Featured Post

I SAID NO TO QUANTUM METHOD

পূর্বে পোস্ট আকারে প্রকাশিত। কারও সাথে ঝগড়া করার জন্য এটা দেইনি। নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম। কেউ মানতে না পারলে আমার কিছু করার নেই।  আ...

Monday, January 25, 2016

ভাষাবিভ্রাট

চিটাগাং আসলে যে ব্যাপারটিতে নিজেকে সবচেয়ে বেকুব মনে হবে তা হল চিটাগাং এর ভাষা। প্রায় আটবছর হল চিটাগাং থাকি। তবুও মাঝে মাঝে বেকুব হতে হয়। চিটাগাং এর লোকজন কথা বলে খুব দ্রুত। অনেকটা শব্দ ছুড়ে মারে বাতাসে। যদি ক্যাচ করতে পারেন তবে তো কপাল ভাল। আর তা নাহলে শব্দবানের আঘাতে জর্জরিত হয়ে আমার মত বেকুব হতে হবে।

প্রথম প্রথম চিটাগাং আসছি তখন। আমার এক বড়ভাই সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি কিনবে ব্যবসার জন্য। উনারা আসলেন, আমিও টাউনে গেলাম। গাড়ি সংক্রান্ত কথাবার্তা হতে হতে দুপুর গড়িয়ে গিয়েছে। ক্ষুধাও লেগেছে। সবাই মিলে ঢুকলাম একটা হোটেলে। খাবার কি আছে জিজ্ঞেস করাতে হড়বড় করে যা বলল তার মধ্যে ভাত, ডাল, খাসা --এই তিনটা একটু পরিচিত মনে হল।

"খাসি?"

"অ্যাঁ..." 

"আচ্ছা তিনটা খাসি দাও আর ভাত দাও।" 

খাবার চলে আসল। ভাত দিল, ডাল দিল। খাবার শুরু করার জন্য শিমের বিচির তরকারী দিল। শিমের বিচির তরকারীটা আমার ভাল লাগে বিধায় ঐটাই আগে নিলাম। খুব বেশি ভাল লাগল না তরকারিটা। অল্প কিছু ভাত খেয়ে সবাই বসে আছি কখন খাসি দিবে। 

কিন্তু খাসি আর দেয় না। ব্যাপার কি? তিনবাটি খাসি দিতে এতক্ষন লাগে কেন? অধৈর্য্য হয়ে একবড় ভাই আবার ডাকলেন,

"এই খাসি কই? খাসি দেও না কেন?"

"খাসি হত্তুন? খাসি নাই এডে"

"কি বলে?"

"বুঝতাছিনা" -- আমি।

"কি বলছো তুমি? খাসি নিয়া আসো যাও..." 

"খাসি নাই" 

"তুমি না তখন বললা খাসি আছে!" 

"খাসি ন, খাসি ন, খাইস্যা হইদ্দি..."

"কি?"

"খাইস্যা, খাইস্যা..." 

"কোনটা খাইস্যা?" 

"ইয়ান..." বলে শিমের বিচির তরকারির দিকে ইশারা করল। 

এরপর আর কথা না বলে আমরা তার দিকে তাকাই আর সে মহাবিরক্ত। এত কথা বলার টাইম নাই তার। কি আর করা। চুপ করে খেয়ে নিলাম। বুঝি আমাদের কথা ভেবেই পল্লীকবি লিখেছিলেন, তিন বেকুবের হল মেলা খাইতে এসে...! 

এটাতো গেল প্রথমদিকের কথা। আটবছর পরে এসেও বেকুবই হচ্ছি। কোম্পানির কোয়ার্টার নেবার পর মালামাল টানার জন্য দু'জন লোক ভাড়া করলাম। তারা কোম্পানির পরিচ্ছন্নতা কর্মী। আমার বাসার মেঝে দেখে তারা অবাক। সবুজ রঙের মেঝে। মালামালা টানাহেচড়া করার পর ধূলোবালিতে মেঝে ময়লা হয়ে গেছে তাদের একজন বলল,

"বদ্দা অনের গর এক্কানা গম আছের। অনে এক হাম খরিবেন। লাচ্ছিদি গরগুন মুছি দিলে চকচক খরিব" 

" কি দিয়া মুছমু? লাচ্ছি দিয়া? লাচ্ছি দিয়া আবার ঘর মুছে নাকি? 
gasp emoticon
 "

"অ্যাঁ, এডে কিনিত ফাওয়া যার। মুছি ফালাইলে গর সুন্দর লাগিব।" 

আমি পুরাই কনফিউজ। 

"এখানে বাজারে কিনতে পাওয়া যায়? গিয়ে বললেই হবে?"

"অয়ও..."

আমি তখন ভাবছি কেনার কি দরকার। দই কিনে এনে দুই আঙ্গূলের দুই চিমটি লবন আর এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে ঘুটা দিয়ে লাচ্ছি বানিয়ে ফেলব আর তারপর মেঝে পরিষ্কার করব। একেবারে আয়নার মত চকচকে হয়ে যাবে মেঝে। 

তারা আমার ভাবভঙ্গি দেখে আরো যেসব কথা বলল সেগুলো শুনে আমি লাচ্ছির তাৎপর্য বুঝতে পারলাম। বাজারে মেঝে মোছার জন্য একধরনের মোছনি পাওয়া যায়। যেটার নিচের দিকে নরম কাপড়ের ফালি একটা লম্বা পাস্টিকের লাঠির মধ্যে এক প্রান্তে লাগানো থাকে। ঐটাকে বলে লাচ্ছি! তাই "প্রাণ লাচ্ছি, খুব খাচ্ছি, আরাম পাচ্ছি"- আমার এই জাতীয় চিন্তা মুহুর্তের মধ্যে ভ্যানিশ হয়ে গেল। 

গেলাম লাচ্ছি কিনতে। একটার দাম ১৯০ টাকা আরেকটা দাম ২০০ টাকা! 
gasp emoticon
 

২০০ টেয়া দিয়া ত্যানা কিনতাম? 
gasp emoticon
 

চলে আসলাম বাসায়। সাপ মারার একটা লাঠি ছিল ঐটার এক মাথায় কোম্পানির অনুষ্ঠানের গেঞ্জী কেটে বেধে দিলাম। হয়ে গেল দেশী লাচ্ছি!

অফিসিয়াল গফসফ!


অফিসে দুই-চারজন কলিগ আছেন যাদের ভান্ডারে গল্পের অভাব নেই। কোন এক প্রসঙ্গ উঠলেই হয়। তাদের ঝুলি থেকে বেড়িয়ে আসে গল্প। সেদিন হুট করে কথা উঠল বিয়ের আগে মেয়ে দেখা নিয়ে। সেদিন তিনটা নতুন নতুন গল্প শুনলাম। তাহলে বলি -- 

১. অনেকদিন আগের কথা। তখন এদেশে লেখাপড়ার তেমন একটা চল ছিল না। তো এক ছেলের জন্য পাত্রী দেখতে যাওয়া হবে। ছেলের আবার পড়াশুনায় ঘাটতি আছে। অন্যদিকে মেয়ের ফ্যামিলির সবাই মোটামুটি শিক্ষিত। তাই ঘটক সাহেব পাত্রকে ডেকে বললেন,

"তোমাকে যদি জিজ্ঞেস করে পড়াশুনা করেছো কিনা বলবা মেট্রিক পাশ করেছি" 

"জি আচ্ছা..." 

পাত্রীর বাড়িতে যাবার পর বিরাট আয়োজন দেখতে পেলেন তারা। তাদেরকে খুবই আদর-যত্ন করা হল। কথাবার্তার এক পর্যায়ে মেয়ের মামা জিজ্ঞেস করলেন, 

"তা বাবাজি, পড়াশুনা কতদূর করেছো?" 

"জ্বী, মেট্রিক পাশ করেছি।" 

"কোন সনে মেট্রিক পাশ করেছো?" 

"জ্বী, আমি আগামী বছর মেট্রিক পাশ করেছি!" 

[প্রশ্ন আউট অফ সিলেবাস! 
tongue emoticon
 ] 

২. আরেকবাড়িতে গিয়েছে পাত্রপক্ষ। পাত্রের সাথে আরো তিনজন আছে। বিভিন্ন প্রশ্নবাণে জর্জরিত হয়ে মেয়ে একসময় ধৈর্য্য হারাল। তখন একজন প্রশ্ন করল, 

"আচ্ছা মা বলতো, এক কেজি পোলাও রান্না করতে কতটুকু তেল লাগে।" 

"আমার মাতো আমাকে আদরে আদরে মানুষ করেছে। কখনো চুলার কাছে যেতে দেয় নি।" 

আরেকজন প্রশ্ন করল, 

"আচ্ছা বলুনতো এক কেজি পোলাও রান্না করতে কতখানি লবণ লাগে?" 

"চার বলদে যতখানি লবণ খায়, ততখানি লাগে!" 

[ডাইরেক্ট বোল্ড হয়ে গেলেন] 

গল্প-৩ 

এক ছেলের বদভ্যাস হল সে কথায় কথায় "বাল্‌" বলে ফেলে। যেমন, ধূর ভাত খাবো না বাল্‌। সেই ছেলে গিয়েছে বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে... 

এই গল্প আর বলা যাবে না। সুধীসমজা সহ্য করতে পারবে না। 

যারা শীগ্রই পাত্রী দেখতে যাবেন তারা সময় থাকতে সাবধান হন, সাপোর্ট দিবে জনগন!

ধারখোর!


আতংকে আছি। ইদানিং একটা লোক আমার খুব কেয়ার নিচ্ছে। মজার মজার গল্প বলছে। তাদের বাল্যকালের গল্প, ভূতের গল্প শোনাচ্ছে। বলার স্টাইল ভাল। শুনতে একধরনের আগ্রহ তৈরি হয়। 


খাওয়া-দাওয়া করতে গেলে কোনটা স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। কোন তরকারীতে তেল বেশি হয়ে গিয়েছে। তৈলাক্ত খাবার খেলে কি সমস্যা হতে পারে। ভাবী কোথায় আছে? কবে আসবে? সামনের শীতে কি কি সমস্যা হতে পারে? শ্বাশুড়ী থাকার সুবিধা কি আছে?-ইত্যাদি ইত্যাদি। 



আমি তার সাথে হু হা মিলিয়ে যাই। মনে আতংক নিয়ে ভাবি 



"আবার মনে হয় টাকা ধার চাইবে!" 



:\

ভারতপ্রীতি!

কৌশিক হোসেন তাপস! 

নামেতে বোঝার উপায় নেই মুসলিম নাকি হিন্দু। একসময় পড়েছিলাম "বৃক্ষ তোমার নাম কি? - ফলে পরিচয়!" এখন একটু বলি কৌশিক হোসেন তাপসের পরিচয় কিভাবে ফলে দিতে পারি। 

ঢাকায় আসছেন বলিউডের টপলিস্টেড নায়িকা কারিনা কাপুর, রকস্টার ক্ষ্যাত (খ্যাত) নার্গিস ফাখরি ও গায়ক বেনী দয়াল। ওয়ান মোর জিরো কমিউনিকেশনের ব্যানারে তাদের বাংলাদেশে আনা হচ্ছে আর আয়োজক হলেন কৌশিক হোসেন তাপস। তারা এই দেশে একটি কনসার্টে অংশগ্রহন করবেন যার প্রতিটি টিকেট মূল্য পাঁচ হাজার টাকা থেকে দুই লক্ষ টাকা মাত্র!

ইত্তেফাকের রিপোর্ট অনুযায়ী কৌশিক হোসেন তাপস এর আগেও সালমান খান, অক্ষয় কুমার সহ বিশ্বের আন্তর্জাতিক মানের শিল্পীদের নিয়ে শো করেছেন। অবশ্য রিপোর্টার বলিউডের ছাড়া অন্য কোন শিল্পীদের নাম উল্লেখ করেন নি। 

বাংলাদেশের মিউজিক চ্যানেল গান বাংলার প্রধান নির্বাহী হলেন কৌশিক হোসেন তাপস। যারা চ্যানেলটি দেখে থাকেন তারা ভাল করেই জানেন যে, প্রথমদিকে চ্যানেলটিতে শুধু গানই প্রচার করা হত। আর এখন বিজ্ঞাপনের ফাঁকে ফাঁকে গান প্রচার করা হয়। যাই হোক, বেশিরভাগ বাংলা চ্যানেলের অবস্থাই এই। বিজ্ঞাপন আর সংবাদ তাদের প্রধান অনুষ্ঠান। 

ভারতীয় শিল্পীদের প্রতি কৌশিক হোসেন তাপসদের এত আগ্রহ কেন কে জানে! বাংলাদেশের শিল্পীরা যেখানে দেশ বিদেশ ঘুড়ে বেড়ায় সেখানে আন্তর্জাতিক শিল্পী খুজতে ভারতের ধর্না কেন দিতে হবে তাই বা কে জানে! 

অবশ্য কৌশিক হোসন তাপসদের এককভাবে দোষারোপ করে লাভ নেই। সামনে বিপিএল শুরু হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে আনা হচ্ছে হৃদিক রোশন কে। তিনি দলবল নিয়ে এসে বিপিএলে পারফর্ম করবেন। 

ভালই হয়েছে মেয়েদেরও মনোরঞ্জন দরকার আছে। খালি ছেলেরাই মজা লুটবে এটা কেমন কথা! 

সবাইকে ধন্যবাদ!

কিংকর্তব্যবিমূঢ়


স্থানঃ চিটাগাং রোড, নারায়ণগঞ্জ।

ইউনিকের কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। টিকেট কাটা হয়েছে। অপেক্ষা করছি বাসে আরোহনের। পাশ দিয়ে একটা রাস্তা ঢুকে গিয়েছে। সম্ভবত এই রাস্তা দিয়ে ঢাকা যাওয়া যায় যাত্রাবাড়ী বাইপাস করে। এরই মধ্যে একটা ভ্যান আসল ঐ রাস্তা দিয়ে। ভ্যানের উপর রাখা লম্বা লোহার পাত। ভারী পাতগুলো যেন সহজে ভ্যানওয়ালা যথাস্থানে পৌছে দিতে পারে সেজন্য সাথে দু'জন শ্রমিকও আছে। ঐ রাস্তাটা হাইওয়ে থেকে বেশ নিচু। কাজেই হাইওয়ে ফাঁকা থাকলে আগে থেকেই দ্রুতগতিতে ভ্যান-রিকশা আসে যেন উচু জায়গাটুকু সহজে পার হওয়া যায়। 

ভ্যান যখন আসল তখনই কুমিল্লার একটা বাস এসে পথরোধ করল। কাজেই ভ্যানওয়ালা অপেক্ষা করতে লাগল কখন বাস সাইড দেয়। বাস সাইড হবার পর তিনজনে মিলে ভ্যান ঠেলতে লাগল। আমি তামশা দেখছি। 

পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন এক ভাই। চট করে হাটা থামিয়ে ভ্যানওয়ালা ও শ্রমিকদের সাথে হাত লাগালেন। ভ্যান চিটাগাং রোডে উঠল।

আমার চোখের সামনে নেকীর বস্তা নিয়ে ভাই চলে গেলেন। আমি তামাশা দেখলাম। আমরা তামাশাই দেখি!