Featured Post

I SAID NO TO QUANTUM METHOD

পূর্বে পোস্ট আকারে প্রকাশিত। কারও সাথে ঝগড়া করার জন্য এটা দেইনি। নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম। কেউ মানতে না পারলে আমার কিছু করার নেই।  আ...

Monday, January 25, 2016

কিংকর্তব্যবিমূঢ়


স্থানঃ চিটাগাং রোড, নারায়ণগঞ্জ।

ইউনিকের কাউন্টারের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। টিকেট কাটা হয়েছে। অপেক্ষা করছি বাসে আরোহনের। পাশ দিয়ে একটা রাস্তা ঢুকে গিয়েছে। সম্ভবত এই রাস্তা দিয়ে ঢাকা যাওয়া যায় যাত্রাবাড়ী বাইপাস করে। এরই মধ্যে একটা ভ্যান আসল ঐ রাস্তা দিয়ে। ভ্যানের উপর রাখা লম্বা লোহার পাত। ভারী পাতগুলো যেন সহজে ভ্যানওয়ালা যথাস্থানে পৌছে দিতে পারে সেজন্য সাথে দু'জন শ্রমিকও আছে। ঐ রাস্তাটা হাইওয়ে থেকে বেশ নিচু। কাজেই হাইওয়ে ফাঁকা থাকলে আগে থেকেই দ্রুতগতিতে ভ্যান-রিকশা আসে যেন উচু জায়গাটুকু সহজে পার হওয়া যায়। 

ভ্যান যখন আসল তখনই কুমিল্লার একটা বাস এসে পথরোধ করল। কাজেই ভ্যানওয়ালা অপেক্ষা করতে লাগল কখন বাস সাইড দেয়। বাস সাইড হবার পর তিনজনে মিলে ভ্যান ঠেলতে লাগল। আমি তামশা দেখছি। 

পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন এক ভাই। চট করে হাটা থামিয়ে ভ্যানওয়ালা ও শ্রমিকদের সাথে হাত লাগালেন। ভ্যান চিটাগাং রোডে উঠল।

আমার চোখের সামনে নেকীর বস্তা নিয়ে ভাই চলে গেলেন। আমি তামাশা দেখলাম। আমরা তামাশাই দেখি!

Saturday, October 17, 2015

ভরষা কেবল মাত্র আল্লাহতে!

কেউ যখন ইসলামের এমন কোন দিকে ঝুকে পড়ে যা সমাজে ইতিবাচকভাবে দেখা হয় না তখন সর্বপ্রথম বাধা আসে তার পরিবারের পক্ষ থেকে। মেয়েদের কথা জানি না, ছেলেদের কথা বলি। কোন ছেলে যখন দাড়ি রাখা শুরু করে তখন তার পরিবার এবং আত্মীয়স্বজনরাই তাকে বাধা প্রদানে অগ্রগামী হয়। তারা তাদের স্বপক্ষে যেসব উদ্ভট যুক্তি দাড় করায় তার কিছু নমুনা দিলাম --
* এখনি দাড়ি রাখলে মানুষ কি বলবে?
* তোমার দাড়ি রাখার বয়স হয় নি
* রাস্তাঘাটে পুলিশে ধরবে
* এখনতো দু'চারটে বের হয়েছে মাত্র। পরে সবদিক থেকে বের হলে রেখো।
উপরন্তু বিয়ে সংক্রান্ত নানাধরনের "ফান"তো আছেই। কেউ কেউ আমার ঘুমের মধ্যে দাড়ি কেটে ফেলার হুমকিও দেয়।
১৩-১৪ বছরের কোন ছেলে যখন এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় তখন তার পক্ষে দাড়ির পক্ষে অটল থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এমন অনেককে দেখেছি, যারা প্রথম প্রথম দাড়ি রাখলেও পরিবারের চাপের মুখে নতি স্বীকার করে নেয়। শুধু কিশোর বয়সীরাই এই ব্যাপারে পরাধীন নয় অনেক বয়স্ক লোক হজ্ব করতে যান। হজ্বের সময় দাড়ি রাখেন। দেশে ফিরে এসে পারিপার্শ্বিকতার কাছে হেরে যান।
মেয়েদের এমন কোন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় কিনা জানা নেই। কেউ যখন পর্দা করা শুরু করে তখন কি তার ফ্যামিলির পক্ষ থেকে নিরুৎসাহিত করা হয়? আপনাদের জানা থাকলে শেয়ার করেন।
যা বলছিলাম, মা-বাবা, ভাই-বোন অতি আপনজন। এছাড়াও রয়েছেন অন্যান্য আত্মীয়-স্বজন। ইসলামি বিধান অনুযায়ী আল্লাহর পরেই মায়ের স্থান, বাবার সন্তুষ্টিতে আল্লাহর সন্তুষ্টি। আত্মীয়তার সম্পর্ক বিনষ্টকারী সম্পর্কে কঠোর সতর্কতাবানী এসেছে। বাবা-মার আনুগত্য করতে বলা হয়েছে এবং তাদের প্রতি বিরক্ত হয়ে "আহ" করতেও নিষেধ করা হয়েছে।
কিন্তু একটা "কিন্তু" আছে!
আল্লাহর হুকুম আগে, রাসূলের সুন্নাহ আগে, বাবা-মায়ের আদেশ পরে। বাবা-মা যদি আল্লাহর হুকুম পালনে বাধা তৈরি করেন এবং রাসূলের (সাঃ) সুন্নত মানতে নিষেধ করেন তবে তাদের তাবেদারী করা মোটেই সমীচিন নয়। এমন অনেক অভিভাবক আছেন যারা চান না তাদের সন্তানেরা মসজিদে গিয়ে নামায আদায় করুক। এতে নাকি পড়াশুনার সময় নষ্ট হয়। তারা চান না সন্তান মসজিদে বসে দু'মিনিট ঈমান-আমলের কথা শুনুক। কারন সামনে তাদের পরীক্ষা। পড়াশুনার ক্ষতি হচ্ছে!
শত চেক দেয়ার পরেও সন্তান যখন কোন কারনে বিপথগামী হয় তখন তারাই তাকে আল্লাহ ও রাসূলের পথে পরিচালিত করতে চান!
আল্লাহর কুদরত বোঝা বড় মুশকিল। কাউকে সুস্থতার নেয়ামত দান করেন। সেটাও এক পরীক্ষা। নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে কিনা। কাউকে অসুস্থতার নেয়ামত দান করেন। সেটাও এক পরীক্ষা। পাপাচার থেকে বিমুখ হয় কিনা/ধৈর্য্য ধারন করে কিনা।
হালাল রুজি আল্লাহ তায়ালার অনেক বড় একটি নেয়ামত। যার রুজি হালাল দুনিয়া তার জন্য সহজ। আখেরাতও তার জন্য সহজ ইনশা আল্লাহ। চাকুরী করুক, ব্যবসা করুক বা রিকশা চালাক মূল ব্যাপার একটাই যা উপার্জন করছে সেটা হালাল কিনা। যদি হালাল হয় তবে কম আয়ের মধ্যেই বরকত হয়। আর হারাম হলে যেভাবে আসে ঠিক সেভাবেই খরচ হয়ে যায়...
বর্তমানে হালালভাবে চাকুরী করা খুবই কঠিন একটা ব্যাপার। যারা চাকুরী খুজছে তাদের জন্যতো বটেই, যারা চাকুরীতে আছে তাদের জন্যও। চাকুরীর জন্য মোটা অংকের টাকা লাগে-এটা ওপেন সিক্রেট। চাকুরীর আগেই যদি ঘুষের লেনদেন হয়ে যায় তাহলে পরবর্তিতে কি হবে আল্লাহই ভাল জানেন। ঘুষ দিয়ে প্রশ্ন কিনে ডাক্তার হলে ভবিষ্যতে কি সেবা দিবে আল্লাহই ভাল জানেন। টাকা দিয়ে নটরডেম কলেজে ভর্তি হয়ে কতটা মানুষ হবে আল্লাহই ভাল জানেন।
যারা চাকুরীতে আছেন তারা ভাল করেই জানেন চাকুরীর মানে কি। চাকর থেকে চাকুরী। চাকর যে কাজ করে তাকে চাকুরী বলে। বসের কথায় উঠবস করার নাম চাকুরী। বস সঠিক বলুক বা ভুল বলুক, তাদের দেশের ক্ষতি হোক, দেশের মানুষ গোল্লায় যাক-- কি আসে যায়! বিবেকের দরজায় তালা লাগানোর নাম চাকুরী। যাদের প্রতিষ্ঠানের অডিট আসে এবং যারা অডিট গুলো সামলান তারা ভালই জানেন পুকুরের কানপোনা গুলো কিভাবে রুই মাছ দেখানো হয়। আবার সময় মত রুইমাছ কে কানপোনা বোঝানো হয়।
এর ব্যতিক্রম খুব কমই আছে।
ভাগ্যবান তারাই যারা এসব থেকে দূরে আছে। আপনার আয় কম? আপনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন যে, আল্লাহ আপনাকে হারাম আয় থেকে বাচিয়েছেন। আর আল্লাহর সাহায্য ও মদদ তো আপনার জন্য আছেই। হারামখোরদের দোয়া কবুল হবে না। আপনি আল্লাহর কাছে চেয়ে নিন আপনার যা প্রয়োজন। নিশ্চয়ই মুমিনের জন্য আল্লাহই যথেষ্ঠ।
বাকি কাজ হলো নিজেকে আল্লাহর সাহায্য ও মদদের যোগ্য রাখা। কবীরা গোনাহ্‌ থেকে বেঁচে থাকা। প্রাসঙ্গিক একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিচ্ছি-
হজরত উমর (রাঃ)এর খিলাফতের জামানায় হজরত সাদ বিন আবি ওয়াক্কাষ (রাঃ) কে ১০৫০০ সাহাবীদের এক জামাতের আমীর বানিয়ে চীন সহ এশিয়ার কয়েকটি দেশকে দখল করার জন্য পাঠান। পথের মধ্যে সাহাবা আজমাঈনের সামনে সমুদ্র এসে যায়।হজরত সাদ (রাঃ) হজরত সালমান ফারসী (রাঃ) এর কাছে পরামর্শ চাইলেন যে কি করা যায় এই পরিস্হিতিতে কারণ হজরত সালমান ফারসী (রাঃ) রসুল (সঃ) এর সঙ্গে সর্বাধিক সফর করেছিলেন।
হজরত সালমান ফারসী (রাঃ) জবাব দিলেন যে, আমরা যেই দীনের জিমমাদারী নিয়ে এসেছি তা পুর না করা পর্যন্ত আমরা ফিরতে পারিনা। তবে আপনি দেখেন যে আপনার জামাতে কবীরা গুনাহ করনেওয়ালা কেউ আছে কিনা? কারণ কবীরা গুনাহ করা কেউ খাকলে ঐ জামাতের ওপর থেকে আললাহর সাহায্য দুরে সরে যায়।"
"হজরত সাদ (রাঃ) সকল সাথীদের দিকে একবার ডানদিক ও একবার বামদিকে দেখলেন এবং বললেন যে, না আমার জামাতে কোন ও কবীরা গুনাহ করনেওয়ালা সাথী নেই।

সুবহানআললাহ।কেমন মোবারক জামাত ছিল যে ১০৫০০ সাহাবীদের মধ্যে কেউই কবীরা গুনাহ করনেওয়ালা ছিল না। আর আললাহতালা কেমন চক্ষু হজরত সাদকে দান করেছিলেন যে শুধুমাত্র একবার তাকিয়েই তিনি বুঝতে পারলেন যে এই জামাতে কোন সাথীই কবীরা গুনাহ করনেওয়ালা নেই।
হজরত সালমান ফারসী (রাঃ) পরামর্শ দিলেন তবে ঘোড়া আগে চালানো যায়। হজরত সাদ (রাঃ) সকল সাহাবীদেরকে নির্দেশ দিলেন ঘোড়া চালানোর জন্য।এবং এই দুয়া পাঠ করলেন -
"বিসমিললাহি তাওয়াক্কালতু আলাললহি লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইললাবিললাহি আলিয়্যিল অযীম" এবং আসমাউল হুসনা পাঠ করলেন -
"ইয়া আউয়ালাল আউয়ালিলিন,ইয়া আখিরাল আখিরিন,ইয়া যাল কুওয়াতিল মাতিন, ইয়া রহিমাল মাসাকিন, ইয়া আরহামার রহিমিন। ইয়া আলিয়্যু,ইয়া আযিমু, ইয়া হালিমু ইয়া কারিম।"

সুবহানআললাহ। ১০৫০০ সাহাবীদের জামাত সমুদ্রের ওপর দিয়ে ছুটল। অপর পারে পৌছে হজরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন,"আললাহর কসম! আমাদের ঘোড়ার পায়ের ক্ষুর ও পানিতে ভিজেনি।"
[হাদীসটির কোন সূত্র উল্লেখ করতে পারছি না বলে দুঃখিত। কারো এই ব্যাপারে কিছু জানা থাকলে দয়া করে জানাবেন।]
সুতরাং আমাদের হতাশ হবার কিছু নেই। নিশ্চয়ই আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ঠ।

হিজরী নববর্ষের তামাশা

অদূর ভবিষ্যতে.........
শুভ সন্ধ্যা! বেক্কল টিভির মধ্যরাতের খবরে আপনাদের সবাইকে স্বাগতম জানাচ্ছি আমি পিকলু। প্রথমেই বিস্তারিত!
গতকাল সারাদেশে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হল হিজরী নববর্ষ। এই উপলক্ষে যে যেভাবে পেরেছেন বিশেষ বানী দিয়েছেন। বানীতে সকলেই হিজরী নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে সকলে বাঙ্গালী সংস্কৃতি রক্ষায় হিজরী নববর্ষ বেশি বেশি পালন করার আহ্বান জানান।
হিজরী নববর্ষ উপলক্ষে বেক্কল টিভি কয়েকদিন ব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। বেক্কল টিভির আয়োজন সমূহের মধ্যে পূর্ণ দৈর্ঘ্য ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান "আয় খেজুর খাই" বিশেষ উল্লেখযোগ্য। ইতোমধ্যে দর্শকমহলে এই অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে হিজরী নববর্ষ উপলক্ষে ঢাকার জিরো পয়েন্টে এক গুটি খেলার আয়োজন করা হয়। খেজুরের বিচি দু'ভাগ করে খেলা এই খেলায় অংশগ্রহন করেন সর্বস্তরের জনগন স্বতস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহন করেন। খেলায় অংশ নিতে সুদূর সেন্টমার্টিন থেকে ঢাকায় আসা মিস কাঠপেন্সিল তার অনুভুতি ব্যক্ত করতে যেয়ে বলেন, "ওয়াও, এটা খুবই ফানি একটা খেলা। খেলতে পেরে আমার খুবই গুড লাগছে। তবে আমার একবারো উলটো উঠে নাই বলে একটু একটু খারাপ লাগছে।"
গুটি খেলায় অজস্র প্রতিযোগীকে পিছনে ফেলে প্রথম স্থান অধিকার করেন বাংলাদেশ গুটি লীগের সভাপতির ছেলে কার্সর খান। তাকে পুরস্কার হিসেবে নগদ একশত খেজুর খাইয়ে দেন বিশিষ্ট শিল্পপতি লায়ন নানাজিৎ সিংহ। তবে গুটি লীগের সভাপতির ছেলে হিসেবে প্রথম পুরষ্কার পাওয়াতে এই ব্যাপারে দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন গুটিদলের খেলাধূলা বিষয়ক উপদেষ্টা চিকনা মিয়া। তবে দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে কার্সন খান বলেন, "বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করতে একটি মহল এসব বিভ্রান্তিকর কথা ছড়াচ্ছে। জনগনকে সাথে নিয়ে এসব অপপ্রচারের সমুচিত জবাব দেয়া হবে।"
এদিকে রাজধানীর বড় বড় হোটেল গুলোতে হিজরী নববর্ষ উপলক্ষে ডিজে, ভিজে, আইজে, নাইযে, খাইযে, যাইযে সহ BOOZ পার্টির আয়োজন করা হয়েছে। এসব হোটেলে সারারাত পার্টি করে সকালে বেলা অনেককেই আরেকজনের ঘাড়ে করে বাসায় যেতে দেখা যায়। তবে কিসে তাদের হুশজ্ঞান লোপ করল সে সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় নি। তবে আইএসে ওয়েবসাইটে এই ব্যাপারে তাদের দায় স্বীকারমূলক বিবৃতি প্রকাশিত হয়েছে। বিষয়টি তদন্তনাধিন আছে বলে আইনশৃংঙ্খলা ভঙ্গকারী বাহিনীর কেউ এই ব্যাপারে মুখ খুলতে রাজি হন নি।
সংবাদের এই পর্যায়ে নিচ্ছি চিচিং ফাঁক বিজ্ঞাপন বিরতি। আবার ফিরে আসার ইচ্ছে নেই। নতুন হিজরী সনের প্রতিটি দিন খেজুরের কাটার গুতার মত আনন্দময় হোক এই কামনায় বিদায় নিচ্ছি আমি বেক্কল টিভির সংবাদ পাঠক পিকলু। শুভরাত্রি!

পিকলুর নোবেল

চক্ষুরোগ চিকিৎসায় বিশেষ অবদানের জন্য বিশিস্ট চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ পিকলুর নোবেল লাভ!
জনৈক রোগী এই প্রতিবেদককে জানান, উনি বহুদিন ধরে চোখের জটিল "অঞ্জলি" রোগে ভুগছিলেন। নানান ধরনের এলোপ্যাথি, হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় কাজ না হওয়ায় তিনি অবশেষে অপ্টিওঝাড়াপিস্ট পিকলুর স্মরণাপন্ন হন। ডা. পিকলু গভীর মনোযোগের সাথে তার কথা শোনেন এবং পাশের বাসা থেকে ২ বছর বয়সী এক ছেলেকে কোলে করে নিয়ে আসেন। এরপর রোগীর আক্রান্ত চোখে ঐ বাচ্চাটির উদোম লিংগ স্পর্শ করিয়ে দেন! ঐ সময় বাচ্চাটি ভয়ে কেঁদে উঠলেও রোগী বলেন যে, এরপর থেকে তার আর কখনো অঞ্জলি হয় নি!
পরবর্তীতে চক্ষুরোগ চিকিৎসায় নতুন দিগন্তের সূচনাকারী এহেন মানবদরদী বিজ্ঞানীকে নোবেল পুরস্কার প্রদান করে সম্মানিত করা হয়!
বিশ্বের ঘরে ঘরে ডা. পিকলুর সেবা পৌছে যাক এই কামনায়........

‪‎বাংলাদেশী, হজ্ব ও সৌদিয়ান‬


আল্লারহর রহমতে হজ্বের সফরের অভিজ্ঞতা হয়েছে। বেশ কয়েকবছরের আগের হলেও মাঝে মাঝে কিছু প্রাসঙ্গিক কথা বলার জন্য সেই অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে হয়। এবারের হজ্বের সময় ব্যথিত চিত্তে দু-দুটো বড়ধরনের দুর্ঘটনা খবর পড়েছি, ছবি দেখেছি, সেসব নিয়ে ভার্চুয়াল দুনিয়ায় নানা ধরনের ঝড় দেখেছি। তখনই ভেবেছি কিছু লিখব। যথাসম্ভব আমার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আমার অভিজ্ঞতা প্রাধান্য দেয়ার চেষ্টা করব।
আমি ছিলাম আমাদের কাফেলার মধ্যে সবচেয়ে কমবয়সী। সত্যি বলতে পুরো সফরে আমার বয়সী কম সংখ্যক ছেলেই চোখে পড়েছে। নানাবিধ টেনশনে পাসপোর্ট হাতে পাবার পর ভিতরে কি লেখা আছে খুলেও দেখিনি। কি ভুলটা করেছি টের পেলাম বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে। স্বচ্ছ কাঁচের ওপাশে বসে থাকা পুলিশের ইউনিফর্ম পরা ভদ্রলোক পাসপোর্ট খুলে যখন ঠিকানা জিজ্ঞেস করলেন তখন উলটাপালটা বলা শুরু করলাম। চাকুরীতে কতদিন হয়েছে, এই কয়দিনে হজ্বের টাকা কিভাবে জোগাড় হল - এইসব জেরা থেকে আমাকে উদ্ধার করলেন আমার সিনিয়র এক কলিগ। তিনি পাশের কাউন্টারে ছিলেন। বড় ভাই জবাব দেয়ার পর ইমিগ্রেশন পেরোতে আর তেমন কোন সমস্যা হয় নি।
বাংলাদেশ বিমানের ভাড়া করা যে স্প্যানিশ বিমানে আমরা যাচ্ছিলাম, সত্যি কথা বলতে অতভাল সার্ভিস আশা করি নি। টোটাল পাচ ঘন্টার ফ্লাইটে দুটো নাস্তা, একবার ভারী খাবার। নাস্তার উপকরণাদির মধ্যেই অনেককিছুই আমার কাছে একেবারে নতুন ছিল। পাশেই বিগবস ছিলেন। তিনি কিভাবে কি করেন, সেটা দেখে দেখে আমিও নাস্তা সেরে নিলাম।
বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট হওয়াতে জেদ্দা বিমানবন্দরের আমাদের বিশেষ ট্রিটমেন্ট দেয়া হয়। সকাল পাঁচটায় ল্যান্ড করার পর ইমিগ্রেশন শুরু হতে হতে ৯-১০ টা বেজে যায়। বহুক্ষন লাইনে দাঁড়িয়ে যখন সৌদি ইমিগ্রেশনের সামনে গেলাম তখন সৌদি অফিসার আমার দিকে "কমবয়সী? বয়স কত?"-টাইপ চাহনি দিলেন। একবার পাসপোর্ট দেখে আরেকবার আমার মুখে দিকে দেখে। আঙ্গুলের ছাপ নিল, হয় নাই। আবার নিল, হচ্ছে না। আবার নিল! পারলে আমাকে কালিতে চুবিয়ে নিয়ে ছাপ রেখে দেয়!
ইমিগ্রেশনের ঝামেলা পার হয়ে মক্কায় পৌছাতে পৌছাতে আছরের ওয়াক্ত হয়ে গিয়েছে। শুক্রবার ছিল, জুম্মা মিস, যোহর মিস। মিসরীয় ড্রাইভার বহু অনুরোধের পরও রাস্তায় কোথাও গাড়ি থামাতে রাজি হয় নি। এরমধ্যে ব্যাটা একবার রাস্তা হারিয়ে ফেলল। ঘুরে ফিরে একই রাস্তায় বার বার আসতে লাগল। নাহলে হয়ত যোহর পড়া যেত।
পরে আমাদের ইমাম সাহেবের নিকট শুনলাম এমনসব ঘটনার কারন কি। হজ্ব কাফেলায় বাংলাদেশী যারা যায় তাদের অনেকেই হজ্বের পর ফিরে আসে না। পালিয়ে যায়। এই কারনে সৌদি সরকার বাংলাদেশীদের (বিশেষত বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে যারা আসে) বিশেষ নজরে রাখে। আমার আরেক কলিগের মুখে শুনলাম (কাতার এয়ারওয়েজে ছিলেন তিনি) বিমান থেকে নেমেই ইমিগ্রেশন পার হয়েছেন তারা। একঘন্টার মধ্যে মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন তারা।
মক্কার আশে পাশের দোকানগুলোতে উপমহাদেশীয় লোকজনই বেশি। চিটাগঙ্গের লোক / রোহিঙ্গা আছে প্রচুর। কিন্তু দেখে বোঝার উপায় নেই। সৌদিয়ানদের মত পোশাক, অনর্গল আরবী বলছে। প্রথম দেখায় সৌদিয়ান বলে ভুল হয়। তারপর যখন নিজেদের মধ্যে চিটাগাং/বক্সবাজারে ভাষায় কথা বলে তখন চোখ দু'টো কপালে উঠে, মুখ হয়ে যায় হা!
সে যাই হোক, একদোকানে কিছু কেনার পর ক্যাশে বসা সৌদিয়ান আমাকে ১০ রিয়েলের একটা নোট ফেরত হিসেবে ধরিয়ে দিল। তাকিয়ে দেখি এক কোনায় ছিড়া। স্বাভাবিকভাবে নোট পালটে দিতে বললাম। সৌদিয়ান নোট ফেরত নিয়ে আমার দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে বলল,
"বাংলাদেশ?"
আমি অবাক! হাসলাম।
"শেখ হাসিনা?"
আমার হাসি বিস্তৃত হল। মাথা ঝাকালাম।
"যালেম! যালেম!" - বলে সৌদিয়ান চেঁচিয়ে উঠল।
আমি মুখ কালো করে বেরিয়ে আসলাম। এমন দু'একটি ঘটনায় আমি বুঝতে পারলাম সৌদিয়ানরা বাংলাদেশীদের খুব বেশি ভাল দৃষ্টিতে দেখে না। একসময় দেখলে দেখতে পারে। এখন দেখে না।
হজ্বের আগে এজেন্সীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গা যেমন জাবালে নূর পাহাড়, আরাফাতের ময়দান, ওহুদের প্রান্তর-ইত্যাদি ভ্রমনের ব্যবস্থা করা হল। বার বার সাবধান করে দেয়া এবং সতর্ক থাকা স্বত্তেও একজন আরাফাতের ময়দানে হারিয়ে গেলেন। আমাদের ইমামা সাহেব তখন তাকে খুজে অন্য আরেক জায়গা থেকে ধরে নিয়ে আসলেন। তখন প্র্যাকটিক্যালি বুঝলাম কেন সেই মিশরীয় গাড়িচালক আমাদের শত অনুরোধের পরেও গাড়ী থামাননি। এই খোজাখুজির ঝামেলা কে করে!
প্রথম দিন যখন জামরায় পাথর মারতে যাই তখন আমাদের ৩-৪ জনের ছোট ছোট গ্রুপ করে দেয়া হয়। ইমাম সাহেব হেসে বলেই দেন চেষ্টা করবেন হারিয়ে না যেতে। না হারানোটা কতটা কঠিন সেটা টের পেলাম কিছুদূর এগোবার পর। পাঞ্জাদিয়ে ধরে রেখেছি। মানুষের চাপে হাত ভেঙে যাবার আগেই ছেড়ে দিতে হল। পাথার মেরে সামনের দিকে এগিয়ে একটা টানেল আছে। এদিক দিয়ে শর্টকাটে মক্কায় যাওয়া যায়। আমরা যেতে যেতে ঐ টানেল দিয়ে লোকজন যেতে দিচ্ছে না। ঐদিকে নাকি প্রচন্ড ভীড় হয়ে গিয়েছে ইতোমধ্যে। অন্যরাস্তা ধরলাম আমরা। যখন মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে আর ভয় নেই, তখনি হারিয়ে গেলাম। মক্কায় ফেরার পথে ১০-১৫ সেকেন্ডের জন্য পিছনে তাকিয়েছি পরিচিত কাউকে দেখা যায় কিনা। তারপর সামনে তাকিয়ে দেখি এতক্ষন যাদের সাথে ছিলাম তারা উধাও। ভয় পেলেও ভরষা হারালাম না। এতক্ষন তাপদাহ থাকলেও ইতোমধ্যে বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। বড় বড় ঠান্ডা ফোটা পড়তে লাগল। কিছুক্ষন দাড়ালাম এক দোকানের সামনে। আমার মত আরো অনেকেই এদিক সেদিক আশ্রয় নিয়েছে। কতক্ষন আর দাড়িয়ে থাকব? বৃষ্টির মধ্যেই নেমে গেলাম।
রাস্তার সাইনে ক্বাবা ঘরের সিম্বল দিয়ে দিকনির্দেশনা দেখে হাটছি। হাটতে হাটতে একসময়ের মক্কা টাওয়ারের বিশাল ঘড়ি চোখে পড়ল। হাপ ছেড়ে বাঁচলাম। যাক ফিরে আসতে পেরেছি। তারপরও প্রায় ঘন্টা খানেক লেগেছে মক্কার হোটলে পৌছাতে।
সেসময় খুব বেশি বাংলাদেশী ভাল ক্যামেরাওয়ালা মোবাইল ছিল না। তবে আমার কাছে একটা LG মোবাইল ছিল। যার ক্যামেরা ছিল ৫ মেগাপিক্সেলের। বলাই বাহুল্য এই মোবাইল আমি নিয়ে যাই নি। নিয়ে গিয়েছিলাম নোকিয়া ১২০৩। হারানো ভয়ে নয়, নিজের উপর এতটুকু ভরষা ছিল না যে নিজেকে সামলে রাখতে পারব কিনা। হয়ত ক্বাবা ঘরের গায়ে হাত দিয়ে একটা সেলফি তুলে ফেললাম, হয়ত রাসুলুল্লাহ (সাঃ) রওজার সামনে দাঁড়িয়ে মোবাইল হাতে এদিক ওদিক করলাম--এইসব আশংকায় মোবাইল রেখেই গিয়েছে।
সাহাবা (রাঃ) গন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) যেমন সম্মান করেছেন তেমনটার ধারে কাছেওতো আমি যেতে পারব না অন্তত বেয়াদবের মত যেন আচরণ না হয় সে চেষ্টা করেছি। কিন্তু অনেককেই দেখেছি অমনটা করতে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) রওজার ভিতরের দিকে উকি দেয়াতো আছেই, অনেকেই ভিতরের ছবি তুলতে চেষ্টা করেছেন পুলিশের শত বাধা মুখেও। সেখানকার পুলিশও মুখ খোলার আগে শতবার ভাবে। গলা যেন উচু না হয়ে যায়, কেউ যেন কষ্ট না পায়। মক্কার পুলিশ একটু গরম হলেও, রওজায় মুবারকে যারা দায়িত্ব পালন করেন তারা একেবারেই ঠান্ডা। কারনটা নিশ্চয়ই বোধগম্য।
এবার হজ্বের সময় কিছু ছবি টাইমলাইনে এসেছে। ক্বাবাঘর ধরে সেলফি, মসজিদে নববীতে দাঁড়িয়ে সেলফি। কেউ কেউ ছবি সহ নানান আপডেট দিয়েছেন। ছোট্ট প্রশ্ন করে, ভাই আপনারা ওখানে কেন গিয়েছেন? হজ্বের সফরে? নাকি ছবি তুলতে? এক-দেড়টা মাস ছবি না তুলে থাকতে পারলেন না? ইসলামে অহেতুক ছবি তোলার ব্যাপারে শিথিলতা নেই-এই ব্যাপারটা জানেন তো? আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন!
সৌদিতে যাবার পর একজন টেলিফোনে আমার সাথে যোগাযোগ করেন। পরিচয় দেবার পর বুঝতে পারলাম তিনি কোন এক সম্পর্কে আমার দুলাভাই হন। দেখার করার পর জানলাম উনি সেখানে গাড়ি চালান। ময়লার গাড়ি। একদিন উনার গাড়িতে চড়লাম। আমাদের দেশের মত খোলা ট্রাক নয়। দুর্গন্ধ ছড়াবার সুযোগ সে গাড়িতে নেই। কথায় কথায় জানলাম উনি সেখান অনেকদিন থেকেই আছেন। থাকা-খাওয়ার খরচ বাদ দিয়েও মাসে ১২-১৩ শত রিয়েল তার উদ্ধৃত থেকে যায়। আমি অবাক হওয়াতে উনি বললেন। খাবার খরচ তেমন একটা লাগে না। প্রচুর ফাস্টফুডের দোকান আছে যেখানে উনার গাড়ি থামার কথা নয়। উনি সেখানে গাড়ি থামিয়ে ময়লা নেন। এতে দোকান মালিক খুশি হয়ে তাকে অনেক সময় কিছু টাকা বা কোন ফুড আইটেম দেন। সেগুলো খেয়েই উনার কেটে যায়।
উনার গাড়িতে ঘুড়লাম অনেকক্ষন। মদীনা থেকে ময়লা নিয়ে কোথায় ডাম্পিং করেন সেটাও দেখিয়ে নিয়ে আসলেন। এরমধ্যে জুস-কোক খাওয়ানোতো আছেই। আরেকদিন ফোন দিয়ে দেখা করলেন। তারপর বললেন রিসেন্টলি উনার একটা মেয়ে হয়েছে। সে মেয়ের জন্য একটা সোনার চেইন, ছোট কম্বল আর কিছু কাপড়চোপড় আমার কাছে দিতে চান। আমি এত খাতির যত্মের কারন বুঝতে পারলাম এবং প্রচন্ড বিরক্ত হলাম। কিন্তু চক্ষু লজ্জায় না বলতে পারলাম না। পেটে খেলে পিঠে সয় বলে একটা কথা আছে না? তারপরও একটা বড় কম্বল দিতে চেয়েছিলেন। আমি এটা সেটা বলে কাটিয়ে গেলাম। অথচ সৌদিতে এমন কুরিয়ারও আছে যারা গ্যারান্টি দিয়ে মালামাল বাসায় পৌছে দিয়ে যাবে। রিয়েল খরচের ভয়ে ঐ কুরিয়ার তারা ব্যবহার করেন না। হাজী সাহেবদের ঘাড়ে দিয়ে দেন।
সৌদি অব্যবস্থাপনার কথা আজ থেকে শুনছি না। হজ্বে যাবার আগে থেকেই শুনছি।
সৌদি সরকার মুসলমান হিসেবে মুসলিমদের কাছ থেকে কেন ভিসার টাকা নেয়?
সৌদি বাদশাহ্‌ এই করছেন, সেই করেছেন আর দুনিয়ার মুসলমান মার খাচ্ছে...
হজ্ব হল সৌদি সরকারের ব্যবসা। এই ব্যবসার উপরে সৌদি টিকে আছে ...
ইত্যাদি হাবিজাবি নানান কিছু। আগেও চুপ ছিলাম, এখনো চুপই আছি। চালুনি হয়ে ছাকনির দিকে আঙ্গুল যত কম তোলা যায় ততই ভাল। কখন আবার আমি চালুনি সেটা প্রকাশ হয়ে যায়!
গুছিয়ে লিখতে পারিনি। দুঃখিত। 
unsure emoticon