অর্থ]

"আল্লাহ তোমার প্রতি বরকত বর্ষণ করুন, তোমাকে প্রাচুর্য দান করুন এবং তোমাদের উভয়কে মঙ্গলের মাঝে একত্রিত করুন।"


বাহ্যিক আড়ম্বরহীন ইসলামে এইখানে বিবাহের আসল কর্ম শেষ।

বর্তমানের ইয্‌ন নেওয়ার অনুষ্ঠান এবং উকীল ও সাক্ষী সহ কনের ইয্‌ন আনতে যাওয়ার ঘটনার সমর্থন শরীয়তে মিলে না। বিবাহ আক্‌দের জন্য সাক্ষী জরুরী, কনের ইয্‌নের জন্য নয়। এর জন্য কনের অভিভাবকই যথেষ্ঠ। অবশ্য অভিভাবকের পক্ষ থেকে ধোকা বা খেয়ানতের আশংকা থাকলে কাযী নিজে অথবা তাঁর প্রিতিনিধি পর্দার আড়াল থেকে কনের মতামত জানবে।

ইমাম বা কাজীকে খুশী হয়ে আক্‌দের পর কিছু উপহার দেওয়া যায়। এখানে দাবী ও জোরের কিছু নেই।

বরকনে নিজে পায়ে হেঁটে গাড়ি চাপবে-নামবে। বিকলাঙ্গ হলে মেয়েরা কেউ কনেকে এবং পুরুষে বরকে তুলবে। একান্ত যদি সম্মানের দরকার হয় তবে এই ভাবেই কনেকে মহিলা এবং বরকে পুরুষে চড়িয়ে দেবে। এছাড়া অন্যসব প্রচলিত প্রথা বেহায়ামী ও অবৈধ।

::::::::::কন্যা বিদায়:::::::::

বিদায়ের সময় কন্যাকে তার পিতা-মাতার উচিত যথোপযুক্ত উপদেশ/পরামর্শ দান করা। অতঃপর বেটীজামাইয়ের উদ্দেশ্যে এই দুআ পঠনীয়ঃ [যার অর্থ]

"হে আল্লাহ! ওদের দু'জনের জন্য বরকত দান কর এবং ওদের বাসরে মঙ্গল দান কর।"

:::::::::::বধূবরণ::::::::::::

ইসলামী প্রথায় এই (বাসরের) দিন বা রাত্রে বিবাহের প্রচার বিধেয়। 'দুফ' বাজিয়ে ছোট ছোট বালিকা মেয়েরা শ্লীলতাপূর্ণ গীত গাইবে। এই দিনে ইসলামী গজল গেয়ে আনন্দ করাই বিধিসম্মত; তবে তাতেও যেন শির্ক ও বিদ্‌আতের গন্ধ না থাকে। এই খুশীতে রেকর্ডের গান, মাইকের গান, ভিডিও প্রদর্শন প্রভৃতি ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

আতশ বা পটকাবাজীও বৈধ নয়।

::::::::::::::::::শুভ বাসর::::::::::

বাসর-কক্ষটি হবে মনোরম, সৌরভময়, সুসজ্জিত ও আলোকমন্ডিত। (অবশ্য এতে অপব্যয় করা উচিত নয়।) কক্ষের একপাশে থাকবে কিছু ফলফ্রুট, দুধ অথবা মিষ্টান্ন ও পানি।

বর ওযু করে বাসরে নব সাথীর অপেক্ষা করবে। নববধূকে ওযু করিয়ে সুসজ্জিতা ও সুরভিতা করে ভাবীরা এবং অন্যান্য মহিলারাও এই দুআ বলবে, [যার অর্থ]

"মঙ্গল ও বরকতের উপর এবং সৌভাগ্যের সহিত (তোমার নবজীবনের সূচনা হোক।)"

অতঃপর তাকে বাসর ঘরে ছেড়ে আসবে। পূর্ব হতেই স্বামী বাসরে থাকলে স্ত্রী সশ্রদ্ধ সালাম করে কক্ষে প্রবেশ করবে। স্বামী সস্নেহে উত্তর দেবে এবং উঠে মুসাফাহা করে শয্যায় বসাবে। কুশলাদি জিজ্ঞাসাবাদের পর স্বামী-স্ত্রী মিলে ২ রাকআত নামায পড়বে। তবে স্ত্রী দাঁড়াবে স্বামীর পশ্চাতে। মুসলিম দম্পতির নবজীবনের সূচনা হবে আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্যের মাধ্যমে। স্বামীর পশ্চাতে দাঁড়িয়ে স্ত্রীর নামায পড়াতে তার (বৈধ বিষয়ে) আনুগত্য করার ইঙ্গিত রয়েছে। সুতরাং প্রথমতঃ আল্লাহর ইবাদত ও দ্বিতীয়তঃ স্বামীর আনুগত্য ও খিদমত হল নারীর ধর্ম।

অতঃপর স্বামী দুআ করবে, [যার অর্থ]

"হে আল্লাহ! আমাকে আমার পরিবারে বরকত ও প্রাচুর্য দান কর এবং ওদের জন্যও আমার মাঝে বরকত ও মঙ্গল দান কর। হে আল্লাহ! যতদিন আমাদেরকে একত্রিত রাখবে ততদিন মঙ্গলের উপর আমাদেরকে অবিচ্ছিন্ন রেখো এবং বিচ্ছিন্ন করলে মঙ্গলের জন্যই আমাদেরকে বিচ্ছিন্ন করো।"

অতঃপর উঠে শয্যায় বসে স্বামী স্ত্রীর ললাটে হাত রেখে "বিসমিল্লাহ" বলে এই দুআ পাঠ করবে, [যার অর্থ]

"হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট এর মঙ্গল এবং এর মধ্যে তোমার সৃষ্ট প্রকৃতির মঙ্গল প্রার্থনা করছি। আর তোমার নিকট এর অমঙ্গল এবং এর মধ্যে তোমার সৃষ্ট প্রকৃতির অমঙ্গল হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।"

অতঃপর সপ্রেমে কোলে টেনে নিয়ে একটা চুম্বন দিয়ে স্বামী স্ত্রীকে বলবে, "আমাকে পেয়ে খুশী হয়েছ তো প্রিয়?" স্ত্রী লজ্জা ও ভয় কাটিয়ে বলবে, "আলহামদুলিল্লাহ, খুব খুশী হয়েছি। আপনি খুশী তো?" স্বামী বলবে, "আলহামদুলিল্লাহ, শত খুশী।"

তারপর দুধ, ফল বা মিষ্টি নিয়ে একে অপরকে খাইয়ে দেবে। এইভাবে নববধূর মন থেকে ভয় ও লজ্জা ধীরে ধীরে দূরীভূত হবে। উদ্বেলিত হবে প্রেমের তরঙ্গমালা।

এই সময় শুধু যৌন চিন্তাই নয় বরং ভাবী জীবনের বহু পরিকল্পনার কথাও উভয়ে আলোচনা করবে। এক অপরকে বিশেষ উপদেশ ও পরামর্শ দেবে।

সতর্কতার বিষয় যে, এই রাত্রে বা অন্য কোন সময়েও পরস্পরের পূর্বেকার ইতিহাস জানতে না চাওয়াই উভয়ের জন্য উত্তম। নচেৎ মধুরাত্রি বিষরাত্রিতে পরিনত হবে।

[বাসর নিয়ে আর এগুবার কোন যৌক্তিক কারনে খুজে পাচ্ছি না বলে এখানেই ইতি টানলাম। ]

উল্লেখ্য যে, বাসরে বর-কনের কথোপকথনে কানাচি পাতা হারাম। কানাচি পেতে গোপন কথা যে শোনে, কিয়ামতে তার কানে গলিত সীসা ঢালা হবে।

নব-দম্পতির প্রেমের জোয়ার প্লাবিত করুক তাদের জীবন ও যৌবনের উভয় কূলকে। এতে অপরের কাজ কি?

[আলহামদুলিল্লাহ! এই লেখাটি আমি শেষ করতে পেরেছি। যারা আগের পর্বগুলো দেখতে উৎসাহী তারা কষ্ট করে আমার নোট সেকশনে ঢুঁ মারুন। ধন্যবাদ।]

মুনাজাত

আমাদের দেশে নামাযের পর সাধারণত মুনাজাত করা হয়। জামাআতের নামায হোক বা একাকী নামায হোক, আমরা মোনাজাত করেই থাকি। আমাদের যা কিছু চাওয়ার আল্লাহর দরবারে চাই। তবে ফরয সালাতের পর আমরা দু'হাত তুলে যে মোনাজাত করে থাকি তা জরুরী কিছু নয়। এটাকে জরুরী মনে করা যাবে না। অথচ অনেক মুসল্লী এই মোনাজতকে জরুরী মনে করে থাকেন। আগ্রহভরে অপেক্ষা করে থাকেন। কোন ইমাম সাহেব মোনাজাত না করলে অবাক হন, বিরক্ত হন, রাগান্বিত হন।
এমন কোন সহীহ হাদীসের বর্ণনা আমার জানা নেই যেখানে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) জামাআতে ফরয সালাত আদায়ের পর সাহাবীদের (রাঃ) নিয়ে সম্মিলিতভাবে মোনাজাত করেছেন। এটা আমাদের দেশে অনেকটা আনুষ্ঠানিক হয়ে গিয়েছে। করার জন্য করা। প্রাণহীন! আর মোনাজাতের যেসব আদব আছে তাও এর মাধ্যমে পূরণ হয় না।
মোনাজাতের আদব আবার কি?
১. দু'হাত বুক বরাবর তোলা
২. দু'হাতের মাঝে একটু ফাঁকা রাখা
৩. হাতের তালু আসমানের দিকে রাখা
৪. আল্লাহর প্রশংসা ও রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর উপর দরূদ দ্বারা মোনাজাত শুরু করা।
৫. মোনাজাতে কাঁদা। কান্না না আসলে অন্তত কান্নার ভঙ্গি করা।
৬. সময় নিয়ে মোনাজাত করা।
৭. চোখ খোলা রাখা

আরো কিছু আছে। মনে নেই। উপরের কথাগুলোর কোন রেফারেন্স দিতে পারলাম না। দুঃখিত।
এখন প্রচলিত মোনাজাতে এই আদবগুলোর কোনটা রক্ষা হয় আমরা নিজেরাই একটু ভেবে নেই।
এখন আসল কথায় আসি। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ফরয নামাযের পর কি আমল করতেন, কি তসবীহ, তাহলীল, জিকির করতেন সে বিষয়ে ছোট এক বই আমার হস্তগত হয়েছে। বইটি যথেষ্ঠ নির্ভরযোগ্য মনে হয়েছে বিধায় সবার সাথে শেয়ার করছি। বইটির নাম "সালাতের পর রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব দোয়া পড়তেন" বইটি লিখেছেন "মুফতী কাজী মুহাম্মাদ ইবরাহীম, প্রধান মুহাদ্দিস, জামেয়া কাসেমীয়া, নরসিংদী। খতিব, বায়তুল আমান জামে মসজিদ, মতিঝিল সরকারি কলোনি। (আল-হেলাল জোন) ঢাকা-১০০০
প্রতিটি দোয়া পয়েন্ট আকারে দেয়া হয়েছে এবং আরবী দোয়াগুলো পয়েন্ট অনুযায়ী ছবি হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।
(ক) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক ফরজ সালাতে সালাম ফেরানোর পর একবার "আল্লাহু আকবার", তিনবার আস্তাগফিরুল্লাহ ও একবার "আল্লাহুম্মা আনতাস সালামু অয়া মিনকাস্‌ সালাম তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম" পড়তেন। অতঃপর মুসল্লিগনের দিকে ফিরে বসতেন এবং অন্যান্য দোয়া পড়তেন।
সালাম ফেরানোর পর সরবে একবার 'আল্লাহু আকবর' বলবে।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি তাকবীর দ্বারা রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাতের সমাপ্তি সম্পর্কে অবহিত হতাম।
অর্থাৎ সালাম ফেরানোর পর ইমাম (রাসূল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও মুক্তাদিগণ (সাহাবীগণ) সরবে একবার আল্লাহু আকবার বলতেন।
1.[pic1] আস্‌তাগফিরুল্লাহ (তিনবার বলবে)। (অতঃপর)'আল্লাহুম্মা আনতাস্‌ সালামু ওয়া মিনকাস্‌ সালাম তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম' বলবে।











"সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাতের সালাম ফেরাতেন তখন তিনি তিনবার ইস্‌তেগফার পড়তেন অর্থাৎ 'আস্তাগ্‌ফিরুল্লাহ' বলতেন। তারপর বলতেনঃ হে আল্লাহ! তুমি শান্তিময়, তোমার থেকেই শান্তি অবতীর্ণ হয়। তুমি বরকতময়, হে পরাক্রমশালী ও মর্যাদা প্রদানকারী।"
বিঃদ্রঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপরোক্ত ইস্‌তেগ্‌ফার ও দোয়া তাকবীরের পর পড়তেন।
2. [pic2] অর্থঃ এক আল্লাহ ব্যতীত দাসত্বের যোগ্য আর কেউ নেই। তিনি এক, তাঁর কোন অংশীদার নেই। সার্বভৌম রাজত্ব এবং সকল প্রশংসা তাঁরই। আর তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান। সকল বিষয়ের শক্তি দান ও অবস্থান্তর মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়ে থাকে। আল্লাহ ব্যাতীত কোন মাবূদ নেই। আর আমরা তো তিনি ভিন্ন আর কারো দাসত্ব করি না। অবদান, অনুগ্রহ ও সুন্দর গুণগান তো তাঁরই প্রাপ্য। আনুগত্যকে তার জন্য নিরংকুশ করে (আমরা বলছি) "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" যদিও অবিশ্বাসীরা তা অপছন্দ করে।
3. [pic3] মুগীরা ইবনু শু'বা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) প্রত্যেক সালাতের পর বলতেন- আল্লাহ ব্যতীত কোন মা'বূদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন অংশীদার নেই, সার্বভৌম রাজত্ব ও প্রশংসা তাঁরই, তিনি সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান। হে আল্লাহ! আপনি যা দান করবেন তা প্রতিহত করার কেউ নেই। আর আপনি যা দেবেন না তা দেয়ার কেউ নেই। আপনার ইবাদত ও আনুগত্য সম্পদশালীকে (তার সম্পদ) কোন উপকার দেবে না।
5.[pic5] পরপর আগত কিছু কালেমা এমন রয়েছে প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর যার উচ্চারণকারী অথবা আমলাকারী ব্যর্থ হবে না। ৩৩ বার 'সুব্‌হানাল্লাহ্‌', ৩৩ বার 'আলহামদুলিল্লাহ্‌' ও ৩৪ বার 'আল্লাহু আকবার'।
6.[pic6] আলী ইবনু আবু তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত-রাসূল (সাঃ) যখন সালাতের সালাম ফেরাতেন তখন বলতেন, হে আল্লাহ আমি আগে ও পরে যত পাপ করেছি, প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে যা করেছি এবং যাতে সীমালঙ্ঘন করেছি, আর যা আপনি আমার চেয়ে অধিক জানেন সে সব ক্ষমা করে দিন। আপনিই এগিয়ে দেন এবং আপনিই পিছিয়ে দেন। আপনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই।
7.[pic7] যায়েদ ইবনু আরকাম (রাঃ) থেকে বর্ণিত-তিনি বলেন, আমি রাসূল (সাঃ)কে তাঁর সালাতেশেষে বলতে শুনেছি, হে আল্লাহ! তুমি আমাদের প্রভু এবং সকল কিছু প্রভু। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি এক, তোমার কোন অংশীদার নেই। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের প্রভু এবং সকল কিছুর প্রভু। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ (সাঃ) তোমার বান্দা এবং তোমার রাসূল।
হে আল্লাহ! তুমি আমাদের প্রভু এবং সকল কিছুর প্রভু। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, বান্দারা সকলেই ভাই ভাই। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের প্রভু এবং সকল কিছু প্রভু। তুমি আমাকে তোমার নিজের জন্য বিশুদ্ধচিত্ত/খাছ করে নাও এবং আমার পরিবারকেও প্রতিটি মুহূর্তে দুনিয়া-আখিরাতে(বিশুদ্ধচিত্ত/খাস করে নাও)
হে পরাক্রমশালী ও মর্যাদা দানকারী! তুমি শোন এবং কবুল করো। আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়। আল্লাহ আকাশ্মদণ্ডলী ও পৃথিবীর জ্যোতি। আল্লাহই হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ। আল্লাহ আমার জন্য যথেষ্ঠ এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। আল্লাহ সবচেয়ে বড়, তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ।
8.[pic8] সা'দ ইবনু আবি ওয়াক্কাছ (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, শিক্ষক শিশুদেরকে যেমনিভাবে লেখা শিখিয়ে থাকে, তেমনিভাবে তিনি নিজ সন্তানদেরও কালেমাগুল শেখাতেন এবং তিনি বলতেন, রাসূল (সাঃ) এ বাক্যগুলোর দ্বারা সালাতের পর আল্লাহর আশ্রয় চাইতেন।
অর্থঃ "হে আল্লাহ! আমি কাপুরুষতা থেকে আপনার নিকট আশ্রয় চাই। এবং (বার্ধক্যের) নিকৃষ্টতম জীবনে ফিরিয়ে নেয়া থেকেও আপনার কাছে আশ্রয় চাই এবং কবরের আযাব থেকে আপনার আশ্রয় চাই। আরো আশ্রয় চাই আপনার কাছে দুনিয়ার ফিতনা থেকে।"
9.[pic9] আবু আইউব আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত-তিনি বলেন,
অর্থঃ আমি যখনই তোমাদের নবী (সাঃ)এর পিছনে সালাত পড়েছি তখনই সালাত শেষ করার পর তাঁকে বলতে শুনেছি, হে আল্লাহ! আমার সকল ত্রুটি ও পাপ ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ! আমার মর্যাদা বাড়িয়ে দাও, আমাকে জীবিত রাখ, আমাকে জীবিকা দাও। সৎ কাজে ও সৎ চরিত্রের প্রতি পথ প্রদর্শন করাও এবং অসৎকাজ ও অসৎ চরিত্র থেকে বিরত রাখার মত তুমি ছাড়া আর কেউ নেই।

[খ] আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে। "যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ সালাতের পর 'আয়াতুল কুরসী' পাঠ করবে তাকে মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই জান্নাতে প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখতে পারবে না"
[গ] সূরা ফালাক ও সুরা নাস পাঠ করবে। ওকবা ইবনু আমের (রাঃ) বলেন, "রাসূল (সাঃ) আমাকে প্রত্যেক সালাতের পর মুয়াব্বিজাত (সূরা ফালাক ও সূরা নাস) পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন।"
10.[pic10] মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাঃ) বর্ণনা করেন-"রাসূল (সাঃ) তাঁর হাত ধরে বলেছেন, হে মুয়াজ! আল্লাহর কসম আমি তোমাকেই ভালবাসি। অতঃপর তিনি বললেন- হে মুয়াজ! আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি যে, প্রত্যেক সালাতের পর একথা বলা ত্যাগ করো না, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তোমার স্মরণ, তোমার কৃতজ্ঞতা ও তোমার সুন্দর ইবাদতের উপর সাহায্য কর।"
11.[pic11] আবু বাক্‌রাহ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূল (সাঃ)কে সালাতের পর এই দোয়া পড়তে শুনেছি।
অর্থঃ "হে আল্লাহ! আমি কুফর, দারিদ্র্য ও কবরের আযাব হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।"

12.[pic12] আয়েশা (রাঃ) এর বর্ণনা অনুসারে রাসূল (সাঃ) প্রত্যেক সালাতের পর এ দোয়া পড়তেন।
অর্থঃ "হে আল্লাহ! তুমি জিবরাইল, মিকাইল ও ইসরাফিলের প্রভু। আমাকে জাহান্নামের উত্তাপ ও কবরের আযাব হতে আশ্রয় দান কর।"

13.[pic13] বারা ইবনু আযেব (রাঃ)-এর বর্ণনা অনুসারে ফরজ সালাতের পর রাসূল (সাঃ) এ দোয়া পড়তেন।
অর্থঃ "হে আমার প্রভু! যেদিন তোমার বান্দাদেরকে পুনরুজ্জীবিত করবে সেদিন তোমার শাস্তি থেকে আমাকে নিষ্কৃতি দিও।"
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ
১. 4 নং পয়েন্ট নেই। এটা কোন ত্রুটি নয়।

২. আরবী সাথে বাংলা একারনেই দেয়া হয়েছে অনেক হরফ বোঝা যাচ্ছে না। সেক্ষেত্রে যেন বাংলা দেখে বোঝা যায় হরফটি কি ছিল।
৩. এই ডকুমেন্টের শর্টকাটও আমার কাছে পাওয়া যাবে। শুধু দোয়াগুলো নিয়ে। এক কাগজে প্রিন্ট করে পকেটে রাখলে নামাযের পর পড়া যাবে। যারা আগ্রহী তারা বললেই আমি দিব।
এটা নিয়ে আরো একটা পোস্ট দেবার ইচ্ছা আছে। দেখা যাক। আল্লাহ তওফীক দিলে দিব।

শুভেচ্ছা

ফেসবুকে যখন প্রথম আসি তখন কেউ যদি আমার রিকুয়েস্ট এক্সসেপ্ট করত বা আমি কারোটা করতাম তখন তার ওয়ালে যেয়ে স্বাগতম জানিয়ে পোস্ট দিতাম। একই পোস্ট সবার ওয়ালে দিতাম। যে বাক্যটা লিখতাম সেটা অনেকটাই আমার ট্রেডমার্ক হয়ে গিয়েছিল। তখন সবার ওয়াল মোটামুটি উন্মুক্তই থাকত। বন্ধুদের মধ্যে সবাই সবার ওয়ালে লিখতে পারত। কারো ওয়ালে বিব্রতকর কিছু লেখার মত মানুষ কম ছিল। আর এখনকার টাইমলাইন হল গোপন সিন্দুকের মত! কম্বিনেশন কোড জানা না থাকলে খোলা সম্ভব নয়।

তখন ফ্রেন্ডলিস্টে পরিচিত-অপরিচিত মিলিয়ে খুব অল্পই মানুষ ছিল। এখনকার মত প্রতিদিনই দুই-চার জনের বার্থডে নটিফিকেশন আসত না। সারা মাসে এভারেজে ১০-১৫ জনের হয়ত বার্থডে থাকত। সবার বার্থডেতে উইশ করতাম। যাদের সাথে চলেছি, বা যাদের এক্টিভিটি ভাল লাগত তাদের টাইমলাইনে লিখতাম। উইশ করে ছড়া লিখতাম। ইউনিক ইউনিক ছড়া! কারোরটার সাথে অন্যেরটা মিলত না।

যারা স্পেশাল ছিল তাদের জন্য সব উপলক্ষ্যেই লিখতাম ছড়া। ঈদ, নিউ ইয়ার, নববর্ষ-ইত্যাদি। ইন্টারনেট থেকে বা কারো কাছ থেকে ধার করা কোন কিছু কাউকে পাঠাতে আমার ভাল লাগত না। মনে হয় সে যদি এটা পারে, আমি পারব না কেন? দেখি না পারি কিনা!

হুম, পারতাম। মাঝে মাঝে এমন সব মেসেজ লিখতাম নিজেই অবাক হয়ে যেতাম! আর যারা সেই সব মেসেজ পেত তারা হত মহাখুশি! সামান্য একটা মেসেজ! কয়েক কিলোবাইট। কিন্তু খুশিটা? মানুষের খুশি দেখতেও ভাল লাগে।

আর এখন? জানি না...

উইশ করা বাদ দিয়েছি প্রায় দুই-তিন বছর হবে।

কোথাও যদি ভূমিকম্প হয় তাহলে ভূপৃষ্ঠের দু'ধরনের পরিবর্তন হতে পারে। স্থায়ী ও অস্থায়ী। অস্থায়ী পরিবর্তন যেমন, ঘর-বাড়ি ধ্বসে পড়া, গাছ পালা নষ্ট হওয়া ইত্যাদি। এগুলো সময়ের ব্যবধানে আবার গড়া যায়। কিন্তু স্থায়ী পরিবর্তন যেমন ভূমিধ্বসে কোন জলাশয়ের সৃষ্টি বা জলাশয় শুকিয়ে যাওয়া ইত্যাদি আগেরকার মত হয়ে যায় না। শক্তিশালী ভূমিকম্প না হলে এমন হয় না।

প্রিয়মানুষগুলোর মুখ ফিরিয়ে নেয়াও একধরনের ভূমিকম্পের মত। জীবনে পরিবর্তন রেখে যায়। এই পরিবর্তন কি স্থায়ী হবে না অস্থায়ী হবে তা নির্ভর করে মানুষগুলো কতটা প্রিয় ছিল তার উপর। আমার উইশ না করটা বলতে গেলে স্থায়ী পর্যায়ের হয়ে গিয়েছে। উইশ করতেও ভাল লাগে না, নিতেও ভাল লাগে না।

প্রতিদিনই ব্রাউজারের ডানপাশে অমুকের অমুকের বার্থডে দেখি, দেখি অমুক পোস্টেড অন অমুক'স টাইমলাইন ফর হিজ বার্থডে জাতীয় নিউজ ফিড। শত শত মানুষ শুভেচ্ছা জানানোতে অনেকের উচ্ছ্বাসমূলক পোস্ট দেখি। এড়িয়ে যাই...

আমার কি একটু মন খারাপ হয়? চিন্তার বিষয়...!

তারপরও যদি কাউকে উইশ করি তবে বুঝতে হবে সে আমার কতটা প্রিয়! তাকে কতটা আপন ভাবি! দুঃখের বিষয় এই যে, মনস্তাত্ত্বিক কারনে কাউকে সহজে আপন ভাবতে পারি না। কত মানুষ দেখি কত সহজে অন্যকে আপন করে নেয়। আমি পারি না। মনেহয় পারতে চাইও না।
আই উইশ ইফ আই কুড উইশ এগেইন!