Featured Post

I SAID NO TO QUANTUM METHOD

পূর্বে পোস্ট আকারে প্রকাশিত। কারও সাথে ঝগড়া করার জন্য এটা দেইনি। নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম। কেউ মানতে না পারলে আমার কিছু করার নেই।  আ...

Saturday, July 11, 2015

ক্যারিয়ার


[আমার অলস মস্তিষ্কের চিন্তাভাবনা। যারা এখনো স্টুডেন্ট তারা সিরিয়াসলি নেবার আগে নিজের দায়িত্বে নিবেন।]

"কর্মমুখী শিক্ষা" বলে একটা কথা মাঝে মাঝে চোখের সামনে ভাসে। এই জিনিসটা আসলে কি, কেন ব্যবহার করা হয় সেটা আদৌ বুঝতে পারি নি। এখনো বোঝার মত কিছু চোখে পড়ে না। নিজজ্ঞানে যেটা উপলদ্ধি করতে পারি সেটা হল যে শিক্ষার দ্বারা ভবিষ্যতে কর্ম লাভের সুযোগ তৈরি করা যায় তাই মনেহয় কর্মমুখী শিক্ষা। 

াজের কথায় আসি। আমি যখন পড়াশুনা করতাম তখন কর্মক্ষেত্র নিয়ে আমার কোন ধারনাই ছিল না। যেটুকু ছিল সেটা হল যারা চাকুরী করাই বোধহয় আসল কাজ। তাই লেখাপড়া শিখে ভাল একটা চাকুরী জোগাড় করাটাই হল লেখাপড়া শেখার লক্ষ! বর্তমান প্রজন্মের ধারনা কি কে জানে! তবে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ফ্যাক্টরি বা কোন প্রতিষ্ঠান ভিসিটের কোন ব্যবস্থা নেই বলে ভবিষ্যতে আমাদের জন্য কি রকম চাকুরী অপেক্ষা করছে তার ধারনা না থাকাটাই স্বাভাবিক। 

এবার আসি ক্যারিয়ার প্রসঙ্গে। আমার মতে ক্যারিয়ার হল দুই প্রকারঃ

১। স্থায়ী 

২। অস্থায়ী

স্থায়ীর উদাহরন দেই। যেমন ডাক্তার। যে ডাক্তার সে সারাজীবনই ডাক্তার। সে কারো উপর নির্ভরশীল না। কোথাও কোন চাকুরী না পেলে নিজে থেকেই প্র্যাকটিস করা যায়। শুরুটা যদিও খুবই কঠিন হবে সেক্ষেত্রে।

শিক্ষকের কথাও একইরকম। এরপর আছে বিভিন্ন ধরনের মেকানিক। হতে পারে রেডিও, টেলিভিশন, মোবাইল, কম্পিউটার, মোটরগাড়ি মেকানিক-ইত্যাদি হরেক রকম পেশা আছে যেগুলো স্থায়ী। সারাজীবনই এ ধরনের পেশায় কাজ করা যায়। 

আর যেমন ধরা যাক ব্যাংকার। এদের চাকুরী যতদিন আছে ততদিনই কাজ। চাকুরী শেষ, ব্যাংকারগিরি শেষ। এরপর যারা বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে যারা ননট্যাকনিক্যাল চাকুরী করেন তাদের চাকুরীও নির্দিষ্ট সময় পর আর থাকে না। তখন তাদের অন্যপথ দেখতে হয়।

আমাদের দেশে অবশ্য এই ধরনের মেকানিক কাজকে ভাল চোখে দেখা হয় না। যদিও আমি মনে করি সৎভাবে কাজ করলে এই পেশাগুলোতে চাকুরীর চেয়েও ভাল করা সম্ভব। দেশে প্রতিদিন মোবাইল, কম্পিউটার ব্যবহারকারী বাড়ছে। সেই সাথে বাড়ছে এসব ইলেক্ট্রনিক্স পন্যের মেকানিকের চাহিদা। একটা ফ্রীজে হাত দিলেই ৫০০ টাকা দিতে হয়। টিভির কথাও একই। মোবাইল, কম্পিউটারেরতো আরো বেশি হবার কথা। 

এই পেশাগুল হল স্লো স্টার্টিং। ব্যবসার প্রথম দিকে একটু অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়। কিন্তু মনে রাখতে হবে ব্যবসার প্রধান মূলধন হল সততা। সততা বজায় রাখলে যেকোন কিছুতে ভাল অবস্থানে থাকা সম্ভব। 

ইন্টারনেট ভিত্তিক আয়ের বিরাট সুযোগ আমাদের সামনে। আউটসোর্সিয়ে ছোট ছোট কাজ করে স্থায়ীভাবে বিদেশী চাকুরী দেশে বসেই করা সম্ভব। আমার এক কলিগ মাইক্রোওয়ার্কাসে বছর খানেক কাজ করার পর বিদেশিনীর কাজে জব অফার পায়। রাতের বেলা কাজ করতে হবে। সপ্তাহে তিন দিন। কিন্তু উনার পক্ষে সপ্তাহে তিনদিন সময় দেয়া প্রতি সপ্তাহে সম্ভব না হওয়াতে উনি জবটা করতে পারেন নি। 

যাদের এই ধরনের আউটসোর্সিং করার ইচ্ছা তাদের জন্য ইংরেজী জানাটা আবশ্যক। ওয়েব প্রোগ্রামিং, ওয়েব ডেভলপিং, ডাটাবেস বিল্ডআপ-এইগুলার জন্য টাকা দিয়ে কোন প্রশিক্ষন নেবার প্রয়োজন নেই। ইন্টারনেটের মাধ্যমেই সম্ভব। আর দুই-একটা বই কিনে নিলেই যথেষ্ঠ। 

আমাদের অভিভাবকদের আসলে সচেতন হওয়া উচিত। কোথায় যেন পড়লাম, "চাকুরী হল আধুনিক গোলামী" - কথা টা একদম সত্যি। চাকুরী করতে করতে আমাদের মধ্যে একধরনের চাকর চাকর ভাব চলে আসে। আমরা স্বাধীনভাবে ভাবার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি। আমরা তাই ভাই যা আমাদের হাইয়ার ম্যানেজমেন্ট আমাদের ভাবায়। আমার স্বাধীনস্বত্তার অপমৃত্যু ঘটে। 

তাই কেউ যদি সিরিয়াসলি কোন স্বাধীন কাজের দিকে ঝুকে তাহলে আমাদের (ফ্যামিলি মেম্বারদের উচিত) তাকে সাপোর্ট দেয়া। সে যেন ঐ লাইনে পড়তে পারে সে ব্যাপারে সাহায্য করা। কয়েকবছর পর সে হয়ত একটা প্রতিষ্ঠান হয়ে যাবে!

ভারতীয় চেলেব্রেটি


সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৩০ শে মে ঢাকায় আসছেন ভারতীয় নায়িকা দীপিকা পাড়ুকোন। তার সাথে নাচে অংশ নেবেন এদেশীয় মডেল অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরী, শানারেই দেবী শানু আর বিদ্যা সিনহা সাহা মীম। 

এদেশের ভারতীয় দালালেরা প্রায়ই এমন ধরনের প্রোগ্রামের আয়োজন করে। দেশের আইকনদের নিয়ে প্রোগ্রাম অবশ্য তাদের খুব কমই করতে দেখা যায়। দেশের পরিস্থিতি যাই থাকুক না কেন বন্ধুরাস্ট্রের নায়িকা হোক বা বেশ্যাই হোক- তাদের এই দেশে আনতে তাদের অপতৎপরতা কখনই বন্ধ ছিল না। 

বন্ধুরাস্ট্র! ভারতের কথা উঠলেই আমাদের কেউ কেউ বন্ধুরাস্ট্র বলতে বলতে গদগদ হয়ে নমস্কার/প্রণাম দিয়ে ফেলি। ভেবে দেখি না যে ভারত কখনই স্বার্থহীনভাবে আমাদের জন্য কিছু করেনি। অথচ বন্ধুত্বের প্রথম শর্তই হল স্বার্থহীনতা! 

আমার দুঃখ লাগে বাংলাদেশী মিডিয়ার কথা ভাবলে। আরো দুঃখ লাগে মিডিয়াকর্মীদের কথা ভাবলে। আমাদের মিডিয়া যে মুখ দিয়ে খায় ঐ মুখ দিয়েই হাগু করে। যে মিডিয়ায় গতবিশ্বকাপে ভারত ও বাংলাদেশের খেলা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে আইসিসির পক্ষপাতিতা প্রমান করেছিল সেই মিডিয়াই ভারতের দালালদের টাকা খেয়ে ভারতীয় নায়িকা/গায়ক-গায়িকা/বেশ্যাদের প্রমোশন দিচ্ছে। আর আমাদের মত টুট টুট পাব্লিক তা হাঁ করে গিলছি।

বর্হিসংস্কৃতির আগ্রাসন নিয়ে আমাদের কথিত সংস্কৃতিকর্মীদেরও কোন বিরূপ প্রতিক্রিয়া এখন পর্যন্ত দেখিনি। যারা ভারতীয় ছবি আমাদের হলে চলার বিরোধীতা করেছিল তাদের কাছ থেকেও কোন প্রতিক্রিয়া চোখে পড়েনি। নাকি তাদেরও দাদাদের মনক্ষুন্ন করার সাহস নেই? "পাছে যদি মার্কেট হারাতে হয়, ভাতে মারা যাব" - তারা কি এমনটাই ভাবেন? 

কে জানে... 

আমি জানি এসব কথা বলে কোন লাভ নেই। তারপরও বলি। কাজের কাজ কিছু না হলেও আমার মনের ক্ষোভ প্রশমিত হবে। এটাই বা কম কিসে...

দীপিকা, ওয়েলকাম টু বাংলাদেশ!

সায়েন্স ফিকশন-রিবিন-৫


[বহুদিন পরে আমার লেখায় হাত দিলাম। কিন্তু লেখার পর দেখলাম কিসব ছাতার মাতা লিখেছি। তারপরও আপনাদের বিরক্ত করার জন্য দিলাম। আমার প্রথম সায়েন্স ফিকশন। যারা আগের পর্বগুলো দেখেননি তাদের জন্য কমেন্টে লিংক দিলাম।]



ক্যাপ্টেন সিহান দ্রুত চিন্তা করছেন। যা করার দ্রুত করতে হবে। গ্রহটির কাছাকাছি যেয়ে যদি ইঞ্জিনের পাওয়ার না থাকে তবে গ্রহটির অভিকর্ষজ ত্বরনে জিরোম টু ক্র্যাশ করলে বেঁচে থাকার সম্ভবনা কম। অন্যকিছু ভাবতে করতে হবে।

"ক্যাপ্টেন, আমরা এককাজ করতে পারি।"-হঠাৎ বলে উঠল রিবিন।

"রিবিন, বলো।"- ক্যাপ্টেনের গলায় উৎসাহের সুর।

"আমাদেরতো দুটো স্কাউটশিপ আছে। আমরা জিরোম টু দিয়ে যতটুকু কাছাকাছি যাওয়া যায় গেলাম, তারপর স্কাউটশিপ দিয়ে নামলাম। আমরা আগেই যদি স্কাউটশিপে উঠি তাহলে নির্বিঘ্নে অবতরন করতে পারব।"

"চমৎকার আইডিয়া!" রিশুর মুখে হাসি ফুঠে উঠল। 

রিবিনের কথা শুনে সবার দুঃচিন্তা কেটে গেল। ক্যাপ্টেন ততক্ষনাৎ সিদ্ধান্ত দিলেন,

"সিডিসি, এক্ষুনি ঐ গ্রহের দিকে কোর্স সেট কর। যত দ্রুত সম্ভব আমরা ওখানে পৌছুতে চাই।"

>>ইয়েস ক্যাপ্টেন।

"তোমরা সবাই রেডি হও। রিশু আর লিহা আমার সাথে এসো। আমরা একই স্কাউটশিপে যাব। জিরোম আর রিবিন অন্য স্কাউটশিপে যাও। আমাদের মেডিক্যাল কিট ও খাবার-দাবার যা যতটুকু নিতে পারি সবটুকু নিয়ে যাব।আর বাকিটুকু অগ্নিনিরোধক কাগজ দিয়ে ভালভাবে ঢেকে দিতে হবে। যদি জিরোম টু ক্র্যাশ করে এবং আগুন লেগে যায় তবে যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। সম্ভব হলে আমরা পরে তা উদ্ধার করব।"

"সিসি, এর মধ্যে ঐ গ্রহ সম্পর্কে যতটুকু তথ্য পাওয়া যায় প্রিন্ট করে দাও।"

>> ওকে, ক্যাপ্টেন। 

ক্যাপ্টেন সিহান এই মুহূর্তে তার হাতের কাগজের দিকে তাকিয়ে আছেন।এই কাগজে সিডিসির দেয়া তথ্যগুলো রয়েছে।এর কপি সবাইকে দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে স্পেসশীপের ৫ জন দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে দুই স্কাউটশীপে উঠে পড়েছে। সবকিছু রেডি করে রওনা দিতে দিতে মূল্যবান ১৫ মিনিট খরচ হয়ে গিয়েছে। অজানা গ্রহে অবতরনের অজানা আশংকায় ক্যাপ্টেনের বুক দুরু দুরু করলেও তার মুখভাব শান্ত। নিজেকে বুঝিয়েছেন তিনি, ক্যাপ্টেন হয়ে বিপদে ঘাবড়ালে চলবে না। যদিও বিপদে মাথা ঠান্ডা রাখার ব্যাপারে পৃথিবীতে অনেক প্রশিক্ষন নিয়েছেন, তবুও বাস্তবের কথা ভিন্ন। প্রকৃতপক্ষে সত্যিকার বিপদে মাথা ঠান্ডা রাখা খুব মুশকিল। ক্যাপ্টেন সিহান এসব কথা মাথা থেকে সরিয়ে কাগজে মনোযোগ দিলেন। 

"গ্রহের নামঃ অজানা [এই বিষয়ে পৃথিবীর তৈরিকৃত তথ্যকোষে কোন তথ্য নেই]

আয়তনঃ পৃথিবীর প্রায় দ্বিগুন।

মাধ্যকর্ষণঃ পৃথিবীর চেয়ে সামান্য বেশি। 

পৃষ্ঠঃ যতটুকু বোঝা গিয়েছে শুধু বালি আর বালি। কোথাও থকথকে কাদার মত জলাশয়ের অস্তিত্ব দেখা গিয়েছে। কাদা টগবগ করে ফুটছে। সম্ভবত কোন গ্যাস নির্গমনের ফলেই এমন হচ্ছে। কোন প্রানী বা উদ্ভিদের চিহ্নমাত্র পাওয়া যায় নি। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পাথুরে বোল্ডারের অস্তিত্ব রয়েছে। 

গ্রহটি কোন অজানা নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘুড়ছে। তবে এর দুটি প্রায় সমভরসম্পন্ন উপগ্রহ রয়েছে। বিস্ময়কর হলেও সত্য উপগ্রহদুটির অবস্থান গ্রহটির দুই বিপরীত দিকে। এদের ঘূর্ণনগতিও সমান। কাজেই সম্পূর্ন গ্রহটি কখনই অন্ধকারে ঢেকে যায় না। 

গ্রহটিতে পানির অস্তিত্বের সম্ভবনা রয়েছে। পানি থাকলে প্রাণের অস্তিত্বও থাকতে পারে। সামগ্রিক বিবেচনায় গ্রহটি মানুষের প্রানধারনের উপযোগী।"

সমগ্র রিপোর্টের মধ্যে শেষের লাইনটিই আশাব্যঞ্জক। যদিও কম্পিউটার এনালাইসিস আর বাস্তবতার ফারাক অনেক। কে জানে কি হবে! তবে ক্যাপ্টেন সিহান উপলব্ধি করলেন যে সামনের দিনগুলো খুব সহজ হবে না। 

"ক্যাপ্টেন সিহান কথা বলুন!" স্পেসসূট্যের হেডসেটে সিডিসির যান্ত্রিক গলা ভেসে এল। 

"সিডিসি বলো।"

"স্পেসশীপ আলট্রা জিরো টু যাত্রা শুরু করার জন্য তৈরি। আপনার অনুমতি পেলে আমরা এখনই রওনা দিতে পারি।" 

"সিডিসি আমি তোমাকে জানাচ্ছি।" ক্যাপ্টেন ও সিডিসির কথোপকথন সবাই নিজনিজ স্পেসস্যূটের হেডসেটের মাধ্যমে শুনতে পেয়েছে। তারপরও ক্যাপ্টেন শিউর হতে চাইলেন। "ক্যাপ্টেন সিহান টু জিরোম, কাম ইন।" 

"ইয়েস ক্যাপ্টেন।" জিরোমের গলা শুনে মনে হল সে ক্যাপ্টেন সিহানের পাশেই বসে আছে। 

"রিপোর্ট প্লীজ!" 

"আমরা তৈরি আছি। সবকিছু চেক করা হয়েছে। স্কাউটশীপে উঠার আগে রিবিন স্পেসশীপের সতর্কিকরন বিপার চালু করেছে।আমরা রওনার হবার জন্য পুরোপুরি তৈরি।" 

এই বিপার চালু করার ফলে যদি কোন স্পেসশীপ কাছাকাছি চলে আসতে তবে সিগন্যাল দেখে বুঝতে পারবে যে এখানে কোন স্পেসশীপ বিপদগ্রস্থ অবস্থায় আছে। সেক্ষেত্রে তারা অনুসন্ধান করতে আসবে। 

"গুড। সিডিসি আমার যাত্রা শুরু করা হোক।" 

"ওকে ক্যাপ্টেন। আপনাদের সাথে হয়ত আমার আর যোগাযোগ হবে না। বিদায় সবাইকে। আপনাদের যাত্রা শুভ হোক।"

কম্প্যূটারের আবেগ নেই, তারপরও সিডিসির গলা সবার কাছে বিষাদময় মনে হল। 

"সিডিসি তোমাকে ধন্যবাদ। আমরা আশা করি তোমার সাথে আবার আমাদের সাথে পাব।" ক্যাপ্টেন সিহান কিছু বলার আগেই লিহা বলে উঠল।

"ধন্যবাদ আপনাকে, লিহা।" সিডিসির কথা শেষ হতেই পুরো স্পেসশীপ মৃদু গুঞ্জন করে কেঁপে উঠল। তারপর ধীরে ধীরে সেই অজানা গ্রহের দিকে এগোতে শুরু করল। 

[কচ্ছপের গাড়ি আবার কবে চলবে ঠিক নেই]

চাকুরী প্রার্থী


যারা হন্যে হয়ে চাকুরী খুজছেন তাদেরকে বলছি। আপনি ভাল চাকুরী পাবেন, নিজের বাড়ী করতে পারবেন। তাও আবার ৩ বছরের মধ্যে! শুধু একটা কাজ করতে হবে! 

কি করতে হবে?
.
.
.
.
.
.
.
.
আজই ফেয়ার এন্ড লাভলী কিনে মাখা শুরু করুন। যদি আপনি আরো দ্রুত সবকিছু চান তাহলে ভাতের সাথে ফেয়ার এন্ড লাভলী মাখিয়ে তিনবেলা খাবেন। তাহলে আগামী একবছরের মধ্যে আপনি চাকুরী, বাড়ী, গাড়ী, নারী, পরী, লরী--সব, সব কিছুর মালিক হতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস!

মান নির্ণয়

প্রদত্ত ভগ্নাংশের মান নির্ণয় করঃ 


(x^2-9)/(x-3) যেখানে x=3

অনলাইনে যে জিনিসটা আমার অত্যধিক অপছন্দ সেটা হল শুধু শুধু তর্ক করা আর অহেতুক রূঢ় ভাষায় কথা বলা। সবজিনিস আমি জানব বা অমুকে জানবে এমন নয়। আমার থেকেও জ্ঞানী লোক থাকতে পারে। অবশ্য কারো মাথায় যখন "বিচার মানি, তবে তালগাছে আমার" ঢুকে যায় তাহলে তাকে আর কে শোধরাতে পারে? 

এখন কাজের কথায় আসি। প্রদত্ত রাশিটিতে যদি আমরা মান বসাই তবে কি পাই?

প্রথম পদ্ধতিঃ

x2-9/x-3

= (3)2-9/3-3

= 9-9/0

= 0/0

নিচে যেহেতু 0 আছে সেহেতু উপরে যাই থাকুক তার মান হবে অসংগায়িত বা অনির্ণেয়। কোন কিছুকে 0 দিয়ে ভাগ করলে কি হবে সেটা এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা বের করতে পারেননি। ভবিষ্যতে হয়ত পারবেন। এই প্রসঙ্গে ঢাবিতে গনিত পড়ুয়া আমার এক বন্ধু বলতেছিল যে, একসময় পাইয়ের মান ধরা হত ২২/৭; যা একটি মূলদ সংখ্যা। কিন্তু পরবর্তীতে সূক্ষ হিসেবের মাধ্যমে পাইয়ের মান ৩.১৪১৫....... পাওয়া যায়। যা একটি অমূলদ সংখ্যা। মূলদ, অমূলদ সংখ্যার ধারনা এই পোস্টের পাঠকদের আছে বলে ধরে নিচ্ছি। 

উপরোক্ত মান নির্ণয়ের অংকটি আবার করি। এবার একটু অন্যভাবে। 

দ্বিতীয় পদ্ধতিঃ

x2-9/x-3

=(x+3)(x-3)/x-3 

= x+3 [উপরে নিচে কাটাকাটি করে]

=3+3 [মান বসিয়ে]

=6

আগেরটাতে মান পেয়েছিলাম অসংজ্ঞায়িত আর এখন পেলাম ৬. মান পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে! 

মান নির্ণয়ের ক্ষেত্রে আমাদের একটা বিষয় মনে রাখা দরকার যে, আমরা যেকোনভাবেই মান বের করি না কেন সবক্ষেত্রেই ফলাফল একই হবে। যদি এক না হয় তবে বুঝতে হবে যে কোন পদ্ধতিগত ভুল হয়েছে। ছোট্ট একটা উদাহরন দেই।

a=1, b=1 হলে (a+b)2 এর মান কত? 

প্রথমে মান সরাসরি বসাই,

(1+1)2 = (2)2 = 4 

এই অংকে যেভাবেই মান বসাই না কেন ফল হবে 4। পরীক্ষা করা যাক

(a+b)2 = (a+b) (a+b) = (1+1) (1+1) = 2*2 = 4

আবার, (a+b)2 = a2+2ab+b2 = (1)2+ 2.1.1 + (1)2 = 1+2+1 = 4 

সুতরাং ফল যদি পরিবর্তন হয়ে যায় তাহলে বুঝতে হবে অংক করায় কোন পদ্ধতিগত ভুল আছে। 

এখন আমি যে অংকটা করলাম তার মধ্যে কোনটা সঠিক? কোনটা ভুল? 

এতক্ষনে হয়ত দু'একজন বুঝে ফেলেছেন ভুল হয়েছে কোনটা। জ্বী, দ্বিতীয় পদ্ধতিটি ভুল। কিভাবে? 

আপনারাতো দেখলেনই আমি কাটাকাটি করলাম। গনিতে কাটাকাটি বলে কিছু নেই। আছে ভাগ। এখানে হর ও লবকে x-3 দ্বারা ভাগ করা হয়েছে। এবং ভাগফল হিসেবে 1 হিসেব করা হয়েছে।[অন্যভাবে বললে লবকে হর দ্বারা ভাগ করা হয়েছে এবং ভাগফল হিসেবে x+3 লেখা হয়েছে] ভুলটা এখানেই। কারন,

ভগ্নাংশের হর হল x-3. একে যদি আমরা x-3 দিয়ে ভাগ করি তাহলে 1 হবার কথা। এখন দেখা যাক আমরা x-3 কে x-3 দ্বারা ভাগ করতে পারি কিনা। 

x=3 হলে x-3 = 3-3 =0 অর্থাৎ আমরা x-3 কে 0 দ্বারা ভাগ করেছি। অন্যকথায় 0 কে 0 দ্বারা ভাগ করেছি। এবং ভাগফল 1 নিয়েছি যা গ্রহনযোগ্য নয়। ভাগফল হবে অসংজ্ঞায়িত। এই অসংজ্ঞায়িত ভাগফলের সাথে লবের অপর অংশ x+3 যদি গুন করি তবে সে গুনফলও হবে অসংজ্ঞায়িত!

কাজেই দ্বিতীয় পদ্ধতির মাধ্যমেও প্রাপ্ত ফল অসংজ্ঞায়িতই হল। 

কাজেই প্রদত্ত রাশির যদি আমরা বাস্তব মান চাই তবে x এর মান 3 হতে পারে না। x এর অন্য যেকোন বাস্তব মানের জন্য এই রাশির বাস্তব মান পাওয়া যাবে। 

আশা করি বোঝাতে পেরেছি। এই পোস্টের কোন ভুল থাকলে শুধরে দিবেন প্লীজ। 

কৃতজ্ঞতায়ঃ মুহাম্মাদ মামূন ভূইয়া, ঢাবি