Featured Post

I SAID NO TO QUANTUM METHOD

পূর্বে পোস্ট আকারে প্রকাশিত। কারও সাথে ঝগড়া করার জন্য এটা দেইনি। নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম। কেউ মানতে না পারলে আমার কিছু করার নেই।  আ...

Friday, July 7, 2017

সৌদির সাথে মিল করে রোযা/ঈদ করার সমস্যা


সৌদি আরবের সাথে মিলিয়ে রোজা-ঈদ করতে গেলে অন্যসব কিছু বাদ দিলেও যে সমস্যাটা প্রকট লাগে সেটা বলছি। আগে দু'টো ব্যাপার স্টান্ডার্ড ধরে নেই। 


১. সৌদি আরবে চাঁদ বাংলাদেশের তুলনায় আগে উঠে এবং বাংলাদেশে সূর্য ৩ ঘন্টা আগে অস্ত যায়। এমন কখনো হয়েছে কি বাংলাদেশে চাঁদ আগে উঠেছে আর সৌদিতে সূর্য আগে ডুবেছে?

২. সূর্য ডুবলেই চাদের হিসেবে নতুন তারিখ শুরু হয়। 

ধরাযাক, আজকে ২৮ শাবান। বাংলাদেশে মাত্র সূর্য ডুবল। বাংলাদেশের জন্য চাদের নতুন তারিখ শুরু হয়ে গিয়েছে। বাংলাদেশে চাঁদ দেখা যায় নি। কাজেই বাংলাদেশের হিসেবে ২৯ শাবান শুরু হয়ে গেল। ঠিক?

এখন আরও ৩ ঘন্টা পর সৌদি আরবে সূর্য ডোবার পর চাঁদ দেখা গেল। সৌদিতে রমজান শুরু হয়ে গেল। এখন যদি আমরা বাংলাদেশেও পহেলা রমজান ধরি তাহলে তো সন্ধার পর থেকেই ধরব তাইনা? সৌদি সময় সন্ধ্যা ৭ টায় চাঁদ দেখা গেলে বাংলাদেশে তখন রাত ১০ টা। আমরাতো আর রাত ১০ টা থেকে চাদের নতুন তারিখ ধরব না। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭ টা (সূর্যাস্তের পর পর) থেকে নতুন তারিখ ধরব। কিন্তু বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭ টায় তো নতুন চাঁদ দেখাই যায় নি! নতুন মাসের তারিখ কিভাবে ধরব? 

এই সমস্যার কি সমাধান?

শিশু সুলভ প্রশ্ন!


অনলাইনে অমুসলিমদের সমালোচনা করলেই এক অদ্ভুত প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। যেমন, "ইহুদিদের যদি এতই অপছন্দ তাহলে তাদের আবিষ্কৃত কম্প্যূটার কেন ব্যবহার করেন? মোবাইল কেন ব্যবহার করেন? ইন্টারনেট কেন চালান?" - ইত্যাদি ইত্যাদি! এই আজব প্রশ্নের জবাব দেবার আগে একটু গল্পগুজব করা যাক।

আমার এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের ৩-৪ বছরের ছেলে আছে। তাদের বাসায় বেড়াতে গেলেই সে নানা প্রশ্নবানে আমাকে জর্জরিত করে। সাধ্যমত উত্তর দেবার চেষ্টা করি। মাঝে মাঝে বিরক্তিও বোধ করি। তার কিছু কিছু প্রশ্ন একান্তই শিশুসুলভ।

"আংকেল, চিটাগাং যাইও না। চিটাগাং ভাল না।
"চিটাগাং যাব। চিটাগাং অনেক ভাল।"
"তুমি চিটাগাং যাবা কেন?"
"আমাকে অফিস যেতে হবে।"
"কেন?"
"অফিসে না গেলে টাকা পাওয়া যায় না।"
"কেন?"

ডাকয়োর্থ-লুইস মেথডের যতকথা!


ক্রিকেট পছন্দ করে অথচ ডাকয়োর্থ-লুইস (D/L) মেথডের নাম শোনে নি এমন মানুষ বোধকরি কমই পাওয়া যাবে। কিন্তু যদি জিজ্ঞেস করা হয়, বলুন তো ডাকয়োর্থ লুইস মেথড আসলে কি, কিভাবে কাজ করে-তখন কতজন সঠিকভাবে উত্তর দিতে পারবে? প্রকৃতপক্ষে উত্তরটা এত সহজও নয়। 


সোজা কথায় বললে D/L মেথড দ্বারা কোন ক্রিকেট ম্যাচ চলাকালীন যদি কোন অনাকাঙ্খিত বাধা (মূলত বৃষ্টি) তৈরি হয় এবং পূর্ব নির্ধারিত ওভার কমিয়ে দেয়া হয় তাহলে প্রথম দলের স্কোরের উপর ভিত্তি করে দ্বিতীয় দলের জন্য টার্গেট নির্ধারন করার এখন পর্যন্ত সবচেয়ে নিখুঁত/কার্যকর পদ্ধতি। এর আগে Average Run Rate এবং Most Productive Over দুটি পদ্ধতিসহ অন্যান্য পদ্ধতি চালু ছিল। অন্যগুলোর তুলনায় Average Run Rate এবং Most Productive Over পদ্ধতির কার্যকারিতা তুলনামূলক বেশি থাকলেও কতটা বাস্তব সম্মত ছিল সেটা দু'টি উদাহরণ দিলেই পরিষ্কার হবে। 

প্রথমে ১৮৮৯ সালের অস্ট্রিলিয়ার ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালের কথাই বলতে হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাথে ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে অস্ট্রিলিয়া বৃষ্টিবিঘ্নিত দিনে ৩৮ ওভার ব্যাট করে ৪ উইকেটে ২২৮ রান তুলতে সমর্থ হয়। পরে বৃষ্টির কারনে টার্গেট পুননির্ধারণ করে ৩১.২ ওভারে ১৮০ করা হয়। পুনরায় প্রায় দেড় ঘন্টা বৃষ্টি হয় এবং Average Run Rate মেথড ব্যবহার করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য ১১.২ ওভারে ৬১ রানের নতুন লক্ষ স্থির করা হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ খুব সহজেই ২ উইকেট খরচায় এবং ২৮ বল বাকি থাকতেই অভিষ্ট লক্ষে পৌছে যায়।

হুজুরদের যত দোষ!


আমিঃ মেয়েদের জাতটাই খারাপ!
বুদ্ধিজিবীঃ আপনার মা-বোনওতো তাহলে খারাপ। তারা কি খারাপ কাজ করেছে সেটা আগে বলেন।

আমিঃ ছেলেরা সব প্রতারক!
বুদ্ধিজিবীঃ সবাইকে এক পাল্লায় মাপবেন না। খারাপ ছেলে কয়েকটা। আর অন্যরা কি দোষ করল?

আমিঃ ডাক্তাররা সব কসাই। 
বুদ্দিজিবীঃ রোগ হলে ডাক্তারের কাছে যাবেন আবার গালিও দিবেন এমন ডাবল স্টান্ডার্ড কেন? আর কয়জন ডাক্তারকে চিনেন আপনি? 

আমিঃ সব পুলিশ ঘুষ খায়। কেউ কম খায়, কেউবা বেশি। এটাই তফাৎ। 
বুদ্ধিজিবীঃ ভাই, সব পুলিশ খারাপ না। সবাই খারাপ হলে দেশ চলত না। আমি অমুক কাজে থানায় গিয়েছিলাম ......... (চলন্ত) 

আমিঃ সাংবাদিকরা সব হারাম**!
বুদ্দিজিবীঃ একতরফা কথা বলেন কেন? ধানের বস্তা কি কখনও চিটে ছাড়া হয়? 

আমিঃ মাদ্রাসার হুজুর বলাৎকার করেছে। লাথি মেরে হুজুরদের দেশ থেকে বের করা দেয়া দরকার।
বুদ্ধিজিবীঃ ঠিক বলেছেন ভাই। হুজুররা দেশের ১২টা বাজাচ্ছে। এদেরকে দোর্‌রা মারতে মারতে দেশ থেকে বের করে দিতে হবে।

[পেঁচা রাস্ট্র করে পেলে কোন ছুতা,
জাননা সূর্য্যের সাথে আমার শত্রুতা?]

হাইকোর্টের মূর্তি ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা


কয়েকদিন আগে প্রশ্ন রেখেছিলাম যে, আপনার কাছে সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ কি? এবং এর ভিত্তি কি?


কয়েকজন উত্তর দিয়েছেন নিজের মত তবে ভিত্তি কি তা উল্লেখ করেন নি তেমন কেউ। হয়ত ভিত্তির উদ্দেশ্য বুঝতে পারেন নি। পরিষ্কার করি বিষয়টা। কোনটা ভাল, কোন মন্দ, কোনটা সবচেয়ে ভাল, কোনটা সবচেয়ে মন্দ; সেটা যদি যার যার বিচার-বিবেচনা ও বিবেকের উপর ছেড়ে দেই তাহলে এক এক জন এক এক অপরাধের কথা বলবে। কেউ বলবে সবচেয়ে বড় অপরাধ হল খুন করা, কেউ বলবে ধর্ষন করা, কেউ বা অন্য কিছু বলবে। কাজেই এই ধরনের প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে মানবীয় যুক্তি-বুদ্ধির উর্ধ্বে উঠে আসমানী কিতাব সমূহের দিকে নজর দিতে হবে। সর্বশেষ আসমানী কিতাব আল-কুরআন অনুযায়ী আল্লাহ তায়ালার নিকট সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ হল "শিরক তথা আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করা।" ভিত্তি কুরআন ও হাদীস।

আবুল ওয়ালীদ এবং বিশর (র)...... আব্দুল্লাহ (ইব্‌ন মাসঊদ) (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেনঃ
"যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলুম দ্বারা কলুষিত করেনি" (৬:৮২) এ আয়াত নাযিল হলে রাসূল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ছাল্লাম) এর সাহাবিগণ বললেন, "আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে যুলুম করেনি?" তখন আল্লাহ্‌ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করেনঃ "নিশ্চয়ই শির্‌ক চরম যুলুম।" (সূরা লোকমান, আয়াত ১৩) (সহিহ বুখারি, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা-২৯, ইসলামি ফাউণ্ডেশণ) 

আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নে মাস্‌উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলাম, সবচেয়ে বড় পাপ কোনটি? তিনি বললেনঃ (কাউকে) আল্লাহ্‌র প্রতিদ্বন্দ্বী বা সমকক্ষ সাব্যস্ত করা, অথচ তিনিই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি তাঁকে বললাম, এটা অবশ্যই মহাপাপ। আবার জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোন্‌টি? তিনি বললেনঃ তোমার সন্তান তোমার খাদ্যে ভাগ বসাবে এই আশংকায় তুমি তাকে হত্যা করছ। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, এরপর কোন্‌টি? তিনি বললেনঃ তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে যেনা করা। [সহিহ মুসলিম, পৃষ্ঠা-১৭৪, প্রথম খণ্ড, ইসলামি ফাউণ্ডেশন]