Featured Post

I SAID NO TO QUANTUM METHOD

পূর্বে পোস্ট আকারে প্রকাশিত। কারও সাথে ঝগড়া করার জন্য এটা দেইনি। নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম। কেউ মানতে না পারলে আমার কিছু করার নেই।  আ...

Thursday, August 25, 2016

মৃত্যু কেমন হবে?


মাঝে মাঝে ভাবি মৃত্যু কেমন হবে? 

আমার কয়েকবার জন্ডিস হয়েছে। বছরদুই আগে হেপাটাইটিস বির টিকা নিয়েছিলাম।তা না হলে হয়ত এর মাঝে আরেকবার হত। এরমধ্যে একবার বেশি দুর্বল হয়ে পড়ি। 

একা একা থাকা, খাবারে অরুচি, বমির কারনে শরীরে তেমন বল ছিল না। অবশ্য আমি ব্যাপারটা বুঝতে পারি নি। সারাদিন শুয়ে থাকি, ঘরেই নামায পড়ি, খাই আর টয়লেটে যাই।

তখন সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে। শুয়ে আছি। কিছুই ভাল লাগছে না। হঠাৎ গা গুলিয়ে উঠাতে তড়িঘড়ি করে বাথরুমের দিকে ছুটলাম। বমি হলে হোক, ঘর নষ্ট হলে সমস্যা। দরজার নবে হাত দেবার পর দুনিয়া অন্ধকার হয়ে গেল। একমুহূর্ত পর নিজেকে রুমমেটের বিছানার উপর আবিস্কার করলাম। বুঝতেই পারিনি কি হল। আমি এক সেকেন্ডের জন্য জ্ঞান হারিয়েছিলাম সেটা বুঝতে কিছুক্ষন লাগল। 

ঐ সময় রুমে একাই ছিলাম। মরে গেলেও কেউ টের পেতে কয়েকঘন্টা সময় লেগে যেত। 

এরপর থেকে প্রায়ই এই প্রশ্নটা মাথায় ঘুরপাক খায়। কিছু বুঝে উঠার আগেই কি মানুষ মরে যায়? তারপর বুঝতে পারে যে সে মরে গিয়েছে? কি কুদরত আল্লাহর!

আরো কিছু বই


১. আফ্রিকান রুপকথাঃ বইমেলায় বাংলা একাডেমী ঘুড়ে এই বইটাই কিনলাম অসংখ্য বই থেকে। শাহ্‌জাহান কিবরিয়া সম্পাদিত এই বইটিতে আফ্রিকান বিভিন্ন দেশে প্রচলিত রুপকথার সমাবেশ ঘটেছে। বেশিরভাগ গল্পই ঈশপের গল্পের মত শিক্ষামূলক। বাচ্চাদের জন্য ভাল বই। আমি নিজেও মজা পেয়েছি। 

২.গল্পে হযরত উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু): এই বইটাও মূলত বাচ্চাদের জন্যই লিখেছেন জনাব ইকবাল কবীর মোহন। ইসলামী ভাবধারার সাথে পরিচিত হতে বাচ্চাদের সহায়ক হবে। 

৩. ইডিয়ট আনলিমিটেডঃ সুমন্ত আসলামের লেখা। ভালো লেগেছে।

৪. জীবনের জার্নালঃ এই বইটা মূলত স্মৃতিচারণমূলক। এ ধরনের লেখা আমার খুব ভাল লাগে। এক জীবনে অন্য জীবনের স্বাদ পাই। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই বইয়ের লেখক পরিচিতিতে কর্ণেল খায়রুল আহসান (অবঃ) নিজের মোবাইল নাম্বার দিয়েছেন। আমি কিছুটা কৌতুক করেই উনাকে আমার মতামত জানিয়েছিলাম মেসেজ করে। কয়েকদিন পর উনি ফোন দিয়ে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ঘুমের ব্যাঘ্যাত ঘটলেও আমি খুব খুশি হয়েছিলাম। 

৫. এভাবে লেখা হতে পারে আরেকটি গল্পঃ এই বইটা আমার কাছে খুবই মজার লেগেছে। এটা একটা প্রেমের উপন্যাস। বহুল ব্যবহৃত প্লট এমন ভিন্নভাবে ব্যবহৃত হতে পারে সেটা আমি কখনই ভাবি নি। সাংবাদিক মঈনুল আহসান সাবের যথেষ্ঠ কারিশমা দেখিয়েছেন। 

৬. ঈমানদীপ্ত দাস্তানঃ শ্বাসরুদ্ধকর একটা ঐতিহাসিক উপন্যাস। সুলতান গাজী সালাউদ্দিনের বর্ণময় জীবন এই উপন্যাসে উর্দু সাহিত্যিক আলতামাশ তার নিপুন কলমের খোচায় ফুটিয়ে তুলেছে। প্রথম খন্ড পড়েছি কেবল। আট খন্ডের বাকি খন্ডগুলো ইন শা আল্লাহ শীগ্রিই পড়ে শেষ করব। 

৭. তাবলীগের সমালোচনা ও জবাবঃ লিখেছেন মাওলানা মুহাম্মাদ যাকারিয়্যাহ সাহারানপুরী (রঃ)। ততকালীন সময়ে তাবলীগের উপর আপত্তির সুন্দর জবাব দিয়েছেন উনি। আল্লাহ তায়ালা তাকে উত্তম প্রতিদান দিন। আমীন। 

লাগবা বাজি?


কথায় কথায় সেদিন গোপাল ভাড়ের কথা উঠল। 

"কিছুদিন ধরে গোপাল রাজসভায় আসে না। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র চিন্তিত হপ্যে মন্ত্রীকে পাঠালেন গোপালের খবর নিতে। খবর নিয়ে মন্ত্রী রাজাকে জানালো যে, গোপাল এখন নতুন ধান্ধা শুরু করেছে। রাজ্যের প্রজাদের সাথে সম্ভব অসম্ভব বিষয়ে সে বাজি ধরে বেড়ায়। কৃষ্ণচন্দ্র গোপালকে ধরে আনার জন্য লোক পাঠালেন। গোপাল আসলে রাজা তাকে বললেন,

"কিহে গোপাল আজকাল যে তোমার দেখাই পাওয়া যায় না। থাকো কোথায় তুমি?"

"আজ্ঞে মহারাজ, আমিতো এই টুকটাক বাজি ধরে থাকি। বাজির টাকায় আমার ভালই চলে যাচ্ছে। মন্ত্রী আমাকে যে বেতন দেন তাতে তো আর সংসার চলে না। তাই বাড়তি আয়ের ব্যবস্থা করতেই.... " 

"কি! বলছো কি তুমি হে? তা কি বাজি খেলো তুমি?"

"সেটা জানতে হলেতো আমার সাথে আপনাকে বাজি ধরতে হবে।" 

"বাজি? কি বাজি?

"অমুক মহারাজ আপনার সামনে মাথা পেতে দেবেন চাটি মারার জন্য"

"কি বলছো তুমি? মহারাজ কেন আমাকে মাথা পেতে দেবেন। তাও চাটি মারার জন্য! তোমার কি মাথা খারাপ হল নাকি?" 

"আজ্ঞে, মহারাজ মাথা আমার ঠিকই আছে। আপনি বাজিতে রাজি কিনা বলুন।" 

"ঠিক আছে, ঠিক আছে। তোমাকে কি দিতে হবে?" 

"দশ হাজার স্বর্ণমুদ্রা "

"আর যদি তুমি বাজিতে হেরে যাও?"

"আপনি যে শাস্তি দেবেন মাথা পেতে নেব।" 

"আচ্ছা ঠিক আছে।"

"তবে মহারাজ। ৫ হাজার স্বর্ণমুদ্রা কিন্তু আমাকে অগ্রিম দিতে হবে।"

"মন্ত্রী ওকে ৫ হাজার স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে দাও"

স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে গোপাল চলল পাশের রাজ্যে। পাশের রাজ্যের রাজসভায় গোপালকে দেখে জিজ্ঞেস করলেন,

"কি হে গোপাল। অনেকদিন পর এলে। তা, কেমন চলছে তোমাদের?"

"মহারাজ তাতো চলেই যাচ্ছে। তবে আমি একটা বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে আপনার কাছে এসেছি"

"বিশেষ উদ্দেশ্য? কি উদ্দেশ্য?"

"আজ্ঞে মহারাজ, আমিতো আমার ঐ রাজ্যে বাজি ধরে জিতে চলেছি। কেউ আমাকে পরাস্থ করতে পারে নি। তাই আপনার রাজ্যে এসেছি। যদি কেউ আমাকে হারাতে পারে! আর আপনি যেহেতু রাজা তাই আপনার সাথেই বাজি খেলতে চাই" 

"বাজি! তা কি বাজি?"

"বাজি এই যে, আগামী তিনদিন তিনরাত পর আপনার মাথার তালু নরম হয়ে যাবে।"

"হে হে হে, মাথার তালু আবার নরম হয় নাকি? গোপাল তুমি বাজিতে নিশ্চিত হারবে।" 

"সে মহারাজ তিনদিন তিনরাত পরেই বোঝা যাবে। যদি আমি জিতে যাই আমাকে তিন হাজার স্বর্ণমুদ্রা দেবেন। আর হেরে গেলে আমার কাছ থেকে রেখে দেবেন।" 

"হে হে হে, ঠিক আছে।"- রাজা ভাবলেন এবার গোপালকে ভালভাবে জব্দ করা যাবে। আর প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মাথার তালু নরম হয়ে গেল কিনা সেটা রাজা পরীক্ষা করেন।

ওদিকে গোপাল রাজা কৃষ্ণচন্দ্রকে খবর পাঠিয়ে দিল তিনদিন পর এ রাজ্যে আসার জন্য। 

দেখতে দেখতে তিনদিন পার হয়ে গেল। রাজসভায় গোপাল উপস্থিত। রাজা বললেন,

"গোপাল এবার তুমি বাজিতে ঠিকই হারলে। আমার মাথার তালু ঠিকই আছে। নরম হয় নি" 

মৃদু হেসে গোপাল বলল, "মহারাজ, সেটাতো পরীক্ষার বিষয়। পরীক্ষা করে বলতে হবে। তবে আপনি মহারাজা, আপনাকে পরীক্ষা করতে আরেকজন রাজার প্রয়োজন। যেন তেন ব্যাক্তিতো আর একজন মহারাজকে পরীক্ষা করতে পারে না।"

বলতে বলতেই রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রাজসভায় প্রবেশ করলেন। মহারাজ তাকে দেখেই বললেন,

"এই যে কৃষ্ণচন্দ্র, এসো এসো। দেখো দেখি তোমার গোপাল কি বলে! আমার মাথা নাকি নরম হয়ে গিয়েছে। একটু চাটি মেরে দেখতো।" বলেই রাজা নিজ মাথাটা কৃষ্ণচন্দ্রের দিকে এগিয়ে দিলেন। 

বলছিলেন আমার এক কলিগ। গোপালতো বাজিতে জিতে গেল। কিন্তু রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তাকে এই বাজির খেলা বন্ধ করতে হল। গোপাল যেহেতু বলেছিল তার সংসার চলে না তাই সে বাজির খেলা ধরেছে সেহেতু রাজা তার বেতন বাড়িয়ে দিলেন। 

আমি বললাম, আধুনিক যুগেও এমন গোপাল ভাঁড়ের দেখা মেলে। 

কলিগ আগ্রহ ভরে বললেন, কেমন?

বললাম, কেন আপনি ব্যাংক ম্যানেজারের ঘটনা শুনেন নি? কোন এক ব্যাংকের ম্যানেজার দেখলেন তার এক ক্লায়েন্ট প্রতিদিনিই এক লাখ, দু লাখ টাকা একাউন্টে জমা দেন। প্রতিদিন এত টাকা কোথায় পায় সেটা জানতে একদিন তিনি ঐ ক্লায়েন্টকে ডাকালেন। বললেন,

"কি ব্যাপার? আপনি কি করেন? প্রতিদিন এত টাকা কোথায় পান?"

"স্যার, আমিতো আসলে তেমন কিছু করি না। তবে মানুষের সাথে বাজি ধরে থাকি।"

"ধূর কি বলেন? বাজিতে কি প্রতিদিন এত টাকা জেতা যায়?"

"ঠিক আছে স্যার। আপনি আমার সাথে বাজি ধরেন তাহলেওতো বুঝবেন।"

"কি বাজি?"

"বাজি এটাই যে, আপনার বাম উরুতে একটা লাল তিল আছে। ৫ লাখ টাকা বাজি।" 

ম্যানেজার চোখ লোভে চকচক করে উঠল, এতো বিরাট সুযোগ! ৫ লাখ টাকা পাওয়া যাবে। বললেন, "ঠিক আছে। আমি এক্ষুনি দেখিয়ে দিচ্ছি আছে কি নেই।"

"না স্যার। আজকে না। কালকে আমার তিনজন বন্ধু আসবে। তারা পরীক্ষা করে দেখবে আপনার উরুতে লাল তিল আছে কিনা।" 

পরেরদিন ঐ ভদ্রলোক তার তিনজন বন্ধু নিয়ে আসলেন। ম্যানেজার প্যান্ট খুলে তার উরু দেখিয়ে দিল। তারাও পরীক্ষা করে দেখলেন। পরীক্ষার পর ঐ ভদ্রলোক ম্যানেজারকে পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে দিলেন। 

তারপরের দিনই লোকটি ব্যাংকে ১০ লাখ টাকা জমা দিল। ম্যানেজারের মাথা নষ্ট। তিনি লোকটিকে ডেকে বললেন, "কি ব্যাপার? এত টাকা কোথায় পেলেন?" 

লোকটি তখন মৃদু হেসে বলল, "স্যার, আসলে আমার ঐ তিন বন্ধু হলেন উকিল। তাদের সাথে আমার বাজি হয়েছিল ১৫ লাখ টাকার। বাজির বিষয় হল, অমুক ব্যাংকের ম্যানেজার তাদের সামনে প্যান্ট খুলে দিবেন। বাজিতে আমি জিতেছি। তাই না স্যার? পাচ লাখ টাকা আপনাকে দিলাম। আর বাকিটা ব্যাংকে জমা করলাম।" 

বাহ! ভালইতো। পুরো আলাদিনের চেরাগ!- ফোঁড়ন কাটলেন আরেকজন।

আলাদিনের চেরাগ পেয়েও লাভ নেই। যদি না আপনার আশেপাশের লোকজন সুবিধার না হয়। - আমি ফোঁড়নটাকে আমলে নিলাম না। 

সেটা আবার কেমন? 

তাহলে শোনেনঃ জাহাজ ডুবির পর অনেক কষ্টে তিনজন লোক একটা দ্বীপে পৌছল। তাদের মধ্যে একজন আমেরিকান, আরেকজন আফ্রিকান, অপরজন বাংলাদেশী। ধূ ধূ সেই দ্বীপে তেমন কোন গাছ-পালা নেই। ক্ষুৎপিপাসায় যখন তারা কাতর হয়ে পড়ল তখনই দূরে বালুর উপর কি যেন চিক চিক করে উঠল। কাছে যেতেই বোঝা গেল সেটা একটা চেরাগ। ঘষা দিতেই দৈত্য হাজির। 

"হুকুম করুন। আমি আপনাদের তিনটা ইচ্ছা পূরণ করব।" 

তিনজন পরামর্শ করে ঠিক করল। সবাই একটি একটি ইচ্ছার কথা বলবে। প্রথমেই আমেরিকান বললঃ

"আমি আমেরিকায় থাকি। পরিবার পরিজন ছেড়ে একা এখানে থাকতে ভাল লাগছে না। তুমি আমাকে আমার পরিবারের কাছে দিয়ে আসো।" 

মুহূর্তেই দৈত্য আমেরিকানকে তার বাড়িতে পৌছে দিল। এবার আফ্রিকান লোকটি পালা। সে বললঃ

"আমি আফ্রিকায় নিজের দেশে যাচ্ছিলাম। জাহাজ ডুবিতে এখানে আটকা পড়েছি। তুমি আমাকে আমার দেশে দিয়ে আসো।" দৈত্য তাকে নিয়ে চলে গেল। কিছুক্ষন পর ফিরে আসলে বাংলাদেশী ভদ্রলোক বললেন, "ওরা তো চলে গেল। একা একা ভাল লাগছে না। তুমি এক কাজ করো। ওদেরকে নিয়ে আসো!" 

হা, হা, হা! আপনি ঠিকই বলেছেন। - হাসতে হাসতে কলিগ বললেন। বন্ধুদের মধ্যে কেউ কেউ আবার বিশেষ জ্ঞানী থাকে। এমনভাব করে যেন তারা সব জানে। দুই বন্ধুর কথা জানেন না? বলছি শোনেন। দুই বন্ধু বিমানে করে কোথাও যাচ্ছিল। এদের মধ্যে বোকাসোকা বন্ধুটা ভাবল আমার বন্ধুতো অনেক কিছু জানে তাকে জিজ্ঞেস করি এখন বিমান কোন দেশের উপর দিয়ে যাচ্ছে। জিজ্ঞেস করতেই জ্ঞানী বন্ধুটি জানালা দিয়ে বাইরে হাত দিয়ে দেখে বাইরে খুব ঠান্ডা। হাত জমে যাবার অবস্থা। সে দ্রুত হাত ভিতরে টেনে নিয়ে এসে বলল,

"দোস্ত, যা ঠান্ডা বাইরে! এটা নির্ঘাত সাইবেরিয়া!" 

কিছুক্ষন পর আবার বন্ধু জিজ্ঞেস করল, "আচ্ছা বন্ধু এখন আমরা কোথায় আছি?"

সেই বন্ধু আবারো বাইরে হাত দিয়ে দেখল হাতে খুব গরম লাগছে। সে হাত ভিতরে টেনে এনে বলল, "বাইরেতো অনেক গরম। এটা নিশ্চয়ই সাহারা মরুভূমি!" 

ঘন্টাখানেক পর বন্ধু তাকে আবারো জিজ্ঞেস করল, "দোস্ত দেখতো এটা কোন জায়গা।" বন্ধু হাত বাইরে দিল। হাত ভিতরে এনে দেখে হাতঘড়িটা নেই। সে চেঁচিয়ে বলল, "গুলিস্তান, গুলিস্তান..." 

অফিসে এমন আড্ডা হলে অফিস করার মজাই আলাদা।

ভূমিকম্প কি জেনা-ব্যাভিচারের জন্য হয়?


প্রতিবার ভূমিকম্পের পর ফেসবুকে প্রধানত দু'ধরনের স্ট্যাটাস দেখতে পাই। একদল বলতে থাকে, জেনা-ব্যাভিচার, নারী উলঙ্গপনা, পহেলা বৈশাখ ইত্যাদির কারনে আল্লাহর আযাব এসেছে। আরেকদল ভূমিকম্পের ব্যাখ্যায় ভূগোলের সাহায্য নেন এবং প্রথোমক্ত ব্যক্তিদের মোটামুটি তুলোধুনো করে নানান বিশেষণে সম্মানিত করে থাকেন! 

আল্লাহ তায়ালা বলেন, "স্থলে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ্‌ তাদেরকে তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদরন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে।" (সূরা আর-রুম, আয়াত ৪১,৪২)

এই আয়াতের তফসীরে বলা হয়েছে, "অর্থাৎ স্থলে, জলে তথা সারা বিশ্বে মানুষের কুকর্মের কারণে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। তফসীরে রুহুল মা'আনীতে বলা হয়েছে, 'বিপর্যয়' বলতে দুর্ভিক্ষ, মহামারী, অগ্নিকান্ড, পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার ঘটনাবলীর প্রাচুর্য, সবকিছু থেকে বরকত উঠে যাওয়া, উপকারী বস্তুর উপকার কম এবং ক্ষতি বেশি হয়ে যাওয়া ইত্যাদি বিপদ আপদ বোঝানো হয়েছে।" 

অন্যত্র আছে, "হ্যা, ব্যাপকাকারের বিপদাপদ-যেমন দুর্ভিক্ষ, বন্যা, মহামারী ও দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, বরকত নষ্ট হএয় যাওয়া ইত্যাদির প্রধান কারন মানুষের প্রকাশ্য গোনাহ্‌ ও পাপাচার হয়ে থাকে।" 

আরো বলা হয়েছে, "তাই কোন কোন আলিম বলে, যে ব্যক্তি কোন গোনাহ্‌ করে সে সারাবিশ্বের মানুষ, চতুষ্পদ জন্তু ও পশুপক্ষীদের প্রতি অবিচার করে। কেননা, তার গোনাহের কারণে অনাবৃষ্টি ও অন্য যেসব বিপদাপদ দুনিয়াতে আসে, তাতে সব প্রাণীই ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তাই কেয়ামতের দিন এরা সবাই গোনাহ্‌গার ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করবে।

শকীহ যাহেদ বলেন, যে ব্যক্তি হামার মাল খায়, সে কেবল যার কাছ থেকে এই মাল নেওয়া হয়েছে, তার প্রতিই জুলুম করে না; বরং সমগ্র মানবজাতির প্রতিই অবিচার করে থাকে। --(রুহুল মা'আনী) কারণ, প্রথমত একজনের জুলুম দেখে অন্যদের মধ্যেও জুলুম করার অভ্যাস গড়ে উঠে এবং এটা সমগ্র মানবতাকে গ্রাস করে নেয়। দ্বিতীয়ত তার জুলুমের কারনের দুনিয়াতে বিপদাপদ আসে, যদ্বারা সব মানুষই কমবেশি প্রভাবান্বিত হয়।" 

(তফসীরে মা'আরেফুল কোরআন, ৬ষ্ঠ খন্ড) 

কুরআনুল কারীমের বর্ণনা থাকে স্পষ্ট বোঝা গেল, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মূল কারন মানুষের প্রকাশ অবাধ পাপাচার। এই সহজ ব্যাপারটা জেনে হোক, না জেনে হোক, বুঝে হোক না বা না বুঝেই হোক মুসলিম ঘরের অনেক সন্তানই মেনে নিতে পারে না সম্ভবত দুইটি কারনেঃ 

১. পাপকে পাপ মনে না করাঃ সুদের সাথে সংশ্লিষ্টতা হারাম। অথচ আমরা সুদকে হারাম মানতে পারছি না। একইভাবে নারী পুরুষের অবাধ অবৈধ মেলামেশা, গানবাজনা আয়োজন, ফটোগ্রাফি, অমুসলিম সংস্কৃতি ধারন ও পালন, মদ খাওয়া, জুয়া খেলা, লটারি ইত্যাদি সমাজে এত ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে যে এখন আর এগুলোকে হারাম মনে হচ্ছে না। এই অবস্থা চলতে থাকলে একসময় যাবতীয় হারাম কাজ হালাল হয়ে যাবে। 

২. ভুমিকম্পকে বিপর্যয় মনে না করাঃ জ্ঞান হবার পর যতগুলো ভূমিকম্প হয়েছে সবগুলোতে শুধুই কম্পণ ছিল। নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, ইকুয়েডরে ভুমিকম্প ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় অনেক ক্ষতিসাধণ হবার পরেও এদেশে তেমন কিছু হয় নি। অর্থাৎ ভুমিকম্পের চাক্ষুস অভিজ্ঞতা আমাদের নেই। কাজেই ভুমিকম্পকে আমাদের ভুমিকম্প মনে হয় না। বরং অনেকটা ঈদ-ঈদ মনে হয়। তাই সাজুগুজু করে ছবি তুলে সেলফি ফেসবুকে আপ্লোড দেই। ঘুর্ণিঝড় আমাদের কাছে বিপর্যয় কারন ১৯৯১ এর স্মৃতি আমাদের আছে, বন্যা আমাদের কাছে বিপর্যয় কারন ১৯৮৮, ১৯৯৮ এর স্মৃতি আমাদের আছে, দুর্ভিক্ষ আমাদের কাছে বিপর্যয় কারন ১৯৭৪ এর কথা আমরা বইতে পড়েছি। হায় আফসোস, ভূমিকম্প নিয়ে আমাদের এমন কোন স্মৃতি নেই। 

মনের ভিতর খচখচ করছিল তাই লিখলাম। যার ইচ্ছা হয় মেনে নিবেন, যার ইচ্ছা হয় বিশেষণে সম্মানিত করবেন। 

ফী আমানিল্লাহ!

ভাল মানুষ!


এখনো দুনিয়াতে ভাল মানুষ বাকি আছে। 

আজকে রিয়াজউদ্দিন বাজারে গিয়েছিলাম টুকটাক কিছু কেনাকাটা সারতে। এই বাজারটা এমন এক জায়গা যেখানে একবার গেলে পরেরবারও আমাকে জিজ্ঞেস করে করে নির্দিষ্ট দোকান খুজে নিতে হয়। শুধু আমারই এমন হয় নাকি সবার হয় আল্লাহই ভাল জানেন। দুই দোকানে জিজ্ঞেস করে অবশেষে চকলেটের (ফলের) গলি খুজে পেলাম। বরাবর যে দোকানে যাই ঐ দোকান থেকে আধকেজি চকলেট (টফি) নিলাম ৩৭৫ টাকার, DANCAKE এর কেক নিলাম একপ্যাকেট ২০০ টাকা দিয়ে, আর খেজুর ২৫০ গ্রাম নিল ১৫০ টাকা। এই ৭২৫ টাকার তিনটি আইটেম ছোট একটা শপিং ব্যাগে ভরে দিল। সাথে যে ব্যাগুগুলো ছিল সেগুলোর পাশে ওটাকে তেমন একটা চোখেই পড়ছিল না। 

আছরের সালাতের সময় হয়ে গিয়েছে ততক্ষনে। লম্বা পা ফেলে দ্রুত চলে আসলাম গোলাম রসূল মার্কেটের মসজিদের দোতলায়। ওযুখানার পাশে ব্যাগেজ রেখে ওযু করে সালাত আদায় করলাম। ফেরার সময় দেখি পোটলা একটা কম। ছোট পোটলাটা নেই। ইন্নানিল্লাহ! প্রথমেই মাথায় এল, চোখের সামনে ব্যাগেজ রেখে নামায পড়লাম! তাও ব্যাগ চুরি হয়ে গেল! আমি এত ভোদাই কেরে? 

পরে সুস্থির হয়ে ভাবলাম, এখান থেকে নেবার মত বোকামি কেউ করবে না। কোনভাবে হাত থেকে পড়ে গিয়েছে অথবা আমি কোথাও ফেলে এসেছি। চট করে ওযুখানায় চলে গেলাম। আমার ব্যাগটা কাত হয়ে মেঝেতে পড়ে আছে। আলহামদুলিল্লাহ্‌! বুঝলাম আমিই ভুল করে ব্যাগ এখানে ফেলে রেখে চলে গিয়েছি।

প্রায় ১০-১৫ মিনিট ব্যাগটা এখানে ছিল। কেউ হাত দেয় নি। ব্যাপারটা বিস্ময়কর বটে। হাইলি সিকিউর ৮১০ কোটি টাকা হাপিশ হয়ে গেল। আর আমার ব্যাগতো এতিমের মত পড়েই ছিল। 

দুনিয়াটা যতটা খারাপ ভাবি আসলে ততটা খারাপ এখনো হয় নি। ভাল মানুষেরা এখনো দুনিয়ার বুকে বিরাজমান!